এডিটার্স মেইলবক্স: কাটা মাথার গুজব কেন থামছে না? ডেঙ্গু আতঙ্কে মানুষ

বরগুনায় একটি কোচিং সেন্টারের সামনে অপেক্ষমান কয়েকজন অভিভাবক বিবিসির সাথে কথা বলছেন।
Image caption বরগুনায় একটি কোচিং সেন্টারের সামনে অপেক্ষমান কয়েকজন অভিভাবক বিবিসিকে বলেছেন কাটা মাথা নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা।

চলতি সপ্তাহের অন্যতম আলোচিত একটি বিষয় ছিল বাংলাদেশে ছেলেধরা গুজব এবং সেই সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনা।

উলিপুর, কুড়িগ্রামের উত্তর নামাযেরচর থেকে এ প্রসঙ্গে লিখেছেন এসএম আব্দুস সামাদ:

''অনেকে বলছে বড় কোন সেতু নির্মাণে মানুষের কাটামাথার প্রয়োজন হয় যা সেতুর পিলারের নিচে উৎসর্গ করে কাজ শুরু করতে হয়। ইঙ্গিতটা যে পদ্মাসেতুর প্রতি তা স্পষ্ট। গত ১৫দিন আগে আমাদের এখানে ৮ বছরের এক শিশু ছেলেধরার আক্রমণের শিকার হয়। তবে ভাগ্যক্রমে ছেলেটির প্রাণ রক্ষা পায়। এই ঘটনাটি ছেলেধরার সম্পর্কে কিছুটা সত্যতা প্রমাণ করে। অপরদিকে কিছু পাগল বা অস্বাভাবিক লোকদেরকে ছেলেধরা সন্দেহে গনপিটুনি দিচ্ছে পাবলিক। ছেলেধরা সম্পর্কে সরকার পক্ষও এসব অভিযোগ নাকচ করছে। আসলে বিবিসি এ সম্পর্কে কতটা জানতে পেরেছে?''

মি: সামাদ- পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য মানুষের কাটা মাথা লাগবে এটা নেহাতই গুজব। আর এই গুজব এতই ভয়াবহভাবে ছড়িয়েছে যে গুজব নিরসনে সেতু কর্তৃপক্ষ এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দু'দফায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পরও তা সাধারণ মানুষকে সামান্য পরিমাণেও আশ্বস্ত করতে পারেনি।

এই গুজবকে কেন্দ্র করেই ছড়িয়েছে ছেলেধরা আতঙ্ক এবং যেমনটা জানেন জনরোষের শিকার হয়ে গত কয়েকদিনে যে আটজন প্রাণ হারিয়েছে যাদের কেউই ছেলেধরা ছিল না বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক। তিনি বলেছেন পুলিশ প্রতিটি ঘটনার বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। চিঠি লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

একই বিষয়ে লিখেছেন ধানমন্ডি, ঢাকা। থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

''ঢাকাসহ দেশের প্রায় সকল জায়গার মানুষের মতো আমিও আতঙ্ক-ভয় আর অস্বস্তিতে আছি। সারাদেশে যেভাবে ছেলেধরা আতঙ্ক বিরাজ করছে, ঠিক একই ভাবে ডেঙ্গুজ্বরের আতঙ্ক বিরাজ করছে। কিন্তু গুজব বলে তো দায়িত্ব এড়ানো যায় না। যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে আস্থা ফেরাতে হবে।

আমি গ্রামের ছেলে। আমার পরিবারের সকল সদস্য গ্রামে থাকে। আমি নিজেও বারবার বলেও এটাকে গুজব হিসেবে বিশ্বাস করাতে পারছি না। আতঙ্ক গ্রামেই বেশি। আমাদের গ্রামের মতো বাংলাদেশের প্রায় সব গ্রামে ছেলেধরা আতঙ্ক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।''

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption বাংলাদেশে গত কয়েক সপ্তাহে গণপিটুনিতে অন্তত আট জন নিহত হয়েছেন। (ফাইল ছবি)

আপনার কি মনে হচ্ছে গুজব ছড়ানো বন্ধ করতে প্রশাসন যেসব ব্যবস্থা নিয়েছে তা মানুষের মন থেকে আতঙ্ক দূর করার জন্য যথেষ্ট নয়? পদ্মা সেতুর জন্য মাথা সংগ্রহ করতে ছেলেধরারা সত্যিই ঘুরে বেড়াচ্ছে এমনটা আপনার কেন মনে হচ্ছে? আপনার কি মনে হচ্ছে এই গুজব ছড়ানোর জন্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো দায়ী? তথ্যমন্ত্রী বলেছেন মানুষ যাতে এসব গুজবে বিশ্বাস না করে, সেজন্য জনসচেতনতা তৈরি করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং টিভিসহ নানা মাধ্যমে তারা প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং তা ব্যাপকতর করা হচ্ছে। আপনাকে ধন্যবাদ।

ডেঙ্গু নিয়েও আতঙ্কে আছেন বাংলাদেশের মানুষ। সে বিষয়ে লিখেছেন ঘোড়াদাইড় গোপালগঞ্জ থেকে ফয়সাল আহমেদ সিপন:

''ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে মানুষের ভিড়ও বাড়ছে। হাসপাতালে পৌঁছে মানুষ প্রথমেই জানতে চান, ডেঙ্গু হয়েছে কি হয়নি। আর ঠিক এই সুযোগটাই কিছু বেসরকারি হাসপাতাল নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি বেশি রাখছে।''

মানুষের বিপদের সুযোগ নিয়ে কিছু বেসরকারি হাসপাতাল ডেঙ্গু রোগ পরীক্ষার জন্য বেশি অর্থ নিচ্ছে এমন অভিযোগ উঠেছে ঠিকই, তবে এর সত্যতা আমরা যাচাই করতে পারিনি। কিন্তু আমাদের সংবাদদাতা ঢাকার হাসপাতালগুলোতেএ যে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে সে নিয়ে খবর করেছেন। সে খবরে আমরা শুনেছি রোগীর ভিড় সামলাতে হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছে।

Image caption হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর ভিড় বেড়েই চলেছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধের উদ্যোগ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন দাকোপ, খুলনা থেকে মুকুল সরদার:

''নানা কারণে এবছর এডিস মশার সংখ্যা বেড়েছে। একারণে ডেঙ্গু আক্রান্ত রেগীর সংখ্যাও বেড়ে চলেছে উদ্বেগজনক হারে। কিছু দিন আগে ঢাকার দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মশা দমনের লক্ষ্যে অ্যাম্বাসেডর নিয়োগ করেছে এবং বছর দুয়েক আগে গাফটি মাছও ছেড়েছিল নর্দমাগুলোতে। কিন্তু এসব উদ্যোগ কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। শহরাঞ্চলে মশা দমনে কিছু উদ্যোগ চোখে পড়লেও গ্রামাঞ্চলে মশা দমনে তেমন কোনো উদ্যোগ চোখেই পড়ে না।''

ডেঙ্গু মোকাবিলায় ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রস্তুতি এবং তাদের মশা নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। গ্রামাঞ্চলে মশা দমনে কিধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে সেটা খুব পরিষ্কার নয়। তবে ডেঙ্গু যেভাবে ছড়িয়েছে তাতে এ রোগ থেকে বাঁচতে মানুষের এখন মশারি ব্যবহার সহ ঘরদোর পরিষ্কার রাখার বিষয় অনেক বেশি সচেতন হওয়া ছাড়া কোন বিকল্প নেই বলেই মনে হচ্ছে। চিঠি লেখার জন্য আপনাদের দুজনকেই ধন্যবাদ।

রাজশাহী শহর লঞ্চঘাট থেকে সায়রা বানু জানতে চেয়েছেন।

''ব্রিটেনের প্রধান মন্ত্রী হিসেবে বরিস জনসন নিয়োগ পেলেন। তাকে কি বাংলাদেশের মত শপথ পড়তে হয়? শপথ কে পড়ান? আর প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে কি মন্ত্রিসভা বহাল থাকে?''

ব্রিটেনেও প্রধানমন্ত্রী তো বটেই, অন্যান্য মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদেরও সংসদে বসার আগে শপথ নিতে হয়। তাদের রানির প্রতি আনুগত্যের শপথ নিতে হয়। এই শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া খুবই সাদামাটা। সংসদ কক্ষে একজন ক্লার্কের সামনে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ সব মন্ত্রী ও এমপিদের শপথ নিতে হয়।

আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাব- কোন প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলেও যতক্ষণ না নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিচ্ছেন ততক্ষণ তিনি ক্ষমতায় থাকেন এবং তার মন্ত্রিসভাও বহাল থাকে। নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেবার পর তিনি তার নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেন। চিঠি লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
বরিস জনসন: ব্রিটেনের বিতর্কিত নতুন প্রধানমন্ত্রী

ছেলেধরা গুজব আর গণপিটুনি নিয়েই বেশিরভাগ শ্রোতা লিখেছেন এ সপ্তাহে। তাই এ পর্যায়ে এ বিষয়ে লেখা আরও কিছু চিঠি। পার্বতীপুর, দিনাজপুর থেকে লিখেছেন মেনহাজুল ইসলাম তারেক:

''২৩ জুলাই বরগুনা থেকে আকবর হোসেন ভাইয়ের প্রতিবেদনটি অত্যন্ত চমৎকার এবং তথ্যসমৃদ্ধ ছিলো। 'পদ্মা সেতুর জন্য মানুষের মাথা প্রয়োজন' জাতীয় উদ্ভট গুজবের রেশেই দেশজুড়ে এমনটির সূত্রপাত। আধুনিক যুগ এবং শিক্ষিত স্বাক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন মানুষও যদি এহেন বিশ্বাসে বন্দী হন তাহলে চলবে কীভাবে! একদিকে মানুষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে অত্যাধুনিক হওয়ার পথে ধাবমান। অন্যদিকে গুজবে বিশ্বাস করে তারাই আবার আদিম যুগের দিকে যাচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যবহার করেই বেশিরভাগ গুজব ছড়াচ্ছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রশাসন এবং সরকার সংশ্লিষ্টরা সচেতন থাকলেও তা রোধ করা যাচ্ছে না কেন? যারা এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন তাদের অসচেতনতার কারণেই এমনটি হচ্ছে বলে আমার মনেহয়। সবকিছু ছাপিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি অর্থাৎ গুজব প্রতিরোধে জনসচেতনতাই সবচেয়ে বেশি জরুরি। এই একুশ শতকে গুজব নিয়ে মাতামাতি কিংবা আতঙ্কিত হওয়াও নির্বুদ্ধিতার শামিল।''

আকবর হোসেনের প্রতিবেদন পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption গুজবকে কেন্দ্র করে গণপিটুনির মতো সহিংস ঘটনা ঘটছে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে।

এ নিয়ে গেন্ডারিয়া, ঢাকা থেকে মন্তব্য করেছেন মো: জিল্লুর রহমান:

''আমার মনে হয়, ছেলেধরা সন্দেহে গুজব প্রতিরোধ করে গণপিটুনির হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করতে হলে গণমাধ্যম, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, ছাত্র, শিক্ষক, ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ ইত্যাদি নানা শ্রেণি পেশার মানুষকে নিয়ে সরকারকে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় নিরীহ মানুষের হয়রানি বাড়তেই থাকবে।''

একই বিষয়ে আরও লিখেছেন লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা থেকে জহিন মুমতাহিনাহ; বড়কমলাবাড়ী, লালমনিরহাট থেকে মোঃ আব্দুল হক; আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা থেকে কাজী সাইদ এবং আরও বেশ কয়েকজন শ্রোতা। মতামতের জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।

আসলে মি: রহমানের চিঠির জবাবে যেটা বলতে চাই সেটা হল এই আধুনিক যুগে কাটা মাথার গুজব মানুষ যে বিশ্বাস করছে সেটা বিস্ময়করও বটে আবার দুর্ভাগ্যজনকও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো কোন্ খবর ভুয়া আর কোন্ খবর সঠিক সেটা হয়ত অনেক সময় মানুষের পক্ষে বোঝা মুশকিল হয়, কিন্তু এধরনের উদ্ভট গুজবকে মানুষ যখন সত্যি ধরে নিয়ে নিরীহ মানুষের ওপর চড়াও হয় তখন সেটা দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে ওঠে।

বিবিসি বাংলায় কথিত ভিআইপি কালচার নিয়ে প্রচারিত একটি ফিচার অনুষ্ঠানের জের ধরে তার মতামত দিয়েছেন মিঠাপুকুর, রংপুর থেকে শাহা আলম ইসলাম:

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ঢাকার রাস্তায় যানজট দুর্বিষহ হয় যখন কোন ভিআইপি রাস্তায় চলাচল করেন

''একজন ভিভিআইপি, ভিআইপি ব্যক্তি যখন কোন রাস্তা দিয়ে যাবেন, তখন অন্য রাস্তাগুলো প্রায় আধা ঘণ্টা আগে থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়। তাতে সাধারণ কর্মজীবি,জরুরি কাজের ব্যক্তি,রোগীদের অসহনীয় দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। বাংলাদেশে দলীয় কোন উপর লেভেলের কেউ আসলেই রাস্তা আটকে দেয়া হয় যেটা অযৌক্তিক এবং জনগণকে তুচ্ছ করা ছাড়া কিছু নয়। তাই বিশেষ কারও জন্য এত বিশেষ সুবিধা না দিয়ে সকল শ্রেণির মানুষের সাথে চলাচলের ব্যবস্থা করা সরকারের প্রয়োজন।''

শুধু যারা রাস্তা ব্যবহার করেন তারাই নয়, এমনকী বাংলাদেশে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক বিবিসি বাংলার ঐ ফিচার অনুষ্ঠানে বলেছেন, জনদুর্ভোগের সাথে সাথে ভিআইপিরা যেসব সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন সেগুলোর অপব্যবহার করার সুনির্দিষ্ট দৃষ্টান্ত রয়েছে। তার মতে এই ব্যবস্থা পুর্নমূল্যায়নের সময় এসেছে। যারা বাংলাদেশে যারা ভিভিআইপি যেমন প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট এবং বিদেশি রাষ্ট্রীয় অতিথি তাদের বাইরে যারা এই ভিআইপি সুবিধা পান তাদের বিষয়টা নতুন করে খতিয়ে দেখার কথা এখন অনেকেই বলছেন। চিঠি লেখার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রিয়া সাহার মন্তব্য প্রসঙ্গে লিখেছেন সরকারি ম্যাটস, টাঙ্গাইল থেকে বিলকিছ আক্তার:

''বিবিসি বাংলা'য় প্রচারিত খবর থেকে জানতে পেরেছি এবং ওয়েবসাইটেও পড়েছি প্রিয়া সাহা নামে এক নারী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের রক্ষা করার আবেদন জানিয়েছেন। প্রিয়া সাহার দাবি অনুযায়ী ৩৭ মিলিয়ন বা তিন কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু নিখোঁজ হয়েছে এবং এক কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু অস্তিত্ব সংকটে আছে। আমার প্রশ্ন, বাংলাদেশ সৃষ্টির সময় এ দেশে তিন কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু ছিল কি?

১৯৭০ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী সংখ্যালঘু জনসংখ্যা ছিল ১৯ থেকে ২০ শতাংশ। সে সময় বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে সাত কোটি। তাতে সংখ্যালঘু জনসংখ্যা ছিল দেড় কোটির মতো। তাহলে এই বিপুলসংখ্যক নিখোঁজের ঘটনা কবে, কখন ঘটল, যার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে?''

ছবির কপিরাইট Facebook
Image caption হোয়াইট হাইজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে কথা বলছেন প্রিয়া সাহা

এ প্রশ্ন অনেকেই তুলেছেন। তবে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেছেন, এসব অভিযোগ কেন আনা হয়েছে, প্রিয়া সাহা দেশে ফিরলে তাকে এবিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। প্রিয়া সাহা যেমনটা জানেন এখন নিউ ইয়র্কে রয়েছেন। তবে ইউটিউবে আপলোড করা এক ভিডিওতে প্রিয়া সাহা তার পরিসংখ্যান নিয়ে একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন যেটা অবশ্যই অনেকের কাছেই গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। লেখার জন্য ধন্যবাদ।

বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী: কমছে নাকি বাড়ছে? রিপোর্ট দেখতে ক্লিক করুন

পরের চিঠির শ্রোতা তার পুরো ঠিকানা দেননি।

''আমি রাফায়েত, বিবিসি বাংলার একজন নিয়মিত শ্রোতা । বিবিসি বাংলার ফেসবুক পেজের শর্ট ভিডিওগুলো খুবই চমৎকার । অল্প সময়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ পাওয়া যায়,যা দেখে আমরা সচেতন হই, এইজন্য বিবিসি বাংলাকে ধন্যবাদ।''

ভিডিওগুলো আপনার ভাল লাগছে জেনে আমাদেরও ভাল লাগল। বিবিসি বাংলার অনেক ভিডিও বিবিসি বাংলার ইউটিউব পেজেও আপনি দেখতে পারেন। চিঠি লেখার জন্য ধন্যবাদ। এবারে কিছু প্রাপ্তিস্বীকার।

মো: শিমুল বিল্লাল বাপ্পী, কপিলমুনি, খুলনা।

কল্লোল, ঢাকা।

প্রশান্ত রায়, দিনাজপুর।

মোঃ সুরুজ আলী, শ্যামপুর, পীরগঞ্জ, রংপুর।

জুয়েল হোসেন, সিংগাইর,মানিকগঞ্জ।

শফিকুল, সাতক্ষীরা সদর, সাতক্ষীরা।

তানাকা রহমান, গেন্ডারিয়া, ঢাকা।

মো: তানজিলুর রহমান, ঢাকা।

তপন বন্দ্যোপাধ্যায়, জিয়াগঞ্জ, মুর্শিদাবাদ।

প্রশান্ত কুমার রায়, লালমনিরহাট।

আমাদের কাছে লেখার ঠিকানা bengali@bbc.co.uk। চিঠি লেখার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

বিবিসি বাংলার খবর নিয়ে আপনাদের মতামত, প্রতিক্রিয়া, অভিযোগ কিংবা পরামর্শ থাকলে আমাদের কাছে লিখতে পারেন:

ইমেইল ঠিকানা: bengali@bbc.co.uk

ফেসবুক পেজ: www.facebook.com/BBCBengaliService/