কলকাতায় কয়েকশ মানুষকে ফোন ফিরিয়ে দিল পুলিশ

লোকজনের হাতে ফোন তুলে দিয়ে এই ছবিটি কলকাতা পুলিশের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। ছবির কপিরাইট Kolkata Police
Image caption লোকজনের হাতে ফোন তুলে দিয়ে এই ছবিটি কলকাতা পুলিশের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

কলকাতা পুলিশ শনিবার কয়েকশো মানুষকে ডেকে তাদের হারিয়ে যাওয়া বা চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন ফেরত দিয়েছে।

শুধুমাত্র লালবাজারে কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তরেই জনা ষাটেক মানুষের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাদের মোবাইল। অন্যান্য থানা থেকেও ফেরত দেওয়া হয়েছে আরো বহু হারানো মোবাইল।

যত মানুষ আজ তাদের মোবাইল ফেরত পেয়েছেন, তাদের সবাইকে নিয়ে বেশ কয়েকটি গ্রুপ ছবি পোস্ট করো হয়েছে কলকাতা পুলিশের ফেসবুক পাতায়।

পুলিশ বলছে, কলকাতা শহরে প্রতিমাসে ১০০০ থেকে ১২০০ মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

সেগুলো হারিয়ে গেছে বা চুরি হয়েছে বলে যারা বিভিন্ন থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন, তাদের অনেককে একসঙ্গে ডেকে এনে তাদের মোবাইল ফেরত দেওয়া হয়েছে।

এরকমই একজন সিদ্ধান্ত ঘোষ। মোবাইল হারানোর এক বছরেরও বেশী সময় পরে তিনি আরও অনেকের সঙ্গে লালবাজারে পুলিশ সদর দপ্তরে গিয়েছিলেন মোবাইল ফেরত নিতে।

"এক বছর তিন মাস আগে মোবাইলটা হারিয়ে গিয়েছিল রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সামনে থেকে। থানায় আই এম ই আই নম্বর দিয়ে রিপোর্ট করেছিলাম। কিন্তু মাস ছয়েক অপেক্ষা করার পরে একরকম আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। হঠাৎই পরশুদিন আমাকে ফোন করে জানানো হয় যে ফোন পাওয়া গেছে। কী যে অবাক হয়েছিলাম, বোঝাতে পারব না," বিবিসিকে বলছিলেন মি. ঘোষ।

কলকাতা পুলিশের ফেসবুক পোস্টটি মি. ঘোষ শেয়ার করায় তার আত্মীয় বন্ধুরা অভিনন্দন জানাচ্ছেন তাকে।

ছবির কপিরাইট Kolkata Police
Image caption পুলিশ বলছে, কলকাতা শহরে প্রতিমাসে ১০০০ থেকে ১২০০ মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

আরো পড়তে পারেন:

রোহিঙ্গাদের বোঝাতে মিয়ানমার সরকারের চেষ্টা

ডেঙ্গু পরিস্থিতি: মশা মারতে কামান নয়, মশা

'ডেঙ্গু রোগীরা ঢাকা থেকে এসেছে'

কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মুরলীধর শর্মা বিবিসিকে বলছিলেন, "বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা দেখি লোকজন বাসে, ট্যাক্সিতে বা অন্য কোথাও ভুলে মোবাইল ফোন ফেলে চলে যান। তার মধ্যে একটা বড় অংশই হাত বদল হয়ে যায় চোরাই মার্কেটের মাধ্যমে। কেউ ওই চোরাই মোবাইল কিনে সেটিতে নতুন সিম কার্ড ভরলেও আই এম ই আই নম্বর তো আর পাল্টাতে পারবে না। চোরাই মোবাইল ব্যবহার করতে শুরু করলেই আমাদের নজরে চলে আসে।"

যে ব্যক্তি চোরাই মোবাইল কিনেছেন, তখন তাকে পুলিশ ফোন করে জানায় যে ওই আই এম ই আই নম্বরের ফোন হারিয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সেটি যেন সে দ্রুত ফেরত দিয়ে যায়।

"তবে একটা অংশের মোবাইল চুরিও হয়। সেগুলোও চোরাই মার্কেটে বিক্রি হয়ে আবারও বাজারে এলে আমরা ওই একই ভাবে আই এম ই আই নম্বর ধরে খুঁজে বার করতে পারি," জানাচ্ছিলেন মি. শর্মা।

সবক্ষেত্রেই আই এম ই আই নম্বরটা অত্যন্ত জরুরী। পুলিশের পরামর্শ, মোবাইল কেনার পরেই আই এম ই আই নম্বরটি নোট করে রাখুন। ফোন চুরি বা হারানো অভিযোগ জানাতে গেলে সেটাই সবথেকে জরুরি।