কাশ্মীরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, তার মধ্যেও সেখানে বিক্ষোভ হচ্ছে: ভেতর থেকে বিবিসির সাংবাদিক

শ্রীনগর শহরে কয়েকদিন আগে পেট্রোল পাম্পে তেলের জন্য লোকের ভিড় ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption শ্রীনগর শহরে কয়েকদিন আগে পেট্রোল পাম্পে তেলের জন্য লোকের ভিড়

ভারতের সংবিধানের যে ৩৭০ অনুচ্ছেদ, তা বিলোপের একদিন পরও কাশ্মীর কার্যত বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন। তার মধ্যেও বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পাথর ছোঁড়ার ঘটনা ঘটছে বলে জানাচ্ছেন শ্রীনগর থেকে বিবিসির সাংবাদিক ।

ভারত শাসিত কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দিতো সংবিধানের যে ৩৭০ অনুচ্ছেদ, তা বিলোপের একদিন আগে রোববার সন্ধ্যে থেকেই রাজ্যের টেলিফোন, মোবাইল এবং ইন্টারনেটের সংযোগ রবিবার সন্ধ্যায়ই বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়।

কিন্তু এর মধ্যেই বিবিসি হিন্দির একজন সাংবাদিক আমীর পীরজাদা ভারতশাসিত কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগর ভেতর থেকে জানাতে পেরেছেন সেখানে কি ঘটছে। টেলিফোনে তিনি বলছেন, কাশ্মীর এখন ক্রোধে ফুটছে।

তিনি জানান, "শ্রীনগর এবং কাশ্মীরের উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পাথর ছোঁড়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে সরকারিভাবে এসব খবরের কোন নিশ্চয়তা পাওয়া যায় নি।"

রাস্তায় সর্বত্র হাজার হাজার সেনা, পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী টহল দিচ্ছে। সকল রাস্তা বন্ধ। সবখানে জারি হয়েছে কারফিউ। কাউকে ঘর থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। ল্যান্ড ফোন, মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেট ব্লক করে দেয়া হয়েছে।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption কাশ্মীরে গত কয়েক দশক ধরেই বিদ্রোহী তৎপরতা ও ভারতবিরোধী বিক্ষোভ চলছে

এখন কাশ্মীরে একজনের সাথে আরেকজনের যোগাযোগ করার কোন উপায়ই নেই।

আমীর পীরজাদা জানাচ্ছেন, "আমরা শ্রীনগরে আছি, কিন্তু কাশ্মীরের অন্য জায়গায় কি হচ্ছে তা জানার কোন উপায় নেই। কারণ কোন যোগাযোগ নেই। বিপুল পরিমাণ সৈন্য মোতায়েন হয়েছে এবং তারা সবকিছু চেক করছে। পরিচয়পত্র থেকে শুরু করে কে কোথায় যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে - সবকিছু চেক করছে। "

শ্রীনগর এবং কাশ্মীরের উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ এবং পাথর ছোঁড়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে সরকারিভাবে এসব খবরের কোন নিশ্চয়তা পাওয়া যায় নি। তবে আগামী কয়েক দিনে হয়তো কি হচ্ছে তা আরেকটু ভালোভাবে জানা যাবে।

সবখানেই উত্তেজনা। লোকজন ক্ষুব্ধ। তারা এখনো বুঝতে চাইছে কী ঘটছে, কী ঘটতে যাচ্ছে, তাদের ভাগ্যে কী আছে।

সামনে ঈদ আসছে। মনে করা হচ্ছে ভারত সরকার তখন সাময়িকভাবে কারফিউ তুলে নেবে - যাতে লোকজন উৎসবের আগে কেনাকাটা করতে পারে। আমাদের দেখতে হবে, ঈদের সময় বাড়ির বাইরে এসে নামাজ পড়ার অনুমতি দেয় কিনা। আমরা এখনো তা জানি না।

আরো পড়তে পারেন:

যেভাবে বদলে যাবে ভারতের অধীন কাশ্মীর

মুসলিম-প্রধান কাশ্মীরের চরিত্র বদলানোই মূল লক্ষ্য?

কাশ্মীরের জন্য বিশেষ আইন কেন বিতর্কিত?

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption কাশ্মীরে সহিংসতায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন

তবে জল্পনা চলছে যে আগামী দিনগুলোতে সহিংসতা হয়তো বাড়তে পারে।

কাশ্মীরের যোগাযোগ এমনভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যে সেখানকার অনেক লোকই এখনো ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের খবর জানেন না।

তবে যারা জানতে পেরেছেন তাদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া কী হয়েছে? আমীর পীরজাদাকে প্রশ্ন করেন বিবিসি দিল্লির শালু যাদব।

এ ব্যাপারে আমীর পীরজাদা জানান, তারা মঙ্গলবার সকালে কাশ্মীরের উত্তরাঞ্চলে বারামুল্লা জেলায় গিয়েছিলেন, স্থানীয়দের কাছে জানতে চেয়েছিলেন এ খবর তারা জানেন কিনা।

অধিকাংশ লোকই বলেছেন, তারা আরো খবরের অপেক্ষায় আছেন, কারণ সবার কথা তারা বিশ্বাস করেন না।

আমীর পীরজাদা বলছিলেন, তবে একজন লোকের সাথে তাদের কথা হয়, যার বয়স ৫০-এর কোঠায়। তিনি বলছিলেন, আগে তারা নিজেদের স্বাধীন ভাবতেন, কিন্তু এখন তার মনে হচ্ছে সেই স্বাধীনতা তারা হারিয়ে ফেলেছেন।

Image caption কাশ্মীর তিনটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে ভারত, পাকিস্তান ও চীন

লোকটি বলছিলেন, তারা ভারতের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন, এবং তারা ভারতের গোলামে পরিণত হয়েছেন।

আমীর পীরজাদা বলছেন, এটাই কাশ্মীরের লোকদের সাধারণ অনুভূতি।

এখানকার মূলধারার রাজনৈতিক নেতারা গৃহবন্দী। তাদেরকে বাড়ি থেকে বেরুতে দেয়া হচ্ছে না। তারা প্রতিবাদ করছিলেন, ভারতের সরকারের কাছে উদ্বেগ জানাচ্ছিলেন, যে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করা উচিত হবে না, এতে হাত দেয়া ঠিক হবে না।

সুতরাং এটা স্পষ্ট যে ভারতের সরকার ও ভারতশাসিত কাশ্মীরের মধ্যে যোগাযোগের অভাব ছিল।

বিবিসির শালু যাদব তাকে প্রশ্ন করেন, কাশ্মীরের নেতাদের গৃহবন্দী হবার কথা সাধারণ লোকেরা জানেন কিনা।

সাংবাদিকরা ছাড়া খুব কম লোকই এ কথা জানেন। এ ব্যাপারে কোন সরকারি ঘোষণাও দেয়া হয় নি।

আরও পড়তে পারেন:

কাশ্মীর: অনুচ্ছেদ ৩৭০ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

আদালতে যাবে বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত?

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিল ভারত সরকার