কাশ্মীর: 'নতুন জম্মু-কাশ্মীর, নতুন লাদাখ' গড়ার আহ্বান নরেন্দ্র মোদীর

কাশ্মীরে এখনো যে কোনো ধরণের প্রতিবাদ বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption কাশ্মীরে এখনো যে কোনো ধরণের প্রতিবাদ বিক্ষোভ নিষিদ্ধ

ভারতে জম্মু-কাশ্মীর রাজ্য ভেঙ্গে লাদাখকে বিধানসভাবিহীন কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল আর জম্মু-কাশ্মীরকে বিধানসভা-যুক্ত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বলে ঘোষণা করে আইন পাশ করা হয়েছে দুদিন আগেই।

ওই দুই কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে নতুন বিনিয়োগ, নতুন চাকরী থেকে শুরু করে ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিতে চলেছে বলে জাতির উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার রাতে দেয়া ভাষণে জানান মি. মোদী।

ভারত শাসিত কাশ্মীর থেকে বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরে এই প্রথম মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি এই আশ্বাসও দিয়েছেন, ওই রাজ্যে যে কঠোর নিরাপত্তার ঘেরাটোপে এখন রাখা হয়েছে, সেই ব্যবস্থা ধীরে ধীরে তুলে নেওয়া হবে।

ঈদ পালন করতে যাতে সেখানকার মানুষের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই ব্যবস্থাও সরকার করছে বলে জানিয়েছেন মি. মোদী।

প্রায় চল্লিশ মিনিটের এই ভাষণের প্রথম দিকে মি. মোদী ব্যাখ্যা করেন যে কেন সংবিধানের ৩৭০ এবং ৩৫ এ ধারা দুটি প্রত্যাহার করার প্রয়োজন ছিল।

"ওই দুটি ধারার কারণে সেখানে এতবছর ধরে সন্ত্রাসবাদ, পরিবারতন্ত্র আর দুর্নীতি ছাড়া আর বিশেষ কিছু হয়নি। তিন দশকে ৪২ হাজার নির্দোষ মানুষের প্রাণ গেছে। ভারতের অন্য সব নাগরিক যেসব অধিকার ভোগ করতেন, সেগুলোর অনেকগুলি থেকেই জম্মু-কাশ্মীরের নাগরিকরা বঞ্চিত ছিলেন," ব্যাখ্যা মি. মোদীর।

এমনকি ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পরে পাকিস্তান থেকে যে বহু মানুষ ভারতে চলে এসেছিলেন, তাদের অনেকেরই ভোটাধিকার এখনও নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

বিবিসি বাংলার সরেজমিন: কাশ্মীরে আতংক, ক্ষোভ

যেভাবে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে কাশ্মীরের তরুণরা

কাশ্মীর: যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার মধ্যে কেমন আছে

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption রাস্তাঘাট দোকানপাট সব বন্ধ

শিক্ষা ক্ষেত্র থেকে শুরু করে নারীদের অধিকার, সাফাই কর্মচারী, শ্রমিক বা দলিত শ্রেণীর মানুষ অথবা সরকারী কর্মচারী, পুলিশ - জম্মু কাশ্মীর রাজ্যের সকলেই যে ভারতের অন্যান্য নাগরিকদের থেকে কম অধিকার আর সুযোগ সুবিধা পেতেন, ভাষণে সেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন মি. মোদী।

ভাষণের দ্বিতীয় অংশে নরেন্দ্র মোদী জানান জম্মু-কাশ্মীর আর লাদাখ - এই দুটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের জন্য তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা।

কয়েক মাস আগে পূর্বতন জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যে হওয়া স্থানীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকেই যে ব্যাপক উন্নয়নের কাজ চলছে, সেটার উল্লেখ করেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে প্রথমেই তিনি বলেন সেনাবাহিনী আর কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাবাহিনীগুলিতে ওই দুটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল থেকে বড় ধরণের নিয়োগ শুরু করবে।

এছাড়াও তথ্য প্রযুক্তি, ফিল্ম-শুটিং, ক্রীড়া, ভেষজ রপ্তানি, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন সহ সব ক্ষেত্রের বিনিয়োগকারীদের কাছে আহ্বান জানান কাশ্মীরে যাতে তারা বিনিয়োগ করতে শুরু করেন। সদ্য বিলুপ্ত জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের নানা ক্ষেত্রে যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, তার বিস্তারিত জানান প্রধানমন্ত্রী।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ঢাকায় কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ

বক্তৃতার শেষ অংশে ছিল ৩৭০ আর ৩৫এ ধারা দুটি বিলোপের কারণে যে প্রতিবাদ হচ্ছে, মানুষের মনে যে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে, তা নিয়ে।

"কেউ কেউ এই ধারাদুটি বিলোপের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করছেন। গণতন্ত্রে এটা চলতেই পারে। কারও ভিন্ন মত থাকতেই পারে। কিন্তু তাদের অনুরোধ করব, দেশহিতকে সবথেকে বেশী গুরুত্ব দিন। দেশের যাতে ভাল হয়, সেটা খেয়াল রাখুন। সরকারকে দেশহিতে কাজ করতে সহায়তা করুন। দেশের মানুষের আবেগকে সম্মান দিন," বলছিলেন মি. মোদী।

কয়েকদিন ধরে অভূতপূর্ব নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থেকে কাশ্মীরের মানুষের যে সমস্যা হচ্ছে, সেটা তারা নিজেরাই সামলাচ্ছেন বলে মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

"ক'দিনের মধ্যেই ঈদ আসছে। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাই। সরকার আর নিরাপত্তা বাহিনী চেষ্টা করছে যাতে সেখানকার মানুষ ভাল করে ঈদ পালন করতে পারেন। বাইরে থেকে যারা ঈদ উপলক্ষে কাশ্মীরে নিজের বাড়ি ফিরতে চান, তাদের যথাসম্ভব সহায়তা করা হচ্ছে," বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপরে, ভাষণের একেবারে শেষে তিনি সবাইকে আহ্বান করেন, "আসুন আমরা সবাই মিলে একটা নতুন জম্মু-কাশ্মীর, নতুন লাদাখ গড়ি।"

সম্পর্কিত বিষয়