পরিবেশ রক্ষার জন্য 'একদিন পর পর মলত্যাগ করুন' : ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারো

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারো

ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি জেইর বলসোনারো এই গ্রহকে বাঁচানোর উপায় হিসাবে মানুষকে একদিন পর পর মলত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

ওই সাংবাদিক তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে কীভাবে পরিবেশকে রক্ষা করে কৃষির উন্নয়ন করা যায়।

আমাজনে বন উজাড় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি সরকারী তথ্যে উঠে আসার পরে মিঃ বলসোনারো সম্প্রতি তোপের মুখে পড়েন।

এরপর তিনি সেই সংস্থার প্রধানকে বরখাস্ত করেন - যিনি কিনা এই বন উজাড় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি সামনে এনেছিলেন।

মি. বলসোনারোর অভিযোগ, ওই ব্যক্তি সমস্যার পরিধি সম্পর্কে ওই মিথ্যা বলেছে।

এ বিষয়ক একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ওই সাংবাদিক বলেন যে, এই গ্রহে গ্রিনহাউজ প্রভাবের এক চতুর্থাংশের জন্য দায়ী বন উজাড় ও কৃষিক্ষেত্র।

তার প্রতিক্রিয়ায় মি. বলসোনারো ওই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, "খানিকটা কম খাওয়া এক্ষেত্রে যথেষ্ট। আপনি পরিবেশ দূষণের বিষয়ে কথা বলছেন তো? সেক্ষেত্রে একদিন পর পর মলত্যাগ করলেই হবে। এটি পুরো বিশ্বের জন্যই ভাল হবে।"

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ব্রাজিলের অ্যামাজনে নির্বিচারে চলছে বন উজাড়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন যে মি. বলসোনারো জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে, অ্যামাজন ক্রমান্বয়ে ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে।

কারণ তার সরকার যে নীতি নিয়েছে সেগুলোতে পরিবেশ সংরক্ষণের চাইতে উন্নয়নকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বেশি।

ব্রাজিলের মহাকাশ সংস্থার তথ্য থেকে দেখা গেছে যে, গত বছরের জুনে অ্যামাজনে যে পরিমাণ বনভূমি ধ্বংস করা হতো, এ বছরের জুনে - অর্থাৎ পুরো এক বছরের মাথায় - এই বন উজাড়ের হার ৮৮% বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্বের বৃহত্তম রেইনফরেস্ট হিসাবে, অ্যামাজন একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্বনের গুদাম, যা কিনা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের গতি কমাতে সাহায্য করে।

আরও পড়তে পারেন:

জেনে নিন বিশ্বের কোন খাবারগুলো পরিবেশ বান্ধব

অবৈধ খননে আমাজনের ক্ষতি মহাকাশ থেকে দৃশ্যমান

পরিবেশ-বান্ধব থেকেও যেভাবে হবেন স্টাইল আইকন

সরকারী পরিসংখ্যানগুলো বলছে যে অ্যামাজনে গাছ কাটার সবচেয়ে বড় কারণ গবাদি পশুর জন্য নতুন চারণভূমি তৈরি করা।

বিগত দশ বছর ধরে যেসব সরকার ক্ষমতা ছিল, তারা কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর সম্মিলিত পদক্ষেপের মাধ্যমে এবং জরিমানার ব্যবস্থা করে বন উজাড় কমাতে সক্ষম হয়েছিল

তবে মি. বলসোনারো এবং তার মন্ত্রীরা এই শাস্তির সমালোচনা করেছেন।

তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পর কাঠ বাজেয়াপ্তকরণ এবং পরিবেশগত অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার নাটকীয় হারে কমে গেছে।