বাংলাদেশের রাঙ্গামাটিতে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত

সেনাবাহিনীর উপর সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনা খুবই বিরল। (আর্কাইভ থেকে নেয়া) ছবির কপিরাইট NURPHOTO
Image caption সেনাবাহিনীর উপর সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনা খুবই বিরল। (আর্কাইভ থেকে নেয়া)

রাঙ্গামাটির পুলিশ বলছে আজ শুক্রবার আনুমানিক সকাল দশটার দিকে জেলার বাঘাইছড়িতে সেনাবাহিনীর টহলকৃত গাড়ির উপর একদল লোক গুলি করে।

পরে সেনাবাহিনী গুলি করলে সেখানে একজন নিহত হয়। রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফিউল্লাহ বলছেন নিহত ব্যক্তির নাম সুমন চাকমা। তবে তার কোন রাজনৈতিক পরিচয় আছে কিনা পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে।

মি. শফিউল্লাহ বলছিলেন "সেনাবাহিনীর টহলকৃতদের উপর গুলি করা হয়। এবং সেনাবাহিনী সেখানে গুলি করে। গোলাগুলির পর একজনের ডেড-বডি উদ্ধার করে। সেনাবাহিনীর গাড়িতে দুটি গুলির চিহ্ন রয়েছে।"

এদিকে আন্ত-বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের ''সন্ত্রাসী'' বলে বর্ণনা করেছে।

তারা বলছে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দোপাতা নামক এলাকায় তারা অভিযান চালাতে গিয়েছিল।

ঘটনাস্থলে সেনাসদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করা হয় বলে আইএসপিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সেনাবাহিনী জানাচ্ছে উভয় পক্ষের মধ্যে আনুমানিক ৪/৫ মিনিট গোলাগুলি হয়।

তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিহত ব্যক্তিকে ইউপিডিএফ (মূল) দল এর সদস্য সুমন চাকমা হিসাবে পরিচয় দেয়া হয়েছে।

ছবির কপিরাইট আইএসপিআর ওয়েবসাইট
Image caption আইএসপিআর থেকে দেয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

বিবিসি বাংলাতে আরও পড়ুন:

সেনা টহলে হামলায় গুলি ও বিস্ফোরক ব্যবহার

বাংলাদেশের যে ৫টি স্থান পর্যটকদের কাছে আর্কষণীয়

এর আগে গত ১৮ তারিখে রাঙ্গামাটির রাজস্থলী আর্মি ক্যাম্প থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে গুলির ঘটনা ঘটেছিল।

এতে একজন সৈনিক গুলিবিদ্ধ হয়ে পরে মারা যান। একইদিন দ্বিতীয় দফায় বিকেলের দিকে আরেকটি হামলার ঘটনা ঘটে।

সেই হামলায় বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয় বলে জানিয়েছিল পুলিশ। মাত্র ছয়দিনের ব্যবধানে আবারে আজ এই ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাঘাইছড়ি উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবুল কাইয়ুম।

"অবশ্যই এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। আপনি জানেন যে সাজেক এলাকাটা পর্যটন এলাকা। সেখানে হাজার হাজার মানুষ যায় প্রতিদিন। যেহেতু রাস্তার মধ্যে ঘটনা ঘটেছে তাই মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে," বলছিলেন মি. কাইয়ুম।

তিনি বলছিলেন, সেখানে এখন সেনাবাহিনীর অভিযান চলছে দুষ্কৃতিকারীদের ধরার জন্য।

আইএসপিআর বলছে "নিহত সুমন চাকমা নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান, অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি।

বর্তমানে ওই স্থানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিরাপত্তাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে আইএসপিআর-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

এদিকে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানাচ্ছেন নিহত ব্যক্তি আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বা ইউপিডিএফ এর একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা।

এবং যে স্থানে ঘটনা ঘটেছে সেটি সাজেকে যাওয়ার পথে র‍্যাবকাটামো নামে একটি স্থান।

সেটা ইউপিডিএফ এর নিয়ন্ত্রিত এলাকা বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ‌

এই ব্যাপারে ইউপিডিএফ-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

বাবাকে হত্যা করেও রাশিয়ানদের হৃদয় ছুঁয়েছে তিন বোন

'সুখে খুব বেশিদিন থাকবে না' রোহিঙ্গারা

পরমাণু অস্ত্রের নীতি কেন বদলাতে চায় ভারত?

সম্পর্কিত বিষয়