জেলায় উপজেলায় এডিস মশা কি ডেঙ্গুর বাহক হয়েছে

ডেঙ্গু, ঢাকা, বাংলাদেশ ছবির কপিরাইট BBC Bangla
Image caption হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের ভিড়

বাংলাদেশে ঢাকার বাইরে জেলাগুলোতে ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লেও এর বাহক স্থানীয় এডিস মশা কিনা, সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি।

অন্যান্য জেলার তুলনায় বরিশালে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হওয়ায় শুধু সেখানে কারণ অনুসন্ধানের জন্য এখন একটি জরিপ চালানো হচ্ছে।

কর্মকর্তারা বলেছেন, রাজধানী থেকে ডেঙ্গুর বিস্তার হয়েছে, এটা ধরে নিয়েই জেলাগুলোতে এখন চিকিৎসার ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, জেলা উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গুর উৎস স্থানীয় এডিস মশা কিনা, তা চিহ্নিত করা না হলে এর প্রকোপ কমবে না।

সরকারি হিসাবে সারাদেশে এপর্যন্ত ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৬২ হাজার ছাড়িয়েছে।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১১৭৯ জন ভর্তি হয়েছেন গত ২৪ ঘন্টায়।

সরকারি এই হিসাবে ঢাকার বাইরে জেলা উপজেলার হাসপাতালগুলোতে রোগী ভর্তির সংখ্যা বেশি।

ঢাকায় যখন ব্যাপকহারে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব, এরমধ্যেই এই অগাষ্ট মাসের মাঝামাঝি ঈদকে কেন্দ্র করে লাখ লাখ মানুষ গ্রামে গিয়েছিলেন। ফলে ঢাকা থেকেই দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়িয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে।

ঈদের সময় পার হওয়ার অনেক পরে এসেও জেলা উপজেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু এর উৎস চিহ্নিত করার জন্য সরকারের সার্বিক কোন উদ্যোগ এখনও দৃশ্যমান নয়।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption একটি হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এক শিশুর পাশে তার মা

আরও পড়তে পারেন:

কাশ্মীরে ঢুকতেই দেয়া হলো না রাহুল গান্ধীকে

'মহাকাশে প্রথম অপরাধ' অভিযোগ তদন্ত করছে নাসা

চীনের ওপর কতটা ভরসা করতে পারে বাংলাদেশ

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছেন, ঢাকার-চট্টগ্রামের বাইরে জেলাগুলোর মধ্যে বরিশালে যেহেতু ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি, সেজন্য সেখানে জরিপ চালানো হচ্ছে। অন্য এলাকাগুলোতে বিশেষজ্ঞ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ জরিপ না হলেও স্থানীয় পর্যায় থেকে আসা তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা একটা ধারণা করতে পারছেন।

তিনি বলেছেন, "বিভিন্ন এলাকার তথ্য থেকে আমরা দেখেছি, ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যার বৃদ্ধিটা ছিল, ঈদের প্রস্তুতি থেকে ঈদের সময় পর্যন্ত। ঢাকায় কমছিল, ঢাকার বাইরে বাড়ছিল। এটা ছিল একেবারে চোখে পড়ার মতো। তাতে মনে হয়েছে, এটা ঢাকা থেকে গেছে, এমন সংখ্যাটাই বেশি।"

"আমরা যে ট্রাভেল হিস্ট্রি বিশ্লেষণ করেছি, তাতে দেখেছি, ৭০ভাগই বলেছেন যে, ঢাকা থেকে গেছেন অথবা ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার দু'সপ্তাহের মদ্যে তারা ঢাকা এসেছিলেন। এরমদ্যে কিছু বলছেন না যে ঢাকায় এসেছিলেন। সেজন্য আমাদের মনে হচ্ছে, লোকাল ট্রান্সিশন হতে পারে।"

কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, জেলা উপজেলা পর্যায়েও হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগের পর্যাপ্ত এবং যথাযথ চিকিৎসা দেয়ার ব্যাপারে জোর দেয়া হয়েছে।

তবে বিশ্লেষকরা বলেছেন, সারাদেশেই এডিস মশা যেহেতু পাওয়া গেছে, ফলে সেই এডিস এখন ডেঙ্গুর বাহক হয়ে থাকতে পারে। এই বাহক চিহ্নিত করে তা নিয়ন্ত্রণের বিষয়কেও গুরুত্ব দিতে হবে। তা না হলে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমানো সম্ভব নয় বলে তারা মনে করেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কবিরুল বাশার মশা নিয়ে কাজ করেন, তিনি বলছিলেন, "এডিস মশার ঘনত্ব কিন্তু সব শহরগুলোতেই ছিল। যেহেতু এডিস মশার ঘনত্ব ছিল, আর সে যদি একজন রোগী পেয়ে যায়, তখন কিন্তু ভাইরাস ট্রান্সমিশন প্রক্রিয়াটা শুরু হয়।সেভাবেই প্রত্যেকটা জেলাতেই এডিসে ভাইরাস ট্রান্সমিশনটা শুরু হয়েছে এবং মশা যেহেতু আছে,সেই ট্রান্সমিশনটা চলছে।"

এখন ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা কোনদিন বাড়ছে, কোনদিন কমছে। তবে প্রতিদিন গড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১১শ'র বেশি থাকছে। আগের বছরগুলো রেকর্ডে অগাষ্ট এবং সেপ্টেম্বর মাসেই ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংক্যা বেশি থাকে অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলছিলেন, পরিস্থিতি একটা জায়গায় এসে থেমেছে বলে তারা মনে করছেন।

"এটা আসলে বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করে। এরসাথে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা কি নেয়া হচ্ছে, তার ওপর রোগীর কমা বাড়াটা নির্ভর করে। কিন্তু এবার পুরো অগাষ্ট মাসজুড়েই দেখতে পেয়েছি, রোগী মোটামোটি স্থিতিশীল।"

"এখন পর্যন্ত আমাদের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, এটা স্থিতি অবস্থায় আছে। আর কিছুদিন হয়তো আরেকটু এরকম থেকে আস্তে আস্তে এটা নামতে শুরু করবে।"

কর্মকর্তারা বলছেন, এবার ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগ বেশি হওয়ায় মানুষও অনেক সচেতন হয়েছে। সেটাকে তারা পরিস্থিতি সামাল দেয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

সম্পর্কিত বিষয়