এডিটার'স মেইলবক্স: রোহিঙ্গা বিতর্ক থেকে জাতীয় পার্টি আর ব্রেক্সিট নিয়ে প্রশ্ন

কক্সবাজারে শরণর্থী শিবিরে কয়েকজন রোহিঙ্গ মেয়ে, ২৫-০৮-২০১৯। ছবির কপিরাইট Allison Joyce
Image caption জীবন বাঁচাতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা এখন নেতিবাচক প্রচারণার লক্ষ্যবস্তু।

বাংলাদেশে ইদানীং রোহিঙ্গা শরণার্থী ঘিরে নানা রকম প্রচারণা চলছে, যার একটা বড় অংশ হচ্ছে নেতিবাচক। রোহিঙ্গা-বিরোধী এই প্রচারণা মাঝে-মধ্যে উগ্র জাতীয়তাবাদ, এমনকী বর্ণবাদের পর্যায়েও চলে যাচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের নিয়ে গত সপ্তাহে দুটি চিঠির জবাবে আমি বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে একটি মন্তব্য করেছিলাম। সেই মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে লিখেছেন রংপুরের দক্ষিণ পানাপুকুর থেকে দেব প্রসাদ রায়:

''মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে গত পর্বে দু'জন পত্রলেখকের মন্তব্যে বিবিসি সম্পাদক এক পর্যায়ে বলেছেন, 'বিষয়টি হচ্ছে, রোহিঙ্গারা ভয়াবহ এক পরিস্থিতি থেকে বাঁচার জন্য বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। যেমন ১৯৭১ সালে এক কোটি বাঙালি পাকিস্তান বাহিনীর হাত থেকে বাঁচার জন্য ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন''

''আমার কাছে এই মন্তব্য প্রত্যাশিত বা সঠিক মনে হয়না। আমরা সবাই জানি রোহিঙ্গারা চরম নির্যাতনের শিকার। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কীভাবে একাত্তরের শরণার্থীদের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের তুলনা হয়? একাত্তরে বাঙালিদের ভূমিকা আর আজকের রোহিঙ্গাদের ভূমিকা বা সমস্যা কি এক ছিল?''

আপনি কী ভূমিকার কথা বলছেন, তা আমার কাছে পরিষ্কার নয় মি. রায়। আমি ১৯৭১-এর বাঙালি বা ২০১৯ এর রোহিঙ্গাদের ভূমিকা নিয়ে কিছু বলিনি। তুলনাটা আমি করেছি, কারণ দুই জনগোষ্ঠীই একই রকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে, অর্থাৎ গণহত্যা থেকের বাঁচার জন্য পার্শ্ববর্তী দেশে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে, এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দুজনই সমান। এখানে ভূমিকার প্রশ্ন আসবেই বা কেন?

ছবির কপিরাইট John Downing
Image caption আশ্রয় ১৯৭১: ভারতের শরণার্থী শিবিরে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে পালিয়ে আসা পরিবার।

বাংলাদেশে আরেকটি যে বিষয় নিয়ে বাক-বিতণ্ডা হচ্ছে তা হলো, জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল এরশাদের মৃত্যর পর এখন এই দ্বন্দ্বের বহি:প্রকাশ ঘটছে। এ'বিষয়ে লিখেছেন খুলনার কপিলমুনি থেকে মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পী:

''বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলির মধ্য জাতীয় পাটির একটি অবস্থান আছে। গণমাধ্যমে জেনেছি সাবেক রাষ্ট্রপতি মরহুম হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ-এর ছোট ভাই জি এম কাদের এবং স্ত্রী রওশন এরশাদ দু'জনই জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে বিরোধী দলের নেতার পদ পাবার দাবি করেছেন। বিবিসি বাংলার কাছে প্রশ্ন একই রাজনৈতিক দলের দুই জন এক সাথে চেয়ারম্যান কীভাবে হয়?

''তাহলে কি জাতীয় পাটিতে ভাঙ্গনের সুর শোনা যাচ্ছে? তাহলে কি পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্ব জাতীয় পাটির মূল নেতৃত্বে আঘাত হেনেছে?''

আপাতদৃষ্টিতে তাই মনে হচ্ছে মি. বিল্লাহ। আপনি যদি শুক্রবার সকালে বিবিসি বাংলার রেডিও অধিবেশন শুনে থাকেন, তাহলে আরো বিস্তারিত জেনে থাকবেন। এটুকুই বলা যায়, মি. এরশাদের মৃত্যুর পর তার ভাই এবং স্ত্রীর মধ্যে যে দ্বন্দ্ব শুরু হবে, সেটা যে অবধারিত তা অনেকে আগেই বুঝতে পেরেছিলেন। আবার অনেকে মনে করেন আওয়ামী লীগের হস্তক্ষেপেই এই দ্বন্দ্ব শেষ হতে পারে। আপনাকে ধন্যবাদ।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ও রওশন এরশাদ

এবারে ব্রিটেনের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিয়ে একটি চিঠি, লিখেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

''ব্রেক্সিট নিয়ে ব্রিটেন এত দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছে কেন? চুক্তি ছাড়া ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়া এবং এ বিষয়ে অনেক এমপি'র আপত্তি নিয়ে বহু জল ঘোলা হলো। আমার মতামত হলো, ইইউ থেকে বেরিয়ে গেলে শুধু 'ফ্রি মুভমেন্ট অব পিপলস' কেন, ইইউ'র সকল আইন থেকে বেরিয়ে যাওয়াই শ্রেয় হবে। কারণ, ব্রিটেন তো ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ব্যাপারেই গণভোটের আয়োজন করেছিল, তাই নয় কি?''

আপনার প্রশ্নের মধ্যে দ্বন্দ্বের একটি দিক ফুটে উঠেছে শামীমউদ্দিন শ্যামল। যারা চুক্তি ছাড়া বের হতে চায়, তারা সেটাই বলছে। যে, গণভোটের রায় ছিল ইইউ থেকে বের হওয়া এবং সেটাই করতে হবে। কিন্তু অপর পক্ষ মনে করছে. চুক্তি ছাড়া বের হলে শুধু ফ্রি মুভমেন্ট না, শুল্কবিহীন বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাবে, বিমান চলাচল, পর্যটন, ব্যাংকিং, পুঁজি বাজারের কার্যকলাপ ইত্যাদি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই তারা চাইছে, ব্যবসা-বাণিজ্য যাতে অবাধে চলে সেটা চুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করেই বের হওয়া উচিত।

অন্যদিকে, যারা কখনো ইইউ থেকে বের হতে চায়নি, তারা আশা করছে এই অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আরেকটি গণভোট হবে, যার মাধ্যমে প্রথম গণভোটের ফলাফলকে পাল্টে দেয়া যাবে। আপনাকে ধন্যবাদ।

Image caption দক্ষিণ কোরিয়ার সামাজিক মাধ্যমে # নো ব্রা আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে

এবারে একটি অভিযোগ। আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন নিয়ে অভিযোগ করে লিখেছেন কুড়িগ্রামের রাজার হাট থেকে মোহাম্মদ মিজানুর রহমান:

''নো-ব্রা নিয়ে বিবিসিতে প্রকাশিত নিউজের সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই। দুই-একজন বিতর্কিত ব্যক্তির বক্তব্যে কিছু যায় আসে না। কিন্তু বিবিসির মতোস্বনামধন্য মিডিয়া এরকম সেক্সুয়াল ও নিম্নমানের খবর প্রচার করে কেন?''

খবরটা কী করে নিম্নমানের হলো সেটা আমি বুঝতে পারছি না মি. রহমান। বিবিসিতে এখন বিভিন্ন ধরণের বৈচিত্র্যময় খবর পরিবেশন করছে, যেটা হয়তো আমরা কুড়ি-তিরিশ বছর আগে করতাম না। এর কারণ হচ্ছে, ডিজিটাল যুগে মানুষ অনেক বিষয়ে খবর জানতে চায়, বিশেষ করে সামাজিক অঙ্গনের খবর যার মধ্যে তাদের যৌন জীবনও একটি বড় অংশ। আপনাকে ধন্যবাদ। (প্রতিবেদনটি পড়তে চাইলে এখানে ক্লিক করুন )

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption ব্রিটিশ সংসদে ব্রেক্সিট নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

আমাদের প্রকাশিত একটি খবরে ভুল নিয়ে প্রশ্ন করে লিখেছেন রংপুরের গঙ্গাছড়া থেকে সামছুন্নাহার খাতুন:  

''ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এর পরাজয় নিয়ে বিবিসির ওয়েব সাইটেপ্রকাশিত একটি খবরের মাঝে বলা হয়, 'এই বিলের মাধ্যমে বলা হয়েছে,প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন যদি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে একটি সমঝোতা ক'রেপার্লামেন্টে নিয়ে না আসতে পারে তাহলে তাকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কাছে ফিরে যেতে হবে এবং ব্রেক্সিট এর সময়সীমা যেন ২০১৯ এর ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেয়া হয়।'

এখানে তো পুরো তালগোল পাকানো। বরিস জনসন এ'বছরেই প্রধানমন্ত্রী হলেন, তিনি কিভাবে গত হওয়া সময়ে ফিরে যাবেন?''

আপনি ঠিকই বলেছেন মিস খাতুন, খবরটা সেভাবে পড়ে তালগোল পাকানোই মনে হবে। তবে আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন, এখানে একটা ভুল হয়ে গিয়েছিল, ২০২০ না লিখে অভ্যাসবশত ২০১৯ লিখে ফেলা হয়েছিল। তবে ভুলটা প্রকাশ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুধরে দেয়া হয়েছিল। আপনাকে ধন্যবাদ।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
'ক্যু প্রতিহত করো' - ব্রিটেনে বিক্ষোভ

আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদন নিয়ে সন্তুষ্ট নন ঢাকার গেণ্ডারিয়ার মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''বৃহস্পতিবার ৫ই সেপ্টেম্বর বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে, "বালিশের পর ৩৭ লাখ টাকার পর্দা নিয়ে আলোচনা, সরকারি কেনা-কাটায় দুর্নীতি হয় কীভাবে?" শীর্ষক প্রতিবেদনটি পড়লাম। প্রতিবেদনটি পড়ে খুবই হতাশ হলাম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ঘটনাটি চোখে পড়েছে।

''কিন্তু প্রতিবেদনটিতে দুর্নীতি সম্পর্কে অনেক কথা বলা হলেও ঘটনাটি কোন হাসপাতালের বা এর সাথে কে জড়িত তা বিবিসির প্রতিবেদনে কোথাও উল্লেখ করা হয়নি। অর্থাৎ, মূল প্রতিপাদ্য বিষয়টি প্রতিবেদনে নেই। আসলে আমরা বিবিসির কাছে সব সময় বস্তুনিষ্ঠ তথ্যবহুল ও নির্ভরযোগ্য খবর, সংবাদ বা প্রতিবেদন প্রত্যাশা করি।''

আপনি হতাশ হয়েছেন জেনে খারাপ লাগলো মি. রহমান। আমি স্বীকার করছি, নির্দিষ্টভাবে হাসপাতালে দুর্নীতি নিয়ে তথ্য আশা করাটা স্বাভাবিক। তবে এই প্রতিবেদনটি কোন নির্দিষ্ট ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধানী রিপোর্ট ছিল না। কাজেই এখানে হাসপাতালের নাম বা কে দুর্নীতি করলো তার বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ করে তার পরিচয় প্রকাশ করা আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না। যেহেতু সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি কেনাকাটায় আরো কেলেঙ্কারির খবর বের হয়েছে, তাই এই প্রতিবেদনে দেখা হয়েছে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় এ'ধরণের দুর্নীতির সুযোগ কীভাবে সৃষ্টি হয়। আপনাকে ধন্যবাদ।

ঢাকায় এফ এম ১০০তে বিবিসির অনুষ্ঠান প্রচার নিয়ে একটি চিঠি দিয়ে, লিখেছেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থেকে মোহাম্মদ হোসেন:

''বিবিসির দু'টা রেডিও অনুষ্ঠান নিয়মিত শুনে থাকি, বিশেষ করে এফ এম ১০০তে। সকাল ও সন্ধ্যায় বিবিসি বাংলার অনুষ্ঠান ছাড়া যখনই এই চ্যানেল টিউন করি তখন শুনি বিবিসির ইংরেজি সংবাদ কিংবা অন্যান্য ইংরেজি প্রোগাম গুলো। আমার প্রশ্ন হলো এফ এম ১০০ কি তাহলে বিবিসির নিজস্ব রেডিও চ্যানেল? নাকি এই চ্যানেলে বিবিসির সংবাদ প্রচারের জন্য বিবিসি বাংলাদেশ বেতারের সাথে স্থায়ী চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে?''

এটা আমাদের নিজস্ব চ্যানেল না মি. হোসেন। এফ এম ১০০তে সম্প্রচারের জন্য বিবিসি ১৯৯৪ সালে প্রথম বাংলাদেশ বেতারের সাথে চুক্তি করে এবং এই চুক্তি প্রতি তিন বছর অন্তর নবায়ন করতে হয়। এই চুক্তির অধীনে বিবিসি দিনে ১২ ঘণ্টা এফ এম ১০০তে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে যার মধ্যে ১০ ঘণ্টা থাকে ইংরেজি অনুষ্ঠান। আপনাকে ধন্যবাদ।

রংপুর থেকে লিখেছেন হেদায়েতুল ইসলাম বাবু:

''বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নানা ঘটনা বিবিসি'র মাধ্যমে উঠে আসে। আন্তর্জাতিক এই গণমাধ্যম অনেক আগে থেকেই আমাদের দেশের মানুষের কাছে বিশ্বস্ত এবং জনপ্রিয়। একজন পাঠক হিসেবে মনে করি আমাদের দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সমস্যা, সঙ্কট এবং সম্ভাবনার খবরগুলোর প্রতি আপনাদের আরো বেশি গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।''

প্রত্যন্ত অঞ্চলের খবরাখবর সংগ্রহ এবং পরিবেশন করার জন্য যে লোকবল আর সময়ের প্রয়োজন, মি. ইসলাম, সেটা আমাদের নেই। তাছাড়া, আমাদের শ্রোতা-পাঠক-দর্শকরা মূলত দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ খবরের জন্যই বিবিসি বেছে নেন। স্থানীয় খবর স্থানীয় গণমাধ্যমই অনেক ভাল করে। আপনাকে ধন্যবাদ।

ছোট একটি চিঠি লিখেছেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে হাসান আল সাইফ:

''সত্যিই আমি বিস্মিত!! আসলেই এটা একটি মজার খেলা। রহস্যময় সংখ্যা #৬১৭৪ নিয়ে ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিবেদনটি প্রকাশ করার জন্য বিবিসি বাংলার কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।''

আপনাকেও ধন্যবাদ মি. সাইফ। আশা করি এরকম মজার এবং ব্যতিক্রমধর্মী খবর আরো প্রকাশ করা যাবে।

Image caption সেই রহস্যময় সংখ্যা

ছোট একটি প্রশ্ন করে লিখেছেন পঞ্চগড়ের বড়শী থেকে মোহাম্মদ উজ্জ্বল ইসলাম:

''আমি প্রায় দেখি বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইট এবং ফেসবুক পাতায় খবরের সাথে কিছু কিছু ছবির নিচে Getty images লেখা থাকে।। এই Getty images কেন লেখা হয়?''

আমরা যখনই কোন ছবি ব্যবহার করি, তার সাথে ছবির ক্রেডিট, অর্থাৎ ছবির মালিকের নাম দিতে হয়। সেজন্য আপনি বেশির ভাগ ছবিতেই কোন ফটোগ্রাফার বা ফটো এজেন্সির নাম দেখবেন। Getty Images হচ্ছে তেমন একটা ফটো এজেন্সি যাদের কাছ থেকে আমরা ছবি নিয়ে থাকি। আপনাকে ধন্যবাদ।

এবার বিবিসি বাংলাকে নিয়ে একটি প্রশ্ন, লিখেছেন পটুয়াখালীর মৌকরন, থেকে শাহিন তালুকদার:

''বিবিসি বাংলায় কর্মরত সবাইকে সাংবাদিক বলা যায় কি? ঢাকা ও ঢাকার বাহিরে মোট জনবল কত?''

বিবিসির সবাই অবশ্য সাংবাদিক না মি. তালুকদার। ঢাকায় এই মুহূর্তে আমাদের জনবল ৩৩জন, এবং তার মধ্যে ২৬জন সাংবাদিক। তবে ঢাকার বাইরে আমাদের নিয়মিত কোন স্টাফ নেই। আপনাকে ধন্যবাদ।

সব শেষে লিখেছেন কুমিল্লার লালমাই থেকে মাসুদুর রহমান:

''এক যুগ যাবত বিবিসি বাংলার অনুষ্ঠান শুনে আসছি। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সহ বিভিন্ন ধরনের ফিচার শুনতে পেতাম, প্রত্যুষা ও পরিক্রমা বন্ধ হওয়ায় যা এখন আর শোনা যায়না। খুব মিস করি বিবিসি বাংলার সেই অনুষ্ঠানগুলো। আশংকায় আছি যে দুটি অনুষ্ঠান চলমান আছে, এই বুঝি বন্ধ হয়ে গেল। বিবিসি বাংলা এখন আর আগের মত শুনে তৃপ্তি পাইনা।''

অনুষ্ঠান শুনে তৃপ্তি পান না শুনে খুবই খারাপ লাগলো মি. রহমান। অনুষ্ঠান তৈরিতে আমাদের নিষ্ঠার কোন অভাব নেই। তবে আমরা এখন রেডিও ছাড়াও টেলিভিশন এবং ডিজিটালে আছি। আমাদের সার্বিক পরিবেশনায় এখন অনেক বৈচিত্র্য এসেছে। আশা করি ভবিষ্যতে উপভোগ করবেন।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

কল্যাণ শিকদার, কলকাতা।

নুর মোহাম্মদ, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

বৃত্তি রায়, মোহাম্মদপুর, ঠাকুরগাঁও।

পলাশ চন্দ্র রায়, মাড়েয়া, পঞ্চগড়।

মুকুল সরদার, দাকোপ, খুলনা।

দীপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।

রিপন বিশ্বাস, জোৎশ্রীপুর, মাগুরা ।