ধর্ষণের অভিযুক্তের সাথে অভিযোগকারী নারীকে থানায় এনে বিয়ে করিয়ে দেয়ার ঘটনায় পাবনায় পুলিশের ওসি প্রত্যাহার

পুলিশ ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption পাবনা সদর থানার ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ, এক নারী থানায় এসে যার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছিল, তাকেই বিয়ে করতে বাধ্য করেছিলেন তিনি।

পাবনায় ধর্ষণের অভিযোগকারী এক নারীর সাথে অভিযুক্তকে থানায় বিয়ে দেয়ার ঘটনায় জড়িত দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা পুলিশ।

এ ঘটনায় জড়িত থাকায় পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুল হককে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এছাড়া বিয়ে আয়োজনে সহযোগিতা করার অভিযোগে সাব-ইন্সপেক্টর একরামুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, "তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে থানা প্রাঙ্গণের ভেতরে বিয়ে দেয়ার অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। আর এ কারণেই ওই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।"

তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মি.ইসলাম আরো বলেন, পাবনা শহরের বাসিন্দা এক নারী সদর থানায় ধর্ষণের অভিযোগ আনলে, গত ৬ই সেপ্টেম্বর রাতে তাকে থানায় ডেকে নিয়ে পূর্বের স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করা হয়। সেই সঙ্গে ধর্ষণের যিনি মূল অভিযুক্ত তাকেই বিয়ে করতে বাধ্য করা হয় অভিযোগকারী নারীকে। ওই রাতেই এই বিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে এবং থানা প্রাঙ্গণেই এসব করা হয়।

এ ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা উঠে। বিষয়টি গড়ায় হাইকোর্টেও।

পরে, গত সোমবার ওসি ওবাইদুল হকের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চায় জেলা পুলিশ।

একই সাথে এ ঘটনায় মামলা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। গঠন করা হয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি।

পুলিশ সুপার জানান, এই ধর্ষণ মামলায় ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ধর্ষণের শিকার ওই নারী। তার অভিযোগ, এদের মধ্যে তিন জন ধর্ষণ করেছে এবং বাকি দুই জন ধর্ষণে সহায়তা করেছে।

সন্দেহভাজনদের মধ্যে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে দুই জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীও দিয়েছে।

এদিকে থানায় বিয়ের ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানান মি. ইসলাম।