উজানের পানিতে উত্তরাঞ্চলের কয়েক জেলায় বন্যা

মেঘনার পারে বন্যা ও নদী ভাঙনে ঘরহারা কিশোরী (ছবি: সেপ্টেম্বর ২০১৯) ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption মেঘনার পারে বন্যা ও নদী ভাঙনে ঘরহারা কিশোরী (ছবি: সেপ্টেম্বর ২০১৯)

পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলার কিছু অংশ প্লাবিত হয়েছে।

রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা সহ বেশ কয়েকটি জেলার নিচু চর অঞ্চলগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে, পানিবন্দী হয়ে পড়েছে সেসব এলাকার বহু মানুষ।

ভারতে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে হওয়া বন্যার পানি নামতে থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, বছরের এরকম সময়ে বন্যা অপ্রত্যাশিত হলেও সপ্তাহখানেকের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে এবং এই বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বেশি হবে না ।

বাংলাদেশে অক্টোবর মাসে সাধারণত বন্যা না হলেও গত কয়েকদিন ধরেই ভারতের বিহার ও উত্তর প্রদেশে প্রবল বৃষ্টিজনিত বন্যা চলছে, এবং ভারতের গঙ্গা নদী থেকে আসা ঢলেই অসময়ের এই বন্যা।

অপ্রত্যাশিত এই বন্যায় রাজশাহী, কুষ্টিয়া, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মুন্সীগঞ্জ এলাকায় বহু এলাকার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

কর্তৃপক্ষ কী বলছে?

বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, এই বন্যা খুব বেশিদিন স্থায়ী হবে না এবং এর ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বেশি হবে না।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া বলেন, তাদের হিসেব অনুযায়ী বন্যা পরিস্থিতি সপ্তাহখানেকের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে আসবে। আগামী তিন থেকে চারদিন পানি বাড়লেও পরের তিন-চারদিনে পানির উচ্চতা স্বাভাবিক মাত্রায় চলে আসবে।

বিবিসি বাংলায় আরো খবর:

ফারাক্কা: যে ফর্মুলায় পানি ভাগাভাগি করে ভারত-বাংলাদেশ

দুই বন্ধু দেশের মধ্যে সীমান্তে কেন কাঁটাতারের বেড়া?

যে কারণে নোয়াখালী এসেছিলেন মোহনদাস গান্ধী

মি. ভূঁইয়া নিশ্চিত করেন, ভারতের কয়েকটি রাজ্যে অতিবৃষ্টির কারণেই এই বন্যা হয়েছে।

"সাধারণত অক্টোবরে বাংলাদেশে বন্যা হয় না, তবে কখনোই যে হয়নি সেরকমও নয়, অতীতে অক্টোবরে বন্যা হওয়ার নজির রয়েছে।"

"গঙ্গা ও পদ্মার তিন-চারটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে গতকাল (মঙ্গলবার ) এবং নদীসংলগ্ন কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে।"

'ফারাক্কা ব্যারাজ না থাকলেও একই পরিমান পানি আসতো'

ভারত ফারাক্কা বাঁধের স্লুইস গেট খুলে দেয়ায় বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে - এবারের বন্যার পর এরকম একটি ধারণা বাংলাদেশের কিছু মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে, যার প্রতিফলন দেখা গেছে সামাজিক মাধ্যমে অনেকের মন্তব্যে।

তবে এই ধারণা ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম।

"বর্ষার সময় এই ব্যারাজের আসলে কোনো ভূমিকা থাকে না। ভারতের সাথে আমাদের চুক্তিটাও শুকনো মৌসুমের জন্য।"

"ব্যারাজ না থাকলেও এই মৌসুমে ওখান থেকে এরকম পানিই আসতো। যেহেতু বাংলাদেশ ডাউনস্ট্রিম কান্ট্রি (ভাটির দেশ), তাই তিনটি নদী থেকে বর্ষার পানির ঢল সবসময় আসবে।"

তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে বন্যার কারণে সরাসরি বড় ধরণের ক্ষতির সম্ভাবনা না থাকলেও বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর পদ্মার তীরে ভাঙনের হার বাড়বে।

সমন্বয় থাকলে নেয়া যেতো পূর্বপ্রস্তুতি

মি. ইসলাম মনে করেন, ভারত ও বাংলাদেশের নদী বিষয়ক কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় থাকলে তথ্য আদার-প্রদানের মাধ্যমে পূর্বপ্রস্তুতি নেয়া সহজ হতো এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিয়ে ক্ষয়ক্ষতির হার আরো কমানো যেত।

"তারা যদি আগে থেকেই আমাদের সাথে শেয়ার করতো যে ফারাক্কা পয়েন্টে কবে কী পরিমাণ পানি আসবে, তাহলে সে অনুযায়ী বাংলাদেশ প্রস্তুতি নিতে পারতো।"

"এখন আমরা তিন থেকে পাঁচদিনের পূর্বাভাস দেই, তথ্য পেলে সেক্ষেত্রে হয়তো আরো সঠিকভাবে আরো আগে থেকে পূর্বাভাস দিতে পারবো।"

সম্পর্কিত বিষয়