স্তন ক্যান্সার: অন্ধ নারী পরীক্ষকরা সফলভাবে শনাক্ত করছেন মারণব্যাধি

স্তন ক্যান্সারের উপস্থিতি পরীক্ষা করছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরীক্ষক লিইডি গার্সিয়া।
Image caption স্তন ক্যান্সারের উপস্থিতি পরীক্ষা করছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরীক্ষক লিইডি গার্সিয়া।

কোন নারীর স্তন ক্যান্সার হয়েছে কিনা কলম্বিয়াতে সেটা অন্ধ ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা পরীক্ষা করে দেখছেন।

এই প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে 'যে হাত জীবন বাঁচাতে পারে।'

অন্ধ ব্যক্তির হাতের স্পর্শ অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ার কারণে এই ক্যান্সার শনাক্ত করার কাজে তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

সারা বিশ্বে নারীরা এই ক্যান্সারেই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন এবং এতে অনেকের মৃত্যুও হচ্ছে।

স্তন ক্যান্সার থেকে জীবন রক্ষার একটি উপায় হলো যতো শীঘ্র সম্ভব এটিকে শনাক্ত করা।

আর এই কাজেই কলম্বিয়াতে কাজে লাগানো হয়েছে অন্ধ ব্যক্তিদের।

তাদেরই একজন লিইডি গার্সিয়া বলছেন, "আমার কাছে হাতই হলো আমার চোখ। এই হাত দুটো দিয়েই আমি সারা বিশ্বকে অনুভব করতে পারি। বর্তমানে আমি যা কিছু করছি, এই হাতদুটো ছাড়া সেসব করা অসম্ভব ছিল।"

লিইডি গার্সিয়া একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। স্তন ক্যান্সারের উপসর্গ শনাক্ত করার কাজে তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

Image caption যেভাবে পরীক্ষাটি চালানো হয়।

তিনি বলছেন, "আমার আঙ্গুল, আঙ্গুলের মাথা, এসব দিয়ে স্পর্শের যে অনুভূতি, সেটা দিয়ে আমি অন্য নারীদের সাহায্য করতে পারছি।"

"স্তনের টিস্যুতে কোন ধরনের পরিবর্তন বা অস্বাভাবিক কিছু থাকলে সেটা আমি আমার স্পর্শ দিয়ে চিহ্নিত করতে পারি। বুঝতে পারি স্তনে অস্বাভাবিক কোন লাম্প বা মাংসপিণ্ড আছে কিনা।"

অন্ধদের দিয়ে স্তন পরীক্ষার এই উপায়টি উদ্ভাবন করেছেন জার্মান গাইনোকোলজিস্ট ড. ফ্রাঙ্ক হোফম্যান। তাদের স্পর্শ অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ার কারণেই স্তন ক্যান্সার শনাক্ত করার ব্যাপারে তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে এই কাজে লাগানো হয়েছে।

ড. হোফম্যান বলছেন, "স্তন পরীক্ষা করতে গিয়ে আমরা নতুন একটি পদ্ধতি ব্যবহার করছি। এটি উদ্ভাবন করা হয়েছে জার্মানিতে। এই পদ্ধতিতে স্তনের পুরো এলাকায় আঠাযুক্ত টেপ লাগিয়ে প্রত্যেক ইঞ্চি পরীক্ষা করে দেখা হয়। এর মাধ্যমে স্তনের সামান্য কোন অংশও যাতে পরীক্ষা থেকে বাদ পড়ে না যায়, সেটা নিশ্চিত করা হয়।"

"যদি অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া যায় তাহলে তাকে ডাক্তারের কাছে পাঠানো হয়। ওই চিকিৎসকই ঠিক করেন এর পর তাকে কী ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হবে।"

Image caption ড. ফ্রাঙ্ক হোফম্যান অন্ধদের দিয়ে স্তন পরীক্ষার এই উপায়টি উদ্ভাবন করেছেন।

আরও পড়তে পারেন:

বুয়েটে নির্যাতনের সংস্কৃতি: প্রশাসনের ব্যর্থতা কতটা?

বাংলাদেশের বিমানবন্দর কিভাবে অন্যরা ব্যবহার করবে

কীভাবে বুঝবেন আপনি বিষণ্ণতায় আক্রান্ত?

সারা বিশ্বেই নারীরা যে ক্যান্সারে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন সেটি হচ্ছে স্তন ক্যান্সার। এবং এতে মৃত্যুর সংখ্যাও বেশি।

এ কারণে এটিকে যতো আগে সম্ভব শনাক্ত করা খুবই জরুরি।

একটি হাসপাতালের ডাক্তার লুইস আলবার্তো ওলাভ বলছেন, "একজন প্রশিক্ষিত ডাক্তার স্তনের লাম্প এক সেন্টিমিটারের চেয়ে বড় হলে সেটা ধরতে পারেন। কিন্তু আমরা দেখেছি যে একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এর চেয়ে ছোট আকারের মাংসের দলাও শনাক্ত করতে পারেন। এরকম ক্ষুদ্রাকৃতির লাম্প ধরতে পারাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এতেই বেশি সময় লেগে যায়।"

এরকম আরেকজন পরীক্ষক বলছেন, এই কাজে নারীদের অংশগ্রহণও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত: নারীরাও চান আরেকজন নারী তার স্তন পরীক্ষা করুক।

এটাও জরুরি। কারণ তারা ওই নারীর শরীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও খোলামেলাভাবে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।

Image caption লুইস আলবার্তো ওলাভ, ডাক্তার।

এতে তারা অনেক বেশি স্বস্তি বোধ করে এবং কোন ধরনের দ্বিধা দ্বন্দ্ব ছাড়াই পরীক্ষকের কাছে সবকিছু তুলে ধরতে পারে।

এই নারী পরীক্ষক বলছেন, তাদের হাতের সংবেদনশীলতা জীবনরক্ষাকারী এরকম একটি কাজে ব্যবহার করতে পারায় তিনি খুব খুশি।

তিনি মনে করেন, তারা খুবই মূল্যবান একটা কাজ করছেন।

পাশাপাশি যেসব নারী এই অন্ধ ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের কাছে আসছেন স্তন পরীক্ষা করাতেও তারাও বলছেন যে এই উদ্যোগে তারা এখন আগের চাইতে ভালো ফলই পাচ্ছেন।