ক্রিকেটারদের ধর্মঘট: বোর্ডের আয়ের ভাগ চান খেলোয়াড়রা

১৩ দফা দাবি নিয়ে এসেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। ছবির কপিরাইট STR
Image caption ১৩ দফা দাবি নিয়ে এসেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।

ধর্মঘটে যাওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের মতো বোর্ডের রাজস্বের ভাগ চেয়েছেন।

বুধবার দিনভর নাটকীয়তার পর ১১ দফার বদলে ১৩ দফা দাবি নিয়ে এসেছেন তারা।

সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান পেশাদার ক্রিকেটারদের একজন মুখপাত্র হিসেবে এক সংবাদ সম্মেলনে ঐ ১৩ দাবি উপস্থাপন করেন।

এই দাবিগুলো ডাকযোগে ও ইমেইলের মাধ্যমে বুধবার বিকেল চারটায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান।

এই দাবির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে প্রফেশনাল ক্রিকেটারদের অ্যাসোসিয়েশন গঠন। নতুন দাবীর আর একটি হল নারী ক্রিকেটাররা যে বেতন ভাতা পান তা যেন পুরুষ দলের সদস্যদের সমান হয়।

সংবাদ সম্মেলনের পর আবারো আলোচনায় বসেন ক্রিকেটাররা। শেষদিকে সাকিব আল হাসান এসে জানান বিসিবির সঙ্গে বসে সমস্যার সমাধান করতে আগ্রহী তারা।

দুপুরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান ও ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নাইমুর রহমান দুর্জয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তাঁর কার্যালয় গণভবনে দেখা করেছেন।

গণভবন থেকে বের হবার পর নাজমুল হাসান বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তো বলেছেন যা কিছুই হোক খেলা বন্ধ করবে কেন, আমার দরজা খোলা, তোমার দরজা খোলা... আমি ব্যক্তিগত ভাবে বিশ্বে যারা ক্রিকেট খেলে এমন অনেক জায়গায় জিজ্ঞেস করেছি। তারা কেউ এমন আন্দোলনের কথা বলেনি।"

ছবির কপিরাইট MUNIR UZ ZAMAN
Image caption বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান প্রধানমন্ত্রীর সাথে তাঁর কার্যালয় গণভবনে দেখা করেছেন।

এর আগে ক্রিকেটারদের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য আহ্বান জানান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস।

তিনি ক্রিকেট বোর্ডে প্রবেশ করে বলেন, "ক্রিকেটারদের জন্য আমরা অপেক্ষা করবো। আমরা চাই আলোচনার একটা ক্ষেত্র তৈরি রাখতে, এখানে সময় কোনও ব্যাপার না, পাঁচটা হোক বা তারপরও আমরা অপেক্ষা করবো ক্রিকেটারদের জন্য।"

সকালে ভারত সিরিজকে সামনে রেখে পূর্বপরিকল্পিত ফিটনেস ক্যাম্পে আসেননি কোন ক্রিকেটার।

আরো পড়ুন:

ভারত সফরের ক্যাম্পে আসেনি কোনো ক্রিকেটার

ধর্মঘটে ক্রিকেটাররা, বেতন বৃদ্ধিসহ ১১ দাবি

ক্রিকেটারদের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতাম না: মাশরাফী

সকালে ট্রেইনার মারিও ভিলাভা রানে উপস্থিত ছিলেন, সাথে ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সিনিয়র মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম।

২৪শে অক্টোবর অর্থাৎ কাল থেকে শুরু হবার কথা ছিল জাতীয় ক্রিকেট লীগের তৃতীয় রাউন্ড। কিন্তু কোনও ভেন্যুতে দল যায়নি। অর্থাৎ ক্রিকেটাররা তাদের ধর্মঘট দিনের শুরু থেকেই বহাল রেখেছে।

ভারত সফরকে সামনে রেখে এই ক্যাম্পের বাড়তি গুরুত্ব ছিল, আর বেশিরভাগ ক্রিকেটার ম্যাচের মধ্যে ছিল তাই ফিটনেস নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করার সুযোগ হয়নি।

ভারত সফরের জন্য সাকিব আল হাসানকে অধিনায়ক রেখে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।

টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর ভারতের মাটিতে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ২০১৭ সালে একটি টেস্ট ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ।

Image caption ভারতে দ্বিপাক্ষিক সফর উপলক্ষে অনুশীলন ক্যাম্পে আসেননি ক্রিকেটাররা

এই সিরিজে তিন টি-টুয়েন্টি ও ২ টি টেস্ট ম্যাচ হবার কথা ভারতের বিভিন্ন ভেন্যুতে।

ক্রিকেটারদের বুধবার বিকেল পাঁচটায় আলোচনা করার আহ্বান জানান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এর নির্বাহী পরিচালক নিজামুদ্দিন চৌধুরী।

জাতীয় দলের অধিনায়ক ও সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাকে এখানে বোর্ড ও ক্রিকেটারদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োজিত করার কথা শোনা গেছে কিন্তু ক্রিকেট বোর্ড এ বিষয়ে কিছুই জানেনা বলে জানিয়েছে।

ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরি বিবিসি বাংলাকে বলেন, "ক্রিকেটারদের এভাবে ধর্মঘটে চলে যাওয়া উচিত হয়নি। তাদের আগে বোর্ডকে জানানো উচিত ছিল। এবং বসে সমাধান করা উচিত ছিল। আর বোর্ড হল অভিভাবক। তাই অভিভাবকের কাছে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করি। খেলোয়াড়রা সংবাদ সম্মেলন করেছে বলে বোর্ড ও প্রেসিডেন্টকে সংবাদ সম্মেলন করে পাল্টা জবাব দিতে হবে?"

"এটা না করে খেলোয়াড়দের ডাকতো। ডেকে বসে সমাধান করা উচিত ছিল। এখন পক্ষ বিপক্ষ হয়ে গেছে। যা ক্রিকেটের জন্য মঙ্গলজনক হতে পারেনা।"

অন্যান্য খবর:

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি কী ও তাতে কার লাভ?

যুক্তরাজ্যে একটি লরি থেকে ৩৯ মৃতদেহ উদ্ধার

লাইসেন্স-ফিটনেস ছাড়া তেল গ্যাস মিলবেনা গাড়িতে

সম্পর্কিত বিষয়