এডিটারস্ মেইলবক্স: নুসরাত মামলার রায়ে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আশাবাদ, ভোলার ঘটনায় উদ্বেগ

নুসরাত জাহান রাফি ছবির কপিরাইট পারিবারিক সংগ্রহ
Image caption নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার রায়ে ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে

ফেনীর সোনাগাজীতে চাঞ্চল্যকর নুসরাত হত্যা মামলার দ্রুত রায়ে ১৬ জন আসামীর সবার মৃত্যুদণ্ড, বাংলাদেশে ভোলার বোরহানউদ্দিনে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সংঘাতের ঘটনা এসব নিয়েই মূলত এ সপ্তাহে লিখেছেন বেশিরভাগ শ্রোতা।

ঢাকার গেন্ডারিয়া থেকে লিখেছেন মাহবুবা ফেরদৌসী হ্যাপি:

''আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলাটিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে রায় প্রদান করা অবশ্যই একটি যুগান্তকারী ও দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ। মামলার রায় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেককে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখেছি। কিন্তু আমি মনে করি, এ রায় একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র। এ রায় হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টেও টিঁকতে হবে এবং এখানে দীর্ঘসময় অতিবাহিত হয় ও ক্ষেত্রবিশেষে পরিবর্তন হয়।

''নিম্ন আদালতের রায় যদি হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে বহাল থাকে এবং এ প্রক্রিয়া যদি দ্রুত সময়ে নিষ্পত্তি করা যায়, কেবল তখনই এটা ফলপ্রসূ ও দৃষ্টান্তমূলক রায় হিসাবে বিবেচিত হবে।''

আপনি ঠিকই বলেছেন মিস ফেরদৌসী। মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ২০০ দিনের মধ্যে এই মামলার রায় দেওয়া হয়েছে। এতো দ্রুত রায় হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে নুসরাতের পরিবার এবং নারী অধিকার সংগঠনগুলো। এখন সকলেরই আশা বাংলাদেশে বিচারের যে সংস্কৃতি রয়েছে তাতে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে এই মামলা দীর্ঘসূত্রিতার বেড়াজালে আটকে যাবে না।

ঘোড়াদাইড়, গোপালগঞ্জ থেকে ফয়সাল আহমেদ সিপনও মন্তব্য করেছেন এই রায় দ্রুত কার্যকর করা হলেই কেবল ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। আপনাদের ধন্যবাদ।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন অন্যান্য খবর:

Image caption নুসরাত হত্যার বিচার চেয়ে গত কয়েকমাস ধরে আন্দোলন করছিলেন বিভিন্ন নারী সংগঠন।

একই প্রসঙ্গে সরকারি ম্যাটস, টাঙ্গাইল থেকে মন্তব্য করেছেন মিস বিলকিছ আক্তার:

''মাত্র ৬১ কার্য দিবসের মধ্যে আলোচিত এই মামলার রায় প্রদান একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত! তবে আমি চাই, প্রতিটি মামলার রায় এভাবেই প্রদান করা উচিত। বুয়েটের নিহত ছাত্র আবরার ফাহাদের হত্যার রায়ও এভাবেই দেখতে চায় সমগ্র জাতি। এজন্য মাননীয় আদালতকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি

''এই বিচারের রায় খুবই সুন্দর হয়েছে। এতদিন বিচার ব্যবস্থার উপর মানুষের যে অনাস্থা জন্ম নিয়েছিলো, আশাকরি এই রায়ের মাধ্যমে তা কেটে যাবে এবং এভাবে প্রতিটা অপরাধের যদি ন্যায় বিচারের মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে মানুষ আর অপরাধ করার সাহস পাবে না।''

ন্যায্য বিচার ব্যবস্থা সকলের জন্যই প্রযোজ্য মিস আক্তার। সবারই আশা থাকবে প্রতিটি মামলার রায়ই যথাসম্ভব দ্রুত ও ন্যায্য হবে এবং বিচার ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ফিরে আসবে।

আপনি লিখেছেন একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম হিসেবে আপনি আশা করবেন বিবিসি বাংলা যেন এই রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত নানা বিশ্লেষণমূলক রিপোর্ট প্রচার অব্যাহত রাখে। এ বিষয়ে কোন খবর থাকলে সে খবরের গুরুত্ব বিবেচনা করে বিবিসি বাংলা অবশ্যই তা প্রচার করবে সে বিষয়ে আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। আপনাকে ধন্যবাদ চিঠি লেখার জন্য।

নুসরাত জাহান রাফি: এই হত্যাকাণ্ড কেন আলোড়ন তুলেছিল? বিবিসি বাংলার ভিডিও লিংক

অন্য প্রসঙ্গে যাবার আগে ঢাকায় বিবিসির স্টুডিও নিয়ে একটি চিঠি, লিখেছেন দারিয়াপুর, গাইবান্ধা থেকে মাহবুব রহমান মামুন:

''আমার জানামতে, বনানীর অস্থায়ী স্টুডিও থেকে এতদিন সকালবেলার প্রত্যুষা অনুষ্ঠানটি প্রচার করা হয়েছিল। নতুন স্টুডিও প্রস্তুত হতে মনে হয় একটু বেশি সময় লাগল। নতুন স্টুডিওতে কি ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে? টেলিভিশন অনুষ্ঠান বিবিসি প্রবাহ কি নতুন স্টুডিও থেকে দেখানো হবে? চলতি অধিবেশন লাইভ স্ট্রিমিং করার সুবিধাও কি রাখা হয়েছে?''

ধন্যবাদ আপনার প্রশ্নের জন্য।

বিবিসির নতুন স্টুডিওতে কীধরনের সুযোগ সুবিধা থাকছে?

বিস্তারিত জানিয়েছেন বিবিসির ঢাকা দপ্তরের সম্পাদক ওয়ালিউর রহমান মিরাজ:

ঢাকার বনানীতে বিবিসি বাংলার অস্থায়ী স্টুডিও চলতি সপ্তাহে স্থানান্তরিত হয়েছে নতুন ঠিকানায়। নতুন ঠিকানায় থাকছে আধুনিক স্টুডিও ব্যবস্থা এবং আরও নানারকম সুযোগ সুবিধা, যেগুলো আগামীতে অনুষ্ঠান তৈরির প্রয়োজনে বিবিসি বাংলা ব্যবহার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে, বিবিসি বাংলার টেলিভিশন অনুষ্ঠান বিবিসি প্রবাহ আগের মতই চ্যানেল আই স্টুডিও থেকেই প্রচারিত হবে।

ঢাকায় বিবিসির নতুন অফিসে একটি পরিপূর্ণ টেলিভিশন অনুষ্ঠান তৈরির সুবিধা নেই। তবে এখানে এমন সুবিধা রয়েছে যা ব্যবহার করে একজন সংবাদদাতা টেলিভিশন অনুষ্ঠানে যুক্ত হতে পারবেন।

এছাড়া, এই দপ্তরে থাকছে সোসাল মিডিয়া কর্নার, যা ব্যবহার করে বিবিসি বাংলা আগামী আরও বেশি সোসাল মিডিয়া এবং ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করতে পারবে। অর্থাৎ আগামীতে আগের তুলনায় আরও বেশি পরিমাণে সংবাদ ভিন্ন ধরনের মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে বিবিসি বাংলার শ্রোতা, দর্শক ও পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে।

আশা করি আপনার জিজ্ঞাসার জবাব পেয়েছেন মি: রহমান।

Image caption ভোলার বোরহানউদ্দিনে সহিংস বিক্ষোভ ও পুলিশের গুলির ঘটনার কিছু পরই সেখানকার হিন্দুদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মন্দির এবং বাড়িঘরে হামলা চালায় অজ্ঞাত সংখ্যক বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি।

ইসলামের নবীকে নিয়ে ফেসবুকে অবমাননাসূচক পোস্টকে কেন্দ্র করে ভোলার বোরহানউদ্দিনে সহিংসতা, মৃত্যু, ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা প্রসঙ্গে ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে লিখেছেন মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব বাতাসের আগে ধাবিত হয়। এবং গুজব কোন কোন সময় সমাজে বড় ধরণের সমস্যা সৃষ্টি করে। ভোলার ঘটনা মূলত এ ধরণের গুজবের নেতিবাচক দিক। ভোলার এ ঘটনার জেরে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এ সময় পার্শ্ববর্তী সীতাকালী মন্দিরে ইঁট-পাটকেল নিক্ষেপ করার চেষ্টা করলে মাদ্রাসার অন্য শিক্ষার্থীরা তাদের রুখে দেয় এবং মন্দিরে যাতে হামলা তথা ইঁট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে না পারে এ জন্য তারা বেশ জোরালো ভূমিকা পালন করে।

''মন্দিরের নিরাপত্তায় মাদ্রাসা ছাত্রদের এ উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এবং বেশ প্রশংসিত হয়েছে। সমাজের নানা নেতিবাচক ঘটনার মধ্যে এটা সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।''

আপনি ঠিকই লিখেছেন মি: রহমান। এধরনের স্পর্শকাতর মুহূর্তে যখন মানুষের আবেগ সবকিছুকে ছাপিয়ে ওঠে, তখন সমাজের কিছু মানুষ যদি এভাবে এগিয়ে আসেন তাহলে সবার মধ্যে একটা সম্প্রীতি বজায় রাখা সহজ হয়ে ওঠে। মন্তব্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ মি. রহমান।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
ভোলায় সংঘর্ষের আগে যে নাটকীয় পরিবেশ তৈরি হয়েছিল

ভোলার বোরহানউদ্দিনের ঘটনা নিয়ে পাবর্তীপুর, দিনাজপুর থেকে মন্তব্য করেছেন মেনহাজুল ইসলাম তারেক:

''বাঙালি অধ্যুষিত এই ভূখণ্ডে হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য রয়েছে আমাদের। এখানে সব ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন থেকেই একসঙ্গে বসবাস করে আসছি আমরা। বিভিন্ন সময়ে স্বার্থান্বেষী নানা মহল ধর্মকে পুঁজি করে সামাজিক অস্থিরতা তৈরির অপপ্রয়াস চালায়। গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা করে। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়েও হামলা হয়। আবার এ দেশের ধর্মীয় সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের মানুষই সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়িয়েছে সবসময়। সম্প্রীতির এই পরিবেশ কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।''

আপনি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্তব্য করেছেন মি. ইসলাম। বাংলাদেশে সম্প্রীতির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য কখনই নষ্ট হবে না এটাই নি:সন্দেহে সকলে চাইবেন। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

ফিরে আসি নুসরাত হত্যার রায়ের প্রসঙ্গে। লিখেছেন খুলনার মুন্সি পাড়া লেন থেকে মুনির আহম্মদ:

''বিবিসি রেডিওতে সন্ধ্যার প্রবাহ অনুষ্ঠানে বিস্তারিত খবর ও রাতে টেলিভিশনে বিবিসি প্রবাহে ফেনী থেকে পারমিতা হিমের সচিত্র প্রতিবেদন তথ্যবহুল ছিলো। আকবর হোসেনের বিশ্লেষণ আমার মনে হয় আমাদের চিন্তাকে প্রসারিত করেছে। আসলে এদেশে বিচারহীনতা বা দীর্ঘসূত্রিতা আইনের প্রতি মানুষের আস্থাহীনতা তৈরি করছে।

''মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর আগ্রহ/নির্দেশ ছাড়া এদেশে কোনও তদন্ত বিচার সঠিক ভাবে হয়েছে এমন দৃষ্টান্ত নেই বললেই চলে। এই মামলায় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেওয়ায় রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান আন্তরিক ও প্রভাবমুক্ত ভাবে কাজ করেছে। আমার মনে হয় দেশের সব মানুষ চায় রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান এভাবেই যেন প্রভাবমুক্তভাবে কাজ করে সেটা নিশ্চিত করা হোক।''

Image caption সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা যে ভবনের ছাদে নিয়ে গিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়া হয়।

এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি একটা দৃষ্টান্ত হিসাবে কাজ করবে বলে সবাই নিশ্চয়ই আশা করতে পারেন। এই মামলা এটা প্রমাণ করেছে যে এধরনের মামলায় দ্রুত বিচার সম্ভব এবং অপরাধীদের বিচার হলে হয়ত যৌন হয়রানির শিকার যারা হচ্ছেন তারাও আইনের আশ্রয় নিতে আরও এগিয়ে আসবেন।

মি: আহম্মদ আপনি বিবিসি প্রবাহ টেলিভিশনে ভোলার সাম্প্রতিক ঘটনা এবং নুসরাত হত্যা নিয়ে রিপোর্ট ও কভারেজের প্রশংসা করে আরও লিখেছেন:

''ভাবছি এত দ্রুততার সাথে সুদূর ফেনী থেকে পারমিতা হিম ঘটনাস্থলের সচিত্র প্রতিবেদন কিভাবে সংযোজন করলেন। সচিত্র প্রতিবেদন একসময় আমাদের কাছে অকল্পনীয় ছিলো। ষাটের দশকে বিবিসির বাংলা অনুষ্ঠানে শব্দচিত্র নামে একটা কথা শুনেছিলাম। মূলতঃ বিবিসি সংবাদদাতার কোনও কথোপকথন টেলিফোনে পেয়ে তার রেকর্ডকৃত খবরকে শব্দচিত্র বলা হতো। এখন সচিত্র প্রতিবেদন সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে সংবাদ পরিবেশনকে।''

আপনি ঠিকই লিখেছেন এখন উন্নত প্রযুক্তির কারণে রেডিও তো বটেই এমনকী টিভির জন্যও প্রতিবেদন তৈরি ও দ্রুত সেগুলো পাঠানো অনেক সহজসাধ্য হয়ে গেছে এবং সংবাদ পরিবেশনের জগতও পুরোপুরি বদলে গেছে। চিঠি লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

বাংলাদেশে ক্রিকেটারদের ধর্মঘট মিটেছে। কিন্তু এই ধর্মঘটের পেছনে কারণ সম্পর্কে ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছেন দাকোপ, খুলনা থেকে মুকুল সরদার:

''প্রশ্ন হচ্ছে, ক্রিকেট বোর্ডের সাথে ক্রিকেটারদের দূরত্ব কি এতোটাই বেশি যে, ধর্মঘটের মতো একটি পথ বেছে নিতে হয়েছে ক্রিকেটারদের? ক্রিকেটারদের এই অসন্তোষ একদিনে নিশ্চয়ই তৈরি হয়নি। তাহলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কেন ক্রিকেটারদের অসন্তোষের বিষয়টিকে অনুধাবন করতে পারিনি? না কি অনুধাবন করলেও গুরুত্ব দেয়নি?''

মি: সরদার- এই ধর্মঘট থেকে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে শীর্ষ খেলোয়াড় ও ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে একটা বড়ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে ।বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নিশ্চয়ই বিষয়টা অনুধাবন করেছেন এবং এই দূরত্ব কমিয়ে আনার বিষয়টিতে নজর দিচ্ছেন। চিঠি লেখার জন্য ধন্যবাদ।

Image caption বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ১৩ দফা দাবি তোলেন বিসিবির কাছে ।

দেবীগঞ্জ,পঞ্চগড়ের দিপক চক্রবর্তী আপনি নিশ্চয়ই এর মধ্যে জেনে গেছেন যে ক্রিকেটারদের সঙ্গে তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে বোর্ডের একটা রফা হয়ে গেছে। কাজেই আপনি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে খেলা দেখতে পাবেন বলে অবশ্যই আশা করতে পারেন।

বিবিসি বাংলার অনুষ্ঠান শুরুর আগের ঘোষণা নিয়ে ইংরেজিতে লিখেছেন বনশ্রী, রামপুরা ঢাকা থেকে এ এইচ এম হাসান:

তার লেখা চিঠির বক্তব্য এরকম-

''প্রায় প্রতিদিন আমি মেয়েকে স্কুলে পৌঁছনর সময় ঢাকা ১০০এফএম-এ বিবিসি বাংলার খবর শুনি। আপনাদের বাংলা অনুষ্ঠান শুরুর আগে ইংরেজিতে যে ঘোষণা থাকে সেটি ভুল

"সেখানে বলা হয় 'Coming next- today's news and sports presented in Bangla' আমার প্রশ্ন স্পোটর্স কেন? অনেকদিন ধরে এই ভুল ঘোষণা চলছে যা আমার মতে বিবিসি বাংলার ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।''

মি: হাসান- প্রতিদিন আমাদের অধিবেশনে থাকে বিভিন্ন ধরনের খবর এবং খেলার খবর। আর সে কারণেই ওই ঘোষণায় স্পোর্টস বা খেলাধূলার খবরের উল্লেখ করা হয়। এটা আপনি ভুল কেন মনে করছেন বুঝলাম না। লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঢাকার রাস্তায় প্রতিবাদ।

আলমডাঙ্গা, চুয়াড়াঙা থেকে লিখেছে কাজী সাইদ:

''শুধুমাত্র প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য একজন বাবা কিভাবে তার নিজের সন্তানকে নিষ্ঠুরতম ভাবে খুন করতে পারে তা আমার মাথায় আসেনা। একইধরনের উদ্দেশ্য নিয়ে ঘটেছে আরেকটি ঘটনা যেখানে সন্তান আর স্বামী মিলে এক নারীকে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে। আবরার ফাহাদের ঘটনা সহ উপরোক্ত দুটো সাম্প্রতিক ঘটনা বলে দিচ্ছে আমরা কতটা নিষ্ঠুরতা দেখাতে পারি। এদের চরমতম শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত বলে মনে করি। না হলে এমন ঘটনা সমাজে মহামারী আকার ধারণ করতে পারে।''

আপনি সুনামগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে শিশু তুহিনকে হত্যার ঘটনার কথা বলেছেন। দ্বিতীয় ঘটনাটিও জমি নিয়ে বিরোধ সংক্রান্ত যেটি ঘটেছে টাঙ্গাইলে। দুটি ঘটনাই নৃশংস সন্দেহ নেই। লেখার জন্য ধন্যবাদ। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে সন্তান হত্যার এই ভয়ানক মানসিকতার পেছনে কী কারণ?পড়তে পারেন বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন এই লিংকে।

সবশেষে অনুষ্ঠান নিয়ে একটি চিঠি লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

''সিরাজগঞ্জ চৌহালীর অধিবাসী উদ্যোক্তা কোহিনূর বেগমকে নিয়ে তৈরি ছোট ভিডিওটি দেখে উচ্ছ্বসিত হয়েছি। ভিডিওটিতে কিভাবে ছোট উদ্যোগ বড় কাজে আসে এবং প্রশংসিত হয়, তার প্রমাণ রয়েছে। আমার ভাবতেই অবাক লাগে কীভাবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ সুন্দর চিন্তা করে এবং বিপদের মোকাবিলা করতে উদ্যোগী হয়। ধন্যবাদ বিবিসি নিউজ বাংলাকে।''

নিজের রান্নার বরাদ্দ থেকে একমুঠো করে চাল জমানোর যে উদ্যোগ কোহিনূর বেগম নিয়েছিলেন বছর দেড়েক আগে তা কীভাবে রূপ নিল ফুড ব্যাংকে, কীভাবে চরাঞ্চলে খাদ্যসঙ্কটের সময় দুর্গত মানুষদের সাহায্যে তিনি কাজে লাগাচ্ছেন এই ফুড ব্যাংক তা সত্যিই অনুপ্রেরণামূলক। অনুষ্ঠানটি আপনার ভাল লেগেছে জেনে আমাদেরও ভাল লাগল। চিঠি লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
সিরাজগঞ্জের এক প্রান্তিক নারীর উদ্যোগ ‘ফুড ব্যাংক’

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার।

মো. আব্দুর রাজ্জাক, আদমদিঘী, বগুড়া।

শাহিন তালুকদার, মৌকরন, পটুয়াখালী।

মো. সাদাত উল করিম, জামালপুর, ময়মনসিংহ।

প্রিয়ঞ্জিত কুমার ঘোষাল, বেহালা, কলকাতা। দুর্গাপূজা ও দীপাবলির শুভেচ্ছার জন্য ধন্যবাদ।

অসীম ভট্টাচার্য, দামরা, মল্লারপুর।

জহিন মুমতাহিনাহ, লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা।

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, বাগমারা, রাজশাহী।

ওবায়েদুল ইসলাম উজ্জ্বল, আল আইন, সংযুক্ত আরব আমীরাত।

আশরাফ উদ্দীন রায়হান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

সুরঞ্জন মিত্র, কয়রা, খুলনা।

চিঠি লেখার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।