'উঠে বসতে পর্যন্ত পারছেন না খালেদা জিয়া'- বড় বোন সেলিমা ইসলাম

গত বছরের অক্টোবরে চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল (ফাইল ফটো)

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

গত বছরের অক্টোবরে চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল (ফাইল ফটো)

বাংলাদেশে দুর্নীতির মামলায় কারাভোগরত বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য অবিলম্বে বিদেশে নেবার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

শুক্রবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে দেখতে যান তার বোন সেলিমা ইসলামসহ কয়েকজন আত্মীয়।

এরপর তারা বলছেন, খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ এবং তাকে অবিলম্বে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো উচিত।

বিবিসি বাংলার পুলক গুপ্তকে সেলিমা ইসলাম বলেন, জামিন পেলে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে খালেদা জিয়া রাজী আছেন ।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় খালেদা জিয়া

'এখন উঠে বসতে পর্যন্ত পারেন না'

সেলিমা ইসলামের দাবি খালেদা জিয়া এখন উঠে বসতে পর্যন্ত পারেন না।

"কারও সাহায্য ছাড়া বসতে পারেনা। তার হাত বেঁকে গেছে। কথা বলতেও তার কষ্ট হচ্ছে। ওজন কমে গেছে। সব কিছু মিলিয়ে তার পঙ্গু হওয়ার মতো অবস্থা হয়ে গেছে"।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেশ কিছুদিন ধরেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। সম্প্রতি তার আত্মীয় স্বজনের বাইরে তার দলীয় সংসদ সদস্যরাও সেখানে তার সঙ্গে সাক্ষাত করেছিলেন।

তখন তারাও খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়ে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর দাবি জানিয়েছিলেন। এখন খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলামও একই কথা বলছেন।

তবে সরকারের দিক থেকে বারবারই জামিন পাওয়ার বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার বলে মন্তব্য করা হয়েছে।

সেলিমা ইসলাম অভিযোগ করেন, হাসপাতালে থাকলেও সেখানে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা তেমন কিছুই হচ্ছেনা।

"ডাক্তার সপ্তাহে একদিন আসে। ফিজিও থেরাপিস্ট ঠিক মতো আসেনা...ওখানে কোনো চিকিৎসাই হচ্ছেনা"।

"জামিন পেলে বিদেশে তাকে আমরা পাঠাতে চাই। আমি তার বড় বোন"।

সরকারের বক্তব্য কী

তার বোনের শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসা নিয়ে সেলিমা ইসলামের এসব দাবি সম্পর্কে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, জামিন পাওয়ার উদ্দেশ্যে বিএনপি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে এসব বক্তব্য দিচ্ছে।

তিনি বলেন, "তিনি যে হাসপাতালে আছেন সেটি বাংলাদেশের সেরা হাসপাতাল। তিনি এমনকি প্রিজন সেলেও নেই, তিনি কেবিনে রয়েছেন, যখন যা প্রয়োজন সমস্ত চিকিৎসাই তিনি পাচ্ছেন।"

মাহবুবে আলম বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক সমস্যাগুলো প্রধানত তার বয়সের কারণে।

"এ বয়সে এরকম সবারই কম-বেশী কিছু সমস্যা থাকে... আসলে জামিনের কারণে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এসব কথা বলা হচ্ছে।"

খালেদা জিয়ার নিজের ইচ্ছে

সেলিমা ইসলাম বলছেন, প্যারোলে নয়, শুধু জামিন পেলেই খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে রাজী আছেন।

"এখন কোনো প্রক্রিয়াই কাজ করছেনা। না জামিন দিচ্ছে, না কোনো কিছুই । উনি (খালেদা জিয়া) প্যারোল চাচ্ছেননা। জামিনে মুক্ত হয়ে বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নেয়াই তার ইচ্ছে"।

"এটা সম্পূর্ণ ওনাদের (সরকার বা কর্তৃপক্ষের) ওপর নির্ভর করছে। ওনারা যদি জামিন দেয় বা পারমিশন দেয় তাহলেই সে যেতে পারবে"।

তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে দলের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি।

"এখন অন্য কোনো পন্থা তো আমরা অবলম্বন করতে পারবোনা," বলেন সেলিমা ইসলাম।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় যথাক্রমে ১০ ও সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন খালেদা জিয়া।

গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার পর পুরানো ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছিলো খালেদা জিয়াকে ।

গত পহেলো এপ্রিল চিকিৎসার জন্য তাকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়।