ঈগল যেভাবে বাড়িয়ে দিলো বিজ্ঞানীর ফোন বিল

'স্টেপ' প্রজাতির এই ঈগল পাখি ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে। ছবির কপিরাইট Education Images
Image caption 'স্টেপ' প্রজাতির এই ঈগল পাখি ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে।

রাশিয়ার একজন বিজ্ঞানী ঈগল পাখি নিয়ে গবেষণা করেন।

এই গবেষণার কারণে ফোন বিল দিতে গিয়ে রীতিমতো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিলো তার।

গবেষণায় তিনি মোট ১৩ টি ঈগল পাখির পায়ে তাদের গতিপথ দেখার জন্য 'ট্র্যাকিং ডিভাইস' বসিয়েছিলেন।

যে ডিভাইস তার মোবাইল ফোনে টেক্সট মেসেজ পাঠায়।

রাশিয়া ও কাজাখস্থান থেকে পাখিগুলোর গতিপথের উপর নজর রাখা শুরু করেন তিনি।

কিন্তু মুশকিল হল পরিযায়ী এই ঈগল পাখিগুলোর মধ্যে একটি নারী ঈগল শুধু রাশিয়া ও কাজাখস্থানের সীমান্ত পর্যন্ত উড়েই ক্ষান্ত হয়নি।

আরো পড়ুন:

'মুরগির দুনিয়া': কীভাবে পৃথিবীর দখল নিলো এই পাখি

গুপ্তচর কবুতর, কাক আর ডলফিনের কথা শুনেছেন?

চোখের সামনেই জন্ম হলো নতুন প্রজাতির পাখি

স্বামীকে গুলি করে মারার ঘটনায় সাক্ষী টিয়া পাখি

ছবির কপিরাইট Avalon
Image caption ঈগল পাখির পায়ে তাদের গতিপথ দেখার জন্য 'ট্র্যাকিং ডিভাইস' বসানো হয়েছিলো।

সে সুদূর আফগানিস্তান ও ইরান পর্যন্ত ভ্রমণ করেছে। বাকি সবগুলোর বিলসহ তাতেই বিপদে পড়েছেন বিজ্ঞানী।

দেশের ভেতরে ফোন বিল একরকম। কিন্তু দেশের বাইরে গেলেই রোমিং চার্জ আরোপ করে বিশ্বের সব মোবাইল ফোন কোম্পানি।

কাজাখস্থানে এসএমএস খরচ হিসেবে দিতে হয় ২ থেকে ১৫ রুবল পর্যন্ত। কিন্তু ইরান থেকে রোমিং চার্জসহ সেটি গিয়ে দাড়ায় ৪৯ রুবল।

'ওয়াইল্ড অ্যানিমল রিহ্যাবিলেটশন সেন্টার' নামের স্বেচ্ছাসেবক সংস্থার এই বিজ্ঞানী ও তার সঙ্গীরা আর কোন উপায় অন্তর না দেখে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা চেয়ে আবেদন করেন।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

আইএস প্রধানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান?

মহাসড়কজুড়ে হাজার হাজার ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ

'বাংলাদেশী' চিহ্নিত করা আরেকজনের মৃত্যু আসামের বন্দীশিবিরে

সঙ্গীর ফোনে নজরদারি যখন মাথাব্যাথার কারণ

ছবির কপিরাইট Dmitry Rogulin
Image caption বিদ্যুতের তারের কারণে ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে এই ঈগল পাখি।

সেখান থেকে এক লাখ রুবল পর্যন্ত অর্থ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে লোকজন এই ক্যাম্পেইনের নাম দিয়েছে 'টপ আপ দ্যা ঈগল মোবাইল'।

তাদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে ফোন কোম্পানি 'মেগাফোন'।

তারা প্রথমত যে বিল তৈরি হয়েছে তা মওকুফ করার ঘোষণা দিয়েছে এবং বিজ্ঞানীদের প্রকল্পের ভবিষ্যৎ বিল কম খরচে দেয়ার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে।

'স্টেপ' প্রজাতির এই ঈগল পাখি মূলত রাশিয়া ও মধ্য এশিয়াতে পাওয়া যায়। তবে বিদ্যুতের তারের কারণে তারা ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে।

এই ঈগল সাইবেরিয়া ও কাজাখস্থানে বংশ বিস্তার করে এবং শীতের মৌসুমে দক্ষিণ এশিয়ার দিকে উড়ে আসে।

শুধু একটি পাখির কারণে যদি এমন পকেট খালি হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয় তাহলে ১৩টি পাখি যদি ইরান গিয়ে পৌঁছুত তাহলে কী ঘটতো সেটি ভেবে দেখুন তো।