সৌদি থেকে ফিরে আসা একজন গৃহকর্মী: 'বাঁচতে হলে লাফ দেয়া ছাড়া উপায় কি'?

যৌন নির্যাতন সহ নানা নির্যাতনের অভিযোগ সিয়ে বাংলাদেশি নারীরা দেশে ফিরছেন (প্রতীকী ছবি) ছবির কপিরাইট LEISA TYLER
Image caption যৌন নির্যাতন সহ নানা নির্যাতনের অভিযোগ সিয়ে বাংলাদেশি নারীরা দেশে ফিরছেন (প্রতীকী ছবি)

এক সন্তানের জননী এক নারী পরিবারের অভাব অনটনের ঘোচানোর স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন কাজ করবেন বলে।

সন্তানকে পরিবারের কাছ রেখে তিনি যখন বাংলাদেশ ছাড়েন তখন কথা ছিলো সৌদিতে কাজ করে প্রতি মাসে এক হাজার রিয়াল অর্থাৎ বাংলাদেশী টাকায় ২০/২২ হাজার টাকা দেয়া হবে তাকে।

আর কাজ বলতে এক বয়স্ক ব্যক্তির দেখভাল করা হবে তার কাজ।

কিন্তু সেখানে পৌঁছে দেখেন অবস্থা ভয়াবহ।

"খুব খারাপ অবস্থা। যা শুনে গেলাম আর গিয়ে দেখলাম পুরো উল্টো। বলেছিলো এক হাজার রিয়াল বেতন হবে, বাংলাদেশী ২০/২২ হাজার টাকা। গিয়ে দেখি ৮০০ রিয়েল বেতন। তাও এক মাসের বেতন দিতে ২/৩ মাস নেয়। বেতন চাইলেই মারধর করে। খাবার দাবার দেয়না। নিজে খাবার তৈরি করলেও ফেলে দেয়। বাসায় যোগাযোগ বন্ধ"।

তিনি বলেন, ভেবেছিলাম অবস্থা একটু ভালো হবে সৌদি আরব গেলে । ৫০/৬০ হাজার টাকা খরচ করে গিয়েছিলাম।

"কিন্তু এক বাসায় থাকার পর উনারা মারধর করেন। ওনাদের হয়না। অনেক কাজ। এটা সত্যি, যে কাজ করতে গেছি কিন্তু আমি বিক্রি হতে যাইনি। তারা একজনের কাছে আরেকজনের কাছে বিক্রি করে দিলো"।

তিনি জানান, প্রথমে এক বাসায় কাজ করার পর তাকে বিক্রি করে দেয়া হয় আরেকটি বাসায়। সেখানেও ব্যাপক নির্যাতনের শিকার হন তিনি।

"আমার হাতে পায়ে স্পট আছে। আমার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। লাঠি দিয়ে পেটাইছে। মারধর করতে করতে পা ভেঙ্গে ফেলে। এরপর আবার বিক্রি করে। সেখান থেকে পালাতে গিয়ে মেরুদণ্ড ভেঙ্গে যায়। পায়ে পিঠে যন্ত্রপাতি আমার"।

Image caption সৌদি আরব থেকে ফিরে আসা অনেকে যৌন হয়রানির অভিযোগ করছেন

কিন্তু সৌদি আরবের মতো জায়গায় পালানো খুব কঠিন -এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, "পালাইতে চেষ্টা করেছি, কিন্তু সেখানে কি সুযোগ আছে? জানালা থেকে লাফ দিতে গেছি পরে মেরদণ্ডের হাড় ভেঙ্গে যায়। পরে লোকজন হাসপাতালে নিয়ে যায়। আমার পায়ের গোড়ালি ভেঙ্গে গেছে। মেরুদণ্ড ভেঙ্গে গেছে। দু মাস হাসপাতালে ছিলাম। পরে দূতাবাসে (সেফ হাউজে) চারমাস ছিলাম। এরপর দেশে ফিরে আসা"।

ওই নারী জানান সৌদি আরবে তিনি ১৪ মাস ছিলেন এর মধ্যে সেফ হাউজের চার মাস বাদ দিয়ে বাকী সময়ে দুটি বাসায় কাজ করে এখন তিনি প্রায় পঙ্গু।

"পরিবারের মহিলা পুরুষ সবাই নির্যাতন করতো। যেমন নির্যাতন হইছে তাতে বাঁচতে হলে লাফ দেয়া ছাড়া উপায় কি?বাঙ্গালি মেয়েদের ইজ্জতের তো দাম আছে"।

এই নারীর সাথে প্রায় একই সময়ে দেশে ফিরে আসা আরেক নারী (যিনি তার নাম প্রকাশ করতে রাজী হননি) জানান তাকে বলেছিলো সৌদি আরবে গিয়ে নিজের বাড়ির মতো করে কাজ করবেন।

"একমাস ছিলাম ভালো। তারপরের সময় খারাপ। তাদের ইচ্ছেমতো দিনে রাতে কাজ করতে হতো। ছেলেরা খুব খারাপ। গায়ে হাত তোলা, নির্যাতন করতো খুব"।

প্রায় দেড় বছরের সৌদি জীবনের শেষ চার মাস তারও আশ্রয় হয়েছিলো বাংলাদেশ দূতাবাসের সেফ হাউজ।

তিনি বলেন সেখানে প্রায় চার শতাধিক নারী তিনি ওই সেফ হাউজে দেখেছেন যাদের পর্যায়ক্রমে দেশে নিয়ে আসা হচ্ছে।