শিশু নির্যাতনের ভিডিও প্রকাশ: নির্যাতনকারীকে নিজেরা উদ্যোগী হয়ে গ্রেফতার করেছে হবিগঞ্জের পুলিশ

হবিগঞ্জ পুলিশ ছবির কপিরাইট প্রদীপ দাস সাগর
Image caption শিশু নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার রাতেই নির্যাতনকারী স্বপনকে (মাঝে) আটক করে পুলিশ

বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলায় এক শিশুকে পেটানোর একটি ভিডিও মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার দুপুরে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্লাহ এক সংবাদ সম্মেলন করে জানান যে সামাজিক মাধ্যমে একটি শিশুকে মারধর করার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তারা নিজেরা উদ্যোগী হয়ে মঙ্গলবার রাতেই নির্যাতনকারী স্বপন মিয়াকে আটক করেন।

"মঙ্গলবার বিকালের দিকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর রাতেই আমরা অভিযান পরিচালনা করে স্বপন মিয়াকে আটক করি", জানান মি. মোহাম্মদ উল্লাহ।

এই ঘটনায় স্বপন মিয়াকে একমাত্র আসামী হিসেবে চিহ্নিত করে বুধবার সকালে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজুর রহমান।

কেন নির্যাতন করা হলো শিশুটিকে?

মঙ্গলবার প্রকাশিত ভিডিওতে স্বপন মিয়াকে যে শিশুকে নির্যাতন করতে দেখা যায়, আনুমানিক ছয় বছর বয়সী ঐ শিশুটি স্বপনের বড় ভাই সুফি মিয়া ও সুমনা আক্তারের ছেলে।

সুমনা আক্তার বিবিসিকে জানান যে তার সাথে বছর দশেক আগে নবীগঞ্জের সুফি মিয়ার বিয়ে হয়। কয়েকবছর আগে সুফি মিয়া মারা যাওয়ার পর সুমনা আক্তার তার এক ছেলে ও এক মেয়েকে হবিগঞ্জে নিজের বাবা-মা'র কাছে রেখে চাকরি নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যান।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে মাস ছয়েক আগে ছুটি নিয়ে দেশে আসেন সুমনা আক্তার। সেসময় সাবেক স্বামী সুফি মিয়ার ছোট ভাই স্বপন মিয়া সুমনা আক্তারের দুই সন্তানের ভরনপোষণের দায়িত্ব নেয়ার প্রস্তাব দেন।

সুমনা আক্তার বলেন, "স্বপন আমাকে বলে যে সে আমার দুই সন্তানের দায়িত্ব নিতে চায়। ছেলে মেয়ে স্বামীর পরিবারের সাথে থাকার সুযোগ পাবে চিন্তা করে আমিও তার প্রস্তাবে রাজি হই।"

স্বপন মিয়ার প্রস্তাবে হবিগঞ্জে নিজের বাবা-মার কাছ থেকে দুই সন্তানকে এনে নবীগঞ্জে স্বপনের হেফাজতে রেখে মাস দুয়েক আগে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মস্থলে ফিরে যান তিনি।

"যাওয়ার আগে স্বপনকে আমি নগদ টাকা ছাড়াও একটি রিকশা ও একটি ফোন কিনে দিয়ে যাই।"

মধ্যপ্রাচ্যে ফিরে যাওয়ার কিছুদিন পর থেকেই স্বপন ফোন করে আরো টাকা দেয়ার জন্য সুমনা আক্তারকে চাপ দিতে থাকে।

এরপর অক্টোবর মাসের শেষদিকে তাকে একটি ভিডিও পাঠান স্বপন, যেখানে দেখা যায় যে ছেলেকে একটি লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছেন স্বপন।

সুমনা জানান ভিডিও পাঠানোর পর স্বপন তাকে ফোন করে হুমকি দেয় যে টাকা না দিলে ছেলেকে মেরে ফেলবে সে।

ঐ ভিডিও দেখার পর তিনি হবিগঞ্জে তার পরিবারকে খবর দেন এবং গত বুধবার তার ছোট ভাই গউছ মিয়া নবীগঞ্জে স্বপনের বাসা থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে আসেন।

এরপর শনিবার (২রা নভেম্বর) মধ্যপ্রাচ্য থেকে হবিগঞ্জে নিজের বাবা-মা'র বাড়িতে ফেরেন সুমনা আক্তার। তবে ফেরার পর থেকে তিনি বা তার পরিবারের সদস্যরা স্বপন মিয়ার সাথে যোগাযোগ করার বা পুলিশের কাছে অভিযোগ করার চেষ্টা করেন নি।

মঙ্গলবার বিকালের দিকে ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে সেবিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি বলে জানান হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্লাহ।

"স্বপন নিজেই ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন কিনা, তার কোনো সহযোগী ছিল কিনা এসব বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।"