ঘুর্ণিঝড় বুলবুল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপের কাছে উপকুল অতিক্রম করেছে

ছবির কপিরাইট বাংলাদেশ আবহাওয়া দপ্তর
Image caption ঘুর্ণিভড় বুলবুলের সবশেষ অবস্থান। বাংলাদেশ আবহাওয়া দপ্তরের উপগ্রহ চিত্র।

শক্তিশালী সামুদ্রিক ঘুর্ণিঝড় বুলবুল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপের কাছে উপকুল অতিক্রম করেছে বলে ভারতীয় আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন রাত সাড়ে আটটার পর থেকে ঘুর্ণিঝড়টি 'ল্যান্ডফল' করে অর্থাৎ সাগর থেকে মাটির ওপরে উঠে আসে। এসময় বাতাসের গতি ছিল ঘন্টায় ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ২০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তবে এর সঠিক পরিমাণ পরে জানা যাবে।

ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো ঝড়ে উপড়ে যাওয়া গাছচাপা পড়ে অন্তত দু'জনের মৃত্যুর খবর দিচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের উপকুলীয় এলাকাগুলো থেকে ১ লক্ষ ৬৪ হাজার লোককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয় বলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশের আবহাওয়া দফতরের কর্মকর্তারা জানান, ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের অগ্রভাগ বাংলাদেশের খুলনা-সাতক্ষীরার উপকুল অতিক্রম করছে ।

কর্মকর্তারা জানান শনিবার মধ্যরাত নাগাদ ঘুর্ণিঝড়টির তীব্রতা কিছুটা কমে যাবে বলে তারা মনে করছেন।

ঘূর্ণিঝড় 'বুলবুল': উপকূলে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত

ছবির কপিরাইট STR
Image caption খুলনার উপকুলবর্তী একটি গ্রামে বিপদসংকেতসূচক লাল পতাকা

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে শনিবার বিকেল থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বরিশাল, যশোর ও কক্সবাজার বিমানবন্দরে সবধরনের বিমান ওঠানামা আগামিকাল সকাল পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

তবে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে।

ভারতের কোলকাতা বিমানবন্দরেও রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত বিমান ওঠানামা বন্ধ করে দেয়া হয়।

এর আগের খবরে বলা হয়েছিল: ঘন্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার বাতাসের গতি নিয়ে ঘুর্ণিঝড়টি এখন অবস্থান করছে বাংলাদেশের মংলা বন্দর থেকে ২১০ কিলোমিটার দূরে।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption যেসব এলাকা দিয়ে ঘুর্ণিঝড়টি যাবে সেখানে ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

মংলা এবং পায়রা বন্দরে শনিবার সকাল থেকেই ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয় - যার অর্থ এই উপকূলীয় এলাকা তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। এতে ৫ থেকে ৭ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছাসের আশংকাও করা হয়।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে ঝুঁকিতে ছিল মূলত বাংলাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো বিশেষ করে ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালি, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং অদূরবর্তী দ্বীপ আর চরগুলো ।

সেই সঙ্গে চট্টগ্রাম, নোয়াখালি, লক্ষীপুর, ফেনী ও চাঁদপুর - এসব অঞ্চলও ঝুঁকিতে ছিল।