সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি: বিবিসি বাংলার জরিপে অষ্টম স্থানে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর-মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা চালুতে অগ্রণী ভূমিকা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

ছবির উৎস, .

ছবির ক্যাপশান,

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

দু'হাজার চার সালে বিবিসি বাংলা একটি 'শ্রোতা জরিপ'-এর আয়োজন করে। বিষয়টি ছিলো - সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি কে? তিরিশ দিনের ওপর চালানো জরিপে শ্রোতাদের ভোটে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ ২০জনের জীবন নিয়ে বিবিসি বাংলায় বেতার অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয় ২০০৪-এর ২৬শে মার্চ থেকে ১৫ই এপ্রিল পর্যন্ত।

বিবিসি বাংলার সেই জরিপে শ্রোতাদের মনোনীত শীর্ষ কুড়িজন বাঙালির তালিকায় অষ্টম স্থানে আসেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। আজ তাঁর জীবন-কথা।

প্রকৃত নাম ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি বিদ্যাসাগর নামেই বেশি পরিচিত। উনবিংশ শতকের বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে আধুনিক বাংলা ভাষার জনক বললে হয়ত ভুল বলা হবে না।

তিনিই প্রথম বাংলা লিপি সংস্কার করেছিলেন। এবং তিনি যে শুধু বাংলা ভাষাকে যুক্তিগ্রাহ্য ও সকলের বোধগম্য করে তুলেছিলেন তাই নয়, তিনি ছিলেন বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থা এবং বাঙালি সমাজে প্রগতিশীল সংস্কারের একজন অগ্রদূত।

ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম পশ্চিমবঙ্গে মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে ১৮২০ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বর। বাবা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ও মা ভগবতী দেবী।

তখন গ্রামের যে বাড়িতে ঈশ্বরচন্দ্র বড় হয়ে ওঠেন সেই বাড়িটিতে এখন একটি পাঠাগারে সংরক্ষিত আছে বিদ্যাসাগরের ব্যবহৃত দুশ বই, আছে তাঁর ব্যবহৃত কিছু সামগ্রী বিবিসি বাংলাকে জানান ওই গ্রামের বাসিন্দা গৌরহরি সিংহ।

ছবির উৎস, Sudipta Biswas

ছবির ক্যাপশান,

পশ্চিম মেদিনীপুরের বীরসিংহ গ্রামে ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৈত্রিক বাড়ি। এখন এটি তাঁর স্মৃতি সংগ্রহশালা হিসাবে সংরক্ষিত।

ছেলেবেলায় গ্রামের পাঠশালাতে পড়তেন ঈশ্বরচন্দ্র। পাঠশালার পাঠ শেষ করে আরও শিক্ষালাভের জন্য ঈশ্বরচন্দ্র বীরসিংহ গ্রাম থেকে কলকাতায় পৌঁছান পায়ে হেঁটে, যখন তাঁর বয়স মাত্র আট পেরিয়েছে- বিবিসি বাংলাকে বলেন বিদ্যাসাগরের তৃতীয় কন্যা বিনোদিনী দেবীর নাতি সন্তোষ কুমার অধিকারী।

"বীরসিংহ থেকে কলকাতা ৫২ মাইল পথ। তাঁর ভৃত্য কিছুটা পথ তাঁকে কাঁধে করে নিয়ে গেলেও এই দীর্ঘ পথ তিনি মোটামুটি নিজে পায়ে হেঁটেই পাড়ি দিয়েছিলেন।"

কাজের সূত্রে তখন কলকাতায় থাকতেন ঈশ্বরচন্দ্রের পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। কথিত আছে ঈশ্বরচন্দ্রের লেখাপড়ায় এতটাই আগ্রহ ছিল যে বাসায় আলো জ্বালার যথেষ্ট সামর্থ্য পরিবারের না থাকায় তিনি রাস্তার আলোর নিচে পড়াশোনা করতেন।

ছবির উৎস, Sudipta Biswas

ছবির ক্যাপশান,

বীরসিংহ গ্রামে বিদ্যাসাগর স্মৃতি সংগ্রহশালায় আছে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ব্যবহৃত বই ও অন্যান্য সামগ্রী

বিদ্যাসাগরকে নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন এবং বেশ কিছু বই লিখেছেন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের প্রাক্তন ডিরেক্টার জেনারেল ড. অমিয় কুমার সামন্ত।

"কলকাতায় সংস্কৃত কলেজ থেকে খুবই কৃতিত্বের সঙ্গে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি নিয়ে পাশ করেন তিনি ১৮৪১ সালে এবং তখন থেকে তিনি হয়ে ওঠেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। এরপর তাঁকে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের হেড পণ্ডিত পদে নিয়োগ করা হয়," বলেন ড. সামন্ত।

সেখানে কিছুদিন কাজ করার পর তিনি সংস্কৃত কলেজে যোগ দেন এবং পরবর্তীকালে সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।

"শিক্ষা ক্ষেত্রে তাঁর প্রধান অবদান হচ্ছে দেশের সর্বসাধারণের জন্য মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা এবং একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রাথমিক শিক্ষার পাঠক্রম তৈরি করা," বলছিলেন ড. সামন্ত।

"ছয় মাসের মধ্যে তিনি বাংলার মেয়েদের জন্য প্রায় ৪০টি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।"

ছবির ক্যাপশান,

কলকাতায় সংস্কৃত কলেজ থেকে খুবই কৃতিত্বের সঙ্গে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি নিয়ে পাশ করেছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।

ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রপৌত্র মি. অধিকারী বলেন নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিদ্যাসাগর সারা জীবন লড়াই চালিয়েছিলেন।

"বিদ্যাসাগর চেয়েছিলেন বাল্যবিবাহের অবসান ঘটাতে। বিধবা বিবাহ প্রচলন করে নারীর অধিকারকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে, বহুবিবাহ রহিত করে নারীকে অবিচার ও যন্ত্র্রণার হাত থেকে মুক্তি দিতে।"

প্রয়াত ঐতিহাসিক তপন রায়চৌধুরী এই অনুষ্ঠানমালা তৈরির সময় বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন, সেই সময়ে বাঙালি হিন্দু ও মুসলমান উভয় সমাজে মেয়েদের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল।

"সমাজে মেয়েদের খুবই ছোট চোখে দেখা হতো। কিন্তু যে দরদ নিয়ে এবং যেভাবে সাহসের সঙ্গে বিদ্যাসাগর তাদের অবস্থার উন্নতির জন্য লড়াই করেছেন, তার আর তুলনা নেই।"

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। বিধবা বিবাহ প্রচলনের দাবিও তৎকালীন ভারত সরকারের কাছে পেশ করেছিলেন বিদ্যাসাগর।

বাংলায় নারীশিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তিনি ছিলেন নারীশিক্ষার বিস্তারের পথিকৃৎ। তিনি মনে করতেন, নারী জাতির উন্নতি না ঘটলে বাংলার সমাজ ও সংস্কৃতির প্রকৃত উন্নতি সম্ভব নয়।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর উদ্যোগী হয়ে কলকাতায় যে হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেটিই ভারতের প্রথম বালিকা বিদ্যালয়। বিদ্যাসাগর ছিলেন এই বিদ্যালয়ের সম্পাদক। এটি বর্তমানে বেথুন স্কুল নামে পরিচিত।

১৮৫৭ সালে বর্ধমান জেলায় মেয়েদের জন্য তিনি একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং এক বছরের মধ্যে গ্রামাঞ্চলে নারীদের মধ্যে শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে বাংলার বিভিন্ন জেলায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৩৫টির বেশি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

স্ত্রী শিক্ষার সূত্রপাত ও বিস্তারে তাঁর অবদান ব্যাপক। শুধু স্ত্রী শিক্ষাই নয়, সমাজের সকল স্তরের মানুষকে বিদ্যাসাগর শিক্ষার আলো দেখাতে চেয়েছিলেন- বলছিলেন ড. উত্তম কুমার মুখার্জি, যিনি ২০০৪ সালে বীরসিংহ গ্রামে ঈশ্বরচন্দ্রের নিজের হাতে গড়া বীরসিংহ ভগবতী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

"গ্রামের যেসব মানুষ শিক্ষার আলো থেকে ছিল বঞ্চিত- বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ তাদের জন্য বিদ্যাসাগর মশাই প্রথম এই বীরসিংহ গ্রামে নৈশ স্কুল তৈরি করেছিলেন।"

কলকাতায় উচ্চশিক্ষার জন্য ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৭২ সালে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন যা বর্তমানে বিদ্যাসাগর কলেজ নামে পরিচিত।

গ্রামের বিদ্যালয়ে শিশু শিক্ষার্থী
Getty
শুধু স্ত্রী শিক্ষাই নয়, সমাজের সকল স্তরের মানুষকে বিদ্যাসাগর শিক্ষার আলো দেখাতে চেয়েছিলেন।
ড. উত্তম কুমার মুখার্জি
প্রধান শিক্ষক,বীরসিংহ ভগবতী বিদ্যালয়, ২০০৪

মি. অধিকারী বলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাতেও পারদর্শী ছিলেন।

"সাঁওতাল এবং দরিদ্রদের মধ্যে তিনি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা করতেন। হোমিওপ্যাথি শিক্ষার জন্য তিনি বাড়িতে সেই সময় তাঁর ষাট বছর বয়সে কঙ্কাল কিনে এনে অ্যানাটমি শিখেছিলেন।"

মি. অধিকারীর কথায় অসাম্প্রদায়িক চেতনার একজন প্রাণপুরুষ ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

"তিনি বলতেন, ছাত্রদের পাঠ্য গ্রন্থে ধর্মের কথা বলতে গেলে ছাত্রদের মন প্রথম থেকেই নিজের স্বাভাবিকতা থেকে ধর্মের দিকে চলে যায়। তিনি তাই বলেছিলেন শিক্ষার ক্ষেত্র থেকে, পাঠ্যপুস্তক থেকে ধর্মের কথা, ধর্মনীতির কথা বাদ দিয়ে দাও। এটাই ছিল বিদ্যাসাগরের সেক্যুলারিজমের মূল তত্ত্ব। তিনি প্রমাণ করতে পেরেছিলেন তাঁর ধর্ম হল মানবতাবাদ - রিলিজিয়ন অফ হিউম্যানিটি।"

অক্সফোর্ডের ঐতিহাসিক প্রয়াত অধ্যাপক তপন রায়চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন, ঈশ্বরচন্দ্রের শ্রেষ্ঠত্ব ছিল তাঁর স্বাধীন চিন্তায়- শিক্ষার ক্ষেত্রে এবং সমাজ সংস্কারের ক্ষেত্রে। তিনি বলেন ঈশ্বরচন্দ্র শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষেত্রে বারবার বলেছেন শিক্ষা হতে হবে যুক্তি-ভিত্তিক।

"সমাজের প্রচলিত প্রথার বিরুদ্ধে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানোর মধ্যেই ছিল তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয়। শুধু তাই নয় বাংলা সাহিত্যের বিকাশে তাঁর অবদান ছিল অসামান্য। বাংলা গদ্যের যে সৃষ্টি হল, সেই গদ্য সৃষ্টিতে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম।"

ছবির উৎস, .

ছবির ক্যাপশান,

১৮৫৫ সালে বাংলা নববর্ষের দিন যুগান্তকারী বাংলা শিশুপাঠ্য বর্ণমালা শিক্ষাগ্রন্থ বর্ণপরিচয় প্রকাশিত হয়।

কলকাতার অধ্যাপক পবিত্র সরকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উদ্ধৃত করে বলেন রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যের প্রথম যথার্থ শিল্পী ছিলেন। "গদ্যকে দখল করে তাকে যথার্থ সৌন্দর্য দিয়েছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।"

সর্বস্তরের জন্য শিক্ষা বিষয়ক বই, শিশুদের বর্ণপরিচয় থেকে শুরু করে সংস্কৃত গ্রন্থের অনুবাদ করেছিলেন তিনি। তাঁর কিছু কিছু পাঠ্যপুস্তক কয়েক প্রজন্ম ধরে বাঙালি শিশুদের মৌলিক শিক্ষার প্রধান বাহন হয়েছে।

"বাঙালি শিশুদের কাছে বেদগ্রন্থ ছিল তাঁর লেখা বর্ণপরিচয়। বইটি এত সুন্দরভাবে সংগঠিত ছিল যে বেশ কয়েকটি প্রজন্মের এই বই থেকে অক্ষর পরিচয় হয়েছিল। বাঙালির স্বাক্ষরতা বিস্তারে এই বর্ণপরিচয়ের ভূমিকা ছিল অসাধারণ। আর সেখানেই তিনি থামেননি। এর পরে লিখেছিলেন বোধোদয়, কথামালা এবং ধাপে ধাপে শিক্ষার একটা সিঁড়ি তৈরি করে দিয়েছিলেন," বলেছেন পবিত্র সরকার।

১৮৪৭ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর স্থাপন করেছিলেন সংস্কৃত প্রেস ডিপজিটরি নামে একটি বইয়ের দোকান। ওই বছরই এপ্রিল মাসে প্রকাশিত হয় হিন্দি 'বেতাল পচ্চিসি' অবলম্বনে লেখা তাঁর বই বেতাল পঞ্চবিংশতি। প্রথম বিরাম চিহ্নের সফল ব্যবহার করা হয় এই গ্রন্থে। বন্ধু মদনমোহন তর্কালঙ্কারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে তিনি 'সংস্কৃত যন্ত্র' নামে একটি ছাপাখানাও স্থাপন করেছিলেন।

ছবির ক্যাপশান,

১৮৭৭ সালের জানুয়ারি থেকে কলকাতায় বাদুড়বাগানে তৈরি এই বাড়িটিতে বসবাস শুরু করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। বর্তমান বিদ্যাসাগর স্ট্রিটের এই বাড়িতেই তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের একদিকে ছিল যেমন অসাধারণ বুদ্ধি ও মেধা, অন্যদিকে ছিল চরিত্রের কঠোরতা এবং সংগ্রামী মনোভাব।

"সমাজ সংস্কারের জন্য ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নিরলস আন্দোলন সমগ্র বাঙালি জাতিকে নতুন পথে চলার রাস্তা দেখিয়েছিল। একটা আদর্শ স্থাপন করেছিল, একটা সংগ্রামের ঐতিহ্য সৃষ্টি করেছিল," মন্তব্য করেছিলেন প্রয়াত অধ্যাপক তপন রায় চৌধুরী।

১৮৯১ সালের ২৯শে জুলাই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনাবসান হয় কলকাতায়।