সড়ক নিরাপত্তা: শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কায় চালকদের ডোপ টেস্ট চালুর উদ্যোগ থেকে সরে এসেছেন পরিবহন মালিকেরা

ঢাকার রাজপথে অসংখ্য যানবাহন
Image caption ঢাকার রাজপথে অসংখ্য যানবাহন

বাংলাদেশে পয়লা ডিসেম্বর থেকে চালুর কথা থাকলেও, নতুন করে শ্রমিক অসন্তোষ শুরুর আশংকায় চালকদের 'ডোপ টেস্ট' চালুর উদ্যোগ থেকে সরে এসেছেন পরিবহন মালিকেরা।

চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেবার শর্ত হিসেবে ডোপ টেস্ট চালু এবং চালকদের মাদকাসক্তি ঠেকাতে নজরদারির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ।

কিন্তু এ পরীক্ষা ঠিক কবে নাগাদ চালু হবে তা এখনি নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেনি বিআরটিএ।

এ বছরের সেপ্টেম্বরে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের এক সভায় ঘোষণা দিয়েছিল পয়লা ডিসেম্বর থেকে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে চালকদের 'ডোপ টেস্ট' শুরু করা হবে।

ডোপ টেস্ট কী?

মাদক এবং বলবর্ধক ওষুধ সেবন করলে সাধারণভাবে মানুষের রক্ত ও মূত্র পরীক্ষার মাধ্যমে তা সনাক্ত করা হয়, যা ডোপ টেস্ট নামে পরিচিত।

সাধারণত খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এ পরীক্ষা বেশি প্রচলিত।

আরো পড়ুন:

বাসচাপায় শিক্ষার্থী মৃত্যুর দায়ে চালকদের যাবজ্জীবন

সড়ক নিরাপত্তা: নতুন আইন প্রয়োগ হচ্ছে কি?

সড়ক পরিবহন আইনে কী আছে, পক্ষে বিপক্ষে যতো কথা

তবে, পরিবহন চালকদের ক্ষেত্রেও ভারতসহ বিশ্বের নানা দেশে এ পরীক্ষা চালু আছে।

বিশেষ করে চালক অ্যালকোহল জাতীয় কোনো মাদক গ্রহণ করেছে কিনা তা শনাক্ত করার জন্য 'অ্যালকোহল ডিটেক্টর' নামের একটি যন্ত্রও ব্যবহার করা হয়।

কেন পরিবহন মালিকেরা সরে এলেন?

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খোন্দকার এনায়েত উল্লাহ বিবিসিকে জানিয়েছেন, নতুন করে শ্রমিক অসন্তোষ শুরুর আশংকায় তারা এখনি এটি চালু করতে চান না।

"মাত্র কিছুদিন আগে নতুন আইনে চালকদের সাজা ও জরিমানার বিষয়টি নিয়ে শ্রমিকদের ধর্মঘট গেল। যে কারণে আমরা চাই না এখন নতুন করে আবার তাদের মধ্যে অসন্তোষ শুরু হোক।"

"সে কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি পরে সময়-সুযোগমত এটা চালু করা হবে।"

তবে, মিঃ এনায়েত উল্লাহ এটি চালুর কোন সময়সীমা জানাতে পারেননি।

"তাছাড়া, এটা তো আমরা কয়েক মাস আগে ঘোষণা দিয়েছিলাম। কিন্তু নতুন করে চালক-শ্রমিকদের সঙ্গে এ বিষয়টি আমরা আলোচনা করতে পারিনি, ফলে হুট করে তো এটা চালুর কথা বলা মুশকিল।"

বর্তমানে কী পরিস্থিতি?

বাংলাদেশে পরিবহনের চালকদের মধ্যে মাদকাসক্তি একটি বড় সমস্যা বলে অনেক সময় অভিযোগ শোনা যায়।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের ২০১৮ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশে ভারী মোটরযানের চালকদের প্রায় ৬৯ শতাংশই মাদকাসক্ত।

বিশেষ করে মহাসড়কে দীর্ঘ রুটে গাড়ি চালানোর সময় অনেক চালকই মাদক গ্রহণ করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে একে একটি বড় কারণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

কী বলছে কর্তৃপক্ষ?

বর্তমানে চালকদের লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের সময় তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ।

কিন্তু এর মধ্যে চালকদের মাদকাসক্তি নিরূপণের কোন ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত নেই।

তবে সংস্থাটি জানিয়েছে অদূর ভবিষ্যতে প্রথমে লাইসেন্স দেয়ার সময় ও পরবর্তী সময়ে সেটি নবায়নের সময় বাধ্যতামূলকভাবে চালকের ডোপ টেস্ট করা হবে।

এতে চালকের মাদকাসক্তি প্রমাণিত হলে তার লাইসেন্স বাতিলসহ কারাদণ্ড ও জরিমানার ব্যবস্থা করার কথা ভাবা হচ্ছে।

বিআরটিএ'র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কামরুল আহসান বিবিসিকে বলেছেন, সড়ক পরিবহন আইনে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেবার শর্ত হিসেবে এবং চালকদের মাদকাসক্তি শনাক্ত করে তা ঠেকানোর জন্য ডোপ টেস্ট চালুর কথা বলা হয়েছে।

"এটি নতুন আইনেই আছে, এখন আমরা সেটি বিধিমালাতেও অন্তর্ভুক্ত করছি। সারা পৃথিবীতে যেভাবে রক্ত ও মূত্র পরীক্ষার মাধ্যমে এ পরীক্ষা করা হয়, সেরকমই স্ট্যান্ডার্ড একটি পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা এটি চালু করবো।"

"এটি প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে কিছুটা সময় লাগছে। কিন্তু মাদকাসক্তি পরিবহন চালকদের একটা বড় সমস্যা, সেটি বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরণের উদ্যোগ নেয়া হবে।"

যদিও এ পরীক্ষা ঠিক কবে নাগাদ চালু হতে পারে তা জানাতে পারেনি বিআরটিএ চেয়ারম্যান মিঃ আহসান।

বিআরটিএ জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে কার্যক্রম চালাবে সংস্থাটি।

নতুন আইনে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য চালকের সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা ও পাঁচ বছরের সাজার ব্যবস্থা রাখা রয়েছে।