এডিটারস মেইলবক্স: বিতর্কিত রাজাকার তালিকা, নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ভারতে এখনও প্রতিবাদের আগুন

রাজাকার তালিকা স্থগিত করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ছবির কপিরাইট মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট
Image caption রাজাকার তালিকা স্থগিত করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়

বাংলাদেশে রাজাকারদের বিতর্কিত তালিকা প্রকাশ ও এ নিয়ে তৈরি হওয়া আস্থার সংকট নিয়ে অনেকেই লিখেছেন এ সপ্তাহে। দাকোপ, খুলনা থেকে লিখেছেন মুকুল সরদার:

''স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় বেশ কিছু মুক্তিযোদ্ধার নাম চলে আসার কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়। অবশেষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে তালিকাটি সরিয়েও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই তালিকাটি প্রকাশ করার আগে কেন ভালো করে যাচাই বাছাই করা হয়নি? এমন একটি স্পর্শ কাতর বিষয় নিয়ে তালিকা প্রকাশ করার আগে সংশ্লিষ্ট দুটি মন্ত্রণালয়েরই কি আরও সচেতন থাকা উচিৎ ছিল না?''

অবশ্যই ছিল। কারণ রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন, এমন অনেক মুক্তিযোদ্ধার নাম সেই তালিকায় রয়েছে, এমনকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান আইনজীবীর নামও তালিকায় আছে। ফলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় তালিকার বিরুদ্ধে প্রতিবাদও হয়েছে। প্রতিবাদের মুখে বিতর্কিত এই তালিকা স্থগিত করা হলেও একটা আস্থার সংকট যে সৃষ্টি হয়েছে সেটা সরকারও অস্বীকার করতে পারছে না। সরকার এখন বলছে চুলচেরা যাচাই বাছাই করেই নতুন করে তালিকা করতে হবে, যেটা গোড়াতে করলে হয়ত এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না।

একই প্রসঙ্গে ধানমণ্ডি, ঢাকা থেকে লিখেছেন শামীম উদ্দিন শ্যামল:

''স্বাভাবিকভাবেই দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাকেও এ সংবাদটি ক্ষুদ্ধ করেছে। বাংলাদেশে রাজাকার, আলবদর শব্দগুলো ঘৃণিত শব্দ এবং জঘন্য গালির নাম। কিন্তু দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার রাজাকার, আলবদরের কাতারে দাঁড় করলো। এই অপমানের দায় সরকার কখনো এড়াতে পারে না।''

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ১৯৭১-এ পাকিস্তানী বাহিনীকে সহায়তার অভিযোগে কয়েকজনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে - ফাইল ছবি

আর রংপুর থেকে দেবপ্রসাদ রায়ের মন্তব্য।

''সংশোধিত রাজাকারের তালিকা প্রকাশের পরবর্তী তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে ২৬শে মার্চ। প্রশ্ন হলো- এত বড় একটি কর্মকাণ্ড কী করে বিতর্কের জন্ম দেয়? নাম কিংবা ঠিকানা ভুল হলে, সেটা মেনে নেয়ার মত। কিন্তু গেজেটভূক্ত মুক্তিযোদ্ধা কি করে রাজাকারের তালিকায় আসে?''

এ প্রশ্নই এখন উঠছে বিভিন্ন মহলে। আপনি জানেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যেই বলেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কোলাবরেটরদের তালিকা করতে গিয়ে গোলমাল পাকিয়ে ফেলেছে। অনেক মুক্তিযোদ্ধার নাম সেখানে ঢুকে গেছে। তিনি বলেছেন এটা কোনোভাবেই রাজাকারের তালিকা নয়। এতে যারা কষ্ট পেয়েছেন তাদের বিষয়টি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করে তিনি বলেছেন রাজাকার,আল-বদর, আল-শামস সবার তালিকা গেজেট করা আছে।

ভারতে নতুন নাগরিকত্ব আইন নিয়ে দেশব্যাপী যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে সে প্রসঙ্গে ছোট একটি প্রশ্ন তুলেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:

''ভারতের আসামে 'মুসলিম বিরোধী' আইন পা হওয়ার ফলে দেশটির "বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র" তকমাটা থাকবে তো?''

ছবির কপিরাইট NurPhoto
Image caption রাজধানী দিল্লি সহ ভারতের বিভিন্ন শহরে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ চলছে।

আর নাসিরাবাদ, চট্টগ্রাম থেকে প্রশ্ন করেছেন নজরুল ইসলাম:

''বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে ভারত এখন প্রতিবাদে উত্তাল। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিতর্কিত এই আইন দেশটির সরকার পা করে নিতে পারলেও আইনটির প্রয়োগ মোদী সরকারের জন্য কতটা শক্ত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে?''

মি. সাঈদ- এই আইনের বিরোধিতা করছেন যারা তারা বলছেন এই আইন বৈষম্যমূলক এবং ভারতীয় সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থানের পরিপন্থী। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এই আইনকে বৈষম্যমূলক বলে সমালোচনা করেছে। আর মি. ইসলাম- এই আইনের প্রতিক্রিয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত যে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠবে তা হয়ত মোদী সরকার ভাবেনি। তাই এই আইন কার্যকর করা দেশটির সরকারের জন্য যে একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে তাতে সন্দেহ নেই।

৮ই ডিসেম্বর প্রচারিত একটি খবর ভাল লেগেছে বলে জানয়েছেন তাহিরপুর, দুর্গাপুর, রাজশাহী থেকে মোঃ সাইফুল ইসলাম থান্দার:

''প্রত্যুষায় শুনলাম ইটালির বাঙালি অভিবাসীরা, সেখানকার মাফিয়া চক্রকে নির্মূল করতে যে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে তার সংক্ষিপ্ত কাহিনি। খুব ভালো লাগলো।''

ইটালিতে সিসিলির শহর পালেরমোয় বাংলাদেশি এবং অন্যান্য অভিবাসীরা মিলে কীভাবে সেখানকার কুখ্যাত অপরাধী চক্র মাফিয়াদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিল সে কাহিনি আপনার ভাল লেগেছে জেনে আমাদেরও ভাল লাগল।

ছবির কপিরাইট SIMONA GRANATI - CORBIS
Image caption ইতালি জুড়েই অনেক বাংলাদেশিদের বাস।

আরেকটি প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোঃ সাব্বির হোসেন:

''১৬ই ডিসেম্বর প্রত্যুষা অনুষ্ঠানে প্রচারিত 'আফ্রিকা আই' অনুষ্ঠানের প্রতিবেদনটি গতানুগতিকই লাগছিল। কিন্তু যখন প্রতিবেদক বললেন - ভুক্তভোগী নারী গ্রেস, বিবিসি আফ্রিকা আই প্রতিবেদনের ফলে উদ্ধার পেয়ে নিজ দেশ কেনিয়াতে ফিরে গিয়ে নতুন করে স্বাভাবিক জীবন গোছানোর চেষ্টা করছেন তখন বিবিসির প্রতি পূর্বের চেয়ে আরো বহু গুণে কৃতজ্ঞতা বেড়ে গেল। আচ্ছা,বাংলাদেশে এমন গোপন বা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিবিসি আফ্রিকা আই কিংবা বিবিসি বাংলা করতে কি পারে না?''

বিবিসির আফ্রিকা আই, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ২০১৮ সাল থেকে গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করছে। এই মুহূর্তে এশিয়ায় একইধরনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করার জন্য নির্দিষ্ট কোন বিভাগ নেই। আফ্রিকা আই-এর এইসব অনুসন্ধানী প্রতিবেদন আফ্রিকার অনেক দেশে সমাজে ও আইনে পরিবর্তন আনতে সাহায্য করেছে। যেমন আপনি যে নারীর কথা লিখেছেন ভারতে পাচার হয়ে যাওয়া সেই গ্রেসকে ভারতে যৌনকর্মীর পেশায় নামতে বাধ্য করা হয়েছিল। আফ্রিকা আইএর সহায়তায় আবার কেনিয়া ফিরতে পেরেছেন গ্রেস।

Image caption দিল্লি পৌঁছনোর পর, গ্রেস বুঝতে পারে যে একটা দু:স্বপ্নের মধ্যে বন্দি হয়ে পড়েছে সে।

আবার ফিরে আসি ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন প্রসঙ্গে। এই আইনের বিরুদ্ধে অব্যাহত প্রতিবাদ বিক্ষোভ নিয়ে এ সপ্তাহে অনেকেই লিখেছেন। গেণ্ডারিয়া ঢাকা থেকে এ বিষয়ে আরও লিখেছেন মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''এনআরসি ইস্যু নিয়ে ভারত অনেকটা অগ্নিগর্ভ এবং চলমান বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। আপনাদের শুভজ্যোতি ঘোষ ও অমিতাভ ভট্টশালীর প্রতিবেদনগুলো খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছি। প্রতিবেদনগুলো শুনে মনে হচ্ছে, বিজেপি সরকার তাদের হিন্দু জাতীয়তাবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নের দিকেই অগ্রসর হচ্ছে। আমার প্রশ্ন, এত বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের পরও কী বিজেপি সরকার তার অবস্থানে অটল থাকতে পারবে? নাকি প্রতিবাদের কাছে পিছু হতে বাধ্য হবে?''

এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। ভারতের বিজেপি সরকার এখনও পর্যন্ত এই আইন বাস্তবায়নে তারা যে অটল এমনই ঈঙ্গিত দিয়েছে। তবে প্রতিবাদ বিক্ষোভ এখন এতটাই ছড়িয়ে পড়েছে যা হয়ত বিজেপি সরকার আগে অনুমান করতে পারেনি। এই বিক্ষোভ সরকারকে শেষ পর্যন্ত পেছু হটতে বাধ্য করে কীনা সেটা এখনই বলা মুশকিল।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ভারতের পশ্চিমবঙ্গে 'বৈষম্যমূলক' নাগরিকত্ব আইন বিরোধী বিক্ষোভ। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে।

একই প্রশ্নে লিখেছেন পার্বতীপুর দোলাপাড়া, রংপুর থেকে এস এম লিয়াকত আলী:

''ভারতের এই মুসলিম বিরোধী আইনের ফলে সেদেশে মুসলিমদের অধিকার খর্ব হবে। এত সংখ্যক মুসলিম রাষ্ট্রহীন হয়ে গেলে তো বিশ্বের শান্তি নষ্ট হয়ে যাবে। আজকের যুগে এসে জাতি ধর্ম নিয়ে এত বিভেদ কেন?''

ভারতে এই আইন কার্যকর হলে দেশটিতে মুসলিমদের অধিকার খর্ব হবে বলেই আশংকা করছেন সেখানকার মুসলমানরা। যদিও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মি: মোদী দেশের সব নাগরিককে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন এই বলে যে এর ফলে কোন নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ন হবে না।

পরিবেশ নিয়ে লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম থেকে লিখেছেন মো. রেজাউল রহিম:

''আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলার পাশ্ববর্তী লোহাগাড়া উপজেলায় বসবাস করি। এই উপজেলার চুনতি ইউনিয়ন হচ্ছে এশিয়া মহাদেশের বন্যপ্রাণীর অন্যতম অভয়াশ্রম। অতি সাম্প্রতিককালে লোহাগাড়ার বিভিন্ন উপজেলায় হাতি লোকালয়ে এসে জনমানব, জনবসতি এবং ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেই চলেছে। কার্যত, স্থানীয় বনবিভাগ নিষ্ক্রিয় ভূমিকা রাখছে। সাম্প্রতিককালে হাতির পাল বনের মধ্যে না থেকে কেন লোকালয়ে এসে জন নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে ? এটা কি বৈশ্বিক জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে,নাকি অন্য কিছু?''

মি. রহিম অনেক জায়গাতেই বনজঙ্গল কেটে ফেলার কারণে হাতি বা বাঘের মত বন্যপ্রাণীরা লোকালয়ে চলে আসছে খাবারের সন্ধানে। তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল যখন হুমকির মুখে পড়ে তখন তারা যে এভাবে লোকালয়ে ঢুকে ফসল বা বসতির ক্ষতি করে এটাই স্বাভাবিক।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption বনজঙ্গল উজাড় হয়ে গেলে বন্য হাতি লোকালয়ে চলে আসার আশংকা বাড়ে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বিবিসির কভারেজের কথা স্মরণ করেছেন পীরগঞ্জ, রংপুর থেকে মুশফিকুর রহমান ওলিউল্লাহ:

''বাঙালির উপর আকাশ ভেঙ্গে পড়া দিনে আমাদের পাশে ছিলেন স্যার মার্ক টালি। বিবিসির তৎকালীন সাংবাদিক মার্ক টালি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং পাকবাহিনীর গণহত্যার সংবাদ বিশ্ববাসীর সামনে প্রচারে অনন্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। একাত্তরের বিবিসি বলতে সেসময় সবাই মার্ক টালিকেইজানতো।

''মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রেডিওর এরিয়াল তুলে শর্টওয়েভ স্টেশনের নব ঘুরিয়ে স্থির হয়ে সকাল-সন্ধ্যা বিবিসিতে কি বলছেন মার্ক টালি , তা শোনার জন্য উৎকন্ঠিত থাকত পুরো দেশ। বিজয়ের মাসে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সেইসব ব্যক্তিদের যারা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে জড়িত না থাকলেও পরোক্ষভাবে ঠিকই জড়িত ছিলেন।''

মন্তব্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। ফোন ইনে নারী ও পুরুশ শ্রোতাদের অংশগ্রহণ নিয়ে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন মহাখালি, ঢাকা থেকে কাজী সারোয়ার হোসেন বিপু:

''ফোন ইন এ কারা অংশগ্রহণ করবেন, সেটা পুরুষ নাকি মহিলা, সেটা বিবেচনায় আনার চেয়ে বেশি জরুরি ফোন-ইন এর বিষয়ের সাথে যাদের সম্পৃক্ততা বেশি তাদেরকেই বেশি প্রাধান্য দেয়া। যেমন "পেঁয়াজ ছাড়া রান্না হয় না" বিষয়ের সাথে মহিলারাই যেমন ভালো মতামত দিতে পারবেন তেমনি ফোন ইন এর বিষয়টা যদি এমন হয়, "পুরুষ নির্যাতন কি বেড়ে গেছে" বিষয়টিতে মহিলাদের চাইতে পুরুষদের সুযোগ দেয়াটাই বেশি যুক্তিসঙ্গত হবে।''

মি. হোসেন আপনার এই যুক্তি তো মানতে পারলাম না। মানে আপনি বলতে চাইছেন রান্নাবান্না, বা ঘরসংসার সংক্রান্ত বিষয়ের বাইরে অন্য বিষয়ে মহিলাদের মতামতের কোন মূল্য নেই। পুরুষরা কি বলতে পারেন না যে পেঁয়াজ ছাড়া রান্না খাওয়া যায় কিনা। তাছাড়া অনেক পুরুষ আছেন যারা নিজেরাও রান্নায় পটু। আর পুরুষদের ওপর নির্যাতনের জন্য অভিযোগের আঙুল যদি তোলা হয় নারীদের দিকে তাহলে মহিলাদের সে বিষয়ে বক্তব্য থাকাটা যুক্তিসঙ্গত নয় কী?

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption রান্নায় পেঁয়াজের ব্যবহার নিয়ে কথা কি শুধু নারীরাই বলবেন?

রাতের অধিবেশন ফিরিয়ে আনা নিয়ে লিখেছেন সাজিয়াড়া, ডুমুরিয়া, খুলনা থেকে দীপক বিশ্বাস:

''যখন কোন রকম কাজের মধ্যে ছিলাম না,তখন ভাবতাম বিশেষ করে শীতের রাতে এত রাত জেগে কারা এই সংবাদ শোনে। কিন্তু এখন রাতের বিবিসির সংবাদ সত্যিই বড় মিস করি। তারও কারণ আছে, যখন কাজের মধ্যে ছিলাম না তখন সকাল আর সন্ধ্যার সংবাদ নিয়মিত শুনতাম। কিন্তু এখন সন্ধ্যার বিবিসির সংবাদ শুনতেই পাই না। তাই সত্যিই যদি বিবিসি তাদের রাতের অধিবেশন আবার ফিরিয়ে আনে তো বিবিসির নিকট অবশ্যই কৃতজ্ঞ থাকবো।''

সেই লক্ষ্যে আমরা যে কাজ করছি তা নিশ্চয়ই ইতোমধ্যেই প্রীতিভাজনেষুর মাধ্যমে জেনেছেন। অনুষ্ঠান শুনতে থাকুন। কবে রাতের অধিবেশন আবার শুরু হবে তা আমরা শিগগিরি জানাতে পারব বলে আশা করছি।

এবারে কিছু প্রাপ্তিস্বীকার।

মোঃ নাঈম হোসাইন, পবা, রাজশাহী।

মাহবুবা ফেরদৌসী হ্যাপি, গেন্ডারিয়া, ঢাকা।

মো. শফিকুল ইসলাম, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা।

মো. বেলাল হোসেন, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর।

রওশন আরা বেগম, ঢাকা।

মো. উজ্জ্বল ইসলাম, বড়শশী, পঞ্চগড়।

ফয়সাল আহমেদ সিপন, ঘোড়াদাউড়, গোপালগঞ্জ।

দিপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।

কমলেশ সানা, আশাশুনি,সাতক্ষীরা।

খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, সান্তাহার, নওগাঁ।

বিবিসি বাংলার কাছে লেখার ঠিকানা Bengali@bbc.co.uk