পাবলিক প্লেসের ইউএসবি পোর্ট ব্যবহার করে ফোন চার্জ করার ঝুঁকি সম্পর্কে কতটুকু জানেন?

সাইবার অপরাধীরা ইউএসবি চার্জিং স্টেশনগুলোর মাধ্যমে স্মার্ট ডিভাইস হ্যাক করতে পারে ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption সাইবার অপরাধীরা ইউএসবি চার্জিং স্টেশনগুলোর মাধ্যমে স্মার্ট ডিভাইস হ্যাক করতে পারে

আজকের ডিজিটাল যুগে ফোন বা ট্যাবলেটের ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যাচ্ছে - এটা যেন সবার কাছে একটা দুঃস্বপ্নের মত।

কিন্তু সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্কবার্তা দিচ্ছেন যে - সবাই ব্যবহার করতে পারে, এমন কোনো একটি ইউএসবি পোর্টে ফোন চার্জ দিলে সেটিতে হ্যাকারদের আক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

এই বিষয়টিকে বলা হয় 'জুস জ্যাকিং': এরকম ক্ষেত্রে অপরাধীরা ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে, এমন চার্জিং পয়েন্ট ব্যবহার করে আপনার স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপে ম্যালওয়্যার প্রবেশ করায়।

আপনি যখন ভাবছেন যে আপনার ডিভাইসটি চার্জ হচ্ছে, এর মধ্যেই সম্পন্ন হয়ে যায় এই পুরো প্রক্রিয়াটি।

আরো পড়তে পারেন:

চ্যাটিং অ্যাপে 'গোপনীয়তার নিশ্চয়তা প্রায় অসম্ভব'

সঙ্গীর ফোনে নজরদারি যখন মাথাব্যাথার কারণ

চীনে মোবাইলে ফেস স্ক্যান’: উদ্দেশ্য গণ নজরদারি?

হ্যাকাররা ভবিষ্যতে আপনার স্মৃতি চুরি করতে পারবে

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption সাধারণ পাওয়ার আউটলেট পাবলিক প্লেসের ইউএসবি পোর্টের চেয়ে অনেক নিরাপদ

সহজেই হতে পারে আক্রমণ

গত কয়েকবছর ধরে এই জুস জ্যাকিং নিয়ে আশঙ্কা বাড়ছে।

২০১১ সালে এই পরিভাষাটি ব্যবহার করা শুরু হয় এবং ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষপর্যায়ের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এফবিআই এবিষয়ে সতর্কতা জারি করে।

এরপর এবছরের নভেম্বরে লস অ্যাঞ্জেলস ডিস্ট্রিক্টের অ্যাটর্নির অফিস যখন মানুষকে পাবলিক প্লেসে ইউএসবি চার্জার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেয়, তখন আবারো আলোচনায় আসে জুস জ্যাকিং প্রসঙ্গ।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে ইউএসবি চার্জিং পোর্টের মাধ্যমে ডিভাইস হ্যাক করতে যেসব উপাদান প্রয়োজন হয় সেগুলো সহজেই পাওয়া যায় এবং সহজে ব্যবহারও করা যায়।

২০১৮ সালের এক রিপোর্টে মার্কিন প্রযুক্তি বিষয়ক পরামর্শ প্রতিষ্ঠান ওওডিএ দাবি করে 'জুস জ্যাকিং সবচেয়ে কম গুরুত্ব পাওয়া নিরাপত্তা হুমকিগুলোর একটি।'

আবার অনেক সময়ই মানুষের কাছে চার্জ দেয়ার কেবল না থাকায় সেই সুযোগটিও নেয় হ্যাকাররা। পাবলিক প্লেসে তখন তারা এমন চার্জার কেবল রেখে আসে যেগুলোর সাহায্যে পরে ব্যবহারকারীদের ডিভাইস হ্যাক করা হয়।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

আওয়ামী লীগ: কাউন্সিলররা মত দেয়ার সুযোগ পাবেন?

ফজলে হাসান আবেদ: গ্রামবাংলার পালাবদলের স্বপ্নদ্রষ্টা

২০১৯ সালের ভালো সংবাদ ছিল কোনগুলো

রাষ্ট্রপতিকে টেলিনরের উকিল নোটিশ: এর অর্থ কী?

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption চার্জিং স্টেশনে বিভিন্ন রকম ফাঁদ পেতে রাখতে পারে হ্যাকাররা

বৈশ্বিক সমস্যা

বিশ্বব্যাপী ডেস্কটপ কম্পিউটার ও ল্যাপটপের পাশাপাশি মোবাইল ফোনও দিনদিন হ্যাকারদের পছন্দের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।

সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ক্যাস্পারস্কাই ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাপী মোবাইল ফোনে ম্যালওয়্যার আক্রমণের সংখ্যা ১১ কোটি ৬৫ লাখ, যে সংখ্যাটি ২০১০৭ সালে ছিল ৬ কোটি ৬০ লাখ।

ক্যাস্পারস্কাইয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আপনি যদি এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য বা আফ্রিকায় থাকেন, তাহলে সংক্রমিত হয় এমন ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে আপনার ফোনে আক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

পাকিস্তানে ক্যাস্পারস্কাইয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ গ্রাহকের মোবাইল অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারটি ২০১৯ সালের প্রথম তিন মাসের মধ্যে ম্যালওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত হয়।

ছবির কপিরাইট PortaPow
Image caption 'ইউএসবি কনডম' এমন ডিভাইস যা ইউএসবি কেবলের সাথে সংযুক্ত করলে ফোন থেকে তথ্য চালান করা সম্ভব হয় না, শুধু চার্জ দেয়া যায়

সুরক্ষা দেবে ইউএসবি 'কনডম'

সুখবর হলো, জুস জ্যাকিং থেকে সুরক্ষা পাওয়ার পদ্ধতিটিও সহজ।

একটি নিয়ম মানতে হবে, তা হলো আপনার ফোনটি ইউএসবি পোর্টের মাধ্যমে চার্জ না দিয়ে সবসময় চার্জার দিয়ে চার্জ দেয়া।

অন্য যেসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে পারেন, সেগুলো হলো:

  • বাসা থেকে বের হওয়ার আগ নিশ্চিত হয়ে নেয়া যে আপনার ফোনটির পূর্ণ চার্জ আছে।
  • জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে সহজে বহন করা যায় এমন ব্যাটারি প্যাক সাথে রাখা।
  • 'ইউএসবি কনডম' কিনে সাথে রাখা। এটি এমন ডিভাইস যা ইউএসবি কেবলের সাথে সংযুক্ত করলে ফোন থেকে তথ্য চালান করা সম্ভব হয় না।
ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption 'জুস জ্যাকিং' এর চেয়ে সহজ পদ্ধতিতে হ্যাকাররা আমাদের মোবাইল ফোনের তথ্য নিয়ে যেতে পারে

তবে জুস জ্যাকিংই যে মোবাইল ফোনে আক্রমণ করার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি, তা নয়। এর চেয়েও সহজ পদ্ধতিতে হ্যাকাররা আমাদের মোবাইল ফোনের তথ্য নিয়ে যেতে পারে।

স্মার্ট ডিভাইস হ্যাক করার ক্ষেত্রে অ্যাপ্লিকেশন এখনও হ্যাকারদের সবচেয়ে পছন্দের অস্ত্র। এই অ্যাপগুলো সাধারণত অ্যাপল বা গুগলের চেয়ে থার্ড পার্টি সফটওয়্যার স্টোরগুলোতেই বেশি পাওয়া যায়।

আরেকটি হুমকি হলো 'ম্যালভার্টাইজিং।' এক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনের নেটওয়ার্কে ত্রুটিপূর্ণ প্রোগ্রাম প্রবেশ করানো হয় এবং ঐ ভেজাল বিজ্ঞাপনে ব্যবহারকারী ক্লিক করলে তার ডিভাইসটি সংক্রমিত হয়।

আর সবশেষে, ম্যালওয়্যার থাকা ওয়েব পেইজ বা লিঙ্কের ঠিকানা এসএমএস-এর মাধ্যমে ডিভাইসে পাঠানো।

বড়দিন ও নববর্ষের সময় লক্ষ লক্ষ মানুষ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ভ্রমণ করবে। তাদের সাইবার নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশন্স কমিশন সতর্কবার্তা জারি করেছে: "আপনার ইলেকট্রনিক ডিভাইসটি বিমানবন্দরের গেটে, হোটেলে বা বাস স্টেশনের মত জায়গায় থাকা চার্জিং স্টেশনে চার্জ দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন।"

সুতরাং আপনি যখন ভ্রমণ করবেন, তখন আপনার ডিভাইসের চার্জের দিকে সবসময় নজর রাখুন।