আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি: পরিবর্তনের আভাস থাকলেও হয়নি কেন

দুইদিন ব্যাপী সম্মেলনে নির্বাচিত হয় নতুন নেতৃত্ব ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption দুইদিন ব্যাপী সম্মেলনে নির্বাচিত হয় নতুন নেতৃত্ব

বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে যে নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে তাতে তেমন কোন পরিবর্তন নেই।

সর্বসম্মতিক্রমে আবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সভাপতি এবং ওবায়দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হয়। দলের অন্য পদেও কোন চমকই ছিল না।

আওয়ামী লীগের তৃনমূলের নেতাকর্মীরা নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে নিজ নিজ জেলায় ফিরে গেছেন। প্রকাশ্যে কোনো প্রতিবাদ বা বিরোধিতা করেননি।

তবে তাদের অনেকেই একান্তে অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

উত্তরাঞ্চলীয় একটি জেলার একজন কর্মী বিবিসিকে বলছিলেন, "আমরা যেরকম তারুণ্যনির্ভর দল দেখতে চেয়েছিলাম, সেরকম আমরা দেখতে পাইনি। এখানে অভিজ্ঞদের জায়গা দেয়া হয়েছে, কিন্তু তৃনমূলের নেতাকর্মীদের আশা ছিল নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়টা যদি আরেকটু বেশি হত, তাহলে ভালো হতো।"

তিনি আরো বলছিলেন, "সরকারে যারা আছেন তাদের দল পরিচালনার থেকে সরিয়ে দেবার কাজটি কিছুটা হয়েছে, কিন্তু এখানে যদি প্রাক্তন ছাত্রনেতা ও জেলা পর্যায়ের প্রবীণ নেতাদের বেশি জায়গা দেয়া যেত, সেটা দলের জন্য ভালো হত।"

তৃনমমূলের অনেকে এখনো আশা করে আছেন, যে পদগুলো এখনো ঘোষণা করা হয়নি, সেখানে তাদের প্রত্যাশামাফিক নেতা তারা পাবেন।

আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের একজন নেত্রী বলছেন, "একটা দল তো কেবল নতুনদের নিয়ে চালানো যাবে না। যারা প্রবীণ এবং অভিজ্ঞ তাদের মধ্যে যাদের মূল্যায়ন হয়নি,

আগামীতে হবে বলে আমরা আশা করি।"

আরও পড়ুন:

আওয়ামী লীগের সম্মেলন: নতুন কমিটিতে যারা রয়েছেন

'শুদ্ধি অভিযান': কীভাবে দেখছে আওয়ামী লীগ কর্মীরা?

পরিবর্তনের আভাস ছিল

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানের আগে দলটির অঙ্গসংগঠন ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কয়েকটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ওইসব সম্মেলনের আগে দলে শুদ্ধি অভিযান চালানো এবং দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠা নেতৃবৃন্দকে বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসাসহ বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছিল দলটি।

সে প্রেক্ষাপটে মূল দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেও পরিবর্তনের আভাস দেয়া হয়েছিল।

কিন্তু বিশ্লেষকেরা বলছেন, সে আভাসের প্রতিফলন দেখা যায়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরিন বলছেন এর মাধ্যমে দলটি এক ধরণের বার্তা দিয়েছে।

তিনি বলেন, "দুয়েকটি পরিবর্তন ছাড়া বড় কোন পরিবর্তন না করার মাধ্যমে যেটা বোঝা যায় যে, এই দফায় আওয়ামী লীগ আর কোন ঝুঁকি নিতে চায়না। দলে ইতিমধ্যেই যারা নেতৃত্বে আছেন তাদের ওপরই ভরসা রাখতে চায় দলটি।"

ছবির কপিরাইট .
Image caption 'আওয়ামী লীগ সব সময় দক্ষ, যোগ্য এবং ত্যাগীদের মূল্যায়ন করে, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি,' মাহবুবুল আলম হানিফ

আওয়ামী লীগ কী বলছে

আওয়ামী লীগ বলছে, দলের মধ্যে শুদ্ধি কার্যক্রম চালানো এবং নানা ধরণের সংস্কারের বিষয়টি চলমান।

তাছাড়া, আওয়ামী লীগের মত একটি বড় রাজনৈতিক দলে রাতারাতি পরিবর্তন করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।

তিনি বলেছেন, তৃনমূলের পরীক্ষিত নেতৃবৃন্দকেই কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাখা হয়েছে।

যে চমক অনেকে ধারণা করেছিলেন, তা কেন দেখা গেলনা?

এই প্রশ্নে মি. হানিফ বলেন, "রাজনৈতিক দলে বড় চমক হয় না। আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করেছে, যারা রাজনীতির মাঠে ধাপে ধাপে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওপরে উঠে এসেছেন তারাই নির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সব সময় দক্ষ, যোগ্য এবং ত্যাগীদের মূল্যায়ন করে, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।"

সম্পর্কিত বিষয়