সংখ্যালঘুদের ভারতে যাওয়া প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের প্রশ্ন: ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ'র বক্তব্য কি অসত্য

Image caption আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের

সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্'র সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেটা বলেছেন বাংলাদেশের বাস্তবতায় এটা কি অসত্য ?

ঢাকায় সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "২০০১ সাল থেকে যে মাইনরিটি পারসিউকিউশন এদেশে হয়েছে, এটা কেবলমাত্র একাত্তরের বর্বরতার সাথেই তুলনীয়। কাজেই এখানে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার কোনো উপায় নেই"।

মিস্টার কাদের বলেন, বিএনপি যতই সত্যকে চাপা দিতে চাক, আপনারা জানেন, সাংবাদিকরাও জানেন, তখন কিভাবে মাইনরিটির ওপর অত্যাচার হয়েছে, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়।

"এবং ওই অবস্থায় মাইনরিটিরা দেশ থেকে পলায়ন করাই ছিলো স্বাভাবিক। অনেকেই জীবনের জানমালের নিরাপত্তার জন্য সেদিন পালিয়েছিলো। মির্জা ফখরুল যতই সাফাই গান না কেন, যে সত্য দিবালোকের মতো সত্য, তা চাপা দিয়ে কারও কোনো লাভ নেই। সত্যের বন্যা অপ্রতিরোধ্য। এটা প্রকাশ হবেই"।

সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী ভারতে গিয়ে বলেছেন যে সংখ্যালঘু কেউ বাংলাদেশ থেকে গেছে প্রমাণ হলে তাদের ফেরত আনা হবে। এ প্রসঙ্গে আপনার মন্তব্য কী?

জবাবে সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে মাইনরিটি পারসিউকিশনের মতো ঘটনা ঘটেনি। বিচ্ছিন্নভাবে, বিক্ষিপ্তভাবে অঞ্চলভিত্তিক দু'চার জায়গায় কিছু ঘটনা ঘটেছে। সেটা মাইনরিটিদের দেশ থেকে পলায়নের মতো, নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ভারতের যাওয়ার কোনো কারণ সৃষ্টি হয়নি। এ ধরণের ঘটনাও হয়নি।

তিনি বলেন, "রংপুর, গোবিন্দগঞ্জ, রামু, নাসিরবাদের -- এসব ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। এগুলো তাদের দেশ থেকে চলে যাওয়ার কোনো কারণ সৃষ্টি করেনি বলে আমরা মনে করি"।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

'বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন থামেনি বলেই এই বিল'

অমিত শাহের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে বিএনপি

দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের দৃষ্টান্ত নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নাগরিকত্ব বিলে সায় ভারতের মন্ত্রিসভার, কী আছে এতে

একজন সাংবাদিক জানতে চান, বিএনপি আমলে সংখ্যালঘু নির্যাতনের যে ঘটনা ... বাংলাদেশ ছেড়ে ... অনেকে ভারতে চলে গেছে?

জবাবে সরকারের প্রভাবশালী এই মন্ত্রী বলেন, "তখন কিছু কিছু লোক যাওয়া স্বাভাবিক। সে অবস্থায় যাওয়া ছিলো স্বাভাবিক। আমরা ছিলাম বিরোধী দলে। আমরা অনেক জায়গায় লঙ্গরখানাও করেছি।"

"গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া মোটামুটি সেইফ জোন, আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এলাকা। সেখানে লঙ্গরখানা খুলেছি। ঢাকায়ও আশ্রয় দিয়েছি। তখন ভয়ভীতির কারণে অনেকে চলে যেতে পারেন।"

এরপর ওবায়দুল কাদেরকে কাদেরকে প্রশ্ন করা হয়, তখন ভয়ভীতির কারণে যারা গেছেন তাদের কি ফিরিয়ে নেয়া হবে?

জবাবে তিনি বলেন, "তারা আসতে চাইলে ফিরিয়ে নিবো"।

প্রসঙ্গত, ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল লোকসভায় পেশ করতে গিয়ে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলাদেশসহ তিনটি প্রতিবেশী দেশের সংবিধানকে উদ্ধৃত করে বলেছিলেন, এই দেশগুলোর রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বলেই সেখানে অন্য ধর্মের মানুষরা নিপীড়িত হচ্ছেন।

তিনি ভারতীয় সংসদে বলেন, এই বিলটি আনতে তার সরকার বাধ্য হয়েছে এবং এর অন্যতম কারণ "বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশেই হিন্দু-বৌদ্ধরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন"।

তিনি জানান যে বাংলাদেশ থেকে আসা লোকরাও এই বিলের সুবিধা পাবেন।

অমিত শাহ বলেন, "মাননীয় স্পিকার, সে দেশে কিন্তু নরসংহার থামেনি - একাত্তরের পরও বেছে বেছে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের ঘটনা ঘটেই চলেছে।"

বাংলাদেশে বিরোধী দল বিএনপিসহ কয়েকটি দল অমিত শাহ'র দেয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে তাদের সরকারের আমলে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, বরং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখলসহ যে ধরণের আক্রমণ হয়েছে, সে ব্যাপারে অমিত শাহ কিছু বলেননি।