ইরাকে আবার ইসলামিক স্টেটের পুনরুত্থানের আশংকা

ইসলামিক স্টেটের পুনরুত্থান নিয়ে আশংকা বাড়ছে

ছবির উৎস, AFP

ছবির ক্যাপশান,

ইসলামিক স্টেটের পুনরুত্থান নিয়ে আশংকা বাড়ছে

ইরাকে ইসলামিক স্টেট যে আবার নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে, তার জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

কুর্দি এবং পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বিবিসিকে বলেছেন, ইরাকে আই-এসের পরাজয়ের দু'বছর পর এখন তাদের আক্রমণের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে এবং দেশটিতে তাদের উপস্থিতি একটি দক্ষ বিদ্রোহী তৎপরতায় পরিণত হয়েছে।

একজন কুর্দি সন্ত্রাসদমন কর্মকর্তা লাহুর তালাবানি বলেছেন, ইরাকে আইএসের সদস্য সংখ্যা এখন প্রায় ১০ হাজার এবং তারা দেশটির বর্তমান অস্থির অবস্থার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় অবাধে চলাফেরা করছে। তিনি ইসলামিক স্টেটকে এখন আল কায়েদার চেয়ে বেশি বিপদজনক এবং বেশি সংগঠিত বলে বর্ণনা করেন।

"ওদের কৌশল অনেক ভালো এবং তাদের কাছে প্রচুর অর্থও আছে।"

ছবির ক্যাপশান,

ইরাকের দুর্গম হারমিন পার্বত্য অঞ্চলে ঘাঁটি গেড়েছে ইসলামিক স্টেট

লাহুর তালাবানি বহু বছর লন্ডনে কাটিয়েছেন। সাদ্দাম হোসেনের শাসনামলে ইরাক থেকে তার পরিবারকে পালিয়ে আসতে হয়েছিল। তিনি জানইয়ারি এজেন্সি বলে একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান।

উত্তর ইরাকের কুর্দিস্থান অঞ্চলের সুলাইমানিয়াতে কুর্দিদের যে ঘাঁটি, সেখানে বসে কথা বলছিলেন লাহুর তালাবানি। খেলাফত ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর কীভাবে ইসলামিক স্টেট সেখান থেকে আবার সংগঠিত হচ্ছে, তা বর্ণনা করছিলেন তিনি।

"আমরা দেখছি, তাদের তৎপরতা বাড়ছে। আমাদের ধারণা তাদের পুনর্গঠনের ধাপ এখন শেষ হয়েছে।"

তার মতে, যে নতুন ধরনের ইসলামিক স্টেটের উত্থান ঘটছে, তারা আর কোন এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় না, কারণ তারা টার্গেট হতে চায় না। এর পরিবর্তে ইসলামিক স্টেট এখন তাদের পূর্বসূরী আল-কায়েদার মতো আন্ডারগ্রাউন্ডে কাজ করতে চায়। ইরাকের হামরিন পর্বতমালায় তারা এখন এভাবেই কাজ করছে।

'এটি এখন তাদের ঘাঁটি। এই বিস্তৃত পার্বত্য অঞ্চল ইরাকি সেনাবাহিনীর পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। সেখানে অনেক লুকোনোর জায়গা আছে, অনেক গুহা আছে।"

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

বাগদাদীর মৃত্যু সত্ত্বেও নতুন করে উত্থান ঘটছে ইসলামিক স্টেটের

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে এখন যে অস্থিরতা চলছে, তা ইসলামিক স্টেটকে শক্তি যোগাবে বলে তিনি সতর্ক করে দেন।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

কুর্দি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের অনুমান, ইরাকে এখন ইসলামিক স্টেটের সদস্য সংখ্যা প্রায় দশহাজার, এদের মধ্যে প্রায় চার হতে পাঁচ হাজার যোদ্ধা, আছে প্রায় সমান সংখ্যাক 'স্লিপার সেল' এবং সমর্থক।

ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উইলিয়াম সিলি স্বীকার করেন যে সেখানে ইসলামিক স্টেট নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে। তবে এবার ইরাকি এবং কুর্দি বাহিনীর কাছ থেকে তাদের অনেক শক্ত প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে।

ব্রিগেডিয়ার সিলি বলেন, ২০১৪ সালের তুলনায় ইরাকি এবং কুর্দি বাহিনী অনেক বেশি সুসজ্জিত।

ইসলামিক স্টেট ২০১৪ সালে ইরাকের প্রায় এক তৃতীয়াংশ দখল করে নিয়েছিল। এর মধ্যে ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী মসুলও ছিল।