যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন কেন বড়দিন হিসেবে পরিচিত?

বড়দিন খ্রিস্টানদের প্রধান ধমীয় উৎসব ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption বড়দিন খ্রিস্টানদের প্রধান ধমীয় উৎসব

খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ক্রিসমাস। ২৫শে ডিসেম্বর যিশু খ্রিস্টের জন্মের দিনে এই উৎসবটি পালিত হয়।

কারণ খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যিশু খ্রিস্ট এদিনেই বেথলেহেম নগরীতে অলৌকিকভাবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের বিশ্বাস যিশু খ্রিস্ট মানুষের রূপ ধরে পৃথিবীতে এসেছিলেন সব পাপ থেকে মুক্তি দিতে আর মানবিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে।

তার এই আগমনকে স্মরণ করে খ্রিস্টানরা শ্রদ্ধা ভালোবাসায় বিশ্বব্যাপী তাকে স্মরণ করেন ও জাকজমকপূর্ণভাবে দিনটি উদযাপন করেন।

তবে বাঙালিদের কাছে এই দিনটির পরিচয় বড়দিন হিসেবে। এর কারণ কী?

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

বড়দিনের বিজ্ঞাপনে বিপুল খরচ কতটা কাজে লাগছে?

মেয়েটির জন্য ১৪ বছরের উপহার রেখে গেলেন মৃত্যুপথযাত্রী

যিশু: ইতিহাসের চোখে তাঁর আসল চেহারাটি কেমন

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption সিঙ্গাপুর বিমানবন্দরে ক্রিস্টমাস ট্রি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড: বিশ্বজিৎ ঘোষ বলছেন, "মর্যাদার দিক থেকে এটি একটি বড়দিন।"

"যিশু যেহেতু বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য ধর্ম ও দর্শন দিয়ে গেছেন, বিশ্বব্যাপী বিশাল অংশের মানুষ তার দেয়া ধর্ম ও দর্শনের অনুসারী। যিনি এতো বড় ধর্ম ও দর্শন দিলেন ২৫শে ডিসেম্বর তার জন্মদিন। সে কারণেই এটিকে বড়দিন হিসেবে বিবেচনা করে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ।"

মি. ঘোষ বলেন, আঠার ও উনিশ শতকে ইউরোপীয়রা এসে এ অঞ্চলে খ্রিস্ট ধর্ম প্রচার করে। যারা ধর্মটি গ্রহণ করেছেন তাদের কাছে এটি আরও মহিমান্বিত বিষয়।

"বাঙালি যারা খ্রিস্টান তাদের অধিকাংশই এই ধর্মে রুপান্তিরিত হয়েছেন। তারা ভাবেন যিশু এমন একজন যিনি তাকে ধর্ম দিয়েছেন। তাই তার জন্মদিনটাই তারা সব আবেগ দিয়ে পালন করেন। এ কারণেই দিনটি তাদের কাছে বড়দিন হিসেবে বিবেচিত।"

তার মতে বাঙালি সমাজে আঠার শতকের শেষের দিকে এই বড়দিন পালনের চর্চা শুরু হয়েছিলো।

এবং একই সময়ে এই অঞ্চলের মানুষ ইউরোপীয়দের অনুকরণে জন্মদিন পালনও শুরু করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
ইসলাম ধর্মে যিশু এবং মেরি

সম্পর্কিত বিষয়