নাগরিকত্ব আইন: ভারতে থাকা 'অবৈধ বাংলাদেশীদের' ফিরিয়ে আনা হবে?

লালমনিরহাটে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে একটি চেকপোস্ট ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption লালমনিরহাটে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে একটি চেকপোস্ট

জাতীয় নাগরিক-পঞ্জী এবং সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ভারত এখনো উত্তাল। এর ধাক্কা লেগেছে বাংলাদেশেও।

ভারতে যখন এসব উদ্যোগ নেয়া তখন সেটিকে বাংলাদেশের তরফ থেকে 'ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়' হিসেবে বর্ণনা করা হলেও নরেন্দ্র মোদী সরকারের এসব কাজ বাংলাদেশকেও প্রভাবিত করছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

গত প্রায় দুই মাস যাবৎ বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে মানুষ ঢুকছে। এর মধ্যে অন্যতম জায়গা হলো, ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত।

ঝিনাইদহের সাংবাদিক আব্দুর রহমান বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, নভেম্বর মাসের শুরু থেকে এখনো পর্যন্ত ৩৩০ জন বাংলাদেশে এসেছে।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

সীমান্তে অনুপ্রবেশ: ‘বাঙালিগে ধরায় দিচ্ছে, রাখতি চাচ্ছে না’

বিজিবি বলছে অনুপ্রবেশকারী, পুলিশ বলছে বাংলাদেশি

ভারত থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে কড়াকড়ি

বাংলাদেশের অবস্থান কী?

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সম্প্রতি দেশটির পার্লামেন্টে বলেছেন, বাংলাদেশে হিন্দু-বৌদ্ধরা নির্যাতিত হয়ে যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে তারাও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের সুবিধা পাবে।

এরপর গত ১০ ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিবিসি বাংলাকে বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে না। বরং তারা শান্তি এবং সম্প্রীতির সাথে বসবাস করছেন।

কিন্তু এর কিছুদিন পরেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন ভিন্ন কথা।

অমিত শাহের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে গত ২৩ শে ডিসেম্বর বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, "২০০১ সাল থেকে যে মাইনরিটি পারসিউকিউশন এদেশে হয়েছে, এটা কেবলমাত্র একাত্তরের বর্বরতার সাথেই তুলনীয়। কাজেই এখানে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার কোনো উপায় নেই"।

ছবির কপিরাইট THE FEDERAL
Image caption অবৈধ বাংলাদেশী সন্দেহে ব্যাঙ্গালোরে ধৃতদের কয়েকজন

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ভারত থেকে যারা আসবে বাংলাদেশ কি তাদের গ্রহণ করবে? বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কী?

পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বৃহস্পতিবার বিবিসি বাংলাকে বলেন, কোন বাংলাদেশি যদি অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করে এবং ভারত সরকার যদি বিষয়টি বাংলাদেশকে অবহিত করে, তাহলে আমরা যাচাই-বাছাই করে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অবশ্যই বাংলাদেশে ফেরত আনা হবে।

"আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখবো যে তারা আসলেই আমাদের নাগরিক কিনা। ইংল্যান্ডে যদি বাংলাদেশের নাগরিক অবৈধভাবে থাকে, আর ব্রিটিশ সরকার যদি আমাদের বলে, তাহলে আমরা যাচাই-বাছাই করে নিয়ে আসি।"

মি: মোমেন মনে করেন, কাজের সন্ধানে বাংলাদেশিরা ভারতে যায় না। কাজের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের জন্য ভারত কোন আকর্ষণীয় জায়গা নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। কাজের সন্ধানে ভারতে গিয়ে বাংলাদেশীরা সেখানে অবৈধভাবে বসবাস করার কোন তথ্য তার কাছে নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

"বাংলাদেশিরা ভারতে যায়না। ওরা যায় মিডল ইস্টে, আমেরিকায়, ইউরোপে। ভারত তাদের আকর্ষণ না। ভারতে যায় বেড়াতে, প্রায় ১৩-১৪ লক্ষ লোক ওখানে বেড়াতে যায়," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন মি: মোমেন।

Image caption বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন

ভারত থেকে যারা ঢুকেছে তাদের কী অবস্থা?

নভেম্বর মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত যারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, সীমান্ত-রক্ষীরা তাদের আটক করে থানায় সোপর্দ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এরপর পুলিশ তাদের আদালতে উপস্থাপন করেছে।

স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুর রহমান বলেন, আদালতে উপস্থাপন করার পর বেশিরভাগ জামিন নিয়ে তাদের আত্মীয়দের সাথে চলে গেছে।

ঝিনাইদহ পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে বলেন, যারা বাংলাদেশে এসেছে তাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হয়েছে এবং এরা বাংলাদেশের নাগরিক।

তিনি বলেন, যেহেতু বাংলাদেশে প্রবেশের সময় সীমান্তে ভ্রমণের জন্য তাদের কাছে কোন বৈধ কাগজপত্র ছিলনা সেজন্য তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে।

যারা জামিন পেয়েছেন তাদের উপর নজরদারি রয়েছে বলে দাবি করেন সে কর্মকর্তা।

সম্পর্কিত বিষয়