মোগাদিসুতে গাড়ি বোমায় নিহতের সংখ্যা ৭০ ছাড়িয়েছে

মোগাদিসুতে বিস্ফোরণে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া একটি গাড়ির ধ্বংসাবশেষ ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption মোগাদিসুতে বিস্ফোরণে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া একটি গাড়ির ধ্বংসাবশেষ

সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে এক শক্তিশালী গাড়ি বোমার বিস্ফোরণে ৭০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে।

শনিবার সকালে শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে কয়েকটি রাস্তার সংযোগস্থলে একটি চেকপয়েন্টে বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। নিহতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসহ বহু বেসামরিক লোক রয়েছে, আহতের সংখ্যাও পঞ্চাশের বেশি।

মদিনা হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহামেদ ইউসুফ বার্তা সংস্থা এপিকে বলেছেন, তিনি এ পর্যন্ত ৭৩টি মৃতদেহ পেয়েছেন, তবে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

এখন পর্যন্ত কেউ এ ঘটনার দায়িত্ব স্বীকার করে নি। তবে ইসলামপন্থী গোষ্ঠী আল-শাবাব রাজধানীতে প্রায়ই এ ধরণের আক্রমণ চালিয়ে থাকে।

যেখানে বিস্ফোরণটি ঘটে তার কাছেই ছিলেন জাকারিয়া আবদুকাদির। তিনি বলছেন, "আমি দেখেছি চারদিকে বহু মৃতদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। অনেকের দেহ এমনভাবে পুড়ে গেছে যে চেনার কোন উপায় নেই।"

বিবিসি বাংলায় আরো খবর:

কাবা অবরোধ: সৌদির ইতিহাস পাল্টে দেয়া ঘটনা

শব্দের চেয়ে বিশগুণ গতির মিসাইল মোতায়েন রাশিয়ার

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে নিন্দা প্রস্তাব পাশ

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption আহতদের একজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে

মোহামেদ আবদিরিজাক নামে একজন সোমালি এমপি বলেছেন, ওই আক্রমণে নিহতের সংখ্যা ৯০এরও বেশি - কিন্তু তার দেয়া এ সংখ্যা নিরপেক্ষ সূত্র থেকে নিশ্চিত করা যায় নি।

মোগাদিসুতে এখন যে সরকার রয়েছে তা জাতিসংঘ এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন-কর্তৃক স্বীকৃত, তবে গত ১০ বছর ধরেই আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠী আল-শাবাব এ সরকারকে উৎখাত করার জন্য সশস্ত্র বিদ্রোহী তৎপরতা চালিয়ে আসছে।

তাদেরকে ২০১১ সালে রাজধানী মোগাদিসু থেকে উৎখাত করা হয়, তবে এখনো সোমালিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এ মাসেই মোগাদিসুতে রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের কাছে জনপ্রিয় এমন একটি হোটেলে আক্রমণ চালিয়েছিল আল-শাবাব - যাতে ৫ জন লোক নিহত হয়।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption বিস্ফোরণের পর আতঙ্কিত এক মহিলা

আল-শাবাব এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আক্রমণটি চালিয়েছিল ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে। মোগাদিসুতে একটি বিস্ফোরক-ভর্তি ট্রাক দিয়ে চালানো আক্রমণে প্রায় ৬০০ লোক নিহত হয়েছিল। অতীতে দেখা গেছে, যেসব আক্রমণে জনগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল সেসব ক্ষেত্রে আল-শাবাব আক্রমণের দায়িত্ব স্বীকার করে নি - যেমন ২০০৯ সালে মেডিক্যাল ছাত্রদের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আত্মঘাতী হামলা।

সোমালিয়া ছাড়াও কেনিয়া ও উগান্ডার মতো পূর্ব আফ্রিকার অন্যান্য দেশেও আল-শাবাব হামলা চালিয়েছে।

সোমালিয়ায় ১৯৯১ সালে স্বৈরশাসক সিয়াদ বারে-কে উৎখাত করে বিভিন্ন গোষ্ঠীর সশস্ত্র সমরনায়করা, তবে এর পর থেকে তাদের নিজেদের মধ্যেই সংঘাত চলছে।

একটি উগ্র যুব-সংগঠন হিসেবে আল-শাবাবের উত্থান হয় ২০০৬ সালে, এবং তারা সৌদি-অনুপ্রাণিত ওয়াহাবি ইসলামের সমর্থক। অন্যদিকে সোমালিয়ার অধিকাংশ লোকই সুফি-মতাদর্শ অনুপ্রাণিত।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ঘটনাস্থলে রক্তমাখা একটি গাড়ি

আল-শাবাবের বর্তমানে সাত থেকে নয় হাজার যোদ্ধা আছে বলে মনে করা হয়। তারা তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় শরিয়া আইনের এক কঠোর সংস্করণ বাস্তবায়ন করে - যাতে ব্যভিচারের অভিযোগে মহিলাদের পাথর নিক্ষেপে হত্যা এবং চুরির দায়ে হাত কেটে দেবার কথা বলা হয়।

তাদের নেতার নাম আহমদ উমর, যাকে আবু-উবায়দা নামেও ডাকা হয়। তাকে ধরিয়ে দেবার জন্য তথ্য দেবার বিনিময়ে ৬০ লক্ষ ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বিভিন্ন সময় খবর বেরিয়েছে যে আল-শাবাবকে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিদেশী জিহাদিরা সোমালিয়ায় গেছে।

আল-শাবাবের সাথে আফ্রিকার অন্যান্য জঙ্গি গোষ্ঠীর সাথে যোগাযোগ আছে বলেও খবর পাওয়া গেছে - যার মধ্যে আছে নাইজেরিয়ার বোকো হারাম এবং সাহারা মরুভুমিতে সক্রিয় 'আল-কায়েদা ইন দি ইসলামিক মাগরেব'।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

'আমার প্রিয় বন্ধু, মোগাদিসুর প্রয়াত মেয়র'

সহিংস জিহাদের প্রতি আকর্ষণের পেছনে কী কাজ করে

কোন্ আদর্শ সামনে রেখে লড়ছে আল শাবাবের জঙ্গীরা?