ডাক্তারদের ভূতবিদ্যা শেখাচ্ছে ভারতের যে বিশ্ববিদ্যালয়

২০০৮ সালে মুম্বাই হাসপাতালে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন এক সার্জন (ফাইল ছবি) ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ২০০৮ সালে মুম্বাই হাসপাতালে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন এক সার্জন (ফাইল ছবি)

ভারতের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হচ্ছে ভূতবিদ্যা শেখানোর একটি সার্টিফিকেট কোর্স। যেখানে চিকিৎসকদের শেখানো হবে যে, যেসব রোগীরা দাবি করে যে তারা ভূত দেখেছেন বা তাদেরকে ভূতে ধরেছে সেসব রোগীদের কিভাবে চিকিৎসা সেবা দিতে হয়।

ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় শহর ভারানাসির বানারাস হিন্দু ইউনিভার্সিটিতে (বিএইচইউ) আগামী জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ছয় মাসের এই কোর্স।

কর্তৃপক্ষ বলছে, এই কোর্সে শারীরিক ও মানসিক বিষয়ক রোগ বা সাইকোসোম্যাটিক ডিসঅর্ডার সম্পর্কে পড়ানো হবে, যে রোগটিকে প্রায়ই অলৌকিক ঘটনা বা ভৌতিক ঘটনা বলে ভুল করা হয়।

এই কোর্সটি পরিচালনা করবে আয়ুর্বেদ অনুষদ। আয়ুর্বেদকে ওষুধ এবং আরোগ্য লাভের প্রাচীন হিন্দু ব্যবস্থা বলে মনে করা হয়।

বিএইচইউ-এর এক কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা আইএএনএস-কে জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূতবিদ্যা শেখানোর জন্য আলাদা একটি ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

"ভূত বিদ্যা মূলত সাইকোসোম্যাটিক ডিসঅর্ডার নিয়ে কাজ করবে যা আসলে অজানা কারণে হয়ে থাকে এবং এটি মন ও দেহের বিশেষ ধরণের অবস্থা", বলেন আয়ুর্বেদ অনুষদের ডিন ইয়ামিনি ভূষন ত্রিপাঠি।

তিনি আরো বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশে প্রথম এ ধরণের একটি কোর্স শেখানোর সুযোগ দিয়েছে, যা চিকিৎসকদের "ভূত বিষয়ক অসুস্থতায় আয়ুর্বেদ উপায়ে নিরাময়ের" সেবা দেয়া শেখাবে।

আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় সাধারণত হারবাল ওষুধের ব্যবহার, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, ম্যাসাজ বা মর্দন, শ্বাস-প্রশ্বাস-সহ নানা ধরণের ব্যায়াম অন্তর্ভুক্ত থাকে।

২০১৬ সালে ভারতের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব মেন্টাল হেলথ এন্ড নিউরোসায়েন্স (নিমহানস)-এর এক গবেষণার তথ্য মতে, ভারতের ১৪% মানুষের মানসিক সমস্যা রয়েছে।

আর ২০১৭ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, ২০% ভারতীয় জীবনের কোন না কোন পর্যায়ে অবসন্নতায় ভোগে।

কিন্তু ১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে মানসিক রোগের চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ৪ হাজার জনেরও কম এবং মানুষের মধ্যে এসব বিষয় নিয়ে তেমন কোন সচেতনতাও নেই।

আরো পড়তে পারেন:

সুইডেনের রাজপ্রাসাদে 'ভূত আছে' - বললেন রানী

'ভূত তাড়ানো'র নামে আগুনে পোড়ানো হলো এক নারীকে

ভূত সেজে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার

এছাড়া, সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার আশঙ্কায়, পেশাদার চিকিৎসকদের কাছ থেকে সহায়তা নেন খুব কম সংখ্যক ভারতীয়।

বিশেষ করে গ্রামীণ ও দরিদ্র এলাকায় মানসিক সমস্যার সমাধানে মানুষ সাধারণত ওঝা বা যাদুবিদ্যা চর্চা করে চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকে এমন চিকিৎসকদের কাছে যায়।

তবে সরকারের পরিচালনায় বিএইচইউ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূতবিদ্যা সম্পর্কিত কোর্স চালু হওয়ার খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরণের প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবহারকারীরা।

টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এদের অনেকেই বলেছেন যে, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ওষুধ এবং রিহ্যাব বা পুনর্বাসনই যথোপযুক্ত প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি।

অনেকে আবার এই কোর্সের নামকরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

বলছেন যে, এটার অন্য ধরণের নাম হতে পারতো।

এছাড়া অনেকে এই ঘোষণার উপহাস করেছেন এবং ভারত সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

বিবিসি বাংলার আরো খবর:

ব্যাংক থেকে দেদারসে ঋণ নিচ্ছে সরকার, পরিণতি কী?

ফোল্ডিং স্মার্টফোন কি জনপ্রিয় হবে?

ইন্টারনেটের অভাবে কীভাবে ডুবছে কাশ্মীরের অর্থনীতি