সোলেইমানি আর ইরান, ট্রাম্প আর আমেরিকা নিয়ে ক্ষোভ, আশংকা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনির পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি মনে করা হতো ৬২ বছর বয়সী সোলেইমানিকে। ছবির কপিরাইট AFP/GETTY
Image caption ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনির পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি মনে করা হতো ৬২ বছর বয়সী সোলেইমানিকে।

গত সপ্তাহে দেশ-বিদেশের মিডিয়ায় এবং সামাজিক মাধ্যমে একটি ঘটনার প্রভাব সব চেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায়। ইরানের শীর্ষ স্থানীয় সামরিক অফিসার জেনারেল কাসেম সোলেইমানি বাগদাদে মার্কিন হামলায় নিহত হবার পর ইরাকে আমেরিকার বিমান ঘাঁটিতে ইরানের হামলা।

এর মাঝেই ইরানের বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইউক্রেনের একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৭৬ জনের মৃত্যু।

অনেকেই আশংকা করেছিলেন এই হামলা-পাল্টা হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে হয়তো যুদ্ধই বেঁধে যাবে। কিন্তু সেটা আর হয়নি এবং সবাই উত্তেজনা কমিয়ে আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছে বলেই আপাতত মনে হচ্ছে।

যাই হোক, এই লম্বা ভূমিকা দেবার কারণ হচ্ছে, আজকের এডিটারস মেইলবক্স-এর একটি বড় অংশ জুড়ে আছে ইরান নিয়ে চিঠি। শুরুতে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের হামলার মাত্রা এবং ধরন দেখে এটি বলা যেতেই পারে, ইরান প্রকৃত অর্থেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গালে থাপ্পড় মেরেছে। বিশ্লেষকরা যেমনটা বলছেন, অর্থনৈতিক কারণে দুটি দেশই হয়তো বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে চাইছে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যা চরিত্র তাতে কি এটি নিশ্চিত করে বলা যেতে পারে, মিঃ ট্রাম্প ইরানের দেওয়া এই থাপ্পড় সহজে হজম করে নেবেন?''

Image caption ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে বিভিন্ন কারণে ইরানকে পছন্দ করেন না, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই মি. সরদার। সাম্প্রতিক উত্তেজনা সৃষ্টির আগেও তিনি পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসেছেন, ইরানের ওপর অত্যন্ত কড়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার জারি করেছেন, ইরানের নাগরিকদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করেছেন। কিন্তু একেবারে যুদ্ধ শুরু হোক, সেটা তিনিও সম্ভবত চান না। তাই ইরানের পাল্টা হামলার পরও নতুন কোন হামলা চালান নি।

এ'বিষয়ে একটি প্রশ্ন করে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বিবৃতিতে বলেছেন, তিনি ইরানকে কোন মতেই পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে দিবেন না। আমার প্রশ্ন, ট্রাম্প কী এটা থামাতে পারবেন এবং তার কী এ ক্ষমতা আছে?''

আমেরিকার প্রেসিডেন্টের একটি বড় অস্ত্র হচ্ছে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের অর্থনীতি গত দু'বছরে চরম বিপর্যয়ে পড়েছে। এমনকি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ভয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোও তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইরানের সাথে বাণিজ্য করতে পারছে না। কাজেই, ইরান যদি পারমানবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায়, তাহলে ট্রাম্প হয়তো সেটা থামাতে পারবে না, কিন্তু তখন তার অর্থনীতির যতটুক আছে সেটাও যাবে। প্রশ্ন হচ্ছে, ইরান কি সেই ঝুঁকি নেবে?

ছবির কপিরাইট EPA
Image caption ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি আর মানবেনা বলে জানিয়েছে ইরান

ইরাকে মার্কিন হামলায় ইরানী জেনারেল নিহত হবার খবর নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন রংপুরের মোহাম্মদ আবদুল্লা আল-মামুন, কিন্তু তিনি কি বিবিসির ওপর ক্ষুব্ধ, না কি অন্য কারো ওপর, তা ঠিক বুঝতে পারছি না:  

''বিবিসিতো কিছু হলেই হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কাছে দৌড়ায়। কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার পর সে রকম কিছু দেখা যাচ্ছে না কেন? নাকি হিউম্যান রাইটস ওয়াচ লুকায় আছে? নাকি তাদের ক্রিসমাস ছুটি এখনো শেষ হয় নাই? নাকি এটাকে বিচার বহির্ভূত হত্যা বলে মনে হচ্ছে না? নাকি ঐ কথা গুলো শুধু তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর জন্যই প্রযোজ্য?''

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কী ভাবছে না ভাবছে তার জবাব তো আর আমি দিতে পারবো না মি. আল-মামুন। আমি এটুকুই বলতে পারি, জেনারেল কাসেম সোলেইমানি হত্যা নিয়ে বিবিসি বাংলা বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে খবর এবং বিশ্লেষণ প্রচার করেছে। আশা করি সেগুলো আপনি শুনেছেন বা পড়েছেন।

বিষয়টিকে আরেক আঙ্গিকে দেখছেন রংপুরের পীরগঞ্জের মুশফিকুর রহমান ওলিউল্লাহ:

''বছরের গোড়াতেই যেভাবে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে মনে হয় বিশ্ব আবার বড় ধরনের ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে যাচ্ছে। সোলেইমানিকে হত্যা করার মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভীমরুলের চাকে খোঁচা দিয়েছেন।এই মুহূর্তে বিশ্ব মোড়লদের উচিৎ,আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমিত করা ।তা না হলে বিশ্ব তেলের বাজারে এর চরম প্রভাব পড়বে। ফলে রাজায় রাজায় যুদ্ধ হবে, কিন্তু প্রাণ যাবে উলুখাগড়ার।''

কথাটা ঠিকই বলেছেন মি. রহমান। যে কোন দেশে যুদ্ধে সব চেয়ে বেশি ক্ষতি হয় সাধারণ নাগরিকদের। যুদ্ধের আশংকা তো অবশ্যই ছিল, তবে আমরা দেখতে পেলাম আমেরিকা এবং ইরান, উভয় দেশের নেতারা উত্তেজনা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে।

এবারে ভিন্ন প্রসঙ্গ। বিগত দশকে সন্ত্রাস ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। সন্ত্রাস নিয়ে যে প্রতিবেদন এ'বছরের শুরুতে প্রচার করা হয়, তা নিয়ে মন্তব্য করে লিখেছেন নোয়াখালী থেকে অরবিন্দ দাস:

''অনেক জানা-অজানা ঘটনার মাঝে এমন কিছু ঘটনা থাকে যা ভাবতে গেলে শরীরে যেন কাটা বেঁধে উঠে। সন্ত্রাসবাদ এমন সব ভয়াবহ ঘটনার মাঝে অন্যতম। আর এই ভয়াবহ ঘটনা গুলো এমন ভাবে সাজিয়ে তুলে ধরা বিবিসি ছাড়া কোন সংবাদ মাধ্যমের পক্ষে সম্ভব কিনা আমার জানা নেই। গত এক দশকের সন্ত্রাসবাদ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদনটা এতই গুরুত্বপূর্ণ আর সেই সাথে এতই মর্মস্পর্শী ছিল, যে আমি আমি ওয়েবসাইটে গিয়ে কয়েক বার শুনেছি। আর প্রতিবারই শরীরটা শিহরিত হয়ে উঠেছে। জানিনা আগামী দশকে কী ঘটবে। তবে যেন এমন ভয়াবহ কোন ঘটনা না ঘটে সেই কামনা করি।''

আপনার সাথে আমি একমত মি. দাস, সন্ত্রাসের মত ভয়াবহ ঘটনা নতুন দশকে কমে যাবে, সবাই সেটাই আশা করবেন।

Image caption বুশ হাউসে ১৯৮৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যেতি বসুর সাক্ষাৎকার নেন শ্যামল লোধ। পাশে বিবিসি বাংলার তৎকালীন প্রধান জন রেনার।

আমাদের অনুষ্ঠান নিয়ে মজার প্রশ্ন করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাকামে মাহমুদ চৌধুরী:

''বিবিসি বাংলার অনুষ্ঠানগুলো একবারে ৩০ মিনিটের মধ্যেই কিভাবে শেষ করা হয়? কখনো কি এমন হয়েছে যে নির্ধারিত সময়ের চেয়েও বেশি সময় লেগেছে অথবা অনুষ্ঠান শেষ না হতেই এফ এম ব্যান্ড বন্ধ করা দেয়া হয়েছে?''

সেরকম যে একেবারেই হয় নি তা না মি. চৌধুরী। আমার নিজের কপালেই সেরকম ঘটেছিল একদিন, ১৯৯৯ সালে দুপুরের খবরের সময়। সেটার জন্য অফিসে আসতে হত ভোর সাড়ে পাঁচটায়। তখন নতুন ছিলাম, সময় মত ঘুম থেকে উঠতে পারিনি, দেরি করে এসে কোন মতে অনুষ্ঠান চালাতে গিয়ে সময় ওলট-পালট হয়ে গিয়েছিল। আমার কথা শেষ হবার আগেই অনুষ্ঠান শেষ। তবে এরকম দুর্ঘটনা বলতে গেলে ঘটেই না, কারণ প্রতিটা নিউজ, সাক্ষাৎকার, প্রতিবেদন মেপে মেপে করা হয়। এটা অভ্যাসের ব্যাপার।

Image caption বুশ হাউসের স্টুডিওতে সুনীল গাভাস্কারের সাক্ষা'কার নিচ্ছেন দীপঙ্কর ঘোষ।

বিবিসি শোনার অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন ত্রিপুরার সিপাহীজেলা থেকে হুমায়ুন মিঞা:

''আমি সেই নব্বইয়ের দশক থেকে বিবিসি বাংলা শুনি ।গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই আমার প্রিয় ক্রিকেট খেলার সঙ্গে পরিচয় লাভ করি এবং আমার প্রিয় জন্মভূমি ভারতবর্ষের ক্রিকেট দলের ম্যাচের খবর শোনার জন্য বিবিসি বাংলার খবর শুরু হলে রেডিও চালিয়ে কান পেতে বসে থাকতাম ।কিন্তু আপনাদের অন্যান্য খবর গুলোও আমার হৃদয়কে ছুঁয়ে যেত। সবশেষে আপনাদের বন্ধ করে দেওয়া বিজ্ঞানের আসরটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জগতের নিত্যনতুন খবরাখবর শুনতে আমার খুবই ভালো লাগত ।তাই অনুষ্ঠানটি পুনরায় চালু করার জন্য বিবিসি বাংলা কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ করছি।''

অনেক দিন থেকে আমাদের অনুষ্ঠান শুনছেন জেনে ভাল লাগলো হুমায়ুন মিঞা। বিজ্ঞানের আসর নতুন করে শুরু না করার সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি। তবে নতুন প্রযুক্তি বিষয়ে আমাদের টেলিভিশন অনুষ্ঠান ক্লিক আপনি দেখতে পাবেন বিবিসি নিউজ বাংলার ইউ টিউব চ্যানেলে।

এবারে আসা যাক আমাদের অনুষ্ঠানসূচীতে পরিবর্তন নিয়ে বিভিন্ন মতামতের বিষয়ে। সকালের প্রত্যুষা মিস করবেন বলে লিখেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইমরান হোসেন ফয়সাল:

''আপনাদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ, ও বিশেষ প্রতিবেদনগুলো আমার একাডেমিক জীবনে অনেক কাজে লেগেছে। তবে সম্প্রতি আপনারা যে প্রত্যুষা বন্ধের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন তা আসলে যৌক্তিক নয়। সকালে যে খবরটা আমরা পেতাম সেটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আরো গুরুত্ব বহন করে সংবাদপত্র পর্যালোচনা, সেটারও বা কী হবে।''

প্রত্যুষা আমরাও মিস করবো মি. হোসেন, তবে বৃহত্তর স্বার্থেই সেটা বন্ধ করতে হয়েছে। সংবাদপত্র পর্যালোচনা আসলেই সকালের জন্য উপযুক্ত অনুষ্ঠান, তাই দু:খের বিষয় প্রত্যুষার সাথে সেটাও হারিয়ে যাবে।

বিবিসির সম্প্রচার নীতির তীব্র সমালোচনা করে ঢাকার পূর্ব রাজাবাজার থেকে লিখেছেন আব্দুস সাত্তার মোল্লা:

''কয়েক বছর ধরে বিবিসি 'রেডিও-দরিদ্র' হয়ে গিয়ে সকালের অনুষ্ঠান 'প্রভাতী' এবং রাতের 'পরিক্রমা' বন্ধ করে দেয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় বিবিসি এখন অতিমাত্রায় 'ডিজিটাল' হয়ে যাচ্ছে-তাই 'রেডিও-দরিদ্র' থেকে বোধ হয় 'রেডিও-কাঙাল' হওয়ার পথে! বলা হচ্ছে সকালে পৃথিবীর বাঙালিরা তেমন রেডিও শোনেন না। জরিপটি কবে, কোথায় করা হয়েছে জানি না।

''তবে আমার জোর দাবি, শ্রোতাদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সকাল সাড়ে সাতটার অনুষ্ঠানটি 'প্রভাতী' নাম দিয়ে চালু রাখুন, রাজনীতিকদের মতো স্বৈরতান্ত্রিক হবেন না। সন্ধ্যা (প্রবাহ) ও রাতের (পরিক্রমা) মধ্যে শ্রোতা জরিপে যেটা বেশি ভোট পায়, সেটা রাখুন।''

সম্প্রচার কৌশল ভোটাভুটি করে ঠিক করা হয় না মি. মোল্লা। প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য কী এবং যাদের জন্য কনটেন্ট পরিবেশন করা হবে, তাদের মিডিয়া ব্যবহারের অভ্যাস কী, এই দুটি বিষয় সমন্বয় করেই কৌশল ঠিক করা হয়। আমরা কিন্তু কখনোই বলি নাই যে, পৃথিবীর সকল বাঙালি সকালে রেডিও শোনেন না। আমরা বলেছি বাংলাদেশের শ্রোতারা সকালের চেয়ে রাতে অনেক বেশি রেডিও শোনেন। ডিজিটাল যেহেতু ভবিষ্যতের মাধ্যম, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের পছন্দের মাধ্যম, সেজন্যই বিবিসি বিশ্বব্যাপী এই মাধ্যমের ওপর জোর দিচ্ছে।

ভিন্ন ভাবে প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা সেনানিবাস থেকে সোহেল হোসেন হৃদয়:

''আশ্চর্য হই এই ভেবে যে, বিবিসির শ্রোতা নাকি কমে যাচ্ছে/গেছে। তাহলে আমৱা যাৱা মেইল করি তাদেৱ ঠাঁই হয়না কেন প্রীতিভাজনেষূতে?''

সাধারণ শ্রোতা আর পত্রলেখকদের মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে মি. হোসেন। আমি আগেও বলেছি, আমাদের অধিকাংশ শ্রোতা কখনোই চিঠি লেখেন না। আমাদের শ্রোতা সংখ্যা বর্তমানে তিরিশ লক্ষ মত হবে। কিন্তু ক'জন চিঠি লেখেন? গোটা বছরে হাজার খানেক শ্রোতা লিখলেও লিখতে পারেন। প্রীতিভাজনেষুতে মাত্র ১০-১২টা চিঠির উত্তর দেয়া যায় এবং ১২-১৪টা চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যায়। কাজেই চিঠির সংখ্যা থেকে শ্রোতা সংখ্যা নির্ণয় করা একদম বোকামি হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে চিন্তিত হয়ে পরেছেন বাগেরহাটের মোহাম্মদ তৈমুর হুসাইন:

''খুবই আশ্চর্য হবার মত আবহাওয়ার সাথে পরিচিত হয়ে চলছি আমরা। গত বছরের মার্চ -এপ্রিল মাসে রেকর্ড পরিমাণ গরম পড়ে,এরপর বৃষ্টির মাএার আধিক্যের ফলে দুইবারের বেশি বন্যা হয়। আশ্চর্যের বিষয় এটাই যে, এ'বছরের জানুয়ারিতে গত ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং ফসলের জন্য ক্ষতিকর।

''আমার উদ্বেগের কারণ হল, যেখানে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমরা ক্রমেই ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। জলবায়ুর এই ক্রমবর্ধমান পরিবর্তন আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, আর আমাদের পরবর্তী প্রজন্মেরই বা ভবিষ্যৎ কি?''

বিশাল প্রশ্ন করেছেন মি. হুসাইন। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে একের পর এক বিশ্ব সম্মেলন হয়ে চলছে। মানুষের কারণেই যে এই পরিবর্তন হচ্ছে, সেটা মোটামুটি সবাই মেনে নিয়েছে, তবে ঐ কারণগুলো দূর করার জন্য যা করতে হবে তা নিয়ে চলছে দর কষাকষি।

সব শেষে একজন প্রবীণ শ্রোতার মৃত্যু সংবাদ দিয়ে লিখেছেন চাঁপাই নবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থেকে নুর মোহাম্মদ:

''সেপ্টেম্বর মাসের সাত তারিখে বিবিসি পাগল যে দাদাকে উদ্ধৃত করে বিবিসিকে একটি মেইল পাঠিয়ে ছিলাম সেই দাদা গত ৩১শে ডিসেম্বর মারা গেছেন। আসলে এই রকম বিবিসি পাগল লোক আমি কখনও দেখিনি। এই রকম লোকদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠানের আবদার করেছিলাম বিবিসির কাছে কোন ফল হয়নি।''

আপনার দাদা এবং একজন প্রবীণ শ্রোতার মৃত্যু সংবাদে আমরা সবাই শোকাহত মি. নুর মোহাম্মদ। তাঁদের শ্রোতাদের নিয়ে অনুষ্ঠান করার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও অনেক কিছুই করা হয়ে উঠে না। আপনাকে ধন্যবাদ।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

মুনির আহম্মদ, খুলনা।

মোহাম্মদ রেজাউল রহিম, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম।

মোহাম্মদ জামির হোসেন সজিব, বড় খোচাঁবাড়ী, ঠাকুরগাঁও।

মোহাম্মদ রাবিউল ইসলাম রাশেদ, ডিমলা, নীলফামারী।

রতন আহমেদ, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, ঢাকা।

এম নাজমুল হোসাইন, দৌলতপুর , কুষ্টিয়া

রিপন বিশ্বাস , ইয়াংপু, সাংহাই, চীন।

কাজী সারোয়ার হোসেন বিপু, মহাখালি, ঢাকা।

অমরেশ কুমার পাল, বাগমারা, রাজশাহী।

দিপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।

মাহবুবুর রহমান মামুন, দারিয়াপুর, গাইবান্ধা।

দেব প্রসাদ রায়, রংপুর।

মোহাম্মদ জুয়েল, দশমাইল, পঞ্চগড়।

শামীমউদ্দিন শ্যামল, ধানমন্ডি, ঢাকা।