প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান চার সপ্তাহের জামিন পেলেন

প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান ছবির কপিরাইট PROTHOM ALO
Image caption প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান

বাংলাদেশের বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের চার সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছে আদালত। ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজের ছাত্র আবরারের মৃত্যুর জেরে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল গত বৃহস্পতিবার।

একই অভিযোগে পরোয়ানাভূক্ত প্রথম আলোর সহযোগী প্রকাশনা কিশোর আলো'র সম্পাদক আনিসুল হক ও অপর চার জনকে মামলার অভিযোগ গঠন না করা পর্যন্ত গ্রেপ্তার এবং কোনো ধরনের হয়রানি না করার আদেশ দেয় আদালত।

মতিউর রহমান ও আনিসুল হকসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ছয়জনের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এ আদেশ দেয় হাইকোর্ট।

প্রথম আলোর পক্ষের একজন আইনজীবী বিবিসি বাংলার কাছে আদালতের এ আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে সোমবার পর্যন্ত তাদেরকে গ্রেপ্তার এবং কোনো ধরনের হয়রানি না করার আদেশ দিয়েছিল আদালত।

Image caption বাংলাদেশের বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো

গত পহেলা নভেম্বর ঢাকার রেসিডেনশিয়াল মডেল স্কুল ও কলেজে প্রথম আলোর কিশোর ম্যাগাজিন 'কিশোর আলো'র বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে ওই দুর্ঘটনা ঘটেছিলো।

ওই অনুষ্ঠান দেখতে গিয়েছিলো স্কুলটির নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নাঈমুল আবরার।

ঘটনার কয়েকদিন পর ৬ই নভেম্বর তার বাবা মজিবুর রহমান মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেন যাতে তার সন্তানকে অবহেলা জনিত হত্যার অভিযোগ আনেন প্রথম আলো সম্পাদকসহ অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির বিরুদ্ধে।

আরো পড়তে পারেন:

প্রথম আলো সম্পাদকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

'বিষয়টি যেন প্রথম আলোকে দেখে নেবার মতো না হয়'

গণমাধ্যম কতটা স্বাধীন? সাংবাদিক ও পাঠকের চোখে

বাংলাদেশে মফস্বল সাংবাদিকতা কতটা ঝুঁকির?

তবে মামলার আগে সরকারের একজন মন্ত্রী এ বিষয়ে মন্তব্য করার পর ৫ই নভেম্বর প্রথম আলোতে কিশোর আলো সম্পাদকের একটি বক্তব্য প্রকাশিত হয়।

তাতে কিশোর আলো সম্পাদক জানান যে, অনুষ্ঠানে প্রত্যেক দর্শনার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আয়োজকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ছিলো।

পুলিশ, র‍্যাব ও দুটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার কর্মীরা সেখানে ছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে, ১৬ই জানুয়ারি যাদের নামে পরোয়ানা জারির আদেশ হয়েছে তারা হলেন: প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক, কবির বকুল, শুভাশিস প্রামাণিক, মহিতুল আলম, শাহ পরাণ তুষার, জসীম উদ্দিন, মোশাররফ হোসেন, সুজন ও কামরুল হাওলাদার।