এডিটারস মেইলবক্স: রেডিও নিয়ে প্রতিক্রিয়া, ডিজিটাল নিয়ে প্রশ্ন

(বাঁ দিক থেকে) মিজান খান, সাবির মুস্তাফা, মানসী বড়ুয়া, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, জেসমিন আহমেদ।
Image caption বুশ হাউসে 'ফেলুদা': (বাঁ দিক থেকে) মিজান খান, সাবির মুস্তাফা, মানসী বড়ুয়া, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, জেসমিন আহমেদ।

সপ্তাহ দুয়েক আগে আমাদের অনুষ্ঠানসূচিতে পরিবর্তন আনার পরে তা নিয়ে বেশ কিছু প্রতিক্রিয়া হয়েছে। অনেকেই সকালের প্রত্যুষা বন্ধ হওয়াটা পছন্দ করছেন না। আবার অনেকে রাতের পরিক্রমা পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

আমাদের নতুন অনুষ্ঠানসূচি নিয়ে মন্তব্য করে লিখেছেন রাজশাহীর রানীবাজার থেকে হাসান মীর:

''আমার মতো যাদের অখণ্ড অবসর, শুয়ে-বসে সময় কাটে, তাদের জন্যে বিবিসি বাংলার নতুন সময়সূচী খুব উপকারে আসবে। এমনিতে সন্ধ্যার প্রবাহ আর রাতের পরিক্রমা তো আছেই, সেই সাথে সোম আর বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে প্রবাহ। মোটকথা সন্ধ্যা থেকে রাত এগারোটা পর্যন্ত আর কোন কাজ নেই, কেবল রেডিওর পেছনে লেগে থাকা।

''তবে শহরে থেকেও এই শীতকালে রাত সাড়ে- দশটা বেশ রাত বলেই মনে হচ্ছে। তা ছাড়া বয়সও হয়েছে। দেখা যাক, হয়তো আগের মতো অভ্যাস হয়ে যাবে।''

আশা করি শীতের রাতে চাদর গায়ে আরাম করে বসে পরিক্রমা উপভোগ করতে পারবেন হাসান মীর। তবে টেলিভিশনে বিবিসি প্রবাহ ছাড়াও প্রতি শনিবার সন্ধ্যা ছ'টায় চ্যানেল আইতেই আমাদের প্রযুক্তি বিষয়ক অনুষ্ঠান ক্লিক প্রচারিত হচ্ছে। আশা করি সেটা দেখেও তার পরিবেশনা-উপস্থাপনা নিয়ে মন্তব্য করবেন।

Image caption নব্বই দশকের বাংলা বিভাগ: (পেছনের সারি) উর্মি রহমান, পিটার ম্যানগোল্ড (তৎকালীন প্রধান), নুরুল ইসলাম। (সামনের সারি) মানসী বড়ুয়া, সারণি ঠাকুর, শামীম চৌধুরী।

প্রথমবারের মত আমাদের চিঠি লিখেছেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন:

''সেই ২০০৫ বা ২০০৬ থেকে বাবার রেডিওতে শর্টওয়েভে আপনাদের অনুষ্ঠান শোনা। প্রভাতী, পরে প্রত্যুষা এবং প্রবাহ খুব নিয়মিত শুনতাম। পরিক্রমা মিস হয়ে যেত, কারণ গ্রামে থাকতাম আর ছোট ছিলাম বলে তাড়াতাড়ি ঘুমাতাম। কিন্তু চাকরি শুরু করার পর থেকে গত দু'তিন বছর আমি রেডিও অনুষ্ঠান মাঝে-মধ্যে মিস করেছি। এখন খুব ভালো লাগছে যে, কর্মব্যস্ততা শেষে এখন আপনাদের শুনতে পাব, যেহেতু পরিক্রমা আবার চালু হয়েছে।''

পরিক্রমা পুনরায় চালু হবার ফলে আবার আপনি বিবিসি শুনতে পাবেন জেনে ভাল লাগলো মি. সেলিম উদ্দিন। আশা করছি আপনার মত আরো অনেক শ্রোতা পরিক্রমার মাধ্যমে আবার বিবিসি শুনতে শুরু করবেন।

পরিক্রমায় খেলাধুলার নতুন ফিচারের প্রথম পর্ব শুনে মন্তব্য করে লিখেছেন ব্রাক্ষণবাড়ীয়ার নাসিরনগর থেকে মোহাম্মদ সাব্বির আহমেদ:

''যখন থেকে ঘোষণা শুনলাম যে খেলাধুলার ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান প্রচারিত হবে প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবারে, তাও আবার আমার রায়হান মাসুদ এবং ফয়সাল তিতুমীরের উপস্থাপনায়, তখন খুব আগ্রহ নিয়ে শুনলাম। কিন্তু ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানটি শুধু বিপিএল নিয়েই আলোচনা করলো। এটা ঠিক কেমন ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান হল বুঝলাম না।''

আপনি ঠিকই বলেছেন মি. আহমেদ, একটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে দু'একটি বিষয় থাকতে হয়। তবে প্রথমটি যেহেতু বিপিএল-এর ফাইনালের আগের দিন পরে গিয়েছিল, তাই পুরো অনুষ্ঠানটিই ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়েই করা হল। তবে আমরা অনুষ্ঠানটি গতানুগতিক ম্যাগাজিন থেকে একটু ভিন্ন রাখতে চাইছি, যেখানে দু'জন উপস্থাপকের ভূমিকা থাকবে মুখ্য।

Image caption খেলা-ধুলায় আড্ডাবাজী: ফয়সাল তিতুমীর (বাঁয়ে) এবং রায়হান মাসুদ নতুন ফিচারের যৌথ উপস্থাপক।

এবার ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। সম্প্রতি বাংলাদেশে একাধিক ধর্ষণের ঘটনা ঘিরে যে আলোচনা হচ্ছে,তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন ঢাকার তানজিলুর রহমান:

''ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড যাতে হয় তা নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। যদি এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হয় তাহলে যে ধর্ষক, সে কি একই সাথে খুনি হয়ে যাবেনা? খুনের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কিন্তু তাই বলে কি খুন কম হয়? আমার ভয় হয় এতে ধর্ষণের ঘটনা যত না কমবে, তার চেয়ে ধর্ষণ এবং খুন বেড়ে যেতে পারে। ধর্ষণের ফলে মানসিক মৃত্যুর কথা বলা হয় কিন্তু মৃত্যুদণ্ড করলে এর সাথে শারীরিক মৃত্যু যোগ হওয়ার বেশ সম্ভাবনা আছে।''

আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে আপনি আশংকা করছেন ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হলে ধর্ষক তার ভিকটিমকে খুনই করে ফেলতে পারে। সেটা হতে পারে, বিশেষ করে ধর্ষক যদি মনে করে ভিকটিম তাকে চিনে ফেলেছে। অন্যদিকে, মৃত্যুদণ্ডের বিধান নিয়েই একটা বিতর্ক আছে, এবং বিতর্কটা হচ্ছে যে, কোনো অপরাধের জন্যই মৃত্যুদণ্ড রাখা উচিত কি না। বিশেষ করে যেহেতু, মৃত্যুদণ্ডর বিধান রেখে কোনো দেশে অপরাধ কমানো আদৌ সম্ভব হয়েছে কি না, তা নিয়েই সন্দেহ আছে।

ছবির কপিরাইট DAVE CHAN
Image caption দাড়ি রেখেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর দাড়ি গজানো নিয়ে আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি খবর পড়ে মন্তব্য করেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''আসলে দাড়ি রাখা মানুষের জন্য যুগে যুগে একদিকে যেমন ফ্যাশন, ঠিক তেমনিভাবে এটি একটি ধর্মীয় বিশ্বাসের রীতিনীতি। তবে বিজ্ঞান গবেষণার সাময়িকী Journal of Hospital of Infection দেখা যায় দাড়ি রাখলে ত্বকে Infection তিন ভাগের এক ভাগ কমে যায়। অর্থাৎ যারা শেভ করে তাদের ত্বকে দাড়ি ওয়ালাদের চেয়ে তিনগুণ বেশি ব্যাকটেরিয়া জন্মায়।''

দাড়ি নিয়ে কিন্তু বিতর্ক কম নেই মি. রহমান। জীবাণু সম্পর্কে আপনি যে কথা বলছেন, সেটা নিয়ে ২০১৬ সালের ২২শে জানুয়ারি আমাদের একটি প্রতিবেদন ছিল। কিন্তু গত বছরের ২৪শে এপ্রিল সুইৎজারল্যান্ডের একটি ক্লিনিকের গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিটি মানুষের দাড়িতে উঁচু পরিমাণে ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে। তবে হ্যাঁ, আমরা দেখতে পাই কোন না কোন কারণে, বৌদ্ধ ধর্ম ছাড়া বিশ্বের সকল ধর্মের লোকজন, যেমন ইসলাম, খ্রিষ্ট ধর্ম, ইহুদী ধর্ম এবং সনাতনী হিন্দু ধর্মে দাড়ি রাখার চলন আছে।

ছবির কপিরাইট PRAKASH MATHEMA
Image caption ধর্মীয় আবেগে দাড়ি: কাঠমান্ডুর হনুমান ঢোকায় দু'জন হিন্দু সাধু।

এবার নতুন একজন পত্রলেখকের চিঠি। নতুন পত্রলেখক বলতে বোঝাচ্ছি, এই প্রথম তিনি বিবিসি বাংলায় চিঠি লিখেছেন। ঠাকুরগাঁও এর পীরগঞ্জ থেকে মীর রিপন আলী:

''বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনগুলো অনুসন্ধানী এবং বিশ্লেষণধর্মী হয়ে থাকে যা আমার খুবই ভালো লাগে। এছাড়াও আমি বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের এর 'Hardtalk', 'Witness History', 'Health Check', 'The Why Factor', 'People Fixing the World' অনুষ্ঠান গুলোর অনেক বড় ভক্ত। আমি মনে মনে ভাবি এসব অনুষ্ঠানে যারা শোনে না, তাদের জন্য বিবিসি বাংলা যদি বাংলায় পরিবেশন করত তাহলে অনেকেই উপকৃত হতে পারত।

''তাছাড়া আমরা যারা রেডিও নিয়ে বসে না থেকে স্মার্ট ফোন আর ল্যাপটপ নিয়ে থাকি, তাদের কাছে পৌঁছানোর জন্য বিবিসির চেষ্টা যথেষ্ট নয়। ডিজিটাল প্লাটফর্মে বিবিসির আরও সক্রিয় হওয়া উচিত।বিবিসির রেডিওর পাশাপাশি টেলিভিশনের দিকে আরও নজর দেওয়া উচিত। তাছাড়া অনলাইন, ফেসবুক, ইউটিউব, এ ও সক্রিয় ভূমিকা রাখা উচিত।''

আমি আপনার সাথে শতভাগ একমত মি. আলী। আপনি যে অনুষ্ঠানগুলোর কথা বললেন, তার মধ্যে Witness History আমরা ইতোমধ্যে রেডিও এবং অনলাইনে প্রচার করছি। অন্যান্য গুলো নিয়েও আমাদের ভাবনা আছে। আর ডিজিটাল মাধ্যম নিয়ে যা বলছেন, সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কথা। বর্তমানে আমাদের পুরো স্ট্রাটেজি হচ্ছে বিবিসি বাংলাকে ডিজিটাল যুগের জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তোলা। সেজন্য আমরা ক্রমশ ভিডিওর ওপর জোর দিচ্ছি।

আমাদের ডিজিটাল পরিবেশনা নিয়ে আরেকটি চিঠি, লিখেছেন পঞ্চগড়ের বড় শশী থেকে মোহাম্মদ উজ্জ্বল ইসলাম:

''আমি দীর্ঘদিন ধরে একটি বিষয় লক্ষ করে দেখছি, ফেসবুকে দৈনিক যতগুলো নিউজ আপডেট করেন,তাঁর অর্ধেকেরও কম নিউজ আপডেট করেন ওয়েবসাইটে।,শুধু একটা মাধ্যমে জোরদার করলে হবে, নাকি বিবিসি নিউজ বাংলার সকল ডিজিটাল মাধ্যম জোরদার করতে হবে?''

আপনি ভাল প্রশ্ন তুলেছেন মি. ইসলাম। শুধু একটি মাধ্যম জোরদার করলে হবে না, সেটা সঠিক কথা। তবে ফেসবুকে আমাদের পোস্ট ওয়েবসাইট থেকে বেশিই থাকবে, কারণ সেখানে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট দেয়া হয়, যেগুলো ওয়েবসাইটের জন্য সব সময় উপযুক্ত না। আপনি হয়তো খেয়াল করে থাকবেন, ইদানীং আমরা ভিডিওর ওপর জোর দিচ্ছি এবং আমাদের ইউটিউব চ্যানেলকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছি।

ফিরে যাচ্ছি অনুষ্ঠানসূচি পরিবর্তনের বিষয়ে। নতুন করে পরিক্রমা কেমন হবে, তা নিয়ে সন্দেহ ছিল খুলনার মুকুল সরদারের। কিন্তু এখন তিনি অনুষ্ঠানসূচীতে পরিবর্তনকে ইতিবাচক মনে করছেন:

''নতুন সাজে ফিরে আসা পরিক্রমায় বেশ কিছু নতুন ফিচার যেমন পেয়েছি তেমনি পুরানো কয়েকটি ফিচারও রয়েছে। শ্রোতাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে ফোন-ইন অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ রাখার উদ্যোগটিও বেশ ভালো। আর বর্ধিত কলেবরে ফিরে আসা প্রীতিভাজনেষুর প্রথম পর্বে মেইলের পাশাপাশি তিন জন শ্রোতার সাক্ষাৎকার শুনলাম। নিয়মিত না হলেও প্রীতিভাজনেষুতে মাঝে-মধ্যে শ্রোতাদের সাক্ষাৎকার থাকলে খারাপ লাগবে না। প্রবাহে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দিনের আলোচিত ঘটনা গুলি তুলে আনার উদ্যোগটিও প্রশংসার দাবি রাখে।''

অনুষ্ঠান ভাল লেগেছে বলে আমাদেরও ভাল লাগলো মি. সরদার। রেডিও অনুষ্ঠানে আপনার সাক্ষাৎকারটিও বেশ ভালই হয়েছিল।

তবে টেলিফোনে মন্তব্য নেয়ার বিষয়টি পছন্দ হয়নি বলে জানিয়েছেন টাঙ্গাইল সরকারি ম্যাটস থেকে বিলকিস আক্তার:

''নতুন আঙ্গিকে বর্ধিত কলেবরে প্রীতিভাজনেষুর প্রথম পর্ব শুনে যতটা আনন্দিত হয়েছি, তার চেয়েও বেশি বিস্মিত হয়েছি! কারণ প্রীতিভাজনেষু মূলত শ্রোতাদের চিঠিপত্র বা মেইলের জবাবদানমূলক অনুষ্ঠান; কিন্তু এতে কি করে গত ১৫ জানুয়ারি তারিখে শ্রোতাদের এতগুলো ফোন রেকর্ড স্থান পেল? চিঠি বা মেইলের একটা আলাদা আবেদন বা আকর্ষণ আছে। এর মাঝে ফোন রেকর্ড ঢুকিয়ে পড়াটা আমার কাছে সাংঘর্ষিকই লাগে এবং যা অনুষ্ঠানের মানও ক্ষুণ্ণ করে কিনা জানিনা। তারপরও যদি তা করতে চান, তবে সকল শ্রোতাকে জানিয়েই তা করবেন, চুপি চুপি নয়!''

এটাতো রেডিও অনুষ্ঠান মিস আক্তার, এখানে কোন কিছু চুপি-চুপি করার কোন সুযোগই নাই! তবে হ্যাঁ, অনুষ্ঠানে যে শ্রোতাদের নিজ কণ্ঠে মন্তব্য নেয়া হবে সেটা আগে ঘোষণা দেয়া হয় নাই। কিন্তু মাঝে-মধ্যে কিছু সারপ্রাইজ দিলে ক্ষতি কী? তাছাড়া, এক সময় প্রীতিভাজনেষুতে শ্রোতাদের সাক্ষাৎকার নেয়া হত, কাজেই বলতে পারেন আগের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। যাই হোক, বিরোধিতা সত্ত্বেও রেডিও অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

আমাদের শ্রোতা জরিপ নিয়ে প্রশ্ন তুলে লিখেছেন গাইবান্ধার দারিয়াপুর থেকে মাহবুবুর রহমান মামুন:

''আপনারা যে জরিপের কথা বলেন সেটা মানুষের রেডিও শোনার চাহিদাকে পর্যালোচনা করে। শুধুমাত্র বিবিসি শুনে কতজন সেটা জরিপে নির্ণয় করা হয় না।সকালের রেডিও শ্রোতা কমে গেছে বলে সকালের বিবিসি পাগল শ্রোতাও যে নেই এমনটা কিন্তু নয়।

''যদি আপনারা নিজেরাই সরাসরি শ্রোতা জরিপ করেন তাহলে মোট বিবিসি পাগল শ্রোতাদের কত ভাগ সকালে আর কত ভাগ রাত্রে বিবিসি শুনে সেটা নির্ণয় করা সম্ভব হবে। হয়তো সকালে রেডিও শ্রোতা কমে গেছে, তাই বলে এতটাও কমেনি যে রেডিও অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হবে।''

বিবিসি কখনোই শুধু বিবিসির শ্রোতাদের নিয়ে জরিপ করে না মি. রহমান। সেরকম জরিপে রেডিও বাজার সম্পর্কে বিকৃত তথ্য চলে আসতে পারে। অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও আমাদের সকল জরিপের উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশে রেডিওর সার্বিক চিত্র পাওয়া এবং এর মধ্যে বিবিসির অবস্থান খুঁজে নেওয়া। তবে নিরপেক্ষতার স্বার্থে জরিপগুলো বিবিসি নিজে করে না, কিন্তু ভিন্ন কোম্পানির জরিপে প্রশ্ন দিয়ে অংশ নেয়।

সব শেষে, ছোট প্রশ্ন করেছেন খুলনার পাইকগাছা থেকে আরিফুল ইসলাম:

''অনেক ছাত্র ছাত্রী নিয়মিত বিবিসি বাংলার প্রোগ্রাম শুনে থাকে। এদের শিক্ষা জীবনে বিবিসি বাংলা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?''

এই প্রশ্নের সব চেয়ে ভাল জবাব দিতে পারবেন ঐ শিক্ষার্থীরাই, যারা নিয়মিত আমাদের অনুষ্ঠান শোনেন। তবে আমি এটুকু বলতে পারি, যাদের জন্য বিশ্বের ঘটনাবলী যানা এবং বোঝা প্রয়োজন, তারা অনেকাংশে উপকৃত হচ্ছেন আমাদের মনে হয়।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক।

ঢাকার লক্ষ্মীবাজার থেকে জাহিন মুমতাহিনাহ

ভারতের কলকাতা থেকে সাবের আরী মণ্ডল

সাতক্ষিরা কলেজ থেকে রাজিব হুসাইন রাজু।

লালমনিরহাটের সুকানদিঘি থেকে আহসান হাবিব রাজু

রংপুর থেকে দেব প্রসাদ রায়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা থেকে আজিজুল ইসলাম।

ঢাকার ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ডঃ সাদিদ মুনীর

নোয়াখালী থেকে অরবিন্দ দাস

ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মাহবুবা ফেরদৌসি হ্যাপি

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থেকে দীপক চক্রবর্তী।

পটুয়াখালীর মৌকরন থেকে শাহিন তালুকদার

সম্পর্কিত বিষয়