সীমান্তে বিএসএফ-এর গুলিতে গত দুইদিনে পাঁচ বাংলাদেশি নিহত

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, ২০১৯ সালে সীমান্তে হত্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, ২০১৯ সালে সীমান্তে হত্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

বাংলাদেশের সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে গত দুইদিনে অন্তত পাঁচজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভোরে উত্তরাঞ্চলীয় নওগাঁর পোরশা উপজেলার দুয়ারপাল সীমান্তে গোলাগুলিতে ওই তিনজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি।

এতে আরও তিনজন বাংলাদেশি আহত হয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে। তারা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।

পুরো ঘটনার খতিয়ে দেখে বিজিবি পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন বিজিবির একজন ক্যাম্প কমান্ডার মোখলেসুর রহমান।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে এতো প্রাণহানি কেন?

জানা যায়, আজ ভোরের দিকে ২০/২৫ জন বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ী ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফিরছিল।

এ সময় ভারতীয় সীমান্তে কেদারিপাড়া ক্যাম্পের বিএসএফ জওয়ানরা তাদেরকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে।

এতে ভারতীয় সীমান্তের ভেতরেই তিন জন নিহত হন।

স্থানীয়রা দাবি করছেন তারা গরু ব্যবসার সাথে জড়িত।

তবে বিএসএফ বিভিন্ন সময়ে বলেছে, সীমান্তে নানা সময়ে যারা গুলিতে নিহত হয়, মূলত তারা গরু পাচার ও চোরাকারবারের সাথে জড়িত থাকে।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের টহল

এর আগে গতকাল, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে বিএসএফ'এর গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

বুধবার ভোরে ভারত থেকে গরু নিয়ে ফেরার পথে উপজেলার বনচৌকি সীমান্তের কাছে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন লালমনিরহাট -১৫ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম তৌহিদুল আলম।

এই ঘটনায় প্রতিবাদপত্র পাঠিয়ে বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।

গত এক বছরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে দেশটির সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিএসএফ'র হাতে বাংলাদেশিদের প্রাণহানির সংখ্যা তিন গুন বেড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের আইন ও সালিশ কেন্দ্র।

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি সংবাদপত্রের তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করে সংস্থাটি।

ওই প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ২০১৯ সালে ভারতের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী- বিএসএফ'র হাতে প্রাণ হারিয়েছে ৩৮ জন বাংলাদেশি। এরমধ্যে ৩৩ জন গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে এবং বাকি ৫ জনকে নির্যাতন করে মারা হয়েছে।

অথচ এর এক বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালে সীমান্তে এমন প্রাণহানির সংখ্যা ছিল ১৪ জন। সে হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে প্রাণহানির সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়