এডিটারস মেইলবক্স: চীন থেকে ফিরে আসার আকুল আবেদন বাংলাদেশিদের

চীনের উহান শহরে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ৩১৬ জনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বিশেষ বিমানে। ছবির কপিরাইট NurPhoto
Image caption চীনের উহান শহরে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ৩১৬ জনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বিশেষ বিমানে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে চীনা কর্তৃপক্ষ নানাধরনের উদ্যোগ নিলেও আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এই মেইলবক্স লেখার সময় মৃতের সংখ্যা পাঁচশোয় পৌঁছেছে। চীনের ভেতরে আক্রান্তের সংখ্যা ২৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। চীনের সীমানা ছাড়িয়ে অন্যান্য দেশেও মানুষের এই ভাইরাসে আক্রান্ত হবার খবর আসছে। এই ভাইরাস নিয়ে অনেক উদ্বেগ ও প্রশ্ন রয়েছে আমাদের অনেক শ্রোতার।

এই ভাইরাস নিয়ে বিশ্বব্যাপী মানুষ আতঙ্কে দিন পার করছে মন্তব্য করে লিখেছেন বাগেরহাট থেকে মোঃ তৈমুর হুসাইন:

''বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ভাইরাসের আক্রমণের কোন খবর নেই তবুও আশংঙ্কা কাটছে না। এর মাঝেই বিবিসির চায়না বিভাগের সংবাদদাতার উহান পর্যবেক্ষণের ভিডিওটি দেখে আমি স্তম্ভিত হয়ে গেছি। একাধিকবার দেখেছি, নিজের ভিতর একটা চাপা কষ্ট বয়ে যাচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে এটা কোন শহর নয় কোন যুদ্ধ বিধ্বস্ত পরিত্যক্ত নগরী।

''কীভাবে দিন পার করছে উহানের মানুষ? সবাই যেন নিঃশব্দে মৃত্যুর প্রহর গুনছে। বিশ্ব কি এভাবে শুধু চেয়ে চয়ে মৃত্যুর মিছিল দেখবে? নাকি কোন উপায় বের করা যাবে?''

একইধরনের প্রশ্ন করেছেন আরেকজন শ্রোতা। কিন্তু তার আগে পড়ে শোনাই উহানের কাছের একটি শহর থেকে রোববার বিবিসি বাংলাকে ইমেলে লেখা এক শ্রোতার চিঠি। তাহলে হয়ত কিছুটা ধারণা পাওয়া যাবে কীভাবে দিন কাটাচ্ছেন সেখানকার বাসিন্দারা ।

লিখেছেন চায়না থ্রি গর্জেস ইউনিভার্সিটি থেকে ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশানের প্রেসিডেন্ট শহিদুল ইসলাম:

''চীন থেকে দেশে ফিরতে চাই। আমরা এখনও ১৭২ জন বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রী চীনের হুবেই প্রভিন্সের ইচ্যাং সিটিতে আটকে আছি৷ এটা উহান থেকে খুব কাছে হওয়ায় আমরা রেড জোনে আটকা পড়ে আছি। এখানকার অবস্থা খুব ভয়াবহ। ইণ্ডিয়া, মরক্কো, ইথিওপিয়া সহ অনেকগুলো দেশের ছাত্রছাত্রীদের ওদের সরকার নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে একটা নিউজ করুন দয়া করে। আজ ১১ দিন হল আমাদের ডরমেটরি সিল করা। খাবার পানি নেই । পর্যাপ্ত খাবার নেই৷ এই দিকে পরিস্থিতি প্রতিদিন ভয়াবহ হচ্ছে ৷ মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের দেশে ফিরিয়ে নেয়ার একটা ভরসা দিয়েছেন।''

মি. ইসলাম- আমাদের এই বেতার অনুষ্ঠান আপনাদের কাছে এই মুহূর্তে পৌঁছচ্ছে কিনা জানিনা। কিন্তু এই ভাইরাসের সংক্রমণ চীনের সীমানা ছাড়িয়ে এখন বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। জানিনা ইতোমধ্যে আপনারা বাংলাদেশে ফিরতে পেরেছেন কিনা। আমরা আশা করব না পেরে থাকলে শিগগিরি অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়ে আপনারা নিরাপদে বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন।

ছবির কপিরাইট BSIP
Image caption করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আরও কতটা ব্যাপকভাবে ছড়াতে পারে এবং কত মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারে তা নিয়ে চিন্তিত বিশেষজ্ঞরা।

এই ভাইরাস প্রতিরোধ নিয়ে প্রশ্ন করেছেন রংপুর থেকে দেবপ্রসাদ রায়:

''সম্প্রতি চীনে যেভাবে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে এতে গোটা বিশ্ব আতঙ্কিত। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, বিজ্ঞানীরা এর অস্তিত্ব এখন পর্যন্ত আবিষ্কার করতে পারেনি। নেই কোন ভ্যাকসিন। বিবিসি'র খবরে বলা হয়েছে, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছে এবং আশঙ্কা করছে ভাইরাসটি মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাহলে কি বিশ্বের বিজ্ঞানীরা করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারে ব্যর্থ হবে?''

মি. রায়- এত সহজে হাল ছেড়ে দেবেন না। এই করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পর বিশ্বের বিজ্ঞানীরা উঠে পড়ে লেগেছেন যত দ্রুত সম্ভব এর প্রতিরোধী টিকা আবিষ্কারের জন্য। চীনা কর্মকর্তারা খুবই দ্রুত এই ভাইরাসের জেনেটিক গঠন প্রকাশ করেছে এবং এর থেকে বিজ্ঞানীরা বের করার চেষ্টা করছেন এই ভাইরাস কোথা থেকে এল, কীভাবে এটা রূপান্তরিত হতে পারে এবং এর মোকাবেলায় কীধরনের টিকা প্রয়োজন।

যতদূর জানা গেছে ক্যালিফোর্নিয়ায় স্যান ডিয়েগোর এক গবেষণাগারে স্কটিশ একজন বিজ্ঞানীর নেতৃত্বে একদল গবেষক উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে রেকর্ড সময়ে একটা ভ্যাকসিন তৈরির কাজ করছেন। তারা আশা করছেন ৬ থেকে ৮মাসের মধ্যে একটা কার্যকর টিকা তৈরি সম্ভব হবে, এবং সেটা হলে এটা হবে ইতিহাসে নজিরবিহীন সময়ে কোনো টিকার উদ্ভাবন।

করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরির ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা কতদূর এগিয়েছেন এ নিয়ে প্রতিবেদন পড়তে চাইলে এখানে ক্লিক করুন

পঞ্চগড়ের বোদা থেকে আমাদের পরিবর্তিত অনুষ্ঠান নিয়ে লিখেছেন রতন রঞ্জন রায়:

''সকালের অনুষ্ঠান প্রত্যুষায় সংবাদপত্র পর্যালোচনা বন্ধ হলেও ভাল লাগছে সন্ধ্যার অনুষ্ঠান পরিক্রমায় নতুন সংযোজন সোশাল মিডিয়া আপডেট। যেখানে থাকছে সারা দিনের আলোচিত বা ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন খবরের আপডেট ফেসবুক সহ বিভিন্ন সোশাল মিডিয়ায় কীধরনের ঝড় তুলেছে।ধন্যবাদ বিবিসি বাংলাকে যুগোপযোগী অনুষ্ঠান প্রচারের জন্য।''

অনেকটা একই অভিমত বিজয় একাত্তর হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযয়ের মো. সাব্বির হোসেনের:

''জানুয়ারি মাসের বারো তারিখ থেকে প্রত্যুষা অনুষ্ঠান বাদ দেওয়ায় বড় ব্যথা পেয়েছিলাম এই ভেবে যে, প্রত্যুষায় প্রচারিত সবচেয়ে জনপ্রিয় "সংবাদপত্র পর্যালোচনা" হারাতে যাচ্ছি। কেননা একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে আট-দশটা পত্রিকা পড়া সম্ভব নয়। প্রত্যুষার বদৌলতে আমরা দৈনিক জাতীয় পত্রিকার প্রধান খবর জানা সহ বিবিসি বাংলা'র বাইরের সংবাদ মাধ্যম গুলোর খবর জানতে পারতাম।

''তবে,নতুন আঙ্গিকে শুরু হওয়া প্রবাহে ফয়সাল তিতুমিরের সঞ্চালনায় ''সোশাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং'' বিষয়টিতে প্রত্যুষার ''সংবাদপত্র পর্যালোচনা''র একটু স্বাদ পাচ্ছি। সবচেয়ে বড় পাওয়া সংবাদের পশ্চাতে সাধারণ জনতার অভিমত। কেননা দেশের বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন লোকজন কী চিন্তা করছে তার পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে। তাই বিবিসি বাংলার সম্পাদকের কাছে অনুরোধ ''সোশাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং'' পর্বটির সময় কমপক্ষে পাঁচ মিনিট বরাদ্দ করুন।''

সোশালমিডিয়া আপডেট আপনার ভাল লাগছে জেনে আমাদেরও ভাল লাগল। মি. হোসেন আপনার অনুরোধ মাথায় রাখব।

Image caption রাজশাহীতে বিবিসি বাংলার এক শ্রোতা সম্মেলনে শ্রোতা হাসান মীর। (২০১১)

আমাদের দীর্ঘদিনের শ্রোতা রানীবাজার, রাজশাহী থেকে হাসান মীর টেলিফোনে বলছিলেন পরিবর্তিত অনুষ্ঠান তিনি কেমন উপভোগ করছেন।

''রাতের অনুষ্ঠান শোনার অভ্যেসটা চলে গিয়েছিল। এখন আবার অভ্যেস হচ্ছে। অ্যালার্ম দিয়ে রাখি ঘড়িতে, সাড়ে দশটা বাজলেই যেন আমাকে মনে করিয়ে দেয়।

''পরিবর্তন সবসময়ই ভালো। নতুন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ইতিহাসের সাক্ষীটা ফেরত পেয়েছি, এটা ভাল লাগছে। এই সাথে যদি এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকারে - বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনের কিছু কথা জানা যেতো, সেটা ভাল হোত। আর টেলিফোনে মতামতের পাশাপাশি প্রশ্নের উত্তর বিশেষজ্ঞ বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যারা জানেন, তাদেরকে দিয়ে যে করাচ্ছেন এটা ভাল হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের দিকে আপনাদের খেয়াল একটু বেশি। বিশেষ করে বৈচিত্র এসেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে মতামতগুলো আসে সেগুলো দেয়ার মাধ্যমে। সবটা মিলিয়ে আমি পরিবর্তনটাকে স্বাগত জানাচ্ছি।''

পুরনো শ্রোতা হাসান মীর তাঁর মতামত দিলেন টেলিফোন সাক্ষাৎকারে।

সদ্য হয়ে যাওয়া সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়েও নানাধরনের মন্তব্য করেছেন বেশ ক'জন শ্রোতা। দাকোপ, খুলনা থেকে মুকুল সরদার:

''সবচেয়ে বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে ভোটার টার্ন আউট। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, ভোটার টার্ন আউট কোনো ভাবেই ত্রিশ শতাংশের বেশি ছিল না। দেশের সাধারণ মানুষ কি নির্বাচন ব্যবস্থার উপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন?''

ভোটার টার্ন আউট নিয়েই দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:

''সিটি নির্বাচনে বিএনপির ব্যর্থতা হলো- কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার কথা বলে চুপচাপ ঘরে বসে থাকা। আর আওয়ামী লীগের ব্যর্থতা হলো কেন্দ্র 'দখল ও নিয়ন্ত্রণে' নিয়েও ভোটারদের আকৃষ্ট করতে না-পারা।''

পার্বতীপুর, রংপুর থেকে মো.লিয়াকত আলী:

''বাংলাদেশে নির্বাচনের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে গেছে। এখন ভোটাররা ভোট দিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। তার প্রমাণ ঢাকার সিটি নির্বাচন এবং দুটি জাতীয় নির্বাচন। জানি না আমরা সাধারন জনগণ আর কখনো পাব কিনা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে?"

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption এবারের সিটি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়েছে ইভিএম এর মাধ্যমে।

আর স্বরূপকাঠি, পিরোজপুর থেকে মিজান সাহেল:

"সুষ্ঠু নির্বাচন যদি না-ই হয়, তবে নির্বাচনের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা অপচয় করার কী দরকার? তাছাড়া এহেন নির্বাচনে আপামর জনসাধারণের যে ভোগান্তি হয় তা এক কথায় অবর্ণনীয়। বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন কি অদূর কিংবা সুদূর ভবিষ্যতে হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে?"

কোন দেশে গণতন্ত্র টিঁকিয়ে রাখতে হলে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই। শাহিন তালুকদার, মৌকরন, পটুয়াখালী থেকে লিখেছেন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ খবর পরিবেশনের জন্য বিবিসি বাংলাকে ধন্যবাদ।

এখানে পড়তে পারেন বিবিসি বাংলার সংবাদদাতার চোখে ঢাকার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন

বিবিসি বাংলার অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিও নিয়ে দারিয়াপুর, গাইবান্ধা থেকে লিখেছেন মাহবুব রহমান মামুন:

''বাংলা সাবটাইটেল ব্যবহার করে যে ভিডিওগুলো দেওয়া হচ্ছে, আমাদের দেখার ক্ষেত্রে সেগুলো থেকে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে বলে আমি মনে করি। বাংলা সাবটাইটেল দিয়ে ভিডিওতে কি বলা হচ্ছে সেটা দেখতে গিয়ে অনেক সময় প্রকৃত ভিডিও দেখার মনোযোগটা নষ্ট হয়ে যায়। তাই এসব ভিডিওতে যদি সংবাদদাতাদের কন্ঠ থাকতো তাহলে খুব ভালো হতো।''

আমাদের কিছু ভিডিওতে যেমন সাবটাইটেল থাকে তেমনি আবার এখন কিছু ভিডিও আমরা দিতে শুরু করেছি যেখানে সাবটাইটেলের পাশাপাশি খবরের অডিও-ও থাকছে। যাতে যাদের শোনার সুবিধা নেই তারা শুধু দেখতে পারবেন আর শোনার সুবিধা যাদের আছে তাদের জন্য দুটো সুবিধাই থাকবে। আশা করি কিছুটা হলেও আপনার সমস্যা দূর হবে।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
অ্যাসিডদগ্ধ নারীরা যখন বিউটিশিয়ান- এই ভিডিওতে সাবটাইটেলের পাশপাশি আছে বাংলাতে অডিও।

আমাদের একটি ফিচার অনুষ্ঠান নিয়ে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজিজুল ইসলাম:

"একত্রিশে জানুয়ারি বিবিসি বাংলায় 'সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একজন মনোবিদ নিয়োগ দেওয়া হবে' শিরোনামে যে বিশেষ প্রতিবেদন প্রচার করা হলো তা অনেক ভালো লাগলো। তবে সেখানে একটি ভুল তথ্য প্রচার করা হলো। বলা হলো ঢাবি ছাড়া কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ নাই। কিন্তু রাবিতে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি আছে। আশা ভবিষ্যতে এমন প্রতিবেদন প্রচারের সময় বিবিসি বাংলা আরও সতর্ক থাকবে।''

তথ্যগত এই ভুলের জন্য আমরা দু:খিত। একই ভুলের কথা লিখেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকজন শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মারুফ।

বিবিসি বাংলার অনুষ্ঠান ১৯৮১ সাল থেকে শুনছেন লাকসাম, কুমিল্লার শ্রোতা জিতেন্দ্র কুমার মজুমদার। টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন এই দীর্ঘ সময় অনুষ্ঠানের নানা পরিবর্তনকে তিনি ইতিবাচকভাবেই দেখেছেন।

''কারণ সময়ের সাথে সাথে কেউ যদি নিজেকে পরিবর্তন করতে না পারে তাহলে সে তো সারভাইভ করতে পারবে না, এবং শ্রোতাদের কাছে প্রাসঙ্গিক থাকবে না। আর ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজে অনেক কিছু জেনেছি বিবিসি বাংলার কাছে। আমি প্রাইমারি স্কুলের একজন শিক্ষক। কিন্তু যখন আমি ইউনিভার্সিটিতে ইন্টারভিউ দেই, তখন তো কোচিং বলে কিছু ছিল না। বিবিসির তথ্যগুলো থেকে সারা বিশ্ব সম্পর্কে আমার যে ধারণা হয়েছিল। ইন্টারিউতে সেগুলো আমি কাজে লাগিয়েছি।

''যতদিন পর্যন্ত বিবিসি থাকবে, এবং যতদিন পর্যন্ত আমি থাকব ততদিন পর্যন্ত বিবিসির সঙ্গে আমার এই অলিখিত যোগাযোগটা থেকেই যাবে।"

কথা হচ্ছিল জিতেন্দ্র কুমার মজুমদারের সঙ্গে।

মীর রিপন আলী, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও থেকে লিখেছেন সকালের অনুষ্ঠান তিনি কোনদিন শুনতে পেতেন না, এখন রাতের অনুষ্ঠান তিনি কোনদিন মিস করছেন না। আপনি আরও লিখেছেন:

''বিবিসির অনুরূপ পৃথিবীর অনেক রেডিও স্টেশন যারা বাংলায় সংবাদ পরিবেশন করে যেমন ভয়েস অব আমেরিকা, রেডিও জাপান, রেডিও তেহরান এরা অনলাইনে সংবাদ শোনা, ডাউনলোড, এবং অনেক পুরাতন অনুষ্ঠান আর্কাইভ থেকে শোনার ব্যবস্থা রাখেন। এমন কী বিবিসি ওয়াল্ড সার্ভিস ইংলিশেও এ ব্যবস্থা আছে। কিন্তু বিবিসি বাংলায় শুধু চার দিনের অনুষ্ঠান শোনা যায়। আপনাদের কোন ডাউনলোডের ব্যবস্থা এবং আর্কাইভের পুরাতন অনুষ্ঠান শোনার ব্যবস্থা নেই কেন? ভবিষ্যতে কি এসব ব্যবস্থা রাখা হবে?''

আমরা অবশ্যই চাই পুরনো অনুষ্ঠান ডাউনলোড করে শোনার ব্যবস্থা অনলাইনে রাখার জন্য। বিবিসির সব ভাষা বিভাগে এই সুবিধা এখনও পর্যন্ত নেই। আশা করা যায় ভবিষ্যেতে আপনাদের এ চাহিদা আমরা মেটাতে পারব।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption বাংলাদেশে সরকার জানিয়েছে, কিশোর বয়সী ছেলেমেয়েদের মানসিক চাপ সামলানোর জন্য সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মনোবিদ নিয়োগ দেবার কথা ভাবা হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ থেকে অনুষ্ঠান সম্পর্কে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন উজ্জ্বল মন্ডল কৃষ্ণময়:

''আমি বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বর্তমান শিক্ষাদান পদ্ধতি সম্পর্কে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করার জন্য বিবিসি বাংলাকে আকুল আবেদন জানাচ্ছি। বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠিত অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন প্রকার কোয়ালিটি এডুকেশন প্রোভাইড করা হচ্ছে বলে আমি মনে করছি না। বাংলাদেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোয়ালিটি এডুকেশন কতটুকু প্রোভাইড করা হচ্ছে এবং প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করুন।''

বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়ে আগেও আমরা প্রতিবেদন করেছি। তবে সময় সুযোগমত আবার এ বিষয় নিয়েঢ অনুষ্ঠান করার কথা আমরা মাথায় রাখব।

এবারে কিছু প্রাপ্তিস্বীকার।

আরিফুল রেজা, বানিয়াচং, হবিগঞ্জ।

বিলকিছ আক্তার,সরকারি ম্যাটস, টাঙ্গাইল।

হাসান আল সাইফ, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া।

মোহাম্মদ হোসেন, ফরিদগঞ্জ চাঁদপুর।

আবুহানিফ সুজন, স্টকহোম, সুইডেন।

ছদক চাকমা, রাঙামাটি।

মুশফিকুর রহমান ওলিউল্লাহ, পীরগঞ্জ, রংপুর।

মো. মনিরুজ্জামান, বেলডাঙ্গা, মুর্শিদাবাদ।

মোহাম্মদ কামাল হোসেন, মক্কা, সৌদি আরব।

মো. জুবায়ের হোসেন, দক্ষিণখান, উত্তরা, ঢাকা।

সম্পর্কিত বিষয়