সেন্টমার্টিনে রোহিঙ্গা বোঝাই ট্রলারডুবি, বহু হতাহতের আশঙ্কা

স্থানীয় ট্রলারের সহায়তায় নিমজ্জিত ট্রলারটিকে টেনে সোজা করা হচ্ছে। ছবির কপিরাইট বাংলাদেশ নৌবাহিনী
Image caption স্থানীয় ট্রলারের সহায়তায় নিমজ্জিত ট্রলারটিকে টেনে সোজা করা হচ্ছে।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের কাছে বঙ্গোপসাগরে একটি ট্রলারডুবিতে বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত সেখান থেকে ১৫ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। এদের সবাই নারী ও শিশু।

জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৭১ জনকে।

উদ্ধারপ্রাপ্তদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপে নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এস এম জাহিদুল ইসলাম বিবিসিকে বলেছেন, ট্রলারটিতে থাকা অধিকাংশ মানুষই টেকনাফের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে থাকা রোহিঙ্গা।

"এরা সবাই দালালদের মাধ্যমে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাচ্ছিল", বলেন লে. কমান্ডার ইসলাম।

তিনি আরো জানাচ্ছেন, নিমজ্জিত ট্রলারটির ভেতরে আরো মানুষ থেকে থাকতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।

ছবির কপিরাইট বাংলাদেশ নৌবাহিনী
Image caption উদ্ধারপ্রাপ্তদের একাংশ

যাদের উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের কাছ থেকে যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে সম্ভবত ১৩৮ জন যাত্রী ছিল ট্রলারটিতে।

"অনেক সময় পাচারকারীরা নারী ও শিশুদের ট্রলারের ডেকে রেখে দরজায় তালা মেরে দেয়" উল্লেখ করে লে. কমান্ডার ইসলাম বলেন, এরকম ঘটনা ঘটে থাকলে তাদের জীবিত পাওয়ার আশা নেই।

তবে সেটা স্পষ্ট হবে ট্রলারটা পানি থেকে তুলে আনার পরই।

এরই মধ্যে স্থানীয় দুটি ট্রলারের মাধ্যমে নিমজ্জিত ট্রলারটিকে টেনে সোজা করা হয়েছে।

নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজ 'দুর্জয়' সেন্টমার্টিনের পথে রয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে সেন্টমার্টিন দ্বীপের পশ্চিম প্রান্তে জিঞ্জিরা নাম স্থানে সৈকতের কাছেই।

লে. কমান্ডার ইসলাম বলেন, ট্রলারডুবির ঘটনাটি ভোররাত তিনটের দিকে ঘটেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সম্ভবত টেকনাফের নোয়াখালী নামক স্থান থেকে এদেরকে নিয়ে ট্রলারটি রওয়ানা দিয়েছিল মধ্যরাতের পরে।

নৌবাহিনী অবশ্য ট্রলারডুবির খবর জানতে পারে সকাল ছয়টার দিকে।

লে. কমান্ডার ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের ফোন পেয়ে তিনি নৌবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে পেট্রোল বোটে করে সেখানে যান।

গিয়ে তিনি দেখেন, একটি দেশীয় ট্রলার আধা নিমজ্জিত অবস্থায় আছে।

বহু মানুষ ট্রলারটি ধরে ভেসে থাকার চেষ্টা করছে।

আর আশপাশে মৃতদেহ ভাসছে।

বাংলাদেশ থেকে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার খবর প্রায়ই আসে।

এভাবে সাগরপাড়ি দিতে গিয়ে বহু নৌকাডুবির ঘটনা ও বহু হতাহতের ঘটনা ইতিপূর্বে ঘটেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড কক্সবাজারের রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার বহু চেষ্টা নস্যাৎ করেছে, বহু রোহিঙ্গাকে আটক করে ক্যাম্পেও ফিরিয়ে এনেছে, যাদের মধ্যে বরাবরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশুর উপস্থিতি ছিল।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
কেন মালয়েশিয়ায় গিয়ে বিয়ে করতে এতোটা আগ্রহী বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা নারীরা?

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার জাহিদুল ইসলাম বলছেন, জীবিত উদ্ধারপ্রাপ্তদের তারা কোস্টগার্ডের কার্যালয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

এদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করবে কোস্টগার্ড।

তারা এদের সাথে কথা বলে দুজন দালালের তথ্যও পেয়েছেন। তাদেরকে খোঁজা হচ্ছে।

নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সমন্বিত উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি এ নিয়েও তদন্ত চলছে।

আরো খবর:

শরণার্থী থেকে রোডস স্কলার হয়ে ওঠার অভূতপূর্ব যাত্রা

নিষেধাজ্ঞায় বিশ্বকাপজয়ী বাংলাদেশের তিন ক্রিকেটার

পুরুষের জন্য প্রশ্ন, দাঁড়িয়ে না বসে?

টম ও জেরির ইঁদুর-বিড়াল খেলার আশি বছর

সম্পর্কিত বিষয়