বন্যপ্রাণী আলোকচিত্র: ঝগড়ারত ইঁদুরের ছবি জিতলো 'পিপলস পোল' অ্যাওয়ার্ড

স্যাম রওলি ছবিটি তোলার জন্য প্লাটফরমে পাঁচ রাত কাটিয়েছেন ছবির কপিরাইট Sam Rowley/WPY
Image caption স্যাম রওলি ছবিটি তোলার জন্য প্লাটফরমে পাঁচ রাত কাটিয়েছেন
Presentational white space

যাতায়াতের জন্য নিয়মিত ট্রেনে ওঠেন এমন অনেকেই হয়তো দৃশ্যটি দেখেছেন- ছোটো কালো ইঁদুর প্লাটফরমে কিংবা রেলের নিচে ছোটাছুটি করছে।

স্যাম রওলিকে এগুলো খুবই আগ্রহী করে তোলে।

এক সপ্তাহ তিনি লন্ডনের আন্ডারগ্রাউন্ডে ব্যয় করেছেন এদের ছবি তোলার জন্য।

এবং এক রাতে তিনি এমন একটি ছবি তুললেন যেখানে দুটি ইঁদুর ঝগড়া করছিলো একজন যাত্রীর ফেলে দেয়া খাবারের অবশিষ্টাংশ নিয়ে।

এ ছবিটিই দা ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অফ দা ইয়ার লুমিক্স এ পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড জিতে নিয়েছে।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

মৃত প্রাণীর সংগ্রহশালা দিয়ে ভিন্ন এক লড়াই

৪০ বছরে বন্যপ্রাণী কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ

বিশ্বজুড়ে কাছিম পাচারের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ঢাকা

ছবির কপিরাইট Michel Zoghzoghi/WPY
Image caption জাগুয়ার দম্পতির অজগর নিয়ে খেলা

স্টেশনের এই ঝগড়া ভোট পেয়েছে প্রায় আঠাশ হাজার।

স্যাম গভীর রাতে সেন্ট্রাল লন্ডনে পাতাল স্টেশনে বিশেষভাবে অপেক্ষা করছিলেন যাতে লো-অ্যাঙ্গেল শট ভালোভাবে নেয়া যায়।

দুটি ইঁদুর আলাদাভাবেই ছিলো।

এক পর্যায়ে খাবার নিয়ে ঝগড়া বেধে যায়।

"আমি ভাগ্যবান যে ছবিটি তুলতে পেরেছিলাম। পাঁচদিন ধরে প্রায় শুয়ে ছিলাম প্লাটফরমে,"স্যাম বলছিলেন।

তিনি বিবিসির ন্যাচারাল হিস্টরি ফিল্ম মেকিং ইউনিটে গবেষণা করেন।

শহুরে বন্যপ্রাণীর ছবি তোলাই তার শখ।

তার বিশ্বাস মানুষের সাথে এসব প্রাণীর একটি সম্পর্ক আছে কারণ তারা মানুষের মধ্যেই বাস করে।

তিনি এসব প্রাণীর বেঁচে থাকার সক্ষমতা নিয়েও মুগ্ধ।

"পাতাল রেলের লাইনের আনাচে কানাচে বেড়ে ওঠা এসব প্রাণী কখনো সূর্যের আলো দেখেছে বলে মনে হয়না। ছোটো অন্ধকার অলিগলিতে কয়েক মাস কিংবা বছর এরা বাস করে। তারপর মরে যায়। তবে সংখ্যায় বেশি হওয়ায় খাবারের জন্য লড়াই করতে হয় তাদের"।

ছবির কপিরাইট Aaron Gekoski/WPY
Image caption ওরাংওটাং

লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্টরি মিউজিয়াম এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে প্রতিবছর।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক স্যার মাইকেল ডিক্সন বলেন, "স্যামের ছবিটি কিভাবে মানুষ নিয়ন্ত্রিত সমাজে বন্যপ্রাণী জীবন ধারণ করে তারই একটি দারুণ ঝলক"।

ইঁদুরগুলোর আচরণ আমাদের দৈনন্দিন রুটিনের সাথে সম্পর্কিত।

পরিবহন আমরা ব্যবহার করি ও কিছু খাবার ফেলে আসি।

"এ ছবিটি মনে করিয়ে দেয় কিভাবে আমরা প্রকৃতির সাথে আছি। আমি আশা করি এটা মানুষকে এ সম্পর্কে আগ্রহী করে তুলবে"।

প্রতিযোগিতায় চারটি রানার আপের মধ্যে একটি হলো ওরাংওটাংয়ের ছবি।

আরেকটি হলো মা ও শিশু জাগুয়ারের একটি সাপকে নিয়ে খেলা।

৫৬তম এই প্রতিযোগিতা এখন বিশেষজ্ঞরা বিচার করছেন। অক্টোবরে গ্রান্ড প্রাইজ উইনারদের নাম ঘোষণা করা হবে।

ছবির কপিরাইট Francis De Andres/WPY
Image caption ফ্রান্সিস ডি অ্যান্ড্রুর তোলা ছবি
ছবির কপিরাইট Martin Buzora/WPY
Image caption হৃদয়স্পর্শী একটি ছবি

সম্পর্কিত বিষয়

বিবিসির অন্যান্য সাইটে