এডিটার'স মেইলবক্স: করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক, উগ্রবাদী কথা নিয়ে উদ্বেগ

পাকিস্তানেও চীনের 'মারাত্মক ভাইরাস' নিয়ে আতঙ্ক ছবির কপিরাইট AAMIR QURESHI
Image caption পাকিস্তানেও চীনের 'মারাত্মক ভাইরাস' নিয়ে আতঙ্ক

বর্তমান বিশ্বে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা করোনাভাইরাস। চীনে এটা মহামারী আকার ধারণ করেছে, গোটা বিশ্ব রয়েছে আতংকে। বাংলাদেশেও উদ্বেগের শেষ নাই।

তাহলে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত একটি চিঠি দিয়ে আজ শুরু করছি, লিখেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন সাইমুম:

''নতুন বছর শান্তি ও সমৃদ্ধির সুবার্তা নিয়ে আসে, কিন্তু চীনাদের জন্য সেই নতুন বছরই প্রলয় বার্তা নিয়ে এলো। প্রাণঘাতী করোনার প্রাদুর্ভাবে আজ বেসামাল চীন। এ রোগের বিস্তার ঠেকাতে না পারলে চীন ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা ও টানাপোড়নে পড়তে পারে। বাংলাদেশকেও সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। চীনে যাতায়াতের বিষয়টি সরকারকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। সর্বোপরি, করোনার আতঙ্কে গা ভাসিয়ে না দিয়ে আমাদের স্বাস্থ্য-সচেতনতা বাড়াতে হবে।''

আপনার শেষ বাক্যটিই আমার কাছে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে মি. সাইমুম। সব দেশের সরকারই যা করার তা করবে, কিন্তু মানুষকে গুজবে কান না দিয়ে, নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়াটা অত্যন্ত জরুরি। সেজন্য বিবিসি বাংলায় আমরা করোনাভাইরাস সম্পর্কে তথ্য দিয়ে বেশ কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেছি।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
করোনাভাইরাস নিরাপত্তায় যে সতর্কতা প্রয়োজন

করোনাভাইরাসের বিষয়েই থাকি। পরের চিঠি লিখেছেন মাদারীপুরের টেকেরহাট থেকে মির্জা রিজওয়ান আলম:

''গত ৬ই ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার আপনাদের টেলিভিশন অনুষ্ঠান বিবিসি প্রবাহতে করোনাভাইরাস আক্রান্তের ঝুঁকিতে থাকাদের কী করা হয়, কোয়ারেন্টিন কী, কেন এবং- কীভাবে করা হয়, এগুলো নিয়ে যে প্রতিবেদনটি দেখানো হল, সেটা খুব ভালো লাগলো। এখান থেকে অনেক কিছু জানতেও পারলাম। আশা করি বিবিসি বাংলা পরবর্তীতেও এমন জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করবে।''

প্রতিবেদনটি ভাল লেগেছে জেনে আমাদেরও ভাল লাগলো মি. আলম। আপনি যদি আমাদের ইইউ টিউব চ্যানেলে যান, সেখানে আপনি এ'ধরণের আরো ব্যাখ্যামূলক পরিবেশনা বা ভিডিও এক্সপ্লেইনার দেখতে পাবেন যেখানে বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত বিষয়ে তথ্য দেয়া হচ্ছে। যেমন, অ্যালার্জি, মাইগ্রেন, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি বিষয়ে ইতোমধ্যেই এক্সপ্লেইনার তৈরি করা হয়েছে।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
মাইগ্রেন কেন হয়, চিকিৎসা কী

ডিজিটাল মাধ্যমে আমাদের নতুন এই সিরিজ নিয়ে আরো মন্তব্য করেছেন গাইবান্ধার দাড়িয়াপুর থেকে মাহবুবুর রহমান মামুন:

''স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে 'আপনার স্বাস্থ্য' ধারাবাহিকের পর্বগুলো খুব ভালো লাগছে। মাইগ্রেনের কথা আমি অনেক শুনেছি। এটা কী কারণে এবং কেন হয়? এর প্রতিকার কী? আমি কিছুই জানতাম না। আপনার স্বাস্থ্য ধারাবাহিকের মাধ্যমে বিস্তারিত জানতে পারলাম।এছাড়াও অ্যালার্জি ও রক্তচাপ নিয়ে বিস্তারিত জানলাম। আর জানার কৌতূহল থেকে সম্পাদকের কাছে জানতে চাইছি, হঠাৎ করে এরকম একটা ধারাবাহিক করার চিন্তা কীভাবে আসলো।''

এটা হঠাৎ কোন ব্যাপার ছিল না মি. রহমান। ডিজিটাল মাধ্যমে যেহেতু পাঠক বা দর্শকের আগ্রহ তাৎক্ষণিক জানা সম্ভব, আমরা দেখতে পেলাম নিজের জীবন যেসব বিষয় দিয়ে প্রভাবিত হয়, সেগুলো সম্পর্কে জানার প্রবল আগ্রহ মানুষের মধ্যে আছে, যার মধ্যে স্বাস্থ্যগত বিষয় অন্যতম।

ছবির কপিরাইট Mizanur Rahman Azahari
Image caption মিজানুর রহমান আজাহারীর এক মাহফিলে এসে পরিবারটি ইসলামে দীক্ষা নেয়

এবারে ভিন্ন প্রসঙ্গে যাই। আমাদের অনুষ্ঠানে প্রচারিত একটি বিষয় নিয়ে কিছু প্রশ্ন তুলে লিখেছেন বাগেরহাট থেকে মোহাম্মদ তৈমুর হুসাইন:

''কিছুদিন আগে ইসলামী আলোচক মিজানুর রহমান আজহারীকে নিয়ে আপনারা একটা প্রতিবেদন করেছিলেন, যেখানে ১২জন ব্যক্তির ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার বিষয়ে বলা হয়েছিল। আমি এটা বুঝতে পারছি না যে বাংলাদেশে তো অনেক ইসলামী আলোচক আছেন, আবার অনেক বক্তার কাছেই মানুষ ধর্মান্তরিত হয়। তাহলে মি. আজহারীর বিষয়ে কেন বিবিসির এত আকর্ষণ?

''তিনি মালয়েশিয়া গেছেন কি না, তা নিয়েও কেন এত মাথাব্যথা? যদি ব্যাপারটা শুধুই ভাইরাল হয়েছে বলে এ নিয়ে রিপোর্ট করেন, তাহলে বলবো আরো তো অনেক খবরই ভাইরাল হয়,কয়টা খবর প্রচার করতে পারে বিবিসি? নাকি বিবিসিও সরকারের মত বলবে, মিজানুর রহমান জামাতের প্রডাক্ট!''

বিবিসি কখনোই মি. আজহারীকে জামাতের প্রডাক্ট হিসেবে আখ্যায়িত করেনি মি. হুসাইন। কাজেই, আপনার শেষ মন্তব্যটি আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। যাই হোক,এটা শুধু খবর ভাইরাল হবার বিষয় না মি. হুসাইন। আমরা যাচাই করি কোন ঘটনা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন এবং আগ্রহ আছে, এবং কোন ঘটনা আরো প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এর পরেই আমরা ঐ বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্টিং করার সিদ্ধান্ত নেই।

মি. আজহারীকে ঘিরে জনমনে আগ্রহ যে ছিল তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। আর একটি বিতর্কের মুখে কোন ধর্ম প্রচারক যদি আচমকা ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে দেশ ছেড়ে চলে যেতে চান, তাহলে সেটা নি:সন্দেহে খবর করার মত বিষয়।

ছবির কপিরাইট NurPhoto
Image caption উগ্রবাদের ফসল: পোলান্ডের আউশভিটজ শিবির যেখানে জার্মান নাৎসীরা লক্ষ লক্ষ ইহুদীকে হত্যা করে।

ধর্ম প্রচার থেকে যাওয়া যাক ধর্মীয় উগ্রবাদের বিষয়ে। আমাদের ফেসবুক পাতায় ধর্মীয় উগ্রবাদী মন্তব্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''আমি মাঝেমধ্যে বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতার প্রতিবেদনে প্রাসঙ্গিক মন্তব্য করে থাকি। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত লক্ষ্য করেছি কিছু লক করা কিংবা ছদ্মনামের ভারতীয় ফেসবুক আইডি থেকে হঠাৎ করে প্রতিবেদন ও মন্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তিগত আক্রমণ করে থাকে। বাংলাদেশ থেকেও করে, তবে খুবই নগণ্য সংখ্যক। ব্যক্তিগত আক্রমণের ধরণ দেখে মনে হয় তারা কোন না কোন উগ্রবাদী মতাদর্শে বিশ্বাসী এবং তারা প্রতিপক্ষ ধর্মবিশ্বাসকে গালিগালাজ করতেও কুণ্ঠাবোধ করে না।

''এ থেকে পরিত্রাণের উপায় কী? আমরা কী তাহলে ফেসবুকে কোন প্রতিক্রিয়া জানানো থেকে বিরত থাকবো? বিবিসি বাংলার কাছে পরামর্শ চাই।''

আপনি একদিকে ঠিক বলেছেন মি. রহমান। ফেসবুকে অশালীন ভাষা, ব্যক্তিগত আক্রমণ, সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক কথা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সময় কঠিন হয়ে পরে। তবে বাংলাদেশ থেকে এ'ধরণের মন্তব্যের সংখ্যা মোটেই নগণ্য নয়। আমাদের ফেসবুকে যারা আসেন তাদের শতকরা ৭০ শতাংশ বাংলাদেশি, এবং অশালীন, আক্রমণাত্মক এবং ধর্মীয় উগ্রবাদী কথাবার্তা তাদের দিক থেকেই বেশি দেখতে পাই।

ছবির কপিরাইট DELIL SOULEIMAN
Image caption শামীমা বেগমের মত আরো অনেক 'আইসিস বধূ' সিরিয়ায় আটকা পড়েছেন।

সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠি বা আইএস-এ যোগ দেয়া ব্রিটিশ কিশোরী শামিমা বেগমকে নিয়ে লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাইদ:

''ব্রিটিশ ইমিগ্র্যান্ট অ্যাপিলস কমিশন মন্তব্য করেছে যে আই এস বধূ শামীমা বেগম বাংলাদেশে নাগরিকত্ব চাইতে পারেন। ব্রিটেন তার নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নিয়ে এটা প্রমাণ করেছে যে মুখে যতই তারা মানবাধিকারের কথা বলুন, মন থেকে তাদের বিশ্বাস কতটুকু তা প্রশ্ন সাপেক্ষ। আশা করব, এতবড় পৃথিবীর কোন না কোন জায়গায় মেয়েটির একটু ঠাঁই হবে। এতটুকু মেয়েটা এর মধ্যেই অনেক কষ্ট সহ্য করে ফেলেছে।''

আপনি শামীমা বেগম বা অন্যান্য আইএস বধূ সম্পর্কে কতটুকু জানেন তা আমি জানি না, মি. সাইদ, তবে তাদেরকে একবারে নিষ্পাপ ভাবা ঠিক হবে না। যারা আইএস-এ যোগ দিতে সিরিয়ায় গিয়েছিল, তারা পরবর্তীতে অনেক ভয়ানক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হয়েছিল। তারা নিজ দেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে আইএস-এর মত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছিল। সেজন্যই ব্রিটেন তাদের নাগিরিকত্ব বাতিল করেছে। বাংলাদেশও জানিয়ে দিয়েছে তারা শামীমা বেগমকে গ্রহণ করবে না। এ অবস্থায় শামীমা বেগম এবং অন্যান্য আইএস বধূদের সিরিয়া বা ইরাকে আদালতের মুখোমুখি হয়ে বাকি জীবন কারাগারে থাকতে হতে পারে।

ছবির কপিরাইট NurPhoto
Image caption পুরুষের মত নারীদের অধিকার কাছে সব বিষয়ে মতামত দেবার।

ছোট একটি অভিযোগ করে লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মিনহাজুল ইসলাম তারেক:

''বিবিসি বাংলা'র নতুন আঙ্গিকে অনুষ্ঠানের সাথে আস্তে আস্তে অভ্যস্ত হয়ে উঠছি, যদিও ১১ই জানুয়ারির পর থেকে এখনও মাঝে মাঝে পরিক্রমা শোনার কথা ঠিক মনে থাকে না! তবে পরিক্রমায় সোমবারের বিশেষজ্ঞ মতামতভিত্তিক ফোন-ইন বেশ উপভোগ করছি। তা বাদ দিলে প্রীতিভাজনেষু ছাড়া আর কোন অনুষ্ঠান মানসম্পন্ন মনে হচ্ছে না আমার কাছে, বিশেষ করে শনিবারের সান্ধ্য অধিবেশনের ফোন-ইনে নারীদের কোটা দেয়ায় একেবারেই পানসে লাগছে!''

ফোন-ইনে নারীদের অংশগ্রহণ আপনার কাছে পানসে লাগছে জেনে একই সাথে অবাক এবং দু:খিত হলাম মি. ইসলাম। বছরের পর বছর ফোন-ইনে শুধু পুরুষরাই মতামত দিয়ে গেছেন। কিন্তু যেকোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নারীদের মতামত দেয়ার পুরো অধিকার আছে এবং আমরা তাদের অধিকারটাই কার্যকর করার চেষ্টা করছি। এখানে আগেও যেমন কোন পুরুষ কোটা ছিল না, এখনো কোন নারী কোটা নেই।

Image caption প্রবাহ উপস্থাপন করছেন মিজান খান

আমাদের একটি ঘোষণা নিয়ে বেশ বিভ্রান্তিতে আছেন বিলকিস আক্তার, যিনি লিখেছেন টাঙ্গাইলের সরকারি ম্যাটস থেকে:

''মিজানুর রহমান খান প্রায়ই অনুষ্ঠান শেষে বলেন, ধন্যবাদ- "ব্যস্ততার মাঝেও আমাদের অনুষ্ঠান শোনার জন্য"! আমার প্রশ্নটা এখানেই, তিনি কিভাবে জানেন, যে আমরা ব্যস্ত আছি কি নাই? তাছাড়া বিবিসি বাংলা'র সম্পাদকের মুখেই আমরা শুনেছি, সকালে অনেক শ্রোতা ব্যস্ত থাকেন দেখেই সকালের অধিবেশন বন্ধ করে দিয়ে রাতের পরিক্রমা ফিরিয়ে এনেছেন, যাতে করে সে সময়টা মানুষ ফ্রি থাকার কারণে বিবিসির অনুষ্ঠান ঠিকমত শুনতে পান। তাহলে বিবিসি'র এই কথার সাথে মিজানুর রহমান খানের কথাটি সাংঘর্ষিক নয় কি?''

না মিস আক্তার, মোটেই সাংঘর্ষিক নয়। বরং, আপনি আমার কথা সঠিক ভাবে উদ্ধৃত করছেন না। আমি কখনোই বলি না যে সকালে মানুষ ব্যস্ত থাকেন, এবং সেকারণে সকালের অধিবেশন বন্ধ করা হয়েছে। আমি শুধু একটি কথাই বলি, এবং সেটি হচ্ছে, বাংলাদেশে সকালের তুলনায় রাতে অনেক বেশি লোক রেডিও শোনেন। আর মিজানের মন্তব্য মূলত একটি ধন্যবাদ - শ্রোতারা যে তাদের মূল্যবান সময়ে আমাদের অনুষ্ঠান শুনছেন, তার কথা সেটারই স্বীকৃতি।

পরের চিঠি লিখেছেন পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ থেকে তাপস প্রামাণিক:

''আপনাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রায় সকল প্রতিবেদন আমি নিয়মিত মোবাইল ফোনে পড়ে থাকি, কিন্তু ইদানিংকালে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন আধিক্য হেতু পড়তে খুবই অসুবিধা হচ্ছে এবং পড়তে অনেক বেশি সময় লাগছে। বিষয়টি নিয়ে ভাবতে অনুরোধ করছি।''

আমাদের ওয়েবসাইট যখন ভারত বা বাংলাদেশ থেকে দেখেন তখন বিজ্ঞাপনের উৎপাত থাকে, সেটা ঠিক। কিন্তু সে ব্যাপারে আমাদের করার কিছু থাকে না মি. প্রামাণিক। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিবিসি কিছু অর্থ উপার্জন করছে, তবে সেটা আমাদের সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে কোন আপোষ করে নয়।

ছবির কপিরাইট জাতীয় তথ্য বাতায়ন
Image caption নামে কী এসে যায়? পঞ্চগড় উপজেলার বোদা উপজেলা

বাংলাদেশে বিভিন্ন নাম নিয়ে আমাদের প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে লিখেছেন সুকমল চাকমা, তবে তিনি কোথা থেকে লিখেছেন সেটা বলেন নি:

''এখন বিবিসি বাংলা খবরে শুনলাম, চুমাচুমি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামটা নিয়ে অনেকেই বিব্রত বোধ করছে। আসলে উনারা মনে করেন যে চুমাচুমি অর্থ কিস দেয়া। কিন্তু চাকমা ভাষায় চুমাচুমি অর্থ কিস দেয়া না, তার অর্থ হচ্ছে মুখোমুখি। এই জায়গাটার নামে ইতিহাসও রয়েছে। তাই অন্য ভাষার অর্থ না বুঝে বিব্রত বোধ না করার অনুরোধ রইলো।''

আপনি ঠিক কথাই বলেছেন সুকমল চাকমা। আমরা অনেকেই শব্দের প্রকৃত অর্থ বুঝতে না পেরে অনেক কিছুই ধরে নেই যেগুলো সঠিক নাও হতে পারে।

এবারে আমাদের সাপ্তাহিক খেলাধুলার ফিচার নিয়ে দু'টি চিঠি দিয়ে। প্রথমটি লিখেছেন রংপুরের বদরগঞ্জ থেকে মোহাম্মদ আবদুল্লা আল-মামুন:

''এই মুহূর্তে বিবিসির রাতের অনুষ্ঠানে খেলাধুলার ম্যাগাজিন শুনছি। একটা বিষয় বুঝতে পারছিনা। সাধারণত বিবিসি কাউকে সম্বোধন করার সময় সামনে 'মিস্টার' বলে সম্বোধন করে। কিন্তু ফয়সাল তিতুমীর বাংলাদেশের অন্যতম সেরা স্পিনার মোহাম্মদ রফিককে কীভাবে শুধু 'রফিক' বলে সম্বোধন করে?''

আপনি এক দিক থেকে ঠিকই বলেছেন মি. আল-মামুন। আমরা সাধারণত: মিস্টার বলেই সম্বোধন করে থাকি। কিন্তু খেলাধুলার ব্যাপারটা কিছুটা ভিন্ন। এখানে আমরা সব কিছু তুলনামূলকভাবে ইনফরমাল রাখি, যেখানে মিস্টার না ব্যবহার করলেও চলে।, আর ক্রিকেটার বা ফুটবলার যে নামে পরিচিত, সেই নামে তাদের সম্বোধন করলে কোন সমস্যা নেই।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ম্যারাডোনাকে ফাউল করলেন ইংল্যান্ডের ফেনিক: খেলাধুলার খবর পরিবেশনা বেশ 'ইনফরমাল' হয়।

দ্বিতীয় চিঠিটি লিখেছেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে হাসান আল সাইফ:

''গত ৫ই ফেব্রুয়ারি ভারত বনাম নিউজিল্যান্ডের মধ্যে হাইভোল্টেজ ওয়ানডে ম্যাচ ক্রিকেট দুনিয়া উপভোগ করেছে।। কিন্তু ৬ই ফেব্রুয়ারি বিবিসি বাংলার খেলাধুলার সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে এ ম্যাচের স্থান না পাওয়ার কারণ কী?''

দুটি কারণ মি. আল-সাইফ। প্রথমত, সেই ম্যাচের খবর পাঁচ তারিখের খেলাধুলার বুলেটিনেই দেয়া হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, বৃহস্পতিবারের ফিচারে শুধুমাত্র একটি ম্যাচ নিয়ে আলাপ করা হয় না। যেমন, সেদিন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিশ্বকাপ পৌঁছানোর খবর আর বাংলাদেশ সিনিয়র দলের পাকিস্তান সফরের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা ছিল প্রাসঙ্গিক।

এবারে অনুষ্ঠান নিয়ে একটি প্রশ্নের প্রেক্ষিতে একটি মন্তব্য করে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''ফেব্রুয়ারি মাসের পাঁচ তারিখের প্রীতিভাজনেষুতে রাজশাহীর রাণী বাজারের প্রবীণ শ্রোতা হাসান মীর এবং কুমিল্লার লাকসামের শ্রোতা জিতেন্দ্র কুমার মজুমদার-এর সাক্ষাৎকার শুনলাম। খুবই ভালো লাগলো বিবিসি বাংলার দীর্ঘ দিনের এই দু'জন শ্রোতার কথা শুনে। সপ্তাহ দুয়েক আগে একজন শ্রোতা প্রশ্ন করেছিলেন, বিবিসি বাংলার অনুষ্ঠান ছাত্রদের কতটা কাজে আসে? জিতেন্দ্র কুমার মজুমদার-এর সাক্ষাৎকার থেকে এটি পরিষ্কারভাবে জানা গেল, বিবিসি বাংলার অনুষ্ঠান ছাত্রদের ঠিক কতটা সমৃদ্ধ করে।''

আশা করছি মি. মজুমদারের মত অন্যান্য শ্রোতারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উপায়ে বিবিসি থেকে উপকৃত হচ্ছেন।

পরের চিঠি লিখেছেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থেকে মুহম্মদ ইব্রাহিম খলিল:

''দেখা যাচ্ছে, বিবিসি বাংলা তার ইতিহাসের সাক্ষী ফিচারকে ইউটিউবে ভিডিও আকারে প্রকাশ করছে যা খুবই ভালো উদ্যোগ । আমি আশা করবো ইতিহাসের সাক্ষীর পুরনো অনুষ্ঠানগুলো এই ভাবে আপনাদের ইউটিউব চ্যানেল ও ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবেন,যা আমাদেরকে অনেক কিছু জানার সুযোগ করে দিবে।''

ইউ টিউব যে অত্যন্ত জনপ্রিয় মাধ্যমে পরিণত হয়েছে, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই মি. খলিল। সেজন্য আমরা আমাদের রেডিও ফিচার যতটুকু সম্ভব ইউ টিউব-এ দেয়ার চেষ্টা করবো। ইতিহাসের সাক্ষী দিয়ে শুরু, তবে অন্যান্য ফিচার এবং প্রতিবেদন কীভাবে ইউ টিউব-এ উপভোগ্য করা যায়, সেটা আমরা খতিয়ে দেখছি।

সব শেষে, সাধারণ জ্ঞানের একটি প্রশ্ন, লিখেছেন পটুয়াখালী সদর থেকে মোহাম্মদ ইলিয়াস জোমাদ্দার ইমন:

''আমি প্রায় নিয়মিতই বিবিসি শুনি, যদিও মাঝে মাঝে বাদ যায়। আমার প্রশ্ন হলো কাশ্মীর আসলে কাদের শাসিত? কখনও বলেন পাকিস্তান শাসিত, আবার কখনও বলেন ভারত শাসিত। আসলে কাশ্মীর কাদের দখলে?''

আসলে কাশ্মীর দু'দেশেরই দখলে মি. জোমাদ্দার। ভারত এবং পাকিস্তানের স্বাধীনতার সময় কাশ্মীর কোন দেশের অংশ ছিল না। রাজ্যটি একজন স্বাধীন মহারাজার অধীনে ছিল। কিন্তু কাশ্মীর যেহেতু মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা, তাই পাকিস্তানের অনেকেই মনে করেন অঞ্চলটি তাদেরই প্রাপ্য ছিল। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান থেকে অনিয়মিত বাহিনী কাশ্মীর আক্রমণ করলে দেশের মহারাজা ভারতের সাহায্য চান। ভারত তার সেনাবাহিনী পাঠায়, কিন্তু বিনিময়ে মহারাজা কাশ্মীরকে ভারতে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণায় সাক্ষর করেন।

সেই যুদ্ধ শেষে কাশ্মীরের দু-তৃতীয়াংশ ভারতের এবং বাকিটা পাকিস্তানের দখলে থাকে। কিন্তু অঞ্চলটির মর্যাদা যেহেতু অমীমাংসিত রয়ে যায়, তাই বিবিসি কাশ্মীরের দুই ভাগকে ভারত-শাসিত এবং পাকিস্তান-শাসিত বলে থাকে।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক।

চট্টগ্রামের বদ্দরহাট থেকে মোহাম্মদ হাসান।

বাগেরহাট থেকে মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম

খুলনার কপিলমুনি থেকে মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পী

টাঙ্গাইল থেকে মোহাম্মদ জাকির হোসেন

ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মশিউর রহমান

পটুয়াখালীর মৌকরন থেকে শাহিন তালুকদার

খুলনার ডুমুরিয়া থেকে দীপক বিশ্বাস

আর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-আইন থেকে ওবায়েদুল ইসলাম উজ্জ্বল

বিবিসি বাংলাকে চিঠি লেখার ঠিকানা:bengali@bbc.co.uk