করোনাভাইরাস: হজক্যাম্পে কোয়ারেন্টিন শেষে বাড়ি ফেরা মানুষেরা সরকারি নজরদারিতে থাকবেন আরো ১০দিন

চীনের উহান শহর থেকে ৩১২ জন বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনা হয় ছবির কপিরাইট MUNIR UZ ZAMAN
Image caption পহেলা ফেব্রুয়ারি চীনের উহান শহর থেকে ৩১২ জন বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনা হয়

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হবার পর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে যে ৩১২ জনকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে গত দুই সপ্তাহ কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিল, আরেক দফা স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর শনিবার রাত থেকে তারা বাড়ি ফিরতে শুরু করেন।

এদের সবাইকে আগামী ১০দিন সরকারি নজরদারিতে রাখা হবে, এবং আরেকবার তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। এরপরই তারা স্বাভাবিক জনজীবনে ফিরতে পারবেন।

জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর রোববার বিবিসিকে এ কথা জানিয়েছে।

গত পহেলা ফেব্রুয়ারি চীনের উহান থেকে এই ৩১২ জন বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনা হয়।

ছবির কপিরাইট NurPhoto
Image caption উহান ফেরতদের মধ্যে ১১ জনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়

তাদের মধ্যে ৩০১ জনকে ঢাকার কাছে আশকোনা হজ ক্যাম্পে এবং বাকি ১১ জনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়।

গতকাল (শনিবার) রাতে তাদের সবার আরেক দফা স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর ছাড়পত্র দেয়া হয়।

এরপর শনিবার রাতেই বাড়ি ফেরেন প্রায় দুশো জন। বাকীরা রোববার সকালে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।

সরকারি নজরদারিতে আরো ১০দিন

জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, ৩১২ জনের কারো শরীরেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবার কোন লক্ষ্মণ বা উপসর্গ দেখা যায়নি।

"সে কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকার পর তাদের বাড়ি ফেরার অনুমতি দেয়া হয়েছে। তাদেরকে আমরা 'কন্ডিশনাল রিলিজ' দিয়েছি।"

কেন ১০দিন তাদের নজরদারিতে রাখা হবে? এই প্রশ্নে ডা. ফ্লোরা বলেন, "কোয়ারেন্টিনের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৪ দিন পর্যন্ত আলাদা রাখা। কিন্তু ইতিমধ্যে আমরা কোন কোন পেপারে দেখেছি সেখানে ইনকিউবেশন পিরিয়ড ২৪ দিন পর্যন্ত রাখার কথা বলা হয়েছে। যে কারণে আমরা আরো ১০দিন তাদের নজরদারিতে রাখবো।"

তিনি বলেন, এই ৩১২ জনের নাম-ঠিকানা সংরক্ষণ করা হয়েছে, আগামি দশ দিন তাদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ফলো-আপ করা হবে।

"এই সময়টুকু তারা আমাদের নজরদারিতে থাকবেন। যে যে জেলায় অবস্থান করবেন সেখানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও জেলায় সিভিল সার্জনের অফিস থেকে বিষয়টি মনিটর করা হবে। এছাড়া যাদের বাড়ি উপজেলা পর্যায়ে তাদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মনিটর করা হবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে।"

এছাড়া তাদেরকে কোয়ারেন্টিন পরবর্তী কিছু স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয় মেনে চলার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখলে সাথে সাথে আইইডিসিআরকে জানানো, জনবহুল এলাকা এড়িয়ে চলা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা ইত্যাদি।

তবে, কোয়ারেন্টিনে ছিলেন এমন ব্যক্তিদের নাম, পরিচয় ও ছবি প্রকাশ না করতে অনুরোধ জানিয়েছে আইইডিসিআর।

এই সংস্থার আশংকা - পরিচয় প্রকাশ হলে এই মানুষেরা সামাজিকভাবে হেনস্থার শিকার হতে পারেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রোববার এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন, চীনের উহানে আটকে পড়া ১৭১ জন বাংলাদেশিকে ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে।

এছাড়া আগামী দুই দিনের মধ্যে চীন বাংলাদেশকে করোনাভাইরাস শনাক্ত করার জন্য ৫০০ টেস্ট কিট দেবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, চীনকে বাংলাদেশ মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার পাঠাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সম্পর্কিত বিষয়