গ্রামীণফোন বিটিআরসির পাওনার হাজার কোটি টাকা জমা করেছে

পাওনা পরিশোধ নিয়ে গ্রামীণফোন ও বিটিআরসির মধ্যে বেশ কিছুদিন যাবৎ টানাপোড়েন চলছে।
Image caption পাওনা পরিশোধ নিয়ে গ্রামীণফোন ও বিটিআরসির মধ্যে বেশ কিছুদিন যাবৎ টানাপোড়েন চলছে।

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশি টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি-কে এক হাজার কোটি টাকা দিয়েছে মোবাইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন।

দুপুরে রাজধানীর বিটিআরসির দপ্তরে গিয়ে গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এ সম্পর্কিত পে-অর্ডার হস্তান্তর করে। যার নেতৃত্ত্ব দেন গ্রামীণফোনের পরিচালক ও হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স হোসেন সাদাত।

এর ফলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই, বিটিআরসির নিরীক্ষায় দাবি করা সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা থেকে সমন্বয়যোগ্য এক হাজার কোটি টাকা জমা দেয়া হল আজ।

গ্রামীণফোনের কর্মকর্তা হোসেন সাদাত বলেন, বিদ্যমান আইনের প্রতি শ্রদ্ধা থেকে এই টাকা জমা দিয়েছেন তারা।

"আমাদের একটা আইনগত অবস্থান আছে। তবুও আমরা বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।"

হোসেন সাদাত বলেন, "তবে আমাদের আইনগত অবস্থান অক্ষুন্ন রেখে আমরা অ্যাপিল ডিভিশনের আদেশ অনুযায়ী সমন্বয়যোগ্য এই টাকা বিটিআরসিতে জমা দিয়েছি।"

ফেসবুকের ভেরিফায়েড পেইজে এক স্ট্যাটাসে টাকা পাওয়ার খবর নিশ্চিত করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তফা জব্বারও।

নিজের স্ট্যাটাসে মোস্তফা জব্বার লিখেছেন, "সুখবরটা পেলামই। গ্রামীণফোন এক হাজার কোটি টাকা প্রদান করেছে।"

গ্রামীণফোনের এই পদক্ষেপকে সঠিক ও ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী।

"রাষ্ট্রের পাওনা এবং আদালতের নির্দেশ মান্য করা বাংলাদেশে যেসব ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান আছে প্রত্যেকের জন্য অবশ্য পালনীয়। তাই বাংলাদেশে ব্যবসা করতে হলে আদালতের নির্দেশনা মানতে হবে, এটাই তো স্বাভাবিক।"

এর আগে এক বিবৃতে গ্রামীণফোন জানায়, রবিবার তারা আদালতের নির্দেশনা মেনে বিটিআরসি-কে এক হাজার কোটি টাকা দেবে তারা।

এসব পদক্ষেপের মধ্যে আছে অনাপত্তিপত্র না দেয়া, লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ, নম্বর সিরিজ রিসাইকেল করার অনুমোদন না দেয়া এবং প্রতিষ্ঠানটিতে একজন প্রশাসক নিয়োগেরও হুমকি দেয়া।

তবে আজকের এই পদক্ষেপের পর এ ধরণের কঠোরতায় শিথিল করা বা কোন পরিবর্তন আসবে কিনা এমন প্রশ্নে বিটিআরসির ভাইস-চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র বলেন, বিষয়টি এখনো বিচারাধীন রয়েছে। তাই এ ক্ষেত্রে আদালতের সিদ্ধান্তই মেনে চলবেন তারা।

"তারা টাকা দিয়েছে। এই ক্ষেত্রে কোর্টে আগামীকাল একটা শুনানি হবে। এতে যে নির্দেশনা আসবে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে," তিনি বলেন।

টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষ বিটিআরসির দাবি, গ্রামীনফোন এবং রবি, এই দুইটি টেলিকম কোম্পানির কাছে ২০ বছরে সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে সংস্থাটির।

ছবির কপিরাইট গ্রামীণফোন
Image caption গ্রামীণফোন বাংলাদেশে এই মুহূর্তে সবচাইতে পুরনো এবং বৃহত্তম মোবাইল ফোন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান।

এর মধ্যে গ্রামীণফোনের কাছে পাওনা ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি।

যদিও মোবাইল কোম্পানি দুটো বলেছে, টাকার অংক নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে।

Image caption বিটিআরসির সাথে দ্বন্দ্ব সালিশের মাধ্যমে সমাধান করতে চায় গ্রামীণফোন

এরকম প্রেক্ষাপটে গত বৃহস্পতিবার গ্রামীণফোনকে সোমবারের মধ্যে এক হাজার কোটি টাকা পরিশোধের আদেশ দেয় সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।

সময়সীমা শেষ হওয়ার একদিন আগেই, অর্থাৎ রবিবারের মধ্যে গ্রামীণফোন এই পরিমান অর্থ বিটিআরসিকে দেবে বলে জানায়।