এডিটারস মেইলবক্স: ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা আর শ্রেষ্ঠ বাঙালির তালিকা

  • সাবির মুস্তাফা
  • সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
দিল্লি দাঙ্গায় নিহত মুস্তাফাবাদের এক মুসলিম শ্রমজীবীর পরিবারের আহাজারি

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

দিল্লি দাঙ্গায় নিহত মুস্তাফাবাদের এক মুসলিম শ্রমজীবীর পরিবারের আহাজারি

গত সপ্তাহের মত এই সপ্তাহেও অনেক শ্রোতা-পাঠক দিল্লিতে হয়ে যাওয়া হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা নিয়ে মন্তব্য করেছেন, প্রশ্ন করেছেন। আজ তাহলে শুরু করছি সেরকমই একটি চিঠি দিয়ে।

দিল্লির দাঙ্গা নিয়ে বিবিসির খবর পরিবেশনকে এক পেশে বলে অভিযুক্ত করেছেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে অর্ক রায়:

''বিবিসি বাংলার চোখে হিন্দুদের দুঃখ কেন আসে না? দিল্লি দাঙ্গার পর বিবিসি বাংলার পেজে প্রতি ঘণ্টায় একটার পর একটা নিউজ পোস্ট করা হচ্ছে। প্রতিটি পোস্টের ধরণ মোটামুটি এক। প্রতিটি পোস্টে শুধু মুসলিমদের ভিকটিম দেখানো হচ্ছে । বলা হচ্ছে শুধু মুসলিমদের বেছে বেছে নাকি মারা হচ্ছে দাঙ্গায়। অথচ বাস্তবে সেটা নয়। দাঙ্গায় ২পক্ষের মানুষই মারা গেছে।

''দিল্লির দাঙ্গায় দিল্লির ব্রিজপুরী এলাকা যেটি হিন্দু সংখ্যাগুরু হিসেবে পরিচিত সেটি পুরো জ্বালিয়ে দিয়েছে উগ্রবাদী মুসলিম দাঙ্গাকারীরা। কিন্তু বিবিসি বাংলায় তার কোন খবর দেখানো হয়নি। বোঝা যাচ্ছে বিবিসি শুধু হিন্দুদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে একপেশে খবর পরিবেশন করছে। তাহলে বিবিসি বাংলা কি শুধু মুসলিমদের জন্যই খবর করে?''

অবশ্যই না মি. রায়। যেখানে যা ঘটে, যেভাবে ঘটে, বিবিসি তা সেভাবেই রিপোর্ট করে। এখানে কারও পক্ষে বিপক্ষে যাবার কোন প্রশ্নই ওঠে না। আমাদের তথ্য অনুযায়ী দিল্লির দাঙ্গায় মুসলমানরা ছিল প্রধান ভিকটিম। আক্রমণ হয়েছে মসজিদে। পুলিশ শুধু দাঁড়িয়েই ছিল না, বিবিসির অনুসন্ধান অনুযায়ী তারা সক্রিয় ভাবে হিন্দুত্ববাদীদের সহায়তাও করেছে। এখানে এটাও বলতে পারি, বাংলাদেশে নাসিরনগর বা রামুতে হিন্দু বা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর সংখ্যাগুরু মুসলিমরা যখন হামলা করে, তখন আমরা পুরো কাহিনি রিপোর্ট করি। দিল্লির ক্ষেত্রেও আমরা তাই করেছি।

ভিডিওর ক্যাপশান,

দিল্লির মুসলিমরা বলছেন বেছে বেছে তাদের ওপর হামলা হচ্ছে

একই ঘটনা প্রবাহে উদ্বেগ প্রকাশ করে লিখেছেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে মহম্মদ আব্দুল আলি:

''বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের যে সংবাদ আপনাদের অনুষ্ঠান প্রবাহ বা পরিক্রমাতে পরিবেশিত হচ্ছে, তার জন্য বিবিসিকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা খুবই উদ্বিগ্ন যে, এই ভারতবর্ষ যেন একটা মায়ানমারে পরিণত না হয়। তাহলে ভারতের মুসলমানরা কোথায় পৌঁছাবে তা একমাত্র ভগবানই জানেন। ভারতবর্ষের মুসলমানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটা আলোচনা করা হোক। বিশেষজ্ঞরা কী বলেন, মুসলিমরা কি ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকবে না অবলুপ্ত জাতিতে পরিণত হবে?''

নিশ্চয়ই কেউ এটা আশা করবে না মি. আলী, যে ভারতের মুসলিমরা বিলুপ্ত হয়ে যাক। আর অন্য দশজন ভারতীয়র মত মুসলিমরাও ভারতীয়। তবে এটা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই, যে ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ নিয়ে স্বাধীন ভারত ১৯৪৭ সালে যাত্রা শুরু করেছিল, সেই আদর্শ এখন হুমকির মুখে। ভারত বহু জাতি, ভাষা, সংস্কৃতি এবং ধর্মের সংমিশ্রণে একটি দেশ, সেখানে শান্তি এবং সম্প্রীতি বজায় রাখতে হলে ধর্মনিরপেক্ষতা এবং গণতন্ত্র অপরিহার্য বলেই আমার মনে হয়।

বিষয়টি ভিন্ন দিক থেকে দেখছেন মোহাম্মদ সাহিব আলম, যিনি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা:

"সাম্প্রদায়িক হামলার মধ্যেই হিন্দু- মুসলমানদের হাতে হাত রাখার গল্প" শিরোনামে বিবিসির প্রতিবেদন এবং গীতা পাণ্ডের প্রতিবেদনে, হিন্দু প্রতিবেশীর সহযোগিতায় মুসলমানের রক্ষা পাওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করে মনে হচ্ছে সাম্প্রতিক সহিংসতাটি 'সাম্প্রদায়িক' নয় । দু'ধর্মের মানুষের মিল থাকার পরও কেন এই সহিংসতা?

''পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যায়, বিজেপি নেতা এমএলএ রাজা সিং বলেছিলেন, "যদি রোহিঙ্গা আর বাংলাদেশিরা সসম্মানে দেশ ত্যাগ না করে, তাহলে গুলি করে মারা হবে "। তাহলে কি বলা যায় না এটা কোন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নয়, এটা মোদী সরকারের মুসলিম নিধনের এক নোংরা চক্রান্ত?''

আপনার কথার ভিত্তিটা আমি বুঝতে পারছি মি. আলম। ভারতে অনেকেই আছেন, যারা বিশ্বাস করতে পারছেন না যে, ভারতের মত প্রাচীন সভ্যতার দেশ, যেটা বিগত ৭০ বছর ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক পথে চলেছে, সেখানে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায় অন্য ধর্মের অনুসারীদের ওপর এভাবে চড়াও হতে পারে। আমার মনে হয় ভারতের মুসলমানরা সেকারণেই চিন্তিত, যে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে এবং সেটার প্রধান ধাক্কা এসে পড়বে তাদের ওপরেই।

ভিডিওর ক্যাপশান,

দাঙ্গা থামানোর চেষ্টা না করে দিল্লি পুলিশ হিন্দু দাঙ্গাকারীদের সহযোগিতা করেছে

এই বিষয়ে আরো একটি চিঠি, লিখেছেন যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল থেকে মোহাম্মদ মোবারক হোসাইন:

''বিবিসিকে অসংখ্য ধন্যবাদ নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করার জন্য। আপনারা যেভাবে দিল্লির সংঘাতময় পরিবেশের কথা তুলে ধরেছেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। তবে আমি বুঝতে পারছি না আপনারা এটাকে দাঙ্গা কেন বলছেন। দাঙ্গা তো হয় যদি মুসলিম এবং হিন্দু উভয়পক্ষ সংঘাত সৃষ্টি করে। কিন্তু এখানে তো একেবারে স্পষ্ট যে হিন্দুরাই বেছে বেছে মুসলমানদের উপর হামলা করছে এবং মসজিদে আগুন দেওয়া হয়েছে।''

আমরা এটাকে প্রথমে সংঘর্ষ বলেছিলাম মি. হোসাইন, কিন্তু যখন পরিষ্কার হয়ে গেল যে বিষয়টি সাম্প্রদায়িক রূপ পেয়েছে, তখন আমরা দাঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করা শুরু করি। তবে কোন শব্দ ব্যবহার করলাম তার চেয়ে বড় কথা হচ্ছে, সব ঘটনা আমরা সঠিকভাবে তুলে ধরতে পেরেছি কি না।

দিল্লির দাঙ্গা বেশ কিছুদিন আমাদের প্রধান খবর হয়েছিল, কিন্তু এখনও যে বিষয় মানুষকে ভাবাচ্ছে, তা হলো করোনাভাইরাস। সে বিষয়ে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মকুল সরদার:

''চীনের বাইরে বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাস যেভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সেটি এখন যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যতটা সচেতন হওয়া প্রয়োজন আমরা এখনো ততটা সচেতন হয়ে উঠতে পারিনি বলেই আমার মনে হয়। শুধুমাত্র রেডিও, টেলিভিশন কিম্বা পত্রিকার মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে সমাজের সব স্তরের মানুষকে সচেতন করে তোলা আদৌ সম্ভব নয়। স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে গ্রাম পর্যায়ে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষদের সচেতন করে তোলা যেতে পারে।''

আপনি ঠিকই বলেছেন মি. সরদার, এই ভাইরাস সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি, আর সেটার জন্য ব্যাপক কর্মসূচির প্রয়োজন। কিন্তু সেরকম কর্মসূচির কোন প্রস্তুতি আপনাদের এলাকায় দেখছেন কি?

বাংলাদেশে সাধারণ মানুষ কতটা মানছেন সচেতনতামূলক নির্দেশনা জানতে এই প্রতিবেদনটি পড়তে পারেন।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর বাংলাদেশেও নানা ধরণের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

এবারে ভিন্ন প্রসঙ্গে যাই।

বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে ২০০৪ সালের রেডিও ধারাবাহিক সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি অনুষ্ঠানটি টেক্সট আকারে আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হচ্ছে। গত মাসের ২৭ তারিখে ২০ নম্বর দিয়ে শুরু।

এই ধারাবাহিক নিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন করে লিখেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাহাঙ্গীর আলম:

''সম্ভবত ২০০৪ সালে বিবিসি বাংলা কর্তৃক জরিপ-কৃত একটি তালিকা "সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি"। এখানে ২০ জনের একটা তালিকা পাওয়া যায়। এখন আমার মাথায় কয়েকটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

১। জরিপের প্রক্রিয়াটা কেমন ছিল?

২। তালিকায় ২০ জনকে কেন রাখা হলো? নাকি আরও ছিল? যদি থাকে তাহলে প্রচার না করার কারণ কী?

৩। বিবিসি বাংলা "সর্বকালের" শব্দটা কীভাবে ব্যবহার করলো? বিবিসি বাংলা ভবিষ্যতে অন্যদের জন্য শ্রেষ্ঠ বাঙালি হওয়ার পথ বন্ধ করে দিলো? মানে আর কারো এই তালিকায় ভবিষ্যতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি?

৪। মিনার রশিদ নামক একজন লেখক একটা লেখায় দাবি করেছেন এই তালিকা আরও বড় ছিল। উনার বক্তব্য হলো জামায়াতে ইসলামের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আজমের নাম ছিল তালিকায় ৩৫তম অবস্থানে।''

বেশ কয়েকটি প্রশ্ন করেছেন মি. আলম।

প্রথম প্রশ্নর উত্তরে বলবো, প্রক্রিয়ায় ছিল খুব সাধারণ। শ্রোতাদের পাঁচজনের নাম দিতে বলা হয়েছিল তাদের নির্বাচনের ক্রমানুসারে। প্রতিজনের তালিকার প্রথম নামকে ৫ পয়েন্ট, দ্বিতীয় জনকে ৪, তৃতীয়কে ৩, চতুর্থকে দুই এবং পঞ্চম ব্যক্তিকে ১টি পয়েন্ট দেয়া হয়েছিল। অংশগ্রহণের শেষ দিন পার হলে আমরা প্রতিটি মনোনয়নের সব পয়েন্ট যোগ করি। এই মোট পয়েন্টের ভিত্তিতে আমরা এক থেকে কুড়ি নম্বর পর্যন্ত তালিকা তৈরি করি।

দ্বিতীয়ত, এরকম তালিকায় নির্দিষ্ট সংখ্যাই থাকে। এটা শীর্ষ দশ হতে পারতো, আবার শীর্ষ ৩০ও হতে পারতো। আমরা শীর্ষ ২০ করার সিদ্ধান্ত নেই। মোট নাম এসেছিল ১৩০ জনেরও বেশি। কিন্তু আমদের অনুষ্ঠান ছিল শীর্ষ কুড়িজন নিয়ে, ১৩০ বা ৩৫ জনের না।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নামটা দেবার কারণ ছিল, এই দুটো শব্দের সংমিশ্রণে একটি ছন্দ আছে, এবং একই সাথে যে ব্যক্তিদের নাম প্রথম ২০টি স্থানে আসবে, বাঙালির ইতিহাসে তাদের বিশেষ অবদানের যথাযথ মর্যাদা এই নামটি দেবে। আর এই তালিকায় আর কারো নাম যুক্ত হবার সম্ভাবনা নেই কারণ অদূর ভবিষ্যতে নতুন করে এই জরিপ করার কোন পরিকল্পনা আমাদের নেই।

আর তালিকা আরো বড় ছিল বলতে কি বলছেন তা বুঝতে পারছি না। কুড়ি জনের তালিকায় কুড়িটা নামই থাকবে। আগেই যেটা বলেছি, নাম এসেছে ১৩০টিরও বেশি। তার মধ্যে গোলাম আযমসহ বেশ কয়েকজন রাজনীতিকও ছিলেন, কিন্তু তাদের কেউ প্রথম কুড়ি স্থানে ছিলেন না, কাজেই তাদের নিয়ে অনুষ্ঠান করার প্রশ্নও ছিল না।

ছবির উৎস, Douglas Miller/Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

শেখ মুজিবুর রহমান

শেখ মুজিব এবং বিবিসি নিয়ে একটি চিঠি লিখেছেন পঞ্চগড়ে বড়শশী থেকে মোহাম্মদ উজ্জ্বল ইসলাম:

''বাংলাদেশের সকল সরকারি কর্মকর্তা,কর্মচারী বা সরকারি বেসরকারি গণমাধ্যমগুলোতেও শেখ মুজিবুর রহমানকে তেনার নামের আগে,বঙ্গবন্ধু, জাতির জনক,বা জাতির পিতা বলতে শুনি। কিন্তু বিবিসি বাংলায় তার নামের আগে এসব কথা বলতে শুনিনা কেন?''

এর কারণ হচ্ছে আমরা কোন ব্যক্তির নামের আগে সেরকম কোন উপাধি যোগ করি না মি. ইসলাম। কর্মক্ষেত্রে কোন র‍্যাংক যেমন সেনাবাহিনীর র‍্যাংক বা উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পদ যেমন অধ্যাপক ইত্যাদি যোগ করা হয়। বাংলাদেশে যেহেতু আমরা একটি বিদেশি সংবাদ মাধ্যম, তাই আমাদের কাজের ধরণে স্থানীয় মিডিয়া থেকে কিছুটা পার্থক্য থাকবেই।

পরের চিঠি লিখেছেন টাঙ্গাইলের সরকারি ম্যাটস থেকে বিলকিস আক্তার:

''গত দোসরা মার্চ সোমবারের বিবিসি প্রবাহ অনুষ্ঠানটি আমি অনলাইন চ্যানেল আইতে দেখছিলাম- তাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কোলকাতায় কাটানো সময়ের উপর অমিতাভ ভট্টশালীর রিপোর্টটি ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী। কিন্তু তা মাঝে মাঝে এমনভাবে আটকে যাচ্ছিলো যে শুনতে বেশ সমস্যা পোহাতে হয়েছে। এটা চ্যানেল আইয়ের কারিগরি সমস্যা নাকি বিবিসিই ত্রুটিপূর্ণ ভাবে রিপোর্টটি রেকর্ডিং করেছে দয়া করে বলবেন কি?''

বিষয়টি খুবই লজ্জার মিস আক্তার। আমরা অবশ্যই চাই না আমাদের কোন ভিডিওতে কোন টেকনিকাল ক্রুটি থাকুক। আমরা বিষয়টি এখনো পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারছি না, কারণ সম্প্রচারের আগে সেরকম কোন ত্রুটি লক্ষ্য করা যায়নি। তবে আশা করি শীঘ্রই জানতে পারবো ত্রুটি কোথায় হয়েছিল।

ছবির ক্যাপশান,

এট্রান্স পাশ করার পর শেখ মুজিবুর রহমান ভর্তি হয়েছিলেন কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে যেটির বর্তমান নাম মাওলানা আজাদ কলেজ।

বিবিসি বাংলার ইউটিউব চ্যানেলে অমিতাভ ভট্টশালীর প্রতিবেদন দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

এবার পুরনো একটি বিষয়ে নতুন একটি চিঠি, লিখেছেন রাজশাহীর বাঘা থেকে হৃদয় হোসেইন:

''বিবিসি বাংলার কাছে আমার একটা প্রশ্ন থেকেই যায়। একটা অনুষ্ঠান বাদ দিয়ে অন্য একটি অনুষ্ঠান চালু করা হলো, এতে কি শ্রোতার সংখ্যা বাড়ছে না কমছে? আমার গ্রামের যারা বিবিসি শুনে তাদের মধ্যে জরিপ করে দেখেছি ৫০জন মানুষের মধ্যে ৩০জনই পরিক্রমা অনুষ্ঠান শুনে না! আমার প্রশ্ন হচ্ছে বিবিসি বাংলা কি সঠিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ?''

আমরা ব্যর্থ হলাম কি না, সেটা বলার সময় আসেনি মি. হোসেইন। আপনার গ্রামে হয়তো কেউ পরিক্রমা শোনে না, কিন্তু আমরা যখন জরিপ করি সেটা সারা দেশে বিভিন্ন বয়স, বিভিন্ন পেশা, নারী-পুরুষ, শহর-গ্রাম ইত্যাদির আনুপাতিক হার অনুযায়ী মানুষ বাছাই করে জরিপ চালানো হয়। সেরকম বিজ্ঞানসম্মত জরিপের ফলাফলকেই আমরা গ্রহণ করি।

পরের চিঠি লিখেছেন পঞ্চগড়ের হাড়িভাসা থেকে সাজ্জাদ হোসেন:

''ইদানিং শুনছি রাত সাড়ে দশটার খবরটা আন্তর্জাতিক খবর দিয়ে শুরু হচ্ছে। দেশেরখবরগুলোকে পরে প্রচার করা হচ্ছে। এতে বিবিসি কী প্রমাণ করতে চাচ্ছে?''

এখানে প্রমাণ করার কিছু নেই মি. হোসেন। সন্ধ্যার প্রবাহ আমরা কখনো দেশ, কখনো বিদেশের খবর দিয়ে শুরু করি। খবরের গুরুত্বের ওপর নির্ভর করে কোনটা আগে আসবে। আর পরিক্রমায় যেহেতু দেশের নতুন খবর খুব একটা থাকে না, তাই সংবাদ বুলেটিন দিয়েই অনুষ্ঠান শুরু করা হয়, যে বুলেটিন প্রবাহতে অনেক পরে থাকে।

আমাদের সাম্প্রতিক একটি ভিডিও ধারাবাহিক, তিরিশে ফিনিশ নিয়ে লিখেছেন ঢাকার ধানমণ্ডি থেকে শামিম উদ্দিন শ্যামল:

''গত বছরের শেষের দিকে চমৎকার অনুষ্ঠান 'তিরিশে ফিনিশ' বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছিল। নারীদের ব্যাপারে বাংলাদেশের মানুষের আদিকাল থেকে অবহেলা আর তাচ্ছিল্যের সংস্কৃতি মস্তিষ্ক মজ্জায় গেঁড়ে বসে আছে। প্রতিকূল এ পথ থেকে বেরিয়ে আসা অত্যন্ত ভয়ংকর। তবুও নারীদের অদম্য ইচ্ছার কর্ম 'তিরিশে ফিনিশ' অনুষ্ঠানে ফুটে উঠেছে।

''নারীদের উৎসাহ ও সাহস দিয়ে এগিয়ে নেয়ার প্রয়াসে বিবিসি বাংলার 'তিরিশে ফিনিশ'-এর মতো অনুষ্ঠানের প্রয়োজন। নারীদের নিয়ে সামনে কোন অনুষ্ঠান নিয়ে কি ভাবছে বিবিসি বাংলা? নারীদের নিয়ে নিয়মিত রেডিওতে কোন অনুষ্ঠান রাখার পরিকল্পনা কি বিবিসি বাংলার আছে?''

না মি. রহমান, নারীদের নিয়ে নিয়মিত কোন রেডিও অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা আমাদের নেই। আমরা নারীদের কোন বাক্সে ফেলে আটকে দিতে চাইনা, বরং আমাদের সকল নিয়মিত খবর এবং অন্যান্য পরিবেশনায় তাদের যথাযথ স্থান দিতে চাই।

ভিডিওর ক্যাপশান,

যৌনকর্মীর পেশা ছেড়ে হাজেরা বেগম গড়ে তুলেছেন যৌনকর্মীদের বাচ্চাদের জন্য এক আশ্রয় কেন্দ্র

শামীম উদ্দিন শ্যামল যখন বিবিসি বাংলা নারীদের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠান চাইছেন তখন পাবনার ভাঙ্গুরার শ্রোতা মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বাচ্চু মনে হয় নারীদের কণ্ঠ শুনে অতিষ্ঠ হয়ে গেছেন:

''বিগত কয়েক সপ্তাহের ফোন-ইন অনুষ্ঠান শুনে অবাক হলাম যে, বিবিসি বাংলা ফোন-ইনে বেশিরভাগ মেয়েদের মতামত নেওয়াকে প্রাধান্য দিচ্ছে। ফোন-ইনে কি শুধু মেয়েরাই মতামত দেওয়ার জন্য বিবিসি বাংলার সাথে যোগাযোগ করে? নাকি ছেলেরাও যোগাযোগ করে? যদি ছেলেরাও যোগাযোগ করে তাহলে কেন তাদের মতামত নেওয়াকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে না? বিবিসি বাংলা কি নারীর ক্ষমতায়নের নামে ছেলেদের প্রতি বৈষম্য করছে?''

গত কয়েক সপ্তাহ আমরা ফোন-ইন অনুষ্ঠানে নারীদের প্রাধান্য দিচ্ছি, সে কথা ঠিক মি. ইসলাম। তার কারণ হচ্ছে, বিগত কয়েক বছর ধরে ফোন-ইন অনুষ্ঠানে পুরুষদের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। তখন অবশ্য আপনি বিষয়টিতে অবাক হয়ে চিঠি লেখেননি। যাই হোক, অতীতে নারীদের প্রতি বৈষম্য শুধরে দেবার জন্য আমরা তাদের প্রাধান্য দিচ্ছি। আশা করছি শীঘ্রই অনুষ্ঠানে প্রয়োজনীয় ভারসাম্য অর্জন করা সম্ভব হবে।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ

বাগেরহাট থেকে তৈমুর হোসেন

ঢাকা থেকে দিলিপ কুমার

নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান চৌধুরী

চট্টগ্রাম থেকে প্রসূন দাস

বগুড়া থেকে আবু ওবায়দা

গাইবান্ধার দারিয়াপুর থেকে মাহবুব রহমান মামুন

পটুয়াখালী থেকে মোহাম্মদ ইলিয়াস জোমাদ্দার ইমন।

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থেকে দীপক চক্রবর্তী

ঝালকাঠির তালগাছিয়া থেকে শহীদুল ইসলাম

খুলনার কপিলমুনি থেকে মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাহ বাপ্পী

আর ঢাকা থেকে তানজিলুর রহমান