করোনাভাইরাস: মসজিদে ৫ জনের বেশি জমায়েতের প্রতিবাদ করে প্রাণ হারালেন যুবক

নামাজ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে জনসমাগম এড়িয়ে চলতে বলা হয়।

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে পাঁচজনের বেশি একসাথে মসজিদে নামাজ পড়ার প্রতিবাদ করে আক্রমণের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক যুবক।

করোনাভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধে সম্প্রতি মসজিদে জামাতে সর্বোচ্চ পাঁচজন অংশ নিতে পারবে বলে নির্দেশনা জারি করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। শুক্রবার জুমার নামাজের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা দশ।

গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ. সাইদুর রহমান খান জানিয়েছেন, "সুজন শেখ নামের ২৫ বছর বয়সী এক যুবক গত রাতে এশা'র নামাজ পড়ার সময় কয়েকজনকে বলেছে পাঁচ জনের বেশি নামাজ পড়ো না। যেহেতু সরকারের একটা নির্দেশনা আছে। অন্য গ্রুপের কথা হল পড়লে অসুবিধা কী? ওই জামাতে পাঁচজনের বেশি লোক গিয়েছিল। ছেলেটা তখন প্রতিবাদ করেছিল। এটা নিয়ে রাতে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।"

"এই কথা কাটাকাটির জেরে পরদিন ফজরের নামাজের পরপর মসজিদের আশপাশে দাড়িয়ে থাকা সুজন শেখের উপর হামলা চালায় অপর পক্ষের লোকজন।"

মি. খান জানিয়েছেন, নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় এখনো কেউ গ্রেফতার হয়নি। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বায়তুল মোকাররম মসজিদে নামাজ।

সেখানে আগে থেকেই দুটি পরিবার মাতবর ও শেখ বংশের মধ্যে বিরোধ ছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। গতরাতে দুই পক্ষের লোকেরাই একসাথে মসজিদে গিয়েছিলেন।

এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে সরকার নির্দেশনা দিয়েছিল যে মসজিদে একসঙ্গে পাঁচজনের বেশি ব্যক্তি নামাজ পড়তে পারবেন না।

সরকারের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মসজিদে শুধু ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং খাদেমরা নামাজ পড়তে পারবেন। সাধারণ মানুষজনকে ঘরে নামাজ পড়ার নির্দেশনা দেয়া হয়।

অন্য ধর্মাবলম্বীদেরও তাদের উপাসনালয়ে জড়ো না হয়ে নিজ নিজ বাড়িতে প্রার্থনা বা উপাসনা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।