এডিটার'স মেইলবক্স: করোনাভাইরাসের হাতে দুর্বল নেতৃত্ব আর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কি অসহায়?

বাংলাদেশে গার্মেন্টস শ্রমিক

ছবির উৎস, SOPA Images

ছবির ক্যাপশান,

বাংলাদেশে গার্মেন্টস শ্রমিক: মহামারির কবলে অর্থনীতি

খবরে এখন করোনাভাইরাস ছাড়া খুব একটা কিছু নেই। তবে পশ্চিমা বিশ্বে বেশ কিছু জায়গায় বর্ণবাদী, সাম্রাজ্যবাদী নেতাদের মূর্তি বিক্ষোভকারীদের রোষানলে পড়েছে। দু'একটি ভেঙে ফেলা হয়েছে।

আমেরিকায় দাস প্রথার সমর্থক এক প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের মূর্তি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বেলজিয়ামে এক প্রাক্তন রাজা দ্বিতীয় লিওপোল্ড, যাকে আফ্রিকার দেশ কঙ্গোতে লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যার জন্য দায়ী করা হয়, তার মূর্তি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। লন্ডনে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী উইস্টন চার্চিলের মূর্তি তছনছ করা হয়েছে।

হয়তো কিছু দিন পর এই তালিকায় রবার্ট ক্লাইভ, যিনি নবাব সিরাজ-উদ দৌলাকে হটিয়ে বাংলায় ব্রিটিশ রাজত্বের সূচনা করেছিলেন, তার নামও উঠবে।

ছবির উৎস, ISABEL INFANTES

ছবির ক্যাপশান,

ব্রিটেনের যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রীর মূর্তিতে গ্রাফিতি: ''চার্চিল একজন বর্ণবাদী ছিলেন।''

যাই হোক। পাঠকের মনোযোগ কিন্তু পুরোপুরি এক দিকে - করোনাভাইরাস। এবং আজ বেশির ভাগ চিঠির বিষয় হচ্ছে এই রোগ বা অর্থনীতিতে তার প্রভাব।

সম্প্রতি পত্র-পত্রিকায় খবর এসেছে যে শীঘ্রই গার্মেন্টস শিল্পে শ্রমিক ছাঁটাই হতে পারে। এ'নিয়ে মন্তব্য করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-আইন সিটি থেকে ওবায়েদুল ইসলাম উজ্জ্বল:

''গার্মেন্টস কর্মীদের ছাঁটাই না করে, তাদের বেতন কমিয়ে বা ৩০ দিনের জায়গায় ১৫ দিন ডিউটি পরিচালনা করেও তাদের কর্মসংস্থান রক্ষা করা যায়। অর্ধেক কর্মী ১৫ দিন আর বাকি অর্ধেক কর্মী ১৫ দিন কাজ করলে কিছু বেতন সবাই পেত , যার মাধ্যমে এই মহামারির সময় তারা তাদের সংসার চালাতে পারতো।

''দেশের মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছে এবং দেশের বাহির থেকে প্রবাসীরা কর্ম হারিয়ে দেশে চলে আসছে। মহামারিতে কাজের গতিও থেমে গেছে। এমন সংকটময় মুহূর্তে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সাথে মালিকের এমন আচরণ অমানবিক, স্বাধীন বাংলাদেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে।''

শ্রমিক ছাঁটাই বা কর্মহীনতা একটি রুগ্ন অর্থনীতির লক্ষণ মি. ইসলাম। করোনাভাইরাস এবং লকডাউনের কারণে যে বাংলাদেশের অর্থনীতি ভীষণ ভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে শ্রমিকের কর্মসংস্থান রক্ষা করে কোম্পানিকে টিকিয়ে রাখা যায়, সেটাই সবার প্রচেষ্টা হওয়া উচিত। বেতন কমানো বা কাজের সময় কমিয়ে আনা ইত্যাদি অনেক পথই বিবেচনা করা উচিত।

ছবির উৎস, MUNIR UZ ZAMAN

ছবির ক্যাপশান,

অর্থনীতি সচল করতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে গণ পরিবহন চালু করা হয়েছে।

একই প্রসঙ্গে লিখেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাকামে মাহমুদ চৌধুরী, তবে তিনি বিষয়টিকে ভিন্ন দিক থেকে দেখছেন:

''গত সপ্তাহে বিজ্ঞাপন বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে সাবির মুস্তাফা বলেছিলেন, বড় বড় কোম্পানিগুলো যেখানে সরকারি প্রণোদনার অপেক্ষায় রয়েছে, সেখানে তারা কীভাবে টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন সংখ্যা বাড়াতে পারে। উত্তরটি শোনার পরে আমার মনে আরেকটি প্রশ্ন জাগলো। এত বড় বড় কোম্পানি হওয়া সত্ত্বেও এতদিন ধরে ব্যবসা করার পরেও কি তারা কোনো লাভ করতে পারেনি যে, এক দেড় মাসেই তাদের এই করুণ অবস্থা।

''তার উপর যেখানে এই মহামারির পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের আগলে রাখার কথা সেখানে তারা ছাঁটাই করতে ব্যস্ত। বিষয়টি একটু ভেবে দেখুন তো, এত বড় নামী দামী কোম্পানিগুলো যদি সরকারের সাহায্যের আশায় চেয়ে থাকে, তবে গরীব দুঃখী শ্রমিক সমাজের কি অবস্থা।''

কোম্পানিগুলোর এই অবস্থা কিন্তু সরকারের সিদ্ধান্তের কারণেই হয়েছে মি. চৌধুরী, তাদের নিজেদের কোন ব্যর্থতার জন্য নয়। সেজন্য, সরকারের আদেশে যখন দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যায়, তখন কোম্পানি এবং কর্মচারী, দু'টোর দেখভাল করার দায়িত্ব সরকারের ওপরই বর্তায়। কোম্পানিগুলো প্রণোদনা চায় যাতে তাদের শ্রমিক ছাঁটাই করতে না হয়। আর কোম্পানি যদি দেউলিয়া হয়ে যায়, তাহলে কর্মচারীদের কোন চাকরিই থাকবে না। বাংলাদেশে সরকার মন্দা মোকাবেলায় এক লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে, দেখা যাক এই টাকা কীভাবে বিতরণ করা হচ্ছে।

ছবির উৎস, SOPA Images

ছবির ক্যাপশান,

লকডাউন উঠেবে, এই আশায় ঘরমুখী তরুণ অপেক্ষা করছে লঞ্চ ঘাটে।

লকডাউন তুলে নেয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন বগুড়ার শেরপুর থেকে সম্পদ কুমার পোদ্দার বলরাম:

''গত মাসের ৩১ তারিখ থেকে বাংলাদেশ সরকার সীমিত পরিসরে অফিস, আদালত, দোকানপাট, শপিং মল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দিয়েছে। এটা সময়ের সাথে অত্যন্ত সাহসী উদ্যোগ। আমি এটাকে সাধুবাদ জানাই। কারণ কতদিন আর মানুষকে গৃহবন্দী করে রাখা যায়।

''বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে করোনাভাইরাসকে সাথে নিয়েই হাতে-হাত, কাঁধে-কাঁধ রেখে মিলেমিশে নিয়ম কানুন মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে খুব সাবধানে চলতে হবে। যদিও এটাকে সামাজিক দূরত্ব না বলে শারীরিক দূরত্ব বলাকে বেশি সঠিক মনে করি।''

লকডাউন চলতে থাকলে লক্ষ লক্ষ কর্মহীন মানুষ অনাহারের মুখে পড়ার আশঙ্কা থেকেই সরকার সম্ভবত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত সফল হবে যদি অন্তত তিনটি শর্ত পালন করা যায়। প্রথমটি আপনি বলেছেন, অর্থাৎ সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। কিন্তু এখানে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে, যেটা নিয়ে আলোচনা করেছেন পরের দু'জন পত্র লেখক।

ভিডিওর ক্যাপশান,

সাধারন ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত কতটা ঝুঁকি তৈরি করছে?

বাংলাদেশকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার অনুযায়ী বিভিন্ন জোনে ভাগ করে স্থানীয়ভাবে লকডাউন করার কৌশল নিয়ে মন্তব্য করেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে এলাকা বা জোন ভিত্তিক লকডাউনের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তা যথাযথ কার্যকর হওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব এলাকায় করোনার সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, সামনের দিনগুলোতে সংক্রমণ আরও বাড়বে। সেক্ষেত্রে করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষার সংখ্যা আরও অনেক বাড়ানো জরুরি।

''শনাক্তকরণ পরীক্ষা বাড়ানোর মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যাবে কোন এলাকায় করোনা সংক্রমণের ব্যাপকতা কেমন। দুঃখজনক হলেও সত্য, করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষার গতি অত্যন্ত মন্থর। এ দুর্বলতা যত দ্রুত কাটিয়ে ওঠা যায়, ততই মঙ্গল।''

আপনি ঠিকই বলেছেন মি. রহমান। ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করার জন্য নমুনা পরীক্ষার হার বহুগুণ বাড়ানো উচিত। এটাও ঠিক যে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা এই মহামারিতে অত্যন্ত নির্মম ভাবে প্রকাশ পেয়েছে। যার ফলে রোগীদের চিকিৎসা না পাওয়া, পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ব্যর্থ হওয়া, বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে রোগীর মৃত্যু - এ'রকম বহু করুণ গল্প প্রতি দিন গণমাধ্যমে আসছে। কাজেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দ্রুত তাদের কাজ গুছিয়ে না আনলে এই মহামারি যে কী পরিমাণ ক্ষতি করবে তা কল্পনাও করা যাচ্ছে না।

সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ব্যাপক বিনিয়োগ প্রয়োজন, বিশেষ করে ডাক্তার, নার্স, টেকনোলজিস্ট এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যথেষ্ট ওষুধ এবং জরুরি সরঞ্জাম সংগ্রহ করা ইত্যাদি। কাজ অনেক এবং তার জন্য দরকার উপযুক্ত নেতৃত্ব এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা। বাংলাদেশ যে ভাইরাস মোকাবেলা করতে প্রাথমিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে, তা এখন নির্দ্বিধায় বলা যায়। কিন্তু এখনো সময় আছে ক্ষতির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ যাতে না হতে পারে তার ব্যবস্থা নেয়া। কিন্তু তার জন্য যে নেতৃত্ব দরকার, তা কি আপনি দেখছেন?

ছবির উৎস, ইউনাইটেড হসপিটাল

ছবির ক্যাপশান,

বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গিয়ে অনেকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চাপ যখন সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সামাল দিতে পারছে না তখন বেসরকারি হাসপাতালগুলোর দিকে অনেকেই তাকাচ্ছেন। কিন্তু সেখানেও পরিস্থিতি সুখকর নয়। এ'নিয়ে মন্তব্য করেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''জুন মাসের ৯ তারিখ মঙ্গলবারের প্রবাহে রাকিব হাসনাত এর রিপোর্টে বাংলাদেশের বেসরকারি চিকিৎসা খাতের যে বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনার চিত্র উঠে এসেছে সেটি সত্যি খুব দুঃখ জনক। বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে কেবল মোটা অংকের টাকা গুনতে হচ্ছে তাই নয়, নানা রকম হয়রানিও হতে হচ্ছে।

''রাজধানী শহরের নাম করা বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে যদি এমনটা হয় তাহলে দেশের অন্যান্য শহরের বেসরকারি হাসপাতালে কী চলছে সহজে অনুমান করা যায়। বেসরকারি হাসপাতালগুলোর দিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে একটু বিশেষ ভাবে নজর দেওয়া উচিৎ বলেই মনে হয়।''

শুধু নজর দিলেই হবে বলে মনে হচ্ছে না মি. সরদার। এখানে খতিয়ে দেখতে হবে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর তাদের দায়িত্ব পালনে এই ব্যর্থতা কেন? তাদের ডাক্তার-নার্সরা কি করোনাভাইরাস আক্রান্তদের নিয়ে কাজ করতে চায় নি? এর কারণ কী? কারণ জেনে সেগুলো ঠিক করা জরুরি। তারপরও যদি অনীহা দেখা যায়, তাহলে তাদের এই পেশায় না থাকাই ভাল।

ভিডিওর ক্যাপশান,

মুগদা হাসপাতাল এলাকা থেকে তোলা যে ছবি ফেসবুকে ভাইরাল

আরো লিখেছেন ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে মোহাম্মদ মোবারক হোসাইন:

''বিবিসির প্রতিবেদনে পড়লাম স্বাস্থ্য খাতের করুণ অবস্থার কথা। স্বাস্থ্য খাতের উন্নতি কেন হচ্ছে না? আমি বলি স্বাস্থ্য খাতের উন্নতি কেন হবে? কীভাবে হবে? বাজেট তো কম করা হয় না কিন্তু পুরো বাজেট তো আর সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয় না। বড় অংক নেতাদের পকেটে চলে যায়, বাকি দিয়ে আর কী হবে। বাংলাদেশের মত দেশে ছয় হাজার টাকায় বালিশ এবং আইসিইউ বেডের একটি পর্দার দাম ৩৭ লক্ষ টাকা হতেই পারে। এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।

''এত দুর্নীতি যে দেশে হয় সেখানের স্বাস্থ্যখাত এর থেকে ভালো কীভাবে হতে পারে। আমি মনে করি এত দুর্নীতি সত্ত্বেও যা আছে অনেক ভালো আছে। তবে যদি আরো ভালো করতে হয় তাহলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে নতুন করে ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। যেরকম ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল স্বাধীনতা বিরোধীদের বা রাজাকারদের জন্য।''

আপনি ঠিকই বলেছেন মি. হোসাইন, যে কোন খাতে বরাদ্দ টাকার একটি বড় অংশ যদি লুটপাট হয়ে যায়, তাহলে উন্নতি কীভাবে হবে? তবে বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন অনেক বছর ধরে থাকা সত্ত্বেও দুর্নীতি কমার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে ন। হয়তো আপনার আইডিয়া ঠিক, দুর্নীতি দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হতে পারে।

ছবির উৎস, VIEW press

ছবির ক্যাপশান,

নিউ ইয়র্কে শিল্পী ইওর্গে রড্রিগেজ করোনাভাইরাসে মৃত অভিবাসী ডাক্তার স্মরণে শিল্পকর্ম তৈরি করছেন।

সম্প্রতি একজন প্রবাসী ডাক্তারের ঢাকায় আসা নিয়ে অনেক হৈচৈ সৃষ্টি হয়েছে। ফেরদৌস খন্দকার নামক এই প্রবাসীর প্রতি যে আচরণ করা হয়েছে, তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করে লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:

''নিউইয়র্ক ভিত্তিক চিকিৎসককে নিয়ে শুধু ফেসবুকে কেন, অনেক অনলাইন পোর্টালে পক্ষে-বিপক্ষে লেখালেখি হচ্ছে। তিনি নাকি কার ভাগিনা আবার কারো ভাতিজা, আবার কোন বিশেষ রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত, ইত্যাদি। যদিও এ যাবত কেউ এগুলো প্রমাণ করতে পারেনি বলেই উক্ত ডাক্তার দাবি করছেন। আমার প্রশ্ন হল, দেশের এই ক্রান্তিকালে কোন ব্যক্তি যদি সেবার উদ্দেশ্য নিয়ে এতটা পথ পাড়ি দিয়ে আসতে পারেন, আমরা কেন এতটা বৈরি হলাম মানুষটির প্রতি?

''পরবর্তীতে যারা এভাবে উপকার করতে আসবেন, তাদের প্রতি কি এক ধরণের নেতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিলাম না আমরা? যাইহোক, যারা ওনার ক্ষতি করতে উঠে পড়ে লেগেছেন তাদের বোধহয় বোঝা উচিত যে ডাক্তারকে তারা ইতোমধ্যে এমন অনেকের কাছেই পরিচিত করে তুলেছেন, যারা তাকে আদৌ চিনতেন না।''

আপনার শেষ কথা বেশ মজার, কারণ আসলেই কয়জন উনাকে চিনতেন? কিন্তু এখন লক্ষ লক্ষ লোক এই বিতর্কের সুবাদে তাকে চেনেন এবং তার প্রতি সহানুভূতিশীল। তিনি হয়তো কিছু নিয়ম-কানুন মানেন নি, যেমন কাস্টমস-এর বিষয় বা বিদেশী ডাক্তার বাংলাদেশে রোগী দেখতে গেলে কোথায় অনুমতি নিতে হয় ইত্যাদি। কিন্তু সেগুলো সংবেদনশীল দৃষ্টিতে দেখা যেত, যাতে তিনি কিছুটা হলেও সাহায্য করতে পারেন।

এবারে ভিন্ন প্রসঙ্গে যাই। আমাদের সংবাদ প্রচার এবং ফোন-ইন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে লিখেছেন ঢাকা থেকে বেলাল হোসাইন রবি:

''ইদানিং মনে হচ্ছে বিবিসি খবর প্রচারে তাদের জায়গা থেকে নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে। যেদিন বাংলাদেশে করোনার রোগী বেশি শনাক্ত হন, বেশি সংখ্যক রোগী মৃত্যুবরণ করেন সেদিন বিবিসি বাংলা খুব ছোট পরিসরে এই খবর প্রচার করেন।

''যেটা আমার কাছে খুব কষ্টের। আবার ফোন-ইন অনুষ্ঠানগুলোতে বেশিরভাগ সময়ই মহিলাদের সুযোগ প্রদান করা হয়, কেন সেই উত্তরটা খুব করে জানতে চাই।''

আপনার কথার সাথে আমি একমত হতে পারছি না মি. হোসাইন। বাংলাদেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে আমরা প্রতি দিনই রেডিও এবং ওয়েবসাইট দুটোতেই সংবাদ পরিবেশন করছি। একই সাথে এই মহামারির বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রতি দিনই প্রতিবেদন প্রচার করা হচ্ছে।

আর ফোন-ইন অনুষ্ঠানে বেশির ভাগ নারী কেন, এই প্রশ্নের জবাব আমি বহুবার এই কলামেই দিয়েছি। সংক্ষেপে উত্তরটি বলি, বিবিসির নীতি হচ্ছে আমাদের পরিবেশনায় নারী এবং পুরুষের সমতা আনতে হবে, অর্থাৎ ৫০:৫০। কিন্তু ফোন-ইনে সাধারণত যেহেতু পুরুষরাই অংশগ্রহণ করতেন, সেখানে ভারসাম্য আনার জন্য নারীদের সাময়িকভাবে একটু বেশি স্থান দেয়া হচ্ছে, যেটা আমাদের সার্বিক অনুষ্ঠানমালায় সমতা আনার ক্ষেত্রে সহায়তা করছে।

সব শেষে ছোট একটি প্রশংসা পত্র, লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। থেকে আব্দুর রহমান জামী:

''বিশ্ব এখন বড় ধরনের সংকটের সম্মুখীন। করোনার মতো বৈশ্বিক এই মহামারি প্রতিহত করার জন্য বিজ্ঞানীরা প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিবিসি বাংলার সাংবাদিক সুহৃদগণ করোনা সম্পর্কে নিত্যনিয়ত আপডেট পরিবেশন করছে, যা প্রশংসার দাবিদার। সংবাদ প্রতিবেদন শ্রবণ ছাড়াও আমরা বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে সমসাময়িক রিপোর্ট পড়তে পারছি। দুর্যোগাক্রান্ত এই সময়ে আপামর জনসাধারণের পাশে থাকার জন্য বিবিসি বাংলার প্রতি আমাদের সশ্রদ্ধ সালাম। ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।''

আপনাকেও ধন্যবাদ মি. রহমান, বিবিসির সাথে থাকার জন্য। আমরা আপনার চাহিদা পূরণ করতে পারছি জেনে আমাদের ভাল লাগলো।

সব শেষে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

ফয়সাল আহমেদ সিপন, ঘোড়াদাইড়, গোপালগঞ্জ।

রবিন কাজী, কুয়েত।

মোহাম্মদ সাঈদ, চট্টগ্রাম।

মোহাম্মদ ইমন হাসান, কুষ্টিয়া।

মোহাম্মদ মঞ্জুরুল আলম রিপন, মিরপুর, ঢাকা।

শহীদুল্লাহ আল হাসান, জাযান, সৌদি আরব।

রুপক তালুকদার, নেত্রকোনা।

সঞ্জয় কুমার, নাটোর।

মোহাম্মদ তারেকুল ইসলাম, গাজীপুর।

রুপ্তা বড়ুয়া, রাঙ্গামাটি।