সত্তরের দশক থেকে সঙ্গীত জগতের পরিচিত নাম আলাউদ্দিন আলী

আলাউদ্দীন আলী
ছবির ক্যাপশান,

আলাউদ্দীন আলী বেশ কয়েকবার শ্রেষ্ঠ গীতিকার ও সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে জাতিয় পুরস্কার পেয়েছেন।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে বহু জনপ্রিয় গানের সুরকার ও গীতিকার আলাউদ্দীন আলী মারা গেছেন।

আজ বিকেলে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

তার স্ত্রীর বোন শিল্পী আবিদা সুলতানা জানিয়েছেন, তাঁর ক্যান্সারের চিকিৎসা চলছিল। একই সাথে ফুসফুসে টিউমার ও প্রদাহ এবং শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরনের শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন আলাউদ্দীন আলী।

আবিদা সুলতানা জানিয়েছেন ফুসফুসের সমস্যার কারণেই গতকাল তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়।

তিনি গতকাল থেকে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। আজ ঘন্টা দুয়েক আগে সন্ধে ছয় টার দিকে তিনি মারা যান।

১৯৫২ সালে পুরনো ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন আলাউদ্দিন আলী। খুব ছোটবেলা থেকে সঙ্গীত জগতের সাথে তার যোগাযোগ ছিল পরিবারে সঙ্গীতচর্চার কারণে।

ছোটবেলাতেই বেহালা বাজানোর জন্য অল পাকিস্তান চিলড্রেনস প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি।

ষাট এর দশকেই প্রথম চলচ্চিত্রে বেহালা বাদক হিসেবে কাজ শুরু করেন। সংগীত পরিচালনায় সত্তরের দশক থেকে পরিচিত নাম হয়ে ওঠেন আলাউদ্দিন আলী।

তিনি একই সাথে সুরকার, গীতিকার, সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন। ১৯৭৫ সালে প্রথম সংগীত পরিচালনা করেন সন্ধিক্ষণ চলচ্চিত্রে। এরপর ১৯৭৭ সনে 'গোলাপি এখন ট্রেনে আর 'ফকির মজনু শাহ' চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনা করেন আলাউদ্দিন আলী। তাঁর তৈরি করা গান পায় বিপুল জনপ্রিয়তা।

চলচ্চিত্র, বেতার, টেলিভিশন মিলে প্রায় হাজার পাঁচেক গান তৈরি করেছেন তিনি। তিনি একই সাথে সুরকার, গীতিকার, সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন।

আলাউদ্দিন আলী তাঁর গানের জন্য মোট আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।

তিনি 'একবার যদি কেউ ভালবাসত', 'যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়', 'হয় যদি বদনাম হোক আরও', 'আছেন আমার মোক্তার, আছেন আমার ব্যারিস্টার', 'সুখে থাকো ও আমার নন্দিনী', 'আমায় গেঁথে দাওনা মাগো একটা পলাশ ফুলের মালা'' সহ বাংলাদেশের বহু উল্লেখযোগ্য শ্রুতিমধুর গানের সুরকার ও গীতিকার ।

এছাড়াও একতারা মাল্টিমিডিয়া প্রোডাকশন নামে তিনি একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন যেখানে সংগীত তৈরির নানান কাজ করা হয়।