বাংলাদেশে বিচার বহির্ভুত হত্যাকাণ্ডের এটাই যেন শেষ ঘটনা হয়: সিনহার মা

সিনহা মো. রাশেদ খান।

ছবির উৎস, সিনহা মো. রাশেদ খানের ফেসবুক পাতা থেকে নেয়া।

ছবির ক্যাপশান,

সিনহা মো. রাশেদ খান।

বাংলাদেশের কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে নিহত অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোঃ রাশেদ খান নিহতের ঘটনায় যে বিচারকাজ চলছে, সেটা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার মা নাসিমা আক্তার এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সংগঠন রাওয়া-র প্রেসিডেন্ট মেজর (অব.) খন্দকার নুরুল আফসার।

এই ঘটনাই যেন বাংলাদেশের শেষ বিচার বহির্ভুত হত্যাকাণ্ড হয় এমন দাবির কথাও জানিয়েছেন নিহতের মা মিসেস আক্তার।

গণমাধ্যমের সামনে দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়ে নিহতের বোন শারমিন শাহরিয়ার বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং সবাই আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে সুষ্ঠু বিচার হবে। আমাদের একটাই দাবি যেন দ্রুত তদন্ত করে বিচারকাজ সম্পন্ন করা হয়। এবং এটা যেন একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যে আমাদের দেশের আইন আছে, এখানে বিচার হয়।"

ওই একই সংবাদ সম্মেলনে সরকার ও প্রশাসনের মনোভাবের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাওয়ার প্রেসিডেন্ট।

তবে তার দাবি যেন দ্রুত বিচার সম্পন্ন হয়। তিনি বলেন, "আমরা চাই এই বিচারকাজ যেন দীর্ঘায়িত না হয়। তথ্য প্রমাণ বলে যে তাকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে। আমরা চাই সব বহির্ভুত হত্যাকাণ্ডের বিচার হোক।"

এছাড়া উক্ত এলাকার পুলিশ সুপারকে যেন প্রত্যাহার করা হয় এবং ওই ঘটনায় যে পুলিশ কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা ছিল, তাদের সব অস্ত্র যেন জব্দ করা হয়- এমন আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

সিফাতকে জামিন দিয়েছে আদালত

এর আগে, নিহত সিনহা মো. রাশেদ খানের আরেক সহকারী সাহেদুল ইসলাম সিফাতকে জামিন দিয়েছে আদালত।

পুলিশের কাজে বাধা ও মাদক আইনে দায়ের করা দুটি মামলায় কক্সবাজার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার জামিন মঞ্জুর করে।

গত ১লা আগস্ট সিফাতকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় রামু থানা পুলিশ। ৬ই আগস্ট তার জামিনের রিভিউ আবেদন করা হয় । গতকাল তার জামিন আবেদনের শুনানি শেষে আজ আদেশের দিন ঠিক করা হয়।

আদালত প্রাঙ্গণে সিফাতের আইনজীবী ও জেলা জজ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ মোস্তফা গণমাধ্যমকে বলেন, সিফাতের কাছে মাদক বা অস্ত্র কিছুই পাওয়া যায়নি এবং তিনি ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্বাক্ষী ছিলেন । তাকে ঘটনাস্থল থেকে দূরে সরিয়ে নিতেই মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত আমাদের দেয়া তথ্য বিবেচনা করে তাকে জামিন দিয়েছে।

এছাড়া সিফাতের বিরুদ্ধে পুলিশের করা দুটি মামলার তদন্তভার র‍্যাবের হাতে দেয়া হয়েছে। এখন পুলিশের কাছে থাকা মামলার সব আলামত র‍্যাবের কাছে দেয়া হবে।

একই ঘটনায় পুলিশের করা দুটি মামলা এবং সিফাতের পরিবারের করা ১টি মামলা, মোট তিনটি মামলা দায়ের হওয়ায় জটিলতা ছিল। পুরো তদন্তভার র‍্যাবের দায়িত্বে থাকলে মামলা চালিয়ে নেয়া সহজ ও সুষ্ঠু হবে এমন মর্মে আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে এই রায় দিয়েছে আদালত।

এর আগে, গ্রেপ্তার হওয়া দুই শিক্ষার্থীর একজন শিপ্রা দেবনাথের জামিন মঞ্জুর করে রামুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

ছবির উৎস, SEFAT AND SHIPRA FACEBBOK PAGE

ছবির ক্যাপশান,

সাহেদুল ইসলাম সিফাত এবং শিপ্রা দেবনাথ

৩১ শে জুলাই রাতে মেরিন ড্রাইভ সড়কে বাহারছড়া পুলিশ চেকপোস্টের কাছে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা। সে সময় তার সঙ্গে ছিলেন সিফাত।

পুলিশ দুজনকেই ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

তারা যে রিসোর্টে উঠেছিলেন, সেখান থেকে পরে শিপ্রা দেবনাথ এবং তাহসিন রিফাত নূরকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।

নিহত সিনহা মো. রাশেদ খানের সাথে কক্সবাজারে ডকুমেন্টারি তৈরির কাজ করছিলেন বেসরকারি স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই তিনজন শিক্ষার্থী।

এদের মধ্যে তাহসিন রিফাত নূরকে তাদের অভিভাবকের কাছে ছেড়ে দেয়া হয়।

পরে পুলিশ সিফাতের বিরুদ্ধে দুটি মামলা এবং শিপ্রা দেবনাথের বিরুদ্ধে মাদকের একটি মামলা দায়ের করে।

এই দুই শিক্ষার্থীর দ্রুত মুক্তি দেয়ার দাবিতে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে ঢাকায় স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন