নরেন্দ্র মোদী: কটাক্ষ করে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ে কিশোর আটক

হাতকড়া

ছবির উৎস, Getty Images

পুলিশ বলছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কটাক্ষ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার অভিযোগে এক কিশোরকে আটকের পর তাকে আজ আদালতে হাজির করা হচ্ছে।

কিশোরটিকে উত্তরাঞ্চলীয় ঠাকুরগাঁও জেলা থেকে শনিবার বিকেলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় গ্রেপ্তার করা হয়।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তানভিরুল ইসলাম বিবিসিকে বলেন, বালিয়াডাঙ্গী এলাকার বাসিন্দা এই কিশোরটি ফেসবুকে চার মিনিটের একটি ভিডিও আপলোড করে, যেখানে শুধু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নয়, বরং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে নিয়েও কটাক্ষ করা হয়েছে।

ওই কিশোর বিরুদ্ধে ফেসবুকের মাধ্যমে উত্তেজনাকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ করেন মি. ইসলাম।

পুলিশ জানাচ্ছে, জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরটি তাদের বলেছে যে, সে ফেসবুকে লাইক, কমেন্ট আর শেয়ার পাওয়ার জন্য ভাইরাল হওয়ার উদ্দেশ্যে ওই ভিডিও আপলোড করেছে।

আরো পড়ুন:

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানমালায় যোগ দিতে শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে আগামী ছাব্বিশে মার্চ ঢাকা আসছেন নরেন্দ্র মোদী।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে আগামী ২৬শে মার্চ দুদিনের সফরে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর।

এমন সময় কিশোরটিকে আটক করা হলো যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের সফর নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে নানা অবস্থান তৈরি হয়েছে।

অনেকেই মি. মোদীর বাংলাদেশে আগমনের বিরোধীতা করছেন। কয়েকটি গোষ্ঠি বিক্ষোভ প্রদর্শনও করেছে।

যে আইনে এই কিশোরটিকে গ্রেপ্তার করা হয়, সেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে বাংলাদেশে ব্যাপক বিতর্ক আছে।

অনেকেই মনে করেন এই আইনটিকে রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের জন্য ব্যাবহার করে রাষ্ট্র।

এই আইনে আটক একজন লেখক মুশতাক আহমেদ গত মাসে কারাগারে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করার পর বাংলাদেশে অনেকেই নতুন করে দাবি তোলেন আইনটি সংস্কারের।

পরে আইনমন্ত্রী বিবিসিকে বলেছিলেন আইনটি কিছু সংস্কারের কথা ভাবছেন তারা।

মি. আহমদে দশ মাসের বেশি সময় কারাগারে ছিলেন এবং তার জামিন আবেদন অন্ততঃ ছয়বার প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।

এর কিছুদিন পর আরেকজন ব্যক্তি আহমেদ কবির কিশোর নামে এক কার্টুনিস্টকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়, যাকে মুশতাক আহমেদের সাথেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং তাকে জামিন দেয়া হয়েছিল দশ মাস পর সপ্তমবারের জামিন আবেদনের পর।

মি. কবির কারাগার থেকে মুক্তি লাভের পর তাকে প্রথম যারা আটক করেছিল তাদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করেন এবং এই অভিযোগে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করেন আদালতে।

ঢাকার নিম্ন আদালত সেই মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআইকে তদন্ত করতে বলেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে কটুক্তি করার জের ধরে এর আগেও বাংলাদেশে একজনকে আটকের ঘটনা ঘটেছে।

ময়মনসিংহের এক যুবককে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল গত বছর এই সময়েই।

গতবছর মার্চ মাসেও নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকীতে অংশগ্রহণ করার জন্য।

কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির কারণে শেষ পর্যন্ত সফর বাতিল করেন মি. মোদী।

বিবিসি বাংলার আরো খবর: