পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোট: প্রথম দিনের ভোটে সন্তুষ্ট বিজেপি, অভিযোগ তৃণমূলের

  • অমিতাভ ভট্টশালী
  • বিবিসি বাংলা, কলকাতা
শনিবার প্রথম দফার নির্বাচনে মেদিনীপুরে ভোটের লাইনে দাঁড়ানো কয়েকজন নারী

ছবির উৎস, Hindustan Times/Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

শনিবার প্রথম দফার নির্বাচনে মেদিনীপুরে ভোটের লাইন

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ভোট গ্রহণের প্রথম দফায় শনিবার রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলের ৫টি জেলার মোট তিরিশটি আসনের জন্য ভোট নেওয়া হয়েছে।

ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপি বলছে, গত চার দশকের মধ্যে এদিনই সব থেকে শান্তিতে ভোট হয়েছে - ভোট জালিয়াতিও সব থেকে কম হয়েছে এদিনই।

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রচুর অনিয়মের অভিযোগ জানিয়েছে - যার মধ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে বুথ দখল, তৃণমূল প্রার্থীকে ভোট দিলে সেটা বিজেপির দিকে চলে যাওয়ার মতো অভিযোগও আছে।

এরই মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি দুটি টেলিফোন আলাপের রেকর্ডিং সামনে এনেছে, যা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে জোরেশোরে আলোচনা চলছে।

ভোটের আগের দিন পর্যন্তও যেখানে বিজেপি বারে বারে নির্বাচন কমিশনের কাছে তাদের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল যে তৃণমূল কংগ্রেস নানা ভাবে জালিয়াতি করতে পারে বা দুষ্কৃতিদের সাহায্য নিতে পারে, সেখানে ভোটের প্রথম দিন দেখা গেছে তাদের একেবারেই বিপরীত সুরে কথা বলতে।

দুপুরবেলাতেই বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয় কলকাতায় মুখ্য নির্বাচন অফিসারের সঙ্গে দেখা করার পরে সংবাদ মাধ্যমকে জানান যে ৯০ শতাংশ জায়গায় খুব শান্তিতে ভোট হয়েছে।

"এরকমটা রাজ্যে গত চার দশকেও হয়নি। দশ শতাংশ জায়গায় বুথ দখল বা তাদের কর্মী-সমর্থকদের মারধরের ঘটনা ঘটেছে। দ্বিতীয় দফা থেকে কমিশন আরও যদি কঠোর হয়, তাহলে ওইটুকু অশান্তিও হবে না।"

তবে ভোট শুরুর আগে তাদের এক কর্মীকে তৃণমূল কংগ্রেস পিটিয়ে মেরেছে বলে বিজেপি যে অভিযোগ করেছিল- নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে ওটা কোনও রাজনৈতিক হত্যা নয়, এবং নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়।

আরও পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

পশ্চিমবঙ্গে জিততে মরিয়া বিজেপি প্রচারণা পর্ব শেষে প্রথম দিনের ভোটগ্রহণ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। বিজেপির প্রতীক আঁকা শাড়িও বিক্রি হয়েছে এবারের প্রচারণা পর্বে।

উল্টো দিকে সকাল থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস একের পর এক অভিযোগ করতে থাকে যে কোথাও বিজেপি কর্মীরা তাদের বুথ এজেন্টকে ঢুকতে বাধা দিয়েছে, কোথাও ইভিএম যন্ত্রে তৃণমূলকে ভোট দিলে তা বিজেপিতে চলে যাচ্ছে, আবার কোথাও সাধারণ মানুষ যাতে ভোট না দিতে পারেন তার জন্য বুথ জ্যাম করেছে বিজেপি কর্মীরা - এরকম অজস্র অভিযোগ জানাতে থাকে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস দল।

এছাড়াও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী কোনও কোনও জায়গায় বিজেপিকে সহায়তা করছে এমন অভিযোগও করেছে তৃণমূল।

এরই মধ্যে বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেস আলাদা ভাবে দুটি টেলিফোন আলাপের রেকর্ডিং সামনে এনেছে, যার একটিতে বিজেপি দাবি করেছে মমতা ব্যানার্জি এক বিজেপি নেতার কাছে ভোটের জন্য সহায়তা চাইছেন।

অন্যটিতে তৃণমূল দাবি করেছে যে একটি টেলিফোন কলে বিজেপির দুই নেতাকে বলতে শোনা যাচ্ছে যে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে কীভাবে একটা দাবি আদায় করে নিতে হবে - যাতে বুথ এজেন্টরা যে ওই বুথেরই ভোটার হবেন, এমন নির্দেশিকা নির্বাচন কমিশন না দেয়।

ঘটনাচক্রে নির্বাচন কমিশনও পরে বলেছে, পশ্চিমবঙ্গের যে কোনও ভোটারই বুথ এজেন্ট হতে পারবেন। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ এভাবেই বিজেপি নির্বাচন কমিশনের ওপরে প্রভাব খাটিয়েছে।

ছবির উৎস, NurPhoto

ছবির ক্যাপশান,

তৃণমূলের প্রচারণার দেয়াল লিখন।

এই দুটি রেকর্ডিং নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

দ্বিতীয় দফায় পশ্চিমবঙ্গে ভোট গ্রহণ হবে পয়লা এপ্র্রিল এবং যেসব কেন্দ্রে ভোট নেয়া হবে তার মধ্যে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম যেখান থেকে প্রার্থী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আর তার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মিজ ব্যানার্জিরই এক সময়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ নেতা ও মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মি. অধিকারী নন্দীগ্রামেরই বিদায়ী এমএলএ এবং তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগকরার পর তিনি এখন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বড় নেতা।