এডিটার'স মেইলবক্স: মোদীর সফর, পুলিশের গুলি আর ফেসবুক নিয়ে প্রশ্ন

  • সাবির মুস্তাফা
  • সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
শেখ রেহানার হাতে শেখ মুজিবকে ভারতের দেয়া গান্ধী শান্তি পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

শেখ মুজিবকে ভারতের দেয়া গান্ধী শান্তি পুরস্কার শেখ রেহানার হাতে তুলে দিচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী

গোটা সপ্তাহ জুড়ে আমাদের সংবাদ পরিবেশনায় যে বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে, তা হল ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফর ঘিরে, বাংলাদেশের দু'তিনটি জায়গায় বিক্ষোভ, সহিংসতা এবং মৃত্যু।

সে'বিষয়ে কয়েকটি চিঠি দিয়ে আজ শুরু করছি, প্রথমে লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:

''ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশে আসা নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। অনেকেরই আশঙ্কা ছিল একটা বড় ধরণের ঝামেলাও হতে পারে। কিন্তু তাই বলে এত হতাহত বোধকরি কেউ কল্পনা করেনি। হাটহাজারী আর ব্রাহ্মণবাড়িয়া মিলে অন্তত বারোজন মানুষ মারা গেছেন বলে সংবাদ মাধ্যমে জানা গেছে। প্রশ্ন হল, মি: মোদী বাংলাদেশে আসলে কিই বা এমন ক্ষতি হত যার জন্য এই জীবন দিয়ে প্রতিরোধ? আচ্ছা, উনি যদি না আসতেন, তাহলেই বা কী ক্ষতি হতে পারত? উনি আসলেন, বিরোধিতাও হল, তাতে কি প্রাণহানি এড়ানো যেত না?''

বাংলাদেশে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে প্রায়ই এই ঘাটতি দেখা যায় মি. সাঈদ। বিক্ষোভ সামলাতে পুলিশ এক পর্যায়ে গুলি চালায়। কিন্তু গুলি কেন? হয়তো বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে তাদের দক্ষতার অভাব আছে, হয়তবা পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দেয়া হয় না, হয়তো যে লোকবল নিয়োগ করা হয় তারা এ'ধরণের কাজের জন্য উপযুক্ত নন, হয়তো ঢাকার বাইরে কোথাও পর্যাপ্ত সংখ্যায় পুলিশ নেই। কারণ যাই হোক, এটা অনস্বীকার্য যে বাংলাদেশ সরকারকে একটি পথ বের করতেই হবে, যেখানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার সমুন্নত রাখা হবে, এবং পুলিশ কোন প্রাণহানি না ঘটিয়ে এমনকি মারমুখী বিক্ষোভও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

আরো পড়ুন:

ছবির উৎস, NurPhoto/getty

ছবির ক্যাপশান,

মোদীর সফরের প্রতিবাদে বিক্ষোভের এক পর্যায়ে পুলিশ রাবার বুলেট ছোঁড়ে।

একই বিষয়ে লিখেছেন বগুড়ার শেরপুর থেকে সম্পদ কুমার পোদ্দার:

''ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমনকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ সারাদেশে ঘটলো এক নজিরবিহীন ঘটনা। বাংলাদেশি পুলিশের গুলিতেই নিহত হল বাংলাদেশি সাধারণ মানুষ। বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তীর দিনে বাংলাদেশেরই নাগরিকদের পবিত্র রক্তে রঞ্জিত হল রাজপথ। এই কি মুক্ত, অসাম্প্রদায়িক, মানবিক, ন্যায়বিচার-সম্পন্ন সাম্যের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ? এর জন্যেই কি দেশকে ভালোবেসে অকাতরে বুকের তাজা রক্ত দিয়েছিল বাংলাদেশের তিরিশ লক্ষ মানুষ?''

অনেক আবেগ দিয়ে কথাগুলো বলেছেন মি. পোদ্দার। যে কোন সময় পুলিশের গুলিতে বিক্ষোভকারী মারা যাওয়ার ঘটনা মর্মান্তিক এবং নিন্দনীয়। কিন্তু এরকম ঘটনা যখন দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর দিন হয়, তখন অনেকেই প্রতিক্রিয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেন।

তবে এখানে একটা কথা না বললেই নয়। খুব বেশি দিন আগে নয়, ২০১৩ সালের মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামের বিক্ষোভের সময়, গাইবান্ধায় চারজন পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছিল। পুলিশ বাহিনী কোন দিনও চাইবে না ঐ সব ঘটনার পুনরাবৃত্তি হোক। তারা আত্মরক্ষাকে গুরুত্ব দেবে। তবে আগেই যেটা বলেছি, গুলি না চালিয়ে তারা যাতে আত্মরক্ষা করতে পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় লোকবল, প্রশিক্ষণ এবং সরঞ্জাম নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের।

আরো পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

আরো লিখেছেন ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাসুম বিল্লাহ:

''ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমনকে কেন্দ্র করে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে পেলাম ১২ থেকে ১৫টি লাশ। আসলে, হেফাজতের এই আন্দোলনের কোন কার্যকারিতাই ছিল না। মাঝখান থেকে আমাদের দেশের সাধারণ জনগণকে বলি করা হল স্থানীয় জেলাগুলোর নোংরা রাজনীতির কাছে। চট্টগ্রাম এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার স্থানীয় রাজনীতির কারণেই এমনটা হয়েছে। কই, সারা দেশে তো হেফাজত ইসলাম কোন প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে নি।''

ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং চট্টগ্রামের হাটহাজারী দেশের অন্যান্য এলাকা থেকে যে কিছুটা ভিন্ন, তা বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে, সে কথা ঠিক মি. বিল্লাহ। তবে সেটা স্থানীয় রাজনীতির কারণে হচ্ছে, নাকি জাতীয় রাজনীতির প্রভাবে হচ্ছে তা বিতর্কের বিষয়। শুধু এটুকু বলা যায়, এই দুই এলাকায় ইসলামপন্থী সংগঠন, বিশেষ করে হেফাজতে ইসলামের উপস্থিতি বেশ শক্তিশালী এবং বিভিন্ন বিষয়ে আন্দোলনের সময় সেটা বোঝা যায়।

ছবির উৎস, Selim Parvez

ছবির ক্যাপশান,

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশনে আগুন

মোদী-বিরোধী বিক্ষোভ এবং সহিংসতার সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ইন্টারনেটের গতি কমে যায় বলে যেমন অভিযোগ ছিল, তেমনি অনেক জায়গায় মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করতে পারছিলেন না।

সে বিষয়ে লিখেছেন সাতক্ষিরা থেকে জেসমিন খাতুন:

''আপনাদের নিউজ শুনে বুঝলাম দেশে কোথাও কোথাও নেট স্পিড কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের এখানে তো দুদিন ধরেই ফেসবুক বন্ধ রেখেছে, এখনো সেই অবস্থাই আছে। এখানে তো কোনো বিক্ষোভ হয়নি তাহলে এখানে কেন ফেসবুক খুলে দিচ্ছে না?

''বর্তমান বিশ্বে ফেসবুকের যে অবস্থান, সে ক্ষেত্রে আন্দোলন বা এ'ধরনের কিছু ঘটলে ফেসবুক কি নিতান্তই ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়? এখানে ক্ষতি বেশি নাকি উপকার বেশি? এই আন্দোলন বলে কথা না, যেকোনো আন্দোলনে ফেসবুকের গুরুত্ব অবশ্যই আছে। এরকম মূহূর্তেও এত বড় একটা প্লাটফর্মকে বাদ না দিয়ে কিভাবে সুশৃঙ্খল ভাবে এটিকে কাজে লাগানো যায় সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মত নিয়ে আপনাদের একটা প্রতিবেদন আশা করছি।''

আপনি ঠিকই বলেছেন মিস খাতুন, রাজনৈতিক বা সামাজিক কার্যক্রমে ফেসবুক এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আমার মতে সমস্যা এখানে ফেসবুক বা ওয়াটসএ্যাপ না। যে কোন ইস্যুতে বিরোধী পক্ষর প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করার অধিকার আছে, এবং সরকার যদি সে অধিকার সমুন্নত রাখে, তাহলে তারা ফেসবুক ব্যবহার করলো, না রাস্তায় মাইকিং করলো, তাতে কিছু আসে যায় না। বিক্ষোভ যদি উশৃঙ্খল বা সহিংস হয়ে ওঠে, তাহলে পুলিশ যা ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজন, তা নেবে। কিন্তু বিরোধী পক্ষকে আটকানোর জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষকে ফেসবুকের মত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বঞ্চিত করা তাদের অধিকার লঙ্ঘন বলেই আমার মনে হয়।

ছবির উৎস, MASUK HRIDOY

ছবির ক্যাপশান,

ফেসবুক ব্যবহার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু-বিরোধী সহিংসতা উস্কে দেয়া হয় ২০১৬ সালে অক্টোবরে।

তবে ফেসবুকের কল্যাণে যে অনেক সাম্প্রদায়িক বিষ বাষ্পও ছড়ানো হয়, সে কথা তুলে ধরেছেন রিথি সুমাইয়া: 

''ফেসবুকে একজনের দেয়া পোস্টে হঠাৎ চোখ আটকে গেল। বক্তব্যটি এমন, "অসাম্প্রদায়িকতা কেবল জাহান্নামে দেখতে পাওয়া যাবে, কারণ সব পথভ্রষ্টই সেখানে মিলেমিশে শাস্তি ভোগ করবে। প্রকৃত মুসলিমরা জান্নাতে থাকবেন। অসাম্প্রদায়িকতার সুযোগ জান্নাতে নেই। কাজেই অসাম্প্রদায়িকতাকে যারা দেশের মূলনীতি বানিয়ে বিধর্মীদের সাথে মিলেমিশে থাকতে ইচ্ছুক, তারা পরকালেও মিলেমিশে শাস্তি পাবে।" সাম্প্রদায়িকতা কতটা গভীরভাবে প্রোথিত হলে এধরণের মানসিকতা চর্চা হতে পারে! এ থেকে কী আদৌ উত্তরণ সম্ভব?''

অপ্রিয় হলেও সত্য রিথি সুমাইয়া, যে সাম্প্রদায়িকতা, বর্ণবাদ ইত্যাদি মনোভাব সব সমাজেই কম-বেশি বিদ্যমান। তবে উন্নত দেশগুলোতে শিক্ষা, প্রচার এবং আইনের মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। আপনি আইন করে মানুষের সাম্প্রদায়িক মনোভাব বদলাতে পারবেন না, তবে আইন করে ভিন্ন ধর্মের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে পারবেন। সাম্প্রদায়িকতা নির্মূল করতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে শুরু করেতে হবে এবং এখানে পরিবারের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এবারে আমাদের রেডিও অনুষ্ঠান সম্প্রচার নিয়ে একটি অভিযোগ, পাঠিয়েছেন ঢাকার মগবাজার থেকে মোহাম্মদ মামুন হোসেন: 

''আমি ২৮শে মার্চ রবিবার ঢাকা এফ এম ১০০ মেগাহার্টজ-এ বিবিসি বাংলা অনুষ্ঠান পরিক্রমা শুনছিলাম। যখন বাংলাদেশের হরতালের খবর প্রচার হচ্ছিল ঠিক তখনই প্রচার বন্ধ হয়ে গেল । আমি জানতে চাচ্ছি এর কারণ কী?''

শুধু ঢাকা নয় মি. হোসেন, এই একই অভিযোগ আমরা চট্টগ্রাম থেকেও পেয়েছি। অনুষ্ঠান প্রচার প্রায় দু'মিনিট বন্ধ ছিল। এটা যান্ত্রিক, বিশেষ করে স্যাটেলাইট বিভ্রাটে হয়ে থাকতে পারে, যদিও সেটার সম্ভাবনা কম। সমস্যাটা যদি যান্ত্রিক না হয়ে থাকে, তাহলে হয়তো আপনি অনুমান করতে পারেন কেন ঠিক ঐ সময় অনুষ্ঠান সম্প্রচার ব্যাহত হয়েছিল। আমার কাছে কোন ব্যাখ্যা নেই।

ছবির উৎস, AHMAD HASSAN

ছবির ক্যাপশান,

জাহাজের নাম এভার গিভেন, কোম্পানির নাম এভার গ্রিন

আমাদের অনুষ্ঠানে একটি নামের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন করেছেন সুইডেনের স্টকহোম থেকে আবু হানিফ সুজন:

''সম্প্রতি সুয়েজ খালে আটকে পড়া জাহাজটিকে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে এভার গিভেন নামে অভিহিত করা হচ্ছে ; অথচ ছবিতে দেখা যাচ্ছে জাহাজের গায়ে স্পষ্টভাবে লেখা আছে এভারগ্রিন। তাহলে আসলে কোনটি সত্য?''

অনেকেই এই জাহাজের নাম নিয়ে বিভ্রান্তিতে ছিলেন মি. আবু হানিফ. জাহাজটির নাম এভার গিভেন। তবে জাহাজটির মালিক কোম্পানির নাম এভারগ্রিন। সেজন্য তাদের প্রতিটি জাহাজ বা লরিতে এভারগ্রিন শব্দটা বড় অক্ষরে লেখা থাকে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্য করে লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

"স্বাধীনতার ৫০ বছর: ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী" শীর্ষক প্রতিবেদনটি পড়ছিলাম। প্রতিবেদনে খুব সংক্ষিপ্ত আকারে ভারতবর্ষ ভাগ হওয়ার পর বাংলাদেশের সৃষ্টির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে। প্রেক্ষাপটের চৌম্বক অংশগুলো তুলে ধরতে গিয়ে ২৩শে জুন, ১৯৪৯ আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনের বিষয়টি হুবহু পরপর দুইবার উল্লেখ করা হয়েছে। দুইবার উল্লেখ করা কি গুরুত্বপূর্ণ ছিল? বিষয়টি অতিরিক্ত মনে হয়েছে।''

আপনি ঠিকই বলেছেন মি. শামীম উদ্দিন, ভুল করে একই তথ্য দু'বার দেয়া হয়েছে। ভুলটা ঠিক করে দেয়া হয়েছে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

অনেকে স্বাস্থ্য| বিধি মেনে চলেন কিন্তু তারপরও সংক্রমণ থামানো কঠিন।

আবার নজর দিচ্ছি চলতি ঘটনাবলীর দিকে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস এর প্রকোপ দিন দিন বেড়েই চলেছে। সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''সংক্রমণ আবারও হুহু করে বাড়ছে। এরই মধ্যে প্রতিদিনের সংক্রমণ পাঁচ হাজারের কোঠা ছাড়িয়েছে, মৃত্যুর হারও বেড়েছে। সংক্রমণের হার কমিয়ে আনতে আগামী দু'সপ্তাহের জন্য আঠারো দফা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সাধারণ মানুষের মধ্যে গত এক বছরেও যখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অভ্যাসই গড়ে ওঠেনি, তখন এই আঠারো দফা দিয়ে করোনা সংক্রমণের হার কি কমিয়ে আনা আদৌ সম্ভব হবে? সাধারণ মানুষকে আঠারো দফা মেনে চলতে বাধ্য করতে শহর গুলোতে কিছু উদ্যোগ চোখে পড়লেও গ্রামাঞ্চলে তেমন কোনো উদ্যোগ এখনো দেখা যাচ্ছে না।''

গ্রামাঞ্চলে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শহরের চেয়ে অনেক কম মি. সরদার। সেজন্য, যেমন শহরাঞ্চলে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার ওপর জোর দেয়া উচিত, তেমনি শহুরে মানুষদের আপাতত গ্রামে না যাওয়াই মঙ্গল। না হলে, শহর থেকে গ্রামেও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়বে। সরকারের ১৮ দফা যে একটি বিচক্ষণ পদক্ষেপ, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, জনসাধারণ সেগুলো মেনে চলবে কি না, এবং সরকার সেগুলো প্রয়োগ করতে পারবে কি না।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

ভারত থেকে প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ আসার কথা থাকলেও সে অনুযায়ী টিকা আসেনি

করোনাভাইরাস নিয়ে খুলনা থেকে আরেকটি চিঠি, লিখেছেন কপিলমুনির মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পি:

''বাংলাদেশে করোনা মহামারি মোকাবিলা করার জন্য জনসাধারণকে সরকার নিবন্ধন করে টিকা প্রদান করছে বিনা মূল্য। আমরা গণমাধ্যমে জানলাম, যে টিকা প্রদান করা হয়েছে তা হল প্রথম ডোজ। দ্বিতীয় ডোজের টিকা প্রদান করা হবে আগামী মাস থেকে। আমরা যারা প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছি, দ্বিতীয় ডোজের টিকা নির্ধারিত তারিখে না নিতে পারলে আমাদের শরীরে কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হবার সম্ভাবনা আছে কি? প্রথম ডোজ আর দ্বিতীয় ডোজ কী একই রকমের ঔষধ? নির্ধারিত সময়ের আগে কি বাংলাদেশ চুক্তি অনুযায়ী করোনা ভ্যাকসিন পাবে?''

আমি যতদূর জানি মি. বিল্লাল, সময় মত টিকার দ্বিতীয় ডোজ না নিলে কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হবে না, কিন্তু টিকা তার কার্যকারিতা হারাতে পারে। অর্থাৎ আপনাকে পুনরায় প্রথম ডোজ নিতে হবে। বাংলাদেশে আস্ট্রাজেনেকার টিকা দেয়া হচ্ছে এবং সেই টিকার দ্বিতীয় ডোজ প্রথম ডোজের ১২ সপ্তাহের মধ্যে দিতে হয়। তবে প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজের মধ্যে কোন গুণগত পার্থক্য আছে কি না তা আমার জানা নেই, তবে না থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

আর বাংলাদেশ চুক্তি অনুযায়ী টিকা পাবে কি না, সে প্রশ্ন এখন বড় আকারে দেখা দিয়েছে। ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউটের সাথে বেক্সিমকো আর বাংলাদেশ সরকারের চুক্তি অনুযায়ী, তিন মাসে এক কোটি ৫০ লক্ষ ডোজ আসার কথা। কিন্তু মার্চ মাসের শেষে মাত্র ৬৫ লক্ষ ডোজ এসেছে। বাংলাদেশ যেহেতু আর কোন দেশের সাথে টিকার জন্য চুক্তি করেনি, তাই এখানে বড় একটি সঙ্কটের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।

এবারে পাকিস্তানের এক দম্পতির প্রেম নিয়ে বিবিসি উর্দু বিভাগের একটি ভিডিওর কথা। ভিডিওটি বাংলায় অনুবাদ করে আমাদের ওয়েবসাইট এবং ইউ টিউবে দেয়া হয়েছে। সেই গল্প নিয়ে লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:

''গত ২৫শে মার্চ বিবিসি বাংলা'র ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে সানা-দাউদের ভিডিওটা যতবার দেখেছি, শুধুই অবাক হয়েছি। যেখানে আমরা সাদা-কালো, লম্বা-খাটো ইত্যাদি ভেদাভেদ নিয়েই ব্যস্ত থাকি সারাক্ষণ- সেখানে এমন কিছু নতুন করে ভালবাসতে শেখায়। তাঁরা প্রমাণ করেছে, শুধুমাত্র শারীরিক সৌন্দর্য আর আর্থিক স্বাবলম্বিতা দিয়ে ভালোবাসা পাওয়া যায় না। বরং ভালোবাসা টিকে যায়, মনের পবিত্র বাসনা দিয়ে। বর্তমান সো কলড ভালোবাসার যুগে এমন ভালোবাসার গল্প মরুর বুকে এক পশলা বৃষ্টির মতোই মনে হয়েছে আমার কাছে।''

গল্পটি সত্যি অসাধারণ মি. ইসলাম। ভিডিওটি না দেখলে বোঝা যাবে না কত অসাধারণ। যারা দেখেন নি, তাদের জন্য ভিডিওটি এখানে দেয়া হল।

ভিডিওর ক্যাপশান,

পাকিস্তানের লাহোরের এক প্রেম কাহিনী

পরের চিঠি লিখেছেন বরিশালের কাউনিয়া থেকে মোহাম্মদ সাইদুর রহমান:

''মার্চ মাসের পহেলা তারিখ বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত "মার্কিন মানবাধিকার প্রতিবেদন: বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতায় 'উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা' রয়েছে" শীর্ষক প্রতিবেদনটি পড়লাম। প্রতিবেদনটিতে সরকারের প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। সরকারের উত্তরও আমাদের জানা আছে। সরকার বলবে প্রতিবেদনটি বস্তুনিষ্ঠভাবে তৈরি করা হয়নি এবং এটি সর্বৈব মিথ্যা।

''তবে প্রতিবেদনটি পড়ে আমার মনে হল আসলে কাজীর গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই। সেরকম আমাদের মানবাধিকার, ভোটের অধিকার ও বাক স্বাধীনতা সবই সংবিধানে আছে কিন্তু বাস্তবে নেই। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী খুব ঢাকঢোল পিটিয়ে পালন করা হচ্ছে কিন্তু যেজন্য মুক্তিযুদ্ধ করা হয়েছিল তা কি অর্জিত হয়েছে? এ প্রশ্নের কোন উত্তর আছে কি?''

মুক্তিযুদ্ধ করা হয়েছিল বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য মি. রহমান, সেই লক্ষ্য তো অবশ্যই অর্জিত হয়েছে। তবে বাংলাদেশে গণতন্ত্র যে একটি বড় সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। এখন যেটা দেখছেন, সেখানে গণতান্ত্রিক কিছু প্রতিষ্ঠান এবং পদ্ধতি বহাল থাকলেও শাসন ব্যবস্থা ক্রমশ: কর্তৃত্ববাদের দিকে ঝুঁকছে। তবে বর্তমান সঙ্কট এক সময় কেটে যাবে বলে আমার মনে হয়। কারণ, দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বহুমাত্রিক সংবাদ মাধ্যম এবং সামাজিক ও উন্নয়ন সংগঠন আছে, কাজেই গণতন্ত্রের ভিত্তিটাও আছে।

সব শেষে আমাদের অনুষ্ঠানে কিছু বিভ্রাটের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে লিখেছেন মাদারীপুরের কেন্দুয়া থেকে মোহাম্মদ রাসেল সিকদার:

''তিরিশে মার্চ সন্ধ্যার অধিবেশন প্রবাহে ঘোষণা করা হল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি প্রতিবেদন প্রচারের কিন্তু সেটা না শুনিয়ে শোনানো হল বিশ্ব সংবাদ।আবার ঘোষণা করা হল এখন শুনবেন আজকের ফেসবুক ট্রেন্ডিং এর বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন অথচ প্রচার হল খেলাধুলার সংবাদ।পুরো অনুষ্ঠানে আপনারা ভুল সংশোধনের কোন ঘোষণা দিলেন না। বিবিসিতে এমন কখনো হতে দেখিনি। আসলে ঐ দিন স্টুডিওতে কি হয়েছিলো?''

স্টুডিওতে কিছু হয়নি মি. সিকদার। আপনি যেভাবে বলছেন, সান্ধ্য অধিবেশনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খবর প্রচারের কথা সেভাবে বলা হয়নি। বিশ্ব সংবাদের আগে উপস্থাপক বলেছিলেন যে সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খবর শুনবেন অনুষ্ঠানের কিছুক্ষণ পর। আর সোশাল মিডিয়ার খবরের বেলায়ও একই ব্যাপার ছিল। খেলার খবরের পর উপস্থাপক একটি আগাম ঘোষণা দেন, যেটাকে আমরা forward trail বলি। এর পরে উপস্থাপক যে ঘোষণা দিলেন সে অনুযায়ী ফয়সাল তিতুমীর আর মুন্নি আক্তার খবর নিয়ে আসলেন। এখন আমার প্রশ্ন হল, অনুষ্ঠান চলার সময় আপনি কী করছিলেন?

যাই হোক, এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

দিপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।

মুহাম্মদ শামিমুল হক মামুন, সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম।

বি,এম,কৌশিক আহমেদ, ঘোড়াদাইড়, গোপালগঞ্জ।

মুতাছিম নয়ন, পাইকগাছা।

মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।

মনিরুল হক রনি, সাভার সরকারি কলেজ, ঢাকা।

মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান মিয়া, দক্ষিন টুটপাড়া, খুলনা।

মোহাম্মদ ফাতিউর রহমান রাকিব, রাজশাহী।