চীন: অর্থ-বিত্ত নিয়ে বড়াই করা দেশটির নব্যধনীরা যেভাবে নাকাল হচ্ছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়

  • ওয়েই ইপ
  • বিবিসি নিউজ
চীনে এই বিপুল বিত্তশালী শ্রেনীর উদ্ভব একেবারে সাম্প্রতিক ঘটনা, এর ফলে পিছিয়ে পড়া বিরাট জনগোষ্ঠীর মধ্যে তৈরি হয়েছে অসন্তোষ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

চীনে এই বিপুল বিত্তশালী শ্রেনীর উদ্ভব একেবারে সাম্প্রতিক ঘটনা, এর ফলে পিছিয়ে পড়া বিরাট জনগোষ্ঠীর মধ্যে তৈরি হয়েছে অসন্তোষ

একজন মানুষের সারাদিনের খাবারের জন্য কি ৬৫০ ইউয়ান (১০১ ডলার) যথেষ্ট?

সু মাং এর মতে এটা যথেষ্ট নয়। তিনি 'হারপার বাজার' ম্যাগাজিনের চীনা সংস্করণের প্রধান সম্পাদক। চীনের এক রিয়েলিটি টিভি শো-তে যখন তিনি এই মন্তব্য করলেন, এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ তার বিরুদ্ধে প্রচণ্ড ক্ষোভ ঝাড়লো।

চীনের যে রিয়েলিটি টিভি শো-তে তিনি এই মন্তব্য করেছিলেন সেটির নাম ''ফিফটি কিলোমিটার তাওহুয়াউ,'' যেখানে ১৫ জন সেলেব্রিটিকে এক সঙ্গে ২১ দিন বসবাস করতে হয়।

সু মাং সেখানে বলেছিলেন, "আমাদের ভালোভাবে খেতে হয়, আমরা এত নিম্নমানের খাবার-দাবার খেতে পারি না।"

তার এই মন্তব্য শুনে ক্ষুব্ধ লোকজন সোশ্যাল মিডিয়ায় এই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানান, অনেকেই উল্লেখ করেন, তাদের প্রতিদিনের খাবার খরচ ৩০ ইউয়ানেরও কম।

চীনে সু মাং এমন এক ফ্যাশন সচেতন নারী হিসেবে পরিচিত যার পছন্দের ব্রান্ড হচ্ছে প্রাডা। সমালোচনার মুখে পরে তিনি অবশ্য বলার চেষ্টা করেন যে, তাকে মানুষ ভুল বুঝেছে, তিনি আসলে বলতে চেয়েছেন যে পুরো সময়টা তিনি এই টিভি শো-তে থাকবেন, সেই ২১ দিনের জন্যই ৬৫০ ইউয়ান খাবার খরচের কথা তিনি বলতে চেয়েছেন। কিন্তু তার এই ব্যাখ্যা মানুষকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি।

চীনা মাইক্রোব্লগিং সাইট ওয়েইবুতে একজন মন্তব্য করেছেন, "তিনি তার মতো করে কথাটার ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করতে পারেন, কিন্তু বাস্তব সত্য হচ্ছে, সেলেব্রিটিরা যে নিজেদের কতটা অভিজাত মনে করেন, সেটা তারা নিজেরাও জানেন না।"

চীনে যেসব খ্যাতিমান লোকজন নিজেদের অর্থ-বিত্ত দেখিয়ে বেড়ান, তাদের ব্যাপারে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। সু মাং এর মন্তব্যকে ঘিরে এই বিতর্ক তার সর্বশেষ উদাহরণ।

বিবিসি বাংলার আরও খবর:

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

সু মাং 'হারপার বাজার' ম্যাগাজিনের চীনা সংস্করণের সাবেক প্রধান সম্পাদক

চীনের বিশাল টেলিকম কোম্পানি হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতা রেন জাংফের ছোট মেয়ে আনাবেল ইয়াও'র এক মন্তব্যকে ঘিরেও এ বছরের শুরুতে একই রকম ক্ষোভের প্রকাশ দেখা গেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আনাবেল ইয়াও দাবি করেছিলেন, তাকে জীবন সংগ্রাম করে বড় হতে হয়েছে।

১৭ মিনিটের এক চোখ ধাঁধানো ভিডিও ডকুমেন্টারিতে তার সঙ্গীত কেরিয়ার তুলে ধরা হয়েছিল। আর সেই অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, "আমি নিজেকে কখনো তথাকথিত 'প্রিন্সেস' বলে গণ্য করিনি.... আমার বয়সের আর সব মানুষের মতো আমাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে, অনেক পড়াশোনা করতে হয়েছে, যাতে আমি একটা ভালো স্কুলে যেতে পারি।"

এই ভিডিও তিনি আবার তার ওয়েইবু একাউন্টে শেয়ার করেন। ২৩ বছর বয়সী আনাবেলের বাবার সম্পদের পরিমাণ ১৪০ কোটি ডলার বলে ধারণা করা হয়। তিনি সেখানে আরও বলেছিলেন, একটি বিনোদন কোম্পানির সঙ্গে তিনি একটি চুক্তি করেছেন, সেটাই জন্মদিনে তিনি নিজেকে নিজে উপহার হিসেবে দিয়েছেন।

'এত ধন-সম্পদের যোগ্য নয়'

চীনের ধনী লোকজন বহু বছর ধরেই তাদের অর্থ-বিত্তের জাঁকালো প্রদর্শনী চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের নামী-দামী গাড়ি থেকে শুরু করে হ্যান্ডব্যাগ- অনলাইনে এর কোন কিছু নিয়েই তারা বড়াই করতে কুণ্ঠিত নন। তাদের অনলাইন যারা ফলো করেন, এসব দেখে তাদের ঈর্ষা হওয়াই স্বাভাবিক।

তবে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। এখন এরকম অর্থ-বিত্তের নগ্ন প্রদর্শনী, সেটা ইচ্ছেকৃত বা অনিচ্ছাকৃত যাই হোক- মানুষ এখন ভালোভাবে নিচ্ছে না। এর বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ এবং ঘৃণা বাড়ছে।

মিজ সু এবং মিজ ইয়াও এর মতো সেলেব্রিটিরা এখন অনলাইনে মানুষের টার্গেটে পরিণত হয়েছেন। কারণ অনেকেই মনে করেন এদের মতো সেলেব্রিটি এবং ধনী লোকজনের দ্বিতীয় প্রজন্মের সন্তানদের আসলে এত আকাশ ছোঁয়া ধন-সম্পদ পাওয়ার উপযুক্ত নন।

চীনের গণমাধ্যম সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণা করেছেন ডিকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডঃ জিয়ান শু।

তিনি বলেন, "এরকম তারকাদের সহজ কাজের সঙ্গে তুলনা করে মানুষ অভিযোগ করবে তাদের কীরকম গাধার খাটুনি খাটতে হয়, আর তাদের উপার্জন কত কম।"

আরও পড়ুন:

মেলবোর্নের আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া স্টাডিজের অধ্যাপক ডঃ হাইকিং ইয়ু বলছেন, "সু মাং তার প্রতিদিনের খাবার খরচ সম্পর্কে যা বলেছেন, তা যে লোকজনকে এতটা ক্ষুব্ধ করেছে তার কারণ আছে। কারণ চীন যে বিষয়টা ঢেকে রাখতে চাইছে, এই মন্তব্যের ভেতর দিয়ে সেই আবরণ আসলে খসে পড়ছে। চীনে আসলে কিছু লোকের হাতে অনেক বেশি সম্পদ, আর অনেক মানুষকে আসলে খুব কষ্ট করে দিন কাটাতে হচ্ছে।"

চীনে সম্পদের যে বৈষম্য , তা আঁতকে ওঠার মতো।

চীনের ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মানুষের গড় আয় হচ্ছে ৩২ হাজার ১৮৯ ইউয়ান বা ৫ হাজার ৩০ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বিলিওনেয়ারের বাস বেইজিং নগরীতে। বিশ্বের আর কোন নগরীতে এত শত-কোটিপতি নেই।

বিশ্বের ধনী লোকদের সম্পদের খোঁজখবর রাখে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২০ সালে চীনের ধনীদের অর্জন করা সম্পদের পরিমাণ ছিল দেড় ট্রিলিয়ন ডলার (দেড় লক্ষ কোটি ডলার)। এটি যুক্তরাজ্যের জিডিপির প্রায় অর্ধেক।

ধনী লোকজন যখন তাদের ধন-সম্পদ নিয়ে বড়াই করে, সেটাকে সাধারণত তাদের সংবেদনশীলতার অভাব বলে ধরা হয়। যেসব দেশে ধন-বৈষম্য খুব বেশি, সেখানে এটা বেশ চোখে পড়ে। কিন্তু চীনের বেলায় যেন এটা আরও বিশ্রী রকমের বেশি চোখে পড়ে।

চীনের সাবেক নেতা দেং শিয়াওপিং বলেছিলেন, তাদের অর্থনৈতিক নীতির লক্ষ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষের জন্য সমৃদ্ধি অর্জন করা, তাতে হয়তো কিছু মানুষ বা কিছু অঞ্চল আগেভাগে ধনী হয়ে যাবে। বহুবছর যাবত লোকে দেং শিয়াওপিং এর এই কথা বিশ্বাস করেছে- একদিন তাদেরও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসবে।

"কিন্তু বাজার অর্থনীতি চালু হওয়ার ৪০ বছর পর দেখা যাচ্ছে, ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে, অন্যরা কেবলই পিছিয়ে পড়ছে। এদের মধ্যে এমন একটা বোধ তৈরি হচ্ছে যে তারা ক্ষমতাহীন এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে," বলছেন ডঃ শু।

তিনি বলেন, অনেক সময় মানুষের এই ক্ষোভ আরও বেড়ে যায় যখন তারা দেখে যে খ্যাতিমান লোকজনের কাছে যা তারা প্রত্যাশা করে, তারা সেটা করছে না। লোকজন চায়, খ্যাতিমানদের যে খ্যাতি এবং প্রতীকী ক্ষমতা, সেটা তারা সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখার কাজে ব্যবহার করুক।

যেমন গত মাসে যখন প্রকাশ পেল যে অভিনেত্রী ঝেং শুয়াংকে একটি টিভি চরিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রতিদিন দুই লাখ ইউয়ান করে দেয়া হয়, তখন সেটাও তীব্র ক্ষোভ তৈরি করলো। ঐ পুরো টিভি অনুষ্ঠানের জন্য তাকে দেয়া হবে ১৬ কোটি ইউয়ান।

এই খবরে ক্ষিপ্ত হয়ে একজন ওয়েইবুতে লিখলেন, "১৬ কোটি ইউয়ানের মানে কী? একজন সাধারণ চাকুরিজীবী, যিনি মাসে ৬ হাজার ইউয়ান বেতন পান, তাকে এই পরিমাণ অর্থ পেতে হলে একটানা ২ হাজার ২শ ২২ বছর কাজ করতে হবে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

অভিনেত্রী ঝেং শুয়াংকে একটি টিভি অনুষ্ঠানের জন্য দেয়া হয় ১৬ কোটি ইউয়ান

তবে মিজ ঝেং এর বেলায় মানুষ যেন আরও বেশি ক্ষিপ্ত ছিল, কারণ তাকে নিয়ে বিতর্ক চলছিল আগে থেকেই। এ বছরের শুরুতে তিনি সারোগেসি মাতৃত্ব নিয়ে এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। চীনে সারোগেসি (অন্য নারীর গর্ভ ভাড়া করে নিজ সন্তানের জন্ম দেয়া) নিষিদ্ধ। মিজ ঝেং এর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল যে, তিনি বিদেশে অন্য নারীর গর্ভ ভাড়া করে যে দুই সন্তান নিয়েছিলেন, তাদের তিনি পরিত্যাগ করেছেন।

বিপুল অর্থ উপার্জন করছেন এরকম একজন মানুষ যখন ভালো 'রোল মডেল' বা আদর্শ হতে পারছেন না, তখন সেটা খুবই বড় একটা সমস্যা।

ঠিক এই একই কারণে ২০১৮ সালে চীনের আরেক বড় তারকা ফ্যান বিংবিংকে যখন কর ফাঁকির অভিযোগে গৃহবন্দী করা হয়েছিল, তখন তার প্রতি খুব সহানুভূতিই দেখা গেছে। অথচ এই অভিনেত্রী চীনের সবচেয়ে জনপ্রিয় তারকাদের একজন।

ছদ্ম বিনয়ের কৌশল

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ধন-সম্পদ নিয়ে এসব নির্লজ্জ বড়াই যে মানুষ পছন্দ করে না, তার একটা কারণ এটি আসলে সাংস্কৃতিক দৈন্য প্রকাশ করে।

"চীনে মধ্যবিত্তে বিকাশ যত ঘটছে, ততই শহুরে শিক্ষিত মানুষ 'বিত্ত-বৈভবের প্রদর্শনী'কে অপরিশীলিত এবং নিচু জাতের' কাজ বলে বিবেচনা করছে" বলছেন ডঃ জন ওসবুর্গ, যিনি চীনের নব্য ধনীদের জীবন-যাপন এবং নৈতিকতা নিয়ে একটি বই লিখেছেন।

তিনি বিবিসিকে বলেন, যারা এরকম ধন-সম্পদ দেখিয়ে বড়াই করতে চায়, তারা আসলে সমাজে তাদের অবস্থান নিয়ে একধরণের হীনমন্যতায় ভোগে।

কিন্তু তা সত্ত্বেও চীনে বিলাস সামগ্রীর চাহিদা কিন্তু কমছে না।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

জাপানকে ছাড়িয়ে চীন এখন এশিয়া-প্যাসিফিকে ব্যক্তিগত বিলাস সামগ্রীর সবচেয়ে বড় বাজার

একটি বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউরোমনিটর ইন্টারন্যাশনালের হিসেবে, চীন এখন পুরো এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানকে ছাড়িয়ে ব্যক্তিগত বিলাস সামগ্রীর সবচেয়ে বড় বাজারে পরিণত হয়েছে। এ বছরের শেষ নাগাদ সেখানে বিলাস সামগ্রীর বিক্রি করোনাভাইরাস মহামারি পূর্বের পর্যায়ে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ডঃ ইয়ু বলছেন, ধনী লোকজন তাদের সাফল্যের বড়াই করার ক্ষেত্রে এখন কিছু নতুন কৌশল নিচ্ছে। হাম্বলব্র্যাগিং বা বিনয়ের সঙ্গে বড়াই করার ব্যাপারটা চীনে এখন রীতিমত একটা নতুন সামাজিক ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, "ছবি দিয়ে বা দামী দামী জিনিসপত্র দেখিয়ে বড়াই করার পরিবর্তে অনেক ধনী লোকজন এখন এরকম কৌশলে কাজটা করে।"

যেমন ধরা যাক একজন সোশ্যাল মিডিয়া তারকা মেংকিকি৭৭ এর কথা। তিনি তার বিলাসী জীবনের অনেক কিছু নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন। একবার তিনি ওয়েইবুতে লেখা এক পোস্টে অভিযোগ করলেন, তাদের আশে-পাশের এলাকায় ইলেকট্রিক কারের জন্য যথেষ্ট চার্জিং স্টেশন নেই।

"কাজেই বাধ্য হয়ে আমাদের চলে আসতে হলো একটা নতুন এলাকায় একটা বড় বাড়িতে । এই বাড়িতে আমার স্বামীর 'টেসলা' গাড়ির জন্য একটা আলাদা প্রাইভেট গ্যারাজ আছে।"

তবে এই পোস্টের জন্যও তাকে সমালোচকদের বিদ্রূপের শিকার হতে হলো। তার এই ধরণের পোস্টগুলোর একটা নাম দিলেন তারা- 'ভার্সাই সাহিত্য।' উনিশ শতকে ফ্রান্সের রানি মারি আন্তোনেতের বিলাসী জীবন নিয়ে লেখা এক জাপানিজ মাঙ্গা 'দ্য রোজ অব ভার্সাই' থেকেই এই নামকরণ। মেংকিকি৭৭ লেখা এই কায়দার পোস্টগুলো নিয়ে অনলাইনে অনেক হাসি-ঠাট্টা, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ চললো বেশ কয়েক মাস ধরে।

মেংকিকি৭৭ এর মতো যারা ছদ্ম-বিনয় দেখান, তাদের কিভাবে খেপানো যায়, তার উপায়ও বাতলে দিলেন কেউ কেউ।

একজন লিখলেন, "এরা আসলে যেটা নিয়ে বড়াই করতে চাইছে এরকম ছদ্ম বিনয়ের সঙ্গে, এমন একটা ভাব নিন, যেন সেটা আসলে আপনি ধরতেই পারেননি।"

বোঝাই যাচ্ছে চীনের ধনী এবং বিখ্যাত লোকজনের জন্য ধনসম্পদের বড়াই করার কাজটা অত সহজ থাকছে না।