আফগানিস্তান: আইসিস-কে বা আইএস-কে-এর হামলা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার অভিযান শেষ করবে, বলছেন বাইডেন

জো বাইডেন

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান,

জো বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, আফগানিস্তানে জিহাদী হামলা সত্ত্বেও কাবুল থেকে লোকজনকে মার্কিন বিমানে করে সরিয়ে নেয়ার অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ওই হামলায় ৯০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৩ জনই মার্কিন সেনা সদস্য বলে জানা গেছে।

"আমাদেরকে এই অভিযান সম্পন্ন করতেই হবে এবং আমরা তা করবো," বলেন মি. বাইডেন। তিনি হামলাকারীদের চিহ্নিত করারও অঙ্গীকার করেন।

গত ১৫ই অগাস্ট কাবুল তালেবানের দখলে চলে যাওয়ার পর সেখান থেকে এখন পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র তাদের সেনাদের ৩১শে অগাস্টের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহারের সময়সীমা ঠিক করেছে, তবে অনেক আফগান ওই সময়ের মধ্যেই দেশ ছাড়তে বিমানবন্দরে ছুটে আসছেন।

মি. বাইডেন এই অভিযান সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, "আমরা সন্ত্রাসীদের কারণে পিছ পা হব না"।

বৃহস্পতিবারের এই হামলার ঘটনা ঘটে স্থানীয় সময় ৬টায়।

প্রথম হামলাটি হয়েছে অ্যাবি গেইটকে লক্ষ্য করে- যেখানে মার্কিন এবং ব্রিটিশ বাহিনী স্থানীয় লোকজনদের বিমানবন্দরে প্রবেশের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছিলেন। পরে সেখানে গোলাগুলি শুরু হয়।

কয়েক মিনিট পরে একটি হোটেলে দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি ঘটে, যেখানে ব্রিটিশ কর্মকর্তারা ব্রিটেনে ভ্রমণ প্রত্যাশী আফগানদের বিভিন্ন দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছিলেন।

আরও পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

কাবুল বিমানবন্দরের হামলার পর হাসপাতালের কর্মীরা একজন আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসছেন

আইএস-কে, অর্থাৎ ইসলামিক স্টেটের আঞ্চলিক একটি শাখা (যারা ইসলামিক স্টেট অফ খোরাসান প্রভিন্স নামেও পরিচিত) এমন আত্মঘাতী হামলা চালাতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা এর আগে সতর্ক করেছিলেন।

এই সতর্কতা সত্ত্বেও কোন একটি ফ্লাইটে আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে অনুমোদন পাওয়ার আশায় ওই এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন অসংখ্য মানুষ।

এই জিহাদী গোষ্ঠীটিই পরবর্তীতে বোমা হামলার দায় স্বীকার করে।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছেন: "আমরা ক্ষমা করব না। আমরা ভুলবো না। আমরা তোমাদের খুঁজে বের করবো এবং এজন্য তোমাদের চরম মূল্য দিতে হবে।"

মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল ফ্র্যাঙ্ক ম্যাকেঞ্জি জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ১১ জন মেরিন সেনা এবং একজন নৌবাহিনীর চিকিৎসক ছিলেন।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির পর আফগানিস্তানে এই প্রথম মার্কিন সেনা হতাহতের ঘটনা ঘটলো।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে দুটি বিস্ফোরণের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়

জেনারেল ম্যাকেঞ্জি বলেন, এখনও আইসিস-কে-র কাছ থেকে বড় ধরণের হামলার হুমকি রয়েছে। এ ধরনের হামলা বন্ধে তালেবানদের সঙ্গে মার্কিন বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে এবং তালেবান ইতিমধ্যেই অনেক হামলায় বাধা দিয়েছে।

কিন্তু ওই হামলার কারণে ৩১শে অগাস্ট সময়সীমার মধ্যে মার্কিনীদের প্রত্যাহারের অভিযান বেশ জটিল হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে কাবুল বিমানবন্দরের মাটিতে ৫,৮০০ মার্কিন সৈন্য এবং আরও ১,০০০ ব্রিটিশ সৈন্য রয়েছেন।

এখন পর্যন্ত আফগানিস্তান থেকে এক লাখ চার হাজার বেসামরিক নাগরিককে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তার মধ্যে ৬৬,০০০ জনকে যুক্তরাষ্ট্রে এবং ৩৭,০০০ জনকে বিভিন্ন মিত্র এবং অংশীদার দেশে পাঠানো হয়েছে।

প্রায় ৫,০০০ মানুষ বিমানবন্দরে এখনও অপেক্ষা করছেন এবং আরও অনেকে তল্লাশি চৌকি পার হওয়ার চেষ্টা করছেন।

কানাডা, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস এবং ডেনমার্কসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

কাবুল

তুরস্ক ঘোষণা করেছে যে তারা তাদের সৈন্যদের সরিয়ে নেবে - এরা ছয় বছর ধরে বিমানবন্দরে নিরাপত্তা দিয়ে আসছিল।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এই সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে একটি সভায় সভাপতিত্ব করেন।

ওই বৈঠকে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য তাদের লোকজন সরিয়ে নেয়ার ফ্লাইট চালু রাখবে।