এডিটার'স মেইলবক্স: আফগানিস্তান বিপর্যয়, পাঞ্জশেরে তালেবান প্রতিরোধ, আর মা-ছেলের নাটকীয় অপহরণ নিয়ে প্রশ্ন

  • মানসী বড়ুয়া
  • বিবিসি নিউজ বাংলা, লন্ডন
কাবুলের এক অস্থায়ী শিবিরে শিশু সন্তানসহ এক আফগান নারী

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

কাবুলের অস্থায়ী শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন আফগানিস্তানের লড়াইয়ে বাস্তুচ্যুত বহু আফগান

আফগানিস্তানের ঘটনা প্রবাহই এখনও বিশ্বের অন্যতম সবচেয়ে বড় খবর। আফগানস্তানে তালেবানের ক্ষমতা গ্রহণ এবং এরপর দেশ ছেড়ে যাওয়া মানুষের ঢল, আর সবশেষ কাবুলে জোড়া হামলা এখনও চলতি সপ্তাহে বিশ্বের সবচেয়ে বড় খবর।

আফগানিস্তান প্রসঙ্গ নিয়ে লেখা একটি চিঠি দিয়ে আজ শুরু করছি। লিখেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থেকে রাফিউল ইসলাম রাফি:

"আফগানিস্তানে মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে জাতিসংঘ হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা বলেছে, তীব্র খাদ্য সংকট, বাস্তুচ্যুতি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বিধ্বস্ত হওয়ার ফলে আফগানিস্তানে ভয়ংকর মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় এখনই বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে।

"এখন বিষয় হলো, খাদ্য সংকট, বাস্তুচ্যুতি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এই করুণ অবস্থা কি অতি সম্প্রতি সৃষ্টি হয়েছে? গত ২০ বছর কি আফগানিস্তানে এসব কিছুই হয়নি? বহুপাক্ষিক আক্রমণে লাখো মানুষ বোমা আর গুলির আঘাতে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়নি? সন্ত্রাস দমন আর সুশাসন কায়েমের আশ্বাস দিয়ে বিশ্বের অনেক শক্তিশালী দেশ ২০ বছরের অধিক সময় আফগানিস্তান নিয়ন্ত্রণ করেছে। তাদের কোন দায় আছে কিনা?"

আফগানিস্তানে বিদেশী ঘরানার শাসন ব্যবস্থা চাপিয়ে দেয়ার নীতি যে বারবার ব্যর্থ হয়েছে সেটা এখন পরিষ্কার হয়ে গেছে। এর মূল্য দিতে হয়েছে বহু মানুষকে জীবন দিয়ে। সংঘাত কখনও শান্তি আনে না আর গণতন্ত্রের মত মূল্যবোধ জোর করে চাপিয়ে দেয়া যায় না আফগানিস্তান আবার তা প্রমাণ করেছে।

তালেবান কি পাঞ্জশের দখলের লড়াই জিততে পারবে?

আফগানিস্তানের পাঞ্জশের উপত্যকা, যা এখনও তালেবানের দখলে আসেনি, সেখানকার ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন করেছেন ভারত থেকে অর্ক রায়:

"এই পাঞ্জশের রাজ্য নর্দান এ্যালায়েন্সের ঘাঁটি যারা তালেবানের তীব্র বিরোধী। তারা ২০০১ সালে তালেবানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। আফগান সেনা যারা যুদ্ধ না করে ফিরে গেছিল তাদের মধ্যে থেকে ১০,০০০ সেনা ইতিমধ্যেই পাঞ্জশের রাজ্যে গিয়ে নর্দার্ন এ্যালায়েন্সের সাথে যোগ দিয়েছে।

"আফগানিস্তানে আবার যে দীর্ঘকালীন একটা যুদ্ধ হতে যাচ্ছে সেটা অনুমান করাই যায়- যার একপক্ষ তালেবান, অন্যপক্ষ নর্দার্ন এ্যালায়েন্স। আপনাদের কি মনে হয় তালেবান নর্দান এ্যালায়েন্সের সাথে লড়াই করে বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবে?"

সেটা বলা কঠিন মি. রায়। তবে গত ৪০ বছরের ইতিহাসে এই পাঞ্জশের উপত্যকার যোদ্ধারা বিভিন্ন সময়ে নানাধরনের বাহিনীর আক্রমণ ঠেকিয়েছে। তালেবান সবশেষ এই এলাকার দখল নেবার জন্য সেখানে তাদের যোদ্ধাদের পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ, যিনি পাঞ্জশের উপত্যকায় পালিয়ে গেছেন, তিনি তালেবানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ লড়াই-এ যোগ দেওয়ার জন্য আফগান জনগণের প্রতি আহবান জানিয়েছেন এবং বিশ্ব নেতাদের সহযোগিতা চেয়েছেন।

নর্দার্ন এ্যালায়েন্সর নেতা ছিলেন যে আহমেদ শাহ মাসুদ, তার ছেলে আহমেদ মাসুদের নেতৃত্বে পাঞ্জশেরে তালেবান-বিরোধী একটি জোটের হাজার হাজার যোদ্ধা সেখানে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে তারা বলছেন যুদ্ধের বদলে বিকেন্দ্রীকৃত একটা শাসন ব্যবস্থায় তারা বেশি আগ্রহী। কাজেই ঘটনা কোন্ দিকে মোড় নেয় সেটা এখনই বোঝা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন:

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান,

২০০১ সালের আগে তালেবান, যখন আফগানিস্তান শাসন করতো, তখন তারা কঠোর শরীয়া আইন জারি করেছিল।

নতুন আফগানিস্তান ও নারী ইস্যু

তালেবান দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেবার পর যে প্রশ্ন অনেকেই তুলছেন তারই প্রতিধ্বনি করেছেন মুজগুন্নি, খুলনা থেকে নাবিহা মিনি:

"নতুন আফগানিস্তান নারী ইস্যুকে মানানসই ভাবে সামাল দিতে পারবে তো?"

আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়ার পর তালেবানের মুখপাত্র স্পষ্টই বলেছেন নারী অধিকারের মতো বিষয়গুলো "ইসলামী আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে" সম্মান করা হবে, তবে বাস্তবে সেটা কীভাবে করা হবে, সে বিষয়ে তারা বিস্তারিত কিছু বলেননি। ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে, তালেবানকে এখনও পর্যন্ত বেশ সংযত আচরণ করতে দেখা যাচ্ছে, তারা নারী ও মেয়েদের অধিকার এবং বাক-স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যদিও অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে অনেকেই তাদের সদিচ্ছা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন। এখন সময়ই বলে দেবে নারী ইস্যুগুলো তারা ভবিষ্যতে কীভাবে মোকাবেলা করবেন।

'রক্ষকই যদি ভক্ষক হয়!'

দিনাজপুরে এক বাড়ি থেকে মা-ছলেকে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ে জড়িত থাকার অভিযোগে সিআইডির তিনজন সদস্যকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। খবরটি নিয়ে গেন্ডারিয়া, ঢাকা থেকে লিখেছেন মাহবুবা ফেরদৌসী হ্যাপি:

"আমরা প্রায়ই অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের খবর সংবাদ মাধ্যম দেখতে পাই। এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব অপহরণকারীদের পাকড়াও করে থাকে। কিন্তু সেখানে রক্ষকই যদি ভক্ষক হয়, তবে এগুলো বন্ধ করবে কে?

খবরে দেখলাম অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদেরকে আটক করা হয়েছে। যারা নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে, তাদেরকে কোনভাবেই ছাড় দেওয়া উচিৎ নয়। এ ধরনের কিছু সদস্যের কারণে একটি পেশাদার বাহিনীর ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয় এবং এজন্য তাদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা দরকার।"

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

পুলিশের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে মাঝে মধ্যেই

নাটকীয় কায়দায় বাড়ি থেকেই মা ও ছেলেকে অপহরণ করার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের তিনজন সদস্যের জড়িত থাকার এই অভিযোগ বিরাট আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঢাকায় সিআইডির একজন মুখপাত্র বলেছেন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে বিভাগীয় যা ব্যবস্থা নেয়ার সেটি করা হবে। পুলিশের জন্য এ ঘটনা খুবই বিব্রতকর। তবে এর যথাযথ তদন্ত ও দোষ প্রমণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা না গেলে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি যে ক্ষুণ্ন হবে তাতে সন্দেহ নেই।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

সরকারি কর্মকর্তা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতি বছর মাদক পরীক্ষা করার বিষয় নিয়ে লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে- মেনহাজুল ইসলাম তারেক:

"এ ধরনের সুন্দর উদ্যোগ অবশ্যই গ্রহণযোগ্য। তবে তা বছরে না করে প্রতি মাসে করলে আরও ভালো হতে পারতো। আমাদের দেশের মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে সব উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাকে এই টেস্টের আওতায় আনা উচিত বলেও আমি মনে করছি। কারণ এটা দিনের মতই পরিস্কার যে, সব সময় ক্ষমতাসীনদের পৃষ্ঠপোষকতায় কাঁচা টাকা কামাইয়ের এই রমরমা ধান্দা চলে আর সব শেষে ভোগান্তিতে পড়ে দেশের আমজনতারাই।"

সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের মাদক পরীক্ষার আওতায় আনা এবং তাদের প্রতি বছর ডোপ টেস্ট করানোর প্রক্রিয়াটা খুব সহজ কাজ হবে না। কীভাবে এই পরীক্ষা হবে, এর জন্য বিশেষায়িত পরীক্ষা কেন্দ্র থাকবে কিনা, পরীক্ষা পদ্ধতির মানদণ্ড- এসব অনেক বিষয়ই এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আর সব কিছু মেনে প্রতি বছর এই টেস্ট করানোই যেখানে একটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে সেখানে প্রতি মাসে এটা করা অসম্ভব হবে বলেই মনে হয়। তবে সরকার বলেছে ডোপ টেস্টের ফি তারাই নির্ধারণ করে দেবে, যেটা না করলে অনেকেই অসাধু ব্যবসার সুযোগ পাবে এবং সাধারণ মানুষ দুর্ভোগের শিকার হবে।

অনুষ্ঠানে নারীদের অংশগ্রহণ নিয়ে অভিযোগ কেন?

ফোন ইন অনুষ্ঠানে নারী শ্রোতাদের অংশগহণ নিয়ে শ্রোতারা মাঝেমধ্যেই যেসব প্রশ্ন তোলেন তা নিয়ে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

"আমি ঠিক বুঝতে পারছি না নারীরা ফোন-ইনে অংশ নিলে বা প্রীতিভাজনেষুতে লিখলে অন্যদের অসুবিধা কোথায়? একটা সময়তো বিবিসি বাংলাতে পুরুষের একচ্ছত্র অধিপত্য ছিল। নারী শ্রোতারা তখন লিখতেন না বললেই চলে। নারীরা বিবিসি বাংলাতে পুরুষের আধিপত্য নিয়ে কখনো অভিযোগ করেছেন বলেতো আমার জানা নেই। রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার নারীকে বাদ দিয়ে কি চলতে পারে? তাহলে বিবিসি বাংলাতে নারীদের অংশ গ্রহণ নিয়ে এত অভিযোগ কেন?"

এ অভিযোগ অবশ্যই কাম্য নয় এবং সেকথা প্রীতিভাজনেষুতে আমরা একাধিকবার তুলে ধরেছি। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পুরুষদের যেমন মতামত থাকে তেমনই এসব বিষয়ে নারীদেরও মতামত প্রকাশের অধিকার আছে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

২০১৯ সালে বিশ্ব ব্যাংক এক প্রতিবেদনে বলে মাত্র ছয়টি দেশে নারী পুরুষের সমতা আছে

আপনার এই চিঠির সূত্র ধরে এর পর যে চিঠিটি হাতে নিচ্ছি সেটি লিখেছেন শ্রীপুর, গাজীপুর থেকে সাদিয়া আফরিন মিতু:

"আমি বিবিসি বাংলা'র একজন নতুন 'নারী লেখিকা' হিসেবে আবির্ভূত হলাম- আপনাদের কাছে। আশা করছি, আমাকে সাদরে গ্রহণ করে নিবেন। বর্তমান সমাজে আমরা নারীরা উঠতে-বসতে যেসব বিব্রতকর প্রশ্নের সম্মুখীন হই, তা হলো...তুমি মেয়ে, তুমি কেন এটা করবে? তুমি মেয়ে তোমার এই কথাটা বলার দরকার ছিলো না! তুমি মেয়ে তুমি না গেলেও পারতে!!

"২০২১ এ দাঁড়িয়েও এরকম হাজারো কটু কথার শেকলের মধ্যে আবদ্ধ আমাদের সমাজের নারীরা! একটা সমাজ ব্যবস্থাকে পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে সর্বপ্রথম আমাদের এই নিচু মানসিকতার বেড়াজাল ছিঁড়ে ফেলতে হবে। তবেই একটা সমাজ ব্যবস্থার উন্নতি হবে।"

আপনাকে প্রথমেই সাদরে স্বাগত জানাচ্ছি। আসলেই বৈষম্যের যে মানসিকতা আমাদের সমাজে অনেক ক্ষেত্রেই এখনও প্রকট তার বদল না ঘটলে নারীদের মতামতকে সম্মান দেয়া বা তাদের সমান চোখে দেখার পরিবেশ গড়ে ওঠা খুবই কঠিন। সমাজে পরিবর্তন যে একেবারেই ঘটছে না তা নয়, ঘটছে- তবে তা খুবই ধীরে, এবং সব ক্ষেত্রে নয়।

বিবিসি বাংলার অনুষ্ঠান শুনে রাগ পড়ে গেছে বলে লিখেছেন দেবীগঞ্চ,পঞ্চগড় থেকে মো. নুর হাসান:

"একে একে যখন বিবিসির অনুষ্ঠানগুলো বন্ধ করা হচ্ছিল তখন খুব খারাপ লেগেছিল । এত বেশি রেগে গেছিলাম যে রাগ করে কিছুদিন বিবিসি শুনিনি । তবে বিবিসির নতুন সংযোজনগুলো সত্যিই সময় উপযোগী, ফলপ্রসু, বাস্তব ও উপভোগ করার মতো।

"গত সপ্তাহে ফুড পান্ডার যে নারী উদ্যোক্তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়েছে সেটি আমার খুব খুব ভালো লেগেছে । তিনি তরুণদের অনুপ্রানিত করার জন্য অল্পকথায় তার সফলতার অসাধারণ বাস্তব বর্ণনা দিয়েছেন প্রতিবেদনের উপস্থাপিকাসহ বিবিসি বাংলাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।"

ফুড পান্ডার প্রধান নির্বাহী ও ম্যানেজিং পার্টনার আম্বারিন রেজার সাক্ষাৎকারটি আপনি উপভোগ করেছেন জেনে আমাদেরও ভাল লাগল। অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকাকে আপনার ধন্যবাদ পৌঁছে দিয়েছি।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

কিশোর কিশোরীর বয়স নির্ধারণে শিক্ষাবোর্ড থেকে প্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর এসএসসি সনদ কিংবা মূল রেজিষ্ট্রেশন কার্ডে উল্লিখিত তথ্য স্বচ্ছতার নিশ্চয়তা দিতে পারে

শিশু কিশোরদের জাতীয় পরিচয়পত্রের স্বচ্ছতা

বাংলাদেশে ১৮ বছরের কম বয়সীদের জাতীয় পরিচয় পত্র প্রদান সংক্রান্ত প্রতিবেদন শুনে এ বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম থেকে আব্দুল কুদ্দুস মাস্টার:

"আমি যেহেতু চাকুরিরত অবস্থায় একাধিকবার এনআইডি তথা ভোটার তালিকা প্রণয়নের কাজে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দায়িত্ব পালন করেছি, তাই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলতে চাই কিশোর কিশোরীর বয়স নির্ধারণে যদি শিক্ষাবোর্ড থেকে প্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর ন্যূনতম এসএসসি সনদ কিংবা মূল রেজিষ্ট্রেশন কার্ডে উল্লিখিত তথ্য সন্নিবেশ করা হয় তাহলে তা প্রায় ৯০% ভাগই সঠিক ও স্বচ্ছ হবার কথা।

"কিন্তু আগ্রহী এনআইডি প্রার্থীর যদি এসএসসি পরীক্ষার্থী হিসেবে রেজিষ্ট্রেশনও না হয়ে থাকে, আর অন্যদিকে নতুন ভোটার বাড়ানোর লক্ষ্যে যদি এক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহকারী বা এনআইডি প্রণয়নে নিযুক্ত ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গের উপর কোনো রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীর প্রভাব ফলানো হয় তবে সে কাজটি হবে অস্বচ্ছ ও ক্রুটিপূর্ণ।"

চৌদ্দ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশু কিশোরদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেবার যে কথা বলা হচ্ছে তা ঠিক কী কাজের জন্য ব্যবহৃত হবে সেটা এখনও পরিষ্কার করা হয়নি বলেই মনে হচ্ছে। এই পরিচয়পত্র প্রাথমিকভাবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা খাতে ব্যবহার করা হতে পারে, এমন ইঙ্গিত দেয়া হলেও, যেহেতু এই পরিচয়পত্র পরবর্তীকালে ভোটার আইডি হিসাবে ব্যবহৃত হবে, তাই এর সম্ভাব্য অপপ্রয়োগ ঠেকাতে হলে এর জন্য সঠিকভাবে তথ্য সংগ্রহের বিষয়টাকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে।

গায়ের রং-এর সাথে মাতৃস্নেহ কি সম্পর্কিত?

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার গায়ের রং-এর কারণে মাতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত ছিলেন এমন ইঙ্গিত করে ভারতীয় শিক্ষা দপ্তরের একজন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছেন লালবাগ, রংপুর থেকে মো: মহসিন আলী:

"ঐ মন্ত্রী কালো বা চাপা গায়ের রং বলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে শুধু অপমান করেন নাই, পুরো বিশ্বের মাতৃস্নেহকে কলুষিত করে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করেছেন। মোদী সরকার যে বৈষম‍্যবাদী বর্ণবাদী সরকার এই নেতার বক্তব‍্য তাই প্রমাণ করে। বিশ্বে কোন মা গায়ের রং কালো বলে সন্তানকে স্নেহ থেকে বঞ্চিত করেন এমন নজির আমার জানা নেই।"

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

রবীন্দ্রনাথের গায়ের রং ও মাতৃস্নেহ নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ান ভারতের এক বিজেপি মন্ত্রী

বিজেপি প্র্রতিমন্ত্রী ডা. সুভাষ রায়ের ওই বক্তব্যকে অনেকেই অনভিপ্রেত ও দু:খজনক বলে মন্তব্য করেছেন। ঠাকুর পরিবারের সদস্য ও সাহিত্যিকরা বলেছেন গায়ের রং-এর কারণে রবীন্দ্রনাথ মাতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত ছিলেন এমন কোন তথ্য কোথাও নেই। আর আপনার সঙ্গে আমি একমত যে গায়ের রং, চেহারা, মুখশ্রী মায়ের স্নেহ এসবের ওপর নির্ভর করে না।

শিরোনামের অর্থ কী?

পরের চিঠিটিও মা ও সন্তান প্রসঙ্গে। তবে এখানে সন্তান স্নেহের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আইনি লড়াই। দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে বাংলাদেশি বাবা আর জাপানি মায়ের আইনি লড়াইয়ের খবরের শিরোনাম মেনে নিতে পারেননি কাউনিয়া, বরিশালের মো. সাইদুর রহমান:

"বাচ্চা দুটিকে নিয়ে আমাদের দেশের কিছু সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম আমাকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। যেমন "জাপানি নারীর দুই সন্তান নিয়ে আইনি লড়াই", "সন্তানদের টানে জাপানি মায়ের আইনি লড়াই শুরু" ইত্যাদি কিন্তু এসব শিরোনাম দ্বারা বুঝায় ওই দুটি শিশু সন্তানের মালিক শুধু মা এবং আইনগত অধিকারও তার একার। অথচ আদালত কর্তৃক অভিভাবক নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত মা-বাবা উভয়েই যোগ্য। তাহলে এ ধরনের শিরোনামের অর্থ কী?"

বিবিসি বাংলাও বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন করেছিল যার শিরোনাম ছিল বাংলাদেশি বাবা বনাম জাপানি মায়ের আইনি লড়াই। নজিরবিহীন এই মামলাটি গণমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছিল। যেহেতু শিশু দুটিকে ফিরে পেতে জাপান থেকে বাংলাদেশে এসে শিশুদের মা ওই জাপানি নারীই রিট আবেদনটি করেছিলেন, তাই যে শিরোনামগুলির কথা আপনি বলেছেন, সেখানে জাপানি নারীকেই ফোকাস করা হয়েছে। সেখানে কিন্তু এটা বলার চেষ্টা করা হয়নি যে মা-ই সন্তানদের মালিক বা আইনগত অধিকার তার একার।

ছবির উৎস, DISTRICT WEB PORTAL BANGLADESH

ছবির ক্যাপশান,

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে প্রশাসনের মাঠের কর্মকর্তার নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সামনে এসেছিল

সম্প্রতি বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবুর রহমানের সরকারি বাসভবনে হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে লিখেছেন পাইকগাছা, খুলনা থেকে মো. আজিজুল হাকিম রাকিব:

"দেশে বর্তমানে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপর হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছিলো। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায়শই প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরকে লাঞ্ছিত করা এবং তাদের উপর হামলা করার ঘটনা ঘটেই চলেছে। এমন ঘটনা ঘটার জন্য কোন বিষয়টিকে দায়ী করা যায়?"

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে রাজনৈতিক রেষারেষি, আবার কোন কোন ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে এধরনের ঘটনা ঘটছে। তবে এধরনের ঘটনা ঘটলে তার যথাযথ তদন্ত করে সমস্যার মূলে যেতে না পারলে এ জাতীয় ঘটনা বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।

বিবিসি বাংলার আশি বছর পূর্তি উপলক্ষে স্মরণিকা প্রকাশের কথা আমরা প্রচার করার পর এই স্মরণিকা পেতে আগ্রহ প্রকাশ করে এ সপ্তাহে অনেকে লিখেছেন। স্মরণিকা পেতে আগ্রহীদের নাম ঠিকানা পাঠানোর সময় আমরা যথাসময়ে আপনাদের জানিয়ে দেব।

এ পর্যায়ে কিছু চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার।

মো. শিমুল বিল্লাল বাপ্পী, কপিলমুনি খুলনা।

মো. উকিল উদ্দিন, পাগলপাড়া, বকশীগঞ্জ, জামালপুর।

মো. আবদুল লতিফ, তেজগাঁও, ঢাকা।

মোহাম্মদ রেজাউল রহিম,লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম।

মুহাম্মদ মাসুদুল হক মাশুক, চরফ্যাশন, ভোলা।

কাজী সাইদ, ঝিনাইদহ।

সাখাওয়াত হোসেন, খড়িখালী, সদর, ঝিনাইদহ।

মো. হারুনুর রশীদ, মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ।

এমদাদুল হক বাদশা, দক্ষিণ বনশ্রী, ঢাকা।

আব্দুর রাজ্জাক সরকার, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা।